তারকাদের বাংলো মানে তা বিলাসবহুল হয়ই। মুম্বইয়ের অভিজাত বান্দ্রা কুর্লা কমপ্লেক্সে মাধবনের প্রায় ১৭ কোটি টাকার বাংলোটিও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে আর পাঁচজন তারকার থেকে ‘ম্যাডি’-র বাংলোর অন্দরসাজ অনেকটাই আলাদা। দামি শো-পিসের বদলে বই দিয়ে ঘর সাজিয়েছেন মাধবন। আস্ত একটা লাইব্রেরিই রয়েছে তাঁর বাড়িতে। মন ভাল রাখার জন্য রয়েছে আলাদা মেডিটেশন হল। আর সবচেয়ে বড় চমক হল ‘হাইড্রোপোনিক’ বাগান। সেখানে মাটি ছাড়াই তরতরিয়ে বাড়ছে গাছ, ফলও ধরছে।
সবুজ গাছপালা দিয়ে বাড়ি সাজিয়েছেন মাধবন।
মাধবনের বাড়ির অন্দরসাজে আড়ম্বরের চেয়েও বেশি প্রাধান্য পেয়েছে প্রশান্তি। কৃত্রিম বা চোখধাঁধানো সাজসজ্জার বদলে বাড়িটি সাজানো হয়েছে কাঠ ও পাথরের নানা সরঞ্জাম দিয়ে, দেওয়ালের রঙেও প্রকৃতির ছোঁয়া। শো-পিসের বদলে দেওয়ালে ঠাঁই পেয়েছে সারি সারি বই। বাড়ির ভিতরে লাইব্রেরি ও মেডিটেশন হলও বানিয়েছেন অভিনেতা। ঘর সাজিয়েছেন নানা রকম গাছ ও অর্কিড দিয়ে।
পরিবারের সঙ্গে।
বাড়ির ভিতরে সব্জি ও ফলের বাগান।
মাধবনের বাড়ির মূল আকর্ষণ হল ছাদের হাইড্রোপোনিক বাগান। সেখানে মাটি ছাড়াই ফসল ফলান মাধবন। এখনার দিনে শহুরে বাড়িতে বাগান করা রীতিমতো ঝক্কির কাজ। তাই হাইড্রোপোনিক বাগানের চাহিদা বেড়েছে। কম জায়গাতেও দিব্যি করা যাবে এমন বাগান। মাটি ছাড়াই তরতরিয়ে বাড়বে গাছের চারা। নির্দিষ্ট সময়ে তাতে ফুল ও ফলও ধরবে। আর মাটি যেহেতু লাগছে না, তাই বাগান নোংরাও হবে কম এবং পোকামাকড়ের উৎপাতও কম হবে।
জৈব পদ্ধতিতে সব্জি ফলান মাধবন।
হাইড্রোপোনিক বাগানের বিশেষত্বই হল মাটি ছাড়া কেবল নানা পুষ্টি উপাদানে মেশানো জল দিয়ে ফসল ফলানোর পদ্ধতি। মাটি যেহেতু লাগে না, তাই নারকেল ছোবড়া বা পারলাইট অথবা রক উল, ক্লে পেবেল ব্যবহার করে গাছের চারা লাগানো হয় বা বীজ পোঁতা হয়। নারকেলের ছোবড়া বা পারলাইট জল টেনে গাছের শিকড়ে সরবরাহ করে। এই পদ্ধতিতে চারা গাছের শিকড় জলে ডুবিয়ে রাখতে হয়। সেই জলে নানা রকম পুষ্টি উপাদান ও সার মেশাতে হয়। শিকড় জল থেকেই তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান টেনে নেয়। নানা রকম গাছ লাগিয়ে ফসল ফলাতে হলে বড় বড় পাইপের মতো চ্যানেল তৈরি করে নেওয়া যায়। চ্যানেলের ভিতরে গাছের চারা লাগিয়ে তার ভিতর দিয়ে পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ জল সরবরাহ করতে হয়। জলের ধারা অব্যাহত রাখাও জরুরি। সে জন্য ছোট পাম্পও লাগিয়ে নেওয়া যায়। মাধবন জানিয়েছেন, কোনও রকম কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের প্রয়োগ করেন না তিনি। জৈব পদ্ধতিতেই তাঁর বাগানে ফল ও সব্জি ফলানো হয়। সেই সব্জিই বাগান থেকে যায় হেঁশেলে।