চিপ্সের প্যাকেট খুলেই মনে হয়, ‘এত বড় প্যাকেটে এই ক'টা মাত্র চিপস?’ প্যাকেটগুলি ফুলে ফেঁপে থাকলেও, খোলা মাত্রই নিরাশ হতে হয়। খুলতেই দেখা যায়, ভিতরে অর্ধেকটাই ফাঁকা। অনেকেই ভাবেন, প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি ইচ্ছে করেই বুঝি বড় প্যাকেট দিয়ে ঠকাচ্ছে! কিন্তু আসল ব্যাপারটা একেবারেই তা নয়। ওইটুকু হাওয়া চিপ্সকে বাঁচানোর জন্যই দরকার।
প্যাকেটের ভেতরে হাওয়া নয়, থাকে নাইট্রোজেন গ্যাস
অনেকেই জানেন না, চিপ্সের প্যাকেটের ভিতরে নাইট্রোজেন গ্যাস ভরে দেওয়া হয়। নাইট্রোজেন গন্ধহীন, বর্ণহীন। আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই, তার প্রায় ৭৮ শতাংশই নাইট্রোজেন। নাইট্রোজেন নিষ্ক্রিয় গ্যাস। খাবারের সঙ্গে বিক্রিয়াও করে না। অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে চিপ্স মিইয়ে যায়, তার স্বাদও নষ্ট হয় যায়। চিপ্সের প্যাকেটে নাইট্রোজেন ভরা থাকলে তা অনেক দিন মুচমুচে আর টাটকা থাকে।
আরও পড়ুন:
কারখানা থেকে আপনার হাত পর্যন্ত পৌঁছোতে একটা চিপ্সের প্যাকেটের একাধিক বার হাতবদল হয়। কখনও লরিতে, কখনও গুদামে, কখনও আবার দোকানদারের হাতে নাড়াচড়া হয় প্যাকেটগুলি। চিপ্স ভীষণ নরম আর ভঙ্গুর। প্যাকেটের ভিতরের নাইট্রোজেন ভরা ফাঁকা জায়গাটি সে ক্ষেত্রে কুশনের মতো কাজ করে। চাপ পড়লে সেই চাপ শুষে নেয়, ফলে চিপ্স গুঁড়ো হয়ে যায় না।
প্যাকেটে যদি ঠেসেঠুসে চিপ্স ভর্তি করা হত, তা হলে আপনার হাতে পৌঁছোনোর আগেই সব গুঁড়ো হয়ে যেত।
বড় প্যাকেট দেখলে মনে হয় বেশি পাচ্ছি, এটা যে মার্কেটিং কৌশলের একটা অংশ তা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু প্যাকেটের ভিতরে গ্যাস না ভরলে চিপ্সকে টাটকা রাখা যেত না আর সেগুলি ভেঙেও যেত। তাই সংস্থাগুলি যে আপনাকে ঠকাচ্ছে, তা বলা যায় না। প্যাকেটের গায়ে চিপ্সের মূল ওজন যা লেখা থাকে, সেই পরিমাণ চিপ্সই প্যাকেটে থাকে।