রান্না করতে গিয়ে বার বার আদা কুরোনোর কাজ বড়ই ঝক্কির! কখনও আদা নরম হয়ে দলা পাকিয়ে যায়, কখনও আবার গ্রেটারের গায়ে লেগে থাকে। ফলে সময়ও বেশি লাগে, পরিশ্রমও হয়। কিন্তু পেশাদার রাঁধুনিদের একটি সহজ কৌশল এখন বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। টাটকা আদা ব্যবহারের বদলে কয়েক ঘণ্টা ফ্রিজ়ারে রেখে হিমায়িত করে নিলে নাকি তা কুরোনো অনেক সহজ হয়ে যায়, পাশাপাশি অপচয়ও কমে।
আদা ফ্রিজ়ারে রাখলে কী হয়? ছবি: সংগৃহীত
হিমায়িত আদার উপকারিতা কী কী?
১. টাটকা আদা পিচ্ছিল ও ফাইবারে ভরা। সেটিকে গ্রেট করা কঠিন। এতে অনেকটা আদা অপচয় হয়। আদা জমিয়ে বা ফ্রিজ় করে নিলে তা শক্ত হয়ে যায়, ফলে গ্রেটারের উপর খুব সহজে ঘষে নেওয়া যায় এবং এতে কোনও ফাইবার থাকে না, বরং হালকা ও ঝুরঝুরে গঠন পাওয়া যায়। স্যুপ, ঝোল, চা বা বিভিন্ন রান্নায় সহজেই মিশে যায়।
২. এই পদ্ধতির আরও একটি সুবিধা হল, আদার খোসা ছাড়ানোর প্রয়োজন পড়ে না। ভাল করে ধুয়ে ফ্রিজ়ারে রাখা আদা সরাসরি কুরিয়ে ব্যবহার করা যায়। খোসা খুব পাতলা হওয়ায় রান্নার স্বাদে তেমন কোনও পরিবর্তন আসে না, বরং অপচয়ও কম হয়।
এই পদ্ধতিতে আদার গুণ বা স্বাদ নষ্ট হয় না। ছবি: সংগৃহীত
৩. তা ছাড়া হিমায়িত করার ফলে আদার মেয়াদ বেড়ে যায়। অনেক দিন পর্যন্ত টাটকা থাকে সেটি। টাটকা আদা বাইরে রেখে দিলে খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়, গন্ধও আর ঝাঁঝালো থাকে না। ফলে এ ভাবেও অপচয় কমানো যায়।
৪. যাঁরা একসঙ্গে বেশি পরিমাণে আদা কিনে রাখেন, তাঁদের জন্য এই কৌশল আরও সুবিধাজনক। আদা ছোট ছোট টুকরো করে বায়ুরোধী পাত্র বা ব্যাগে ভরে ফ্রিজ়ারে রেখে দিলে দীর্ঘদিন টাটকা থাকে। প্রয়োজনমতো বার করে কুরিয়ে আবার বাকি অংশ ফ্রিজ়ারে রেখে দেওয়া যায়।
আরও পড়ুন:
এতে আদার স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণ বদলে যায়?
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, ফ্রিজ়ারে রাখলে আদার স্বাদ বা গন্ধ কি কমে যায়? রাঁধুনিদের মতে, ঠিক ভাবে সংরক্ষণ করা হলে আদার ঝাঁঝালো স্বাদ ও গন্ধ অনেকটাই অক্ষুণ্ণ থাকে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। এক বার গলে যাওয়া আদা বার বার ফ্রিজ়ারে রাখা ঠিক নয়। এতে গুণমান নষ্ট হতে পারে। তাই যতটা প্রয়োজন, ততটাই বার করা উচিত। জিঞ্জারল যৌগ থেকেই আদার সমস্ত গুণ মেলে। ফ্রিজ়ারে রেখে হিমায়িত করলে এই যৌগে কোনও পরিবর্তন হয় না। খাদ্য সংরক্ষণের এক পদ্ধতি হিসেবে অনেক সব্জি ও আনাজই হিমায়িত করা হয়। বাইরের তাপে পচে যাওয়ার চেয়ে হিমায়িত অবস্থায় ভাল থাকে খাবার।