আরবসাগরের তীরে জুহু সৈকত সংলগ্ন যে বাংলোর বাইরে প্রতি রবিবার বিকেল ৫টায় ভিড় জমান ভক্তেরা একটি বার তাঁর দর্শন পাবেন বলে, সেই বাংলোর নাম ‘জলসা’। বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন বাড়ি বললে একবাক্যে দেশবাসী ওই বাড়িরই নাম বলবেন। অথচ ‘জলসা’ বাংলোর নাম বরাবর ‘জলসা’ ছিল না। এককালে ওই বাংলোর নাম ছিল ‘মনসা’। সেই নামেই বাড়িটি হাতে পেয়েছিলেন অমিতাভ। অনেক পরে সেই নাম বদলায়। কিন্তু কেন?
বাংলোটির গল্প জানতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে ১৯৮২ সালে। তত দিনে বাঙালি অভিনেত্রী জয়া ভাদুড়ির সঙ্গে বিয়ে হয়ে গিয়েছে অমিতাভের। ৬ বছরের শ্বেতা এবং ৬ বছরের অভিষেকের বাবা-মা তাঁরা। রাজ সিপ্পির ‘সত্তে পে সত্তা’ ছবিতে অভিনয় করেছেন অমিতাভ। সে ছবি বক্স অফিসে সাড়া ফেলেছে। সেই সময় অমিতাভকে ছবির পারিশ্রমিক হিসাবেই জুহুর ওই ১০ হাজার বর্গফুট এলাকার বাংলোটি উপহার দিয়েছিলেন প্রযোজক এবং পরিচালক রাজের বাবা এনসি সিপ্পি। তখন ওই বাড়ির নাম ছিল ‘মনসা’। কিন্তু অমিতাভ তখন ওই বাংলোয় থাকেননি।
এক সাক্ষাৎকারে বাংলোটির ব্যাপারে কথা বলেছিলেন অমিতাভ। সেখানেই তিনি জানান, সিনেমার পারিশ্রমিক হিসাবে পাওয়া ওই বাংলো সেই সময় বিক্রি করে দিয়েছিলেন অমিতাভ। কিন্তু সম্ভবত ‘ভবির লিখন’ অন্য রকম ছিল। ফলে ওই বাংলো আবার ফিরে আসে অমিতাভের কাছেই।
অমিতাভ ওই সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বাংলোটি বিক্রি করে দেওয়ার বেশ কয়েক বছর পরে জয়ার কথায় ওই বাংলো তাঁকে আবার কিনতে হয়। যে দামে তিনি বিক্রি করেছিলেন, তার থেকে অনেক বেশি দাম দিয়ে ওই বাংলো আবার কেনেন তিনি। বাড়িটিকে নিজেদের মতো বাড়িয়ে নিয়ে নাম দেন ‘জলসা’। তবে ‘মনসা’ নামটিও হারিয়ে যায়নি।
জুহু এলাকায় বেশ কয়েকটি বাংলার মালিকানা রয়েছে বচ্চনদের। ‘জলসার’ ঠিক আগের রাস্তাটিতেই রয়েছে ‘জনক’ নামের একটি বাংলো। ‘জলসা’র পাশে রয়েছে ‘আম্মু’ নামের আরও একটি বাংলো। এ ছাড়া ‘জলসা’র ঠিক পিছনে রয়েছে আরও একটি বাংলো, যা ২০০০ সালে কিনেছিলেন বচ্চনেরা। এই বাংলোটি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করেন তাঁরা। বাংলোর সামনের লনে আয়োজন করা হয় প্রাইভেট পার্টির। বচ্চনেরা কেনার আগে ওই বাংলোর নাম অন্য ছিল। তবে কেনার পরে ওই বাংলোর নাম রাখা হয়— ‘মনসা’।