মণ্ডপে ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখতে হলে হাঁটা এড়িয়ে যাওয়ার উপায় তেমন নেই। তার সঙ্গে যদি বাড়িতে বা পাড়ার পুজোর খাটাখাটনি জোড়ে তো কোমর, পায়ের উপরে আরও চাপ বাড়ে। বাড়ে যন্ত্রণাও। পুজো শেষ হতেই অফিস-স্কুলে ঘোড়দৌড় শুরু। ফলে সেই সব ব্যথা-বেদনার রেশ যে রয়ে গেল পায়ে! কী ভাবে তা থেকে রেহাই মিলবে? জেনে নিন সে উপায়।
ব্যথার কারণ ও ওষুধ
নতুন জুতো, নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস না থাকা, অত্যধিক পরিশ্রম— মোটামুটি এগুলিই ব্যথার কারণ। দীর্ঘক্ষণ হাঁটলে বা দাঁড়িয়ে থাকলে পায়ের পেশিকে শরীরের ভার বহন করতে হয়। বিশ্রামের অভাবে পেশি ক্লান্ত হতে পারে। একটানা দাঁড়িয়ে কাজ করলে পেশি ও টেন্ডনে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, সূক্ষ্ম আঘাতও লাগতে পারে। ফলে পায়ের পাতা, গোড়ালি, কাফ মাস্ল বা হাঁটুর আশপাশে ব্যথা হতে পারে। একটু বিশ্রাম, যত্নআত্তি, হট বাথ নিলে এমন ব্যথা চলে যাওয়ার কথা। একটানা ঝুঁকে কাজ করা, ভারী জিনিস তোলা বা একই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে কোমরের পেশি ও অন্যান্য নরম টিসুতেও চাপ পড়ে। বসা, দাঁড়ানোর ভঙ্গি ঠিক না থাকলে, মেদ বাড়লে, সন্তান জন্মের পর শরীরে নানা পরিবর্তনের ফলে একটুতেই এ ধরনের ব্যথা-যন্ত্রণার সমস্যা বাড়তে পারে।
জেনারেল ফিজ়িশিয়ান ডা. সুবীর কুমার মণ্ডল বললেন, “ব্যথার উৎস তিনটি। পেশি, হাড় ও স্নায়ু। তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রেও পুজোআচ্চা, রান্নাবান্নার কাজ এ সময়ে বেড়ে যায়। ফলে যন্ত্রণা বাড়তে পারে। তাঁদের ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথির সমস্যা থাকলে সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধে কাজ হবে না। তখন নার্ভ সাপ্রেশন করবে এমন ওষুধ দিতে হবে। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে হাড় বা পেশির কারণে ব্যথা হলে প্যারাসিটামল ১০০০ কার্যকর। পেন কিলিং স্প্রে সরাসরি শরীরতন্ত্রে, রক্তে মেশে। অতএব, এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে পেটের সমস্যা এড়ানো যায়। কিডনি, লিভারের সমস্যা না থাকলে তবেই স্প্রে ব্যবহার করা যাবে। নয়তো, মিন্টবেসড মলম, প্যারাসিটামলই নিরাপদ। অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে ক্যালশিয়াম-জাতীয় ওষুধ খাবেন না।”
ঘরোয়া প্রতিকার ও ব্যায়াম
- অতি-সক্রিয়তার ফলে পেশির ক্লান্তির ক্ষেত্রে হালকা গরম সেঁকে আরাম মিলতে পারে। কোমরের পেশিতে টান ধরলেও এ ধরনের গরম সেঁক স্বস্তি দিতে পারে। চোটের জায়গায় জোরে মালিশ করবেন না।
- পেশির ক্লান্তি কমাতে বিশ্রাম প্রয়োজন হলেও সম্পূর্ণ শুয়ে থাকা সব সময় উপকারী নয়। ব্যথা না বাড়লে অল্প হাঁটাচলা করা যায়। কাজের মধ্যে ছোট বিরতি নিন, সুযোগ পেলেই বসুন এবং একটানা দাঁড়িয়ে থাকবেন না। বেশি ঘাম হলে শিরায় টান ধরতে পারে, তাই পর্যাপ্ত জল খেতে ভুলবেন না।
- সামনের দিকে আঙুল নড়াচড়ার পর্যাপ্ত জায়গা, পায়ের পাতাকে সাপোর্ট দেয় এমন সোল এবং ভাল গ্রিপ আছে, এমন জুতো পরুন। বাড়িতেও দীর্ঘক্ষণ খালি পায়ে থাকবেন না, আরামদায়ক স্লিপার ব্যবহার করুন।
- ব্যথা কমতে শুরু করলে কাফ মাস্ল ও পায়ের পাতার নীচের অংশে মৃদু স্ট্রেচিং করা যেতে পারে। দেওয়ালে হাত রেখে এক পা সামনে ও এক পা পিছনে নিয়ে গিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকলে কাফ মাস্ল-এর ব্যায়াম হবে। ২০-৩০ সেকেন্ড ধরে কয়েক বার করা যায়, যদি তাতে ব্যথা না বাড়ে।
- পায়ের ব্যথা, পেশির ক্লান্তির উপশমে: চেয়ারে বসে পা মেঝেতে রাখুন। গোড়ালি মাটিতে রেখে পায়ের সামনের অংশ তুলুন, তার পরে আঙুল মাটিতে রেখে গোড়ালি তুলুন। ধীরে ১০-১৫ বার করুন।
- কোমরে ব্যথার ক্ষেত্রে: চিৎ হয়ে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের পাতা মেঝেতে রাখুন। পেটের পেশি আলতো করে টেনে রাখুন। পাঁচ সেকেন্ড ধরে স্বাভাবিক শ্বাস নিন, তার পরে ছেড়ে দিন।
- পায়ে ভর দিতে না পারলে, তীব্র ব্যথা থাকলে, উল্লেখযোগ্য ফোলা বা পায়ের আকৃতিতে পরিবর্তন দেখা দিলে, এক পায়ে কোনও ফোলা বা জমাট ভাব দেখলে, কোমরের ব্যথার সঙ্গে পায়ে দুর্বলতা, ঊরুসন্ধিতে অবশ ভাব থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
- পায়ে ব্যথা নিয়েও কাজ করতে হয়, ডেস্কে বসে কাজ করার সময়ে সামনে অল্প উঁচু টুল রেখে তাতে পা তুলে দিন।
দরকার মতো বিশ্রাম দিতে হবে পাকে। খুব ব্যথা থাকলে প্রয়োজনে একদিন ছুটি নিয়ে বিশ্রামে থাকুন।