বাঙালির উৎসব-পার্বণ লুচি ছাড়া অসম্পূর্ণ। যতই অম্বলে গলা-বুক জ্বলে যাক না কেন, দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে স্মুদি, চিলা, রুটি খেতে কে চায়! একে উৎসব, তাও ছুটির দিন— লুচি ছোলার ডাল বা সাদা আলু চচ্চড়ি তো থাকতেই হবে। তবে পুজোর দিনগুলিতে শুধু ময়দার লুচি খাবেন কেন? উপকরণের সামান্য বদলে লুচিতেও আসতে পারে বৈচিত্র।
ছানার লুচি:
ছানা দিয়ে বানিয়ে ফেলুন লুচি। ছবি:সংগৃহীত।
ছানা জল ঝরিয়ে ভাল করে মেখে মসৃণ করে নিন। তার মধ্যে দিয়ে দিন ময়দা। যোগ করুন স্বাদমতো নুন, একটু জোয়ান। ঘিয়ের ময়ান দিন। জল দিয়ে ভাল করে সমস্ত উপকরণ মেখে নিন। মেখে রাখা ময়দা একটু তেল বুলিয়ে পরিষ্কার কাপড়ে ঢেকে অন্তত আধ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। তার পরে লেচি কেটে লুচি বেলে ভেজে নিন। ছানার লুচি ময়দার লুচির চেয়ে নরম হয় এবং স্বাদে ভিন্ন হয়।
আলুর লুচি
আলু দিয়ে বানিয়ে নিন লুচি। ছবি:সংগৃহীত।
আলু সেদ্ধ করে নিন। ঠান্ডা হওয়ার পরে সেদ্ধ আলু ভাল করে নুন, লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে মেখে নিন। অবাঙালিদের মধ্যে আলু পুরী খাওয়ার চল রয়েছে। তবে বাঙালির লুচি আটা নয়, তৈরি হয় ময়দা দিয়ে। সেদ্ধ আলু যতটা নেবেন তার দ্বিগুণ পরিমাণ ময়দা নিন। দিয়ে দিন স্বাদমতো নুন, চিনি, সামান্য হলুদ, লঙ্কার গুঁড়ো, ধনেপাতাকুচি। ঘি বা সাদা তেল দিয়ে, ময়ান দিয়ে ভাল করে মেখে নিন। আলু সেদ্ধ থাকায় জল যৎসামান্যই লাগতে পারে। সেটা বুঝে নিতে হবে। ময়দা মেখে আধ ঘণ্টা ঢাকা দিয়ে রেখে দিন। তার পর লেচি কেটে লুচি ভেজে নিন।
সুজির লুচি
কড়াইয়ে ঘি গরম হলে দিয়ে দিন সুজি। মাঝারি আঁচে ভাল করে সুজি ভাজতে হবে। তবে রং ধরা চলবে না। সুজি ভাজার পর বেশ কিছুটা জল দিন। স্বাদমতো নুন, চিনি যোগ করে সুজি রান্না করুন যতক্ষণ না সেদ্ধ হয়। খুন্তি দিয়ে অনবরত নাড়তে হবে যাতে তা দলা না পাকিয়ে যায়। সুজি ঠান্ডা হলে সেটি হাতের সাহায্যে ভাল করে মেখে নিন যাতে দলা না থাকে। বেশ কিছুটা ময়দা যোগ করুন। দিয়ে দিন কিছুটা গুঁড়ো দুধ, ধনেপাতাকুচি এবং চিলি ফ্লেক্স। ময়ান দিয়ে ময়দা ভাল করে মেখে নিন। আধ ঘণ্টা কাপড় ঢাকা দিয়ে মেখে নেওয়া ময়দা রেখে দিন। তার পরে লুচি করুন। এতে লুচি ভাল ফুলবে।