সাত বছর পরে শনিবার ব্রিক্স সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতা তিনি। তাই তাঁর এক দিনের সফর ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ। নয়াদিল্লির তাজ প্যালেসে উঠেছিলেন জিনপিং। নানা দেশের রাষ্ট্রনেতাদের নিয়ে মানুষের মনে কৌতূহলের শেষ থাকে না। ঠিক কী করলেন, কোথায় গেলেন এবং তার সঙ্গে বিশেষ বিশেষ প্রশ্নও তৈরি হয়, কী কী খেলেন। জিনপিংকে নিয়েও একই রকম আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
৭৩ বছরের রাষ্ট্রনেতার খাদ্যাভ্যাসের মূল দর্শনই হল, সাধারণ খাবার। আর তাতে মূলত চিনা খাবারই থাকে। কিন্তু কখনও-সখনও তার সঙ্গে মিলেমিশে যায় অন্য দেশের স্থানীয় খাবারও।
শি জিনপিংয়ের খাবারের দর্শনে জাঁকজমক নেই, বরং পরিচিত, সাধারণ এবং পরিমিত খাবারের পক্ষপাতী তিনি। সরকারি সফরেও তাঁর খাবারের পছন্দে এই সারল্যের ছাপ দেখা যায়। দেশের বাইরে সফরে গেলে ভ্লাদিমির পুতিনের খাবার তৈরির সময়ে যেমন কঠোর নিয়মকানুন মানা হয়, জিনপিং-এর ক্ষেত্রে সে সবের বালাই নেই। বিভিন্ন সরকারি সফর বা এলাকা পরিদর্শনের সময়েও তাঁর খাওয়ার টেবিলে সাধারণ ঘরোয়া রান্নাবান্নাই দেখা যায়। তাতে থাকে ভাত, হালকা তেলে সাঁতলানো সব্জি, স্থানীয় ঝোলজাতীয় তরকারি বা স্ট্যু, মরসুমি শাকসব্জি, ডাম্পলিং এবং বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সাধারণ খাবারদাবার। তাঁর খাবারের তালিকায় বিলাসবহুল, কেতাদুরস্ত বা দামি রান্নার বদলে থাকে ঘরের তৈরি চেনা স্বাদের খাবার, যেমন— ব্রেজ়ড চিকেন (ঢিমে আঁচে সস দিয়ে সেদ্ধ করা মুরগির মাংস), বিভিন্ন সব্জির ঝোল, চালকুমড়োর স্যুপ, আরও নানা ধরনের মাংস। সাধারণত অ্যালকোহল বা মদজাতীয় পানীয় পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়। বিশেষ কোনও পদের চেয়ে খাবারের পরিমাণের উপরেই সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
চিনে থাকুন বা দেশের বাইরে যান, খাবারের ধরন খুব একটা পাল্টায় না তাঁর। ব্রিটেন সফরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে তিনি সাধারণ ফিশ অ্যান্ড চিপ্স খেয়েছিলেন তৃপ্তি করে। সুইৎজ়ারল্যান্ডে তাঁকে সুইস ফনডু (গলানো পনিরের একটি সুস্বাদু মিশ্রণ) খেতে দেখা গিয়েছিল। আবার রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে নিজে হাতে ক্যাভিয়ার দেওয়া ব্লিনি (এক ধরনের প্যানকেক) তৈরি করেছিলেন। এগুলিই প্রমাণ করে, স্থানীয় খাবার চেখে দেখার প্রতিও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। তবে তার বাইরে নিজের কাজের দিনগুলিতে তাঁর প্রধান পছন্দ কিন্তু সবসময়েই সাধারণ ও ঐতিহ্যবাহী চিনা খাবার।