কষিয়ে রান্না হবে। তার জন্য ফোড়নের ধাপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যতই চেষ্টা করুন মশলা পড়তেই উত্তপ্ত তেল ছলকে ওঠা রুখতে পারেন না। গরম তেল হাতে বা চোখে লেগে দুর্ঘটনা ঘটার পাশাপাশি রান্নাঘরের অবস্থাও খারাপ হয়ে যায়। তেলের দাগে ভরে ওঠে হেঁশেল। তা পরিষ্কার করাও সহজ নয়। তবে এই ঝক্কি কমানোর একটি সহজ কৌশল আপনার রান্নাঘরেই রয়েছে। সেটি হল এক চিমটে নুন।
ফোড়নের সময়ে নুন কী ভাবে ব্যবহার করবেন?
ফোড়ন দেওয়ার আগে গরম তেলে অল্প এক চিমটে নুন ছড়িয়ে দিলে তেল ছিটকে পড়ার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে। কারণ নুন অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণ করতে সাহায্য করে।
ফোড়ন দেওয়ার পদ্ধতি। ছবি: সংগৃহীত
ফোড়ন দেওয়ার সময়ে নুন কী ভাবে সাহায্য করে?
উত্তপ্ত তেল ও জল বা আর্দ্রতা একে অপরের সংস্পর্শে আসতেই তেল ছিটকে পড়ে। অনেক সময়ে কড়াই ধোয়ার পর সামান্য জল থেকে যায়। আবার কাঁচালঙ্কা, কারিপাতা, পেঁয়াজ, রসুন বা অন্য ফোড়নের উপকরণেও কিছুটা আর্দ্রতা থাকে। এই আর্দ্রতা যখন খুব গরম তেলের সংস্পর্শে আসে, তখনই তেল চার দিকে ছিটকে পড়তে শুরু করে। এতে শুধু রান্নাঘর নোংরা হয় না, হাত বা মুখেও গরম তেল লাগার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু তেল বা উপকরণের থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে নেয় নুন। ফলে তেল ছিটকে পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
নুন কী ভাবে সাহায্য করে? ছবি: সংগৃহীত
তেল ছিটকে পড়ার ঝুঁকি কমানোর বাড়তি টিপ্স—
১. প্রথমেই কড়াই বা পাত্র ভাল করে শুকিয়ে নিন। ধোয়ার পর সরাসরি তেল না ঢেলে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে কয়েক সেকেন্ড গরম করে নিলে ভিতরে থাকা আর্দ্রতা দূর হয়ে যায়।
২. ফোড়নের উপকরণে জল দিয়ে ধুলে অবশ্যই শুকনো কাপড়ে মুছে নিতে হবে, যাতে আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে তেল ছিটকে না পড়ে।
৩. ফোড়নের উপকরণ রাখার পাত্রও যদি ভিজে থাকে, তা হলেও ফোড়ন দেওয়ার সময়ে তেল ছলকে উঠতে পারে। তাই প্রত্যেকটি বাসন যেন শুকনো হয়, সে দিকে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার।
৪. রান্নার খুন্তি বা হাতাও ভিজে থাকলে চলবে না। জলের ফোঁটাও যদি খুন্তিতে থাকে, তা হলে গরম তেলে ছোঁয়ালে একই ভাবে তেল ছিটকে পড়তে পারে।