‘হোয়াট’স ইন আ নেম? দ্যাট হুইচ উই কল আ রোজ়/ বাই এনি আদার নেম উড স্মেল অ্যাজ় সুইট’
শেক্সপিয়রের রোমিয়ো জুলিয়েট নাটকে সমস্যা বেধেছিল পদবি নিয়ে। সে ক্ষেত্রে পদবিটি ছিল ‘মন্টেগু’। আর আমাদের কলকাতায় গোল বেধেছে যে পদবি নিয়ে, সেটি ‘সুরাওয়ার্দি’। কিন্তু নামে কী এসে যায়! এই প্রশ্নের উত্তরে আজকের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক জগতের লোকেরা বলবেন ‘অনেক কিছুই’। কারণ তাঁরা ইদানীং ‘নামভ্রান্তির রাজনীতি’ নিয়ে বিভোর হয়ে আছেন। সম্প্রতি তার পরিচয় পাওয়া গেল কলকাতার একটি রাস্তার নাম বদলকে কেন্দ্র করে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার কলকাতার পার্ক সার্কাস সাত মাথার মোড়ের ‘সুরাওয়ার্দি অ্যাভেনিউ’ রাস্তাটির নাম বদলে নতুন নাম রেখেছেন ‘গোপাল মুখার্জি রোড’। এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কের ঝড় তুলেছিল। অনেকেই গোপাল মুখার্জি বা ‘গোপাল পাঁঠা’র নামের ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। নাম বদলের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, দশকের পর দশক ধরে কলকাতার একটি প্রধান রাস্তা এমন এক জনের (হোসেন শহীদ সুরাওয়ার্দি) নামে রাখা হয়েছিল যিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিরীহ হিন্দু নাগরিকদের গণহত্যা (১৯৪৬ সালের গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং) পরিচালনা করেছিলেন।এবং লালবাজারে বসে পুলিশকে ‘নিষ্কর্মা’ হয়ে থাকতে বাধ্য করেছিলেন।
ইতিহাসবিদ এবং বিরোধী বক্তারা অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই বলে দেন, এই রাস্তাটি হোসেন শহীদ সুরাওয়ার্দির নামে নয়, বরং তাঁর কাকা স্যর হাসান সুরাওয়ার্দির নামে। তাঁরা প্রমাণ হিসেবে উদ্ধৃতি দিলেন প্রখ্যাত কলকাতা-গবেষক পি টি নায়ারের ‘আ হিস্ট্রি অব ক্যালকাটা’জ় স্ট্রিটস’ বই থেকে। সেখানে বলা হচ্ছে, “The Corporation at its meeting held on Wednesday March 8, 1933 christened the new (100 ft) road constructed by C.I.T from Park Circus to the junction of Kasaipara lane (and lying to the north of Park) on which stands the house of Sir Hassan Suhrawardy, Vice-Chancellor of the Calcutta University as Suhrawardy Avenue (C. M. Gaz, March 11, 1933, p. 734). The new name was notified on April 20, 1933 (C. M. Gaz, April 29, 1933, p. 1030).”
স্যর হাসান সুরাওয়ার্দি যে শুধু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম উপাচার্য ছিলেন তা-ই নয়, তিনি একজন লব্ধপ্রতিষ্ঠ চিকিৎসক (সার্জন), সেনা কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ এবং কূটনীতিক আবার ‘নাইট’ উপাধিপ্রাপ্তও বটে। যদিও এর আগেই হাসান সুরাওয়ার্দি ব্রিটিশ সরকারের অন্য উপাধি পেয়েছিলেন এবং ১৯৩০ সালের লন্ডন গেজেটে সেন্ট জেমস প্রাসাদ থেকে ঘোষণা মতো সে বছরের নাইটহুড প্রাপকদের তালিকার যে খবর ছাপা হয় তাতে হাসান সুরাওয়ার্দি সম্পর্কে লেখা হয় “Hasan Suhrawardy, Esq, O.B.E., M.D., D.P.H., F.R.C.S., Chief Medical Officer, Eastern Bengal Railway, Bengal”। ইতিহাসচর্চা যাঁরা করেন, তাঁরা এ-ও মনে করিয়ে দেন যে উপাচার্য হলেও স্যর হাসান সুরাওয়ার্দি যে নাইট উপাধি পান তার পিছনে একটি কারণ রয়েছে। ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৩২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট হাউসে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে হত্যা করার জন্য লুকিয়ে আনা পিস্তল থেকে পাঁচটি গুলি ছোড়েন স্বাধীনতা সংগ্রামী বীণা দাশ। সেই বীণা দাশকে ধরতে সাহায্য করেছিলেন বলেই ইংরেজ সরকার কৃতজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবে হাসান সুরাওয়ার্দিকে তড়িঘড়ি নাইটহুড দেয় বলে দাবি করা হয়।
এই তথ্যও ঠিক নয় বলে জানান অনেকে। তাঁরা বলেন, রাস্তাটি যাঁর নামে তিনি স্যর হাসান সুরাওয়ার্দির পিতা মৌলানা ওবায়দুল্লাহ আল-ওবায়দি সুরাওয়ার্দি। তাঁরা উদ্ধৃতি দিচ্ছেন, অজিত কুমার বসুর লেখা ‘কলিকাতার রাজপথ— সমাজে ও সংস্কৃতিতে’ বইটি থেকে। সেখানে বলা হচ্ছে, “কলিকাতা পুরসভার ৮ই মার্চ ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের অধিবেশনে সে সময়ের কাউন্সিলার শৈলেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় নবনির্মিত রাস্তাটির নাম সুরাওয়ার্দি অ্যাভেনিউ রাখার এক প্রস্তাব আনেন।” সেই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, “দ্যাট দ্য নিউ হান্ড্রেড ফিট রোড কনস্ট্রাকটেড বাই দ্য সিআইটি ফ্রম পার্ক সার্কাস টু দ্য জাংশন উইথ কাসাইপাড়া লেন লায়িং টু দ্য নর্থ অব দ্য পার্ক বি কলড ‘সুরাওয়ার্দি অ্যাভেনিউ’। হি সেড দ্যাট দিস শুড বি ইন কমপ্লায়্যান্স উইথ দ্য ইউন্যানিমাস ডিজ়ায়ার অব দ্য লোকাল পাবলিক অ্যান্ড ইন রেকগনিশন অব দ্য ভাস্ট স্কলারশিপ অ্যান্ড এরুডিশন, ডিপ পায়োটি অ্যান্ড সেন্টলি ক্যারেক্টার অব দ্য ইলাস্ট্রাস মৌলানা ওবায়দুল্লাহ সুরাওয়ার্দি।” কলিকাতা পুরসভা ওই দিন ওই প্রস্তাব অনুমোদন করে। ১৯৩২-৩৩ সালে মৌলানা ওবায়দুল্লাহ আল-ওবায়দি সুরাওয়ার্দির নাতি হোসেন শহীদ সুরাওয়ার্দি বাংলার রাজনীতিতে সেই স্তরের প্রভাবশালী হয়ে ওঠেননি যে, ১৯৩৩ সালে তাঁর নামে রাস্তার নাম রাখা হবে। এখন প্রশ্ন হল, হোসেন শহীদ সুরাওয়ার্দির একটা পরিচয় আমাদের জানা থাকলেও স্যর হাসান সুরাওয়ার্দি কিংবা তাঁদের পরিবারের বড় কর্তা মৌলানা ওবায়দুল্লাহ আল-ওবায়দি সুরাওয়ার্দির পরিচয় কী? এই ‘সুরাওয়ার্দি পরিবার’ সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা নেই।
তার আগে রাস্তাটি সম্পর্কে বলে নেওয়া যাক। ইতিহাসের বিভিন্ন নথি ও কলকাতা মিউনিসিপ্যাল গেজেটের রেকর্ড অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, নির্দিষ্ট এই রাস্তাটির নামকরণ করা হয়েছিল ১৯৩৩ সালের ২০ এপ্রিল। অর্থাৎ, ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার প্রায় এক দশকেরও আগে। এই নামকরণের উদ্দেশ্য ছিল কলকাতাকে আধুনিক এক শহরে পরিণত করা। সেই উদ্দেশ্যেই ‘ক্যালকাটা ইম্প্রুভমেন্ট ট্রাস্ট’ বা ‘সি আই টি’ নামের একটি সরকারি দফতর তৈরি করা হয়। এই দফতর কলকাতার নানা প্রান্তে কাজ শুরু করে। তখনকার মাঠ-ময়দানে ভরা পার্ক সার্কাস অঞ্চলটিকে আধুনিক কলকাতার অংশ করে তুলতে একটি একশো ফুট চওড়া রাস্তা তৈরি করা হয়। সেই রাস্তাটি পার্ক সার্কাস মোড় থেকে কাসাইপাড়া (কাসি পাড়া) লেন অবধি বিস্তৃত ছিল। আজ এই কাসাইপাড়া গলিকে পাওয়া যাবে স্যর হাসান সুরাওয়ার্দির ‘কাশানা’ নামের বাড়ি (যা বর্তমানে বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের গ্রন্থাগার ও তথ্যকেন্দ্র) পার হয়েলেডি ব্রেবোর্ন কলেজের আগেই বাঁ-হাতে।
এ বার সুরাওয়ার্দিদের স্বল্প জানা পারিবারিক ইতিহাসের দিকে তাকালে মনে হতে পারে রাস্তাটার নাম এই তিন জনের কারও নামেই হয়নি, হয়েছিল সমগ্র সুরাওয়ার্দি পরিবারকে সম্মান জানাতে। তাই নামটা কেবলই সুরাওয়ার্দি অ্যাভেনিউ-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। না হলে এর নাম ‘স্যর হাসান সুরাওয়ার্দি অ্যাভেনিউ’ বা ‘মৌলানা ওবায়দুল্লাহ আল-ওবায়দি সুরাওয়ার্দি অ্যাভেনিউ’ হতেই পারত। তা হয়নি কেন? কলকাতায় লম্বা চওড়া নামের রাস্তা তো একাধিক পাওয়া যায়।
১৯৩৩ সালে ওই খোলামেলা পার্ক সার্কাস অঞ্চলে বাড়ি বলতে ছিল কেবলমাত্র সুরাওয়ার্দি পরিবারের ‘কাশানা’ নামের পৈতৃক ভিটেটি। ফলে নতুন রাস্তা তৈরির পর সেই রাস্তার নাম যদি সুরাওয়ার্দি অ্যাভেনিউ রাখা হয়, তবে তা যুক্তিসঙ্গত মনে হতে অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। কারণ, একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে কলকাতা গেজেট থেকে যে নথিগুলির উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে রাস্তাটার নাম যে স্যর হাসান সুরাওয়ার্দি বা মৌলানা ওবায়দুল্লাহ আল-ওবায়দি সুরাওয়ার্দির নামে করা হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলা নেই। বলা হয়েছে ‘অন হুইচ স্ট্যান্ডস দ্য হাউস অব স্যর হাসান সুরাওয়ার্দি, ভাইস চ্যান্সেলর অব দ্য ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি অ্যাজ় সুরাওয়ার্দি অ্যাভেনিউ’। আর একটি নথিতে বলা হয়েছে ‘দ্যাট দ্য নিউ হান্ড্রেড ফিট রোড কনস্ট্রাকটেড বাই দ্য সিআইটি ফ্রম পার্ক সার্কাস টু দ্য জাংশন উইথ কাসাইপাড়া লেন লায়িং টু দ্য নর্থ অব দ্য পার্ক বি কলড সুরাওয়ার্দি অ্যাভেনিউ।’ সেই সঙ্গে এ কথাও লেখা আছে, স্থানীয় মানুষদের ইচ্ছা এবং মৌলানা ওবায়দুল্লাহ সুরাওয়ার্দির পাণ্ডিত্য, বিদ্যাবত্তা, ধর্মপরায়ণতা ও সাধুত্বের কারণে এই নামকরণ। এখানে আপাতত এইটুকু উল্লেখ থাকা ভাল যে, বাঙালি হিন্দুর যেমন একজন ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধিধারী পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, তেমনই মুসলমান বাঙালির ওই একই উপাধিধারী পণ্ডিত ‘মুসলমানী বিদ্যাসাগর’ হলেন এই ওবায়দুল্লাহ আল-ওবায়দি সুরাওয়ার্দি, বাংলার সুরাওয়ার্দি পরিবারের আদি পুরুষ।
দেশভাগের আগে বাংলার বুদ্ধিবৃত্তিক সংস্কৃতির যে বিশ্বজনীন ও অন্তর্ভূক্তিমূলক চরিত্র ছিল, তার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন এই সুরাওয়ার্দি পরিবারের দুই পণ্ডিত মৌলানা ওবায়দুল্লাহ আল-ওবায়দি সুরাওয়ার্দি ও স্যর হাসান সুরাওয়ার্দি। হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান ও ব্রাহ্ম— সব সম্প্রদায়ের পণ্ডিতরাই বাংলার শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরে অবদান রেখেছিলেন। নবজাগরণ কোনও একক সম্প্রদায়ের মানুষের আন্দোলন ছিল না। বরং এটি ছিল এক ব্যাপক বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ যা সম্প্রদায়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছিল। মৌলানা ওবায়দুল্লাহ সুরাওয়ার্দি ও স্যর হাসান সুরাওয়ার্দি এবং তাঁদের পরিবারের আরও অনেকেই ছিলেন সেই শেষ প্রজন্মের বিশিষ্টদের অংশ, যাঁরা নবজাগরণের ধারাকে বিংশ শতাব্দীতে বহন করে নিয়ে গিয়েছিলেন। এই পরিবার এমন এক সময়ের প্রতিনিধিত্ব করেছিল, যখন বঙ্গীয় নবজাগরণের সংস্কারবাদী ও শিক্ষাবিষয়ক আদর্শগুলো বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা ও জনপ্রশাসনের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল।
মৌলানা ওবায়দুল্লাহ সুরাওয়ার্দি ছিলেন সেই পণ্ডিত যাঁকে ইংরেজ সরকার ‘বাহারুল উল্ম’ বা ‘সি অব নলেজ’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল। এই উপাধিকে হিন্দু বাঙালি বিদ্যাসাগর নামে চেনেন, যা পেয়েছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজের ছাত্র হিসেবে। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৯। ওবায়দুল্লাহ আল-ওবায়দি সুরাওয়ার্দি সেই একই উপাধি পান ১৮৭৪ থেকে ১৮৮৫ সালের মধ্যে, জ্ঞান, শিক্ষা ও সমাজের ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের জন্য। এই দুই পণ্ডিতই জন্মেছিলেন মেদিনীপুরে।
মৌলানা ওবায়দুল্লাহ একজন বহু ভাষায় পারদর্শী পণ্ডিত ছিলেন। আরবি, ফারসি, ঊর্দু ও ইংরেজিতে তাঁর একাধিক মৌলিক ও অনুবাদ গ্রন্থ রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ঊর্দু দিওয়ান (১৮৮০), ফারসি দিওয়ান (১৮৮৬), ফারসি ব্যাকরণ দস্তর-ই-পার্সি আমুজ, আরবি ব্যাকরণ লুববুল আরব, উর্দু ব্যাকরণ মিফতাহুল আদাব, ফারসিতে রচিত পদার্থবিদ্যা বিষয়ক দবিস্তান-ই-দানিশ আমুস, ফারসিতে রচিত ছন্দ ও অলঙ্কার বিষয়ক দস্তর-ই-ফারসি-আমুস, ফারসিতে রচিত আত্মজীবনী দস্তান-ই-ইবরাতবার, মহামেডান এডুকেশন ইন বেঙ্গল (১৮৬৭)। ১৮৬৭ সালে সৈয়দ আমির আলির সহায়তায় তিনি সৈয়দ কেরামত আলি রচিত মখজুল উলুম গ্রন্থটি ‘এ ট্রিটিজ অন দ্য সায়েন্স’ শিরোনামে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। রামমোহন রায়ের লেখা ‘তুহফাতুল মুওয়াহেদীন’ (একেশ্বরবাদীদের উপহার) গ্রন্থটিও ১৮৮৪ সালে তিনি ইংরেজিতেঅনুবাদ করেছিলেন। সমসাময়িক কোনও মুসলিম পরিবারে একই সময়ে এত অসামান্য আলেম (জ্ঞানী), শিক্ষাবিদ, আইনজীবী (ব্যারিস্টার), সরকারি কর্মচারী ও রাজনীতিবিদ তৈরি হয়নি।
ঔপনিবেশিক বঙ্গে ও ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পরবর্তীকালে সুরাওয়ার্দি পরিবারের বহুমুখী কৃতিত্ব ও প্রাধান্য আমাদের উপমহাদেশের আধুনিক ইতিহাসে উল্লেখ্য। ভারতীয় ও ইউরোপীয় প্রভাব ও তাঁদের সামাজিক অবস্থানের কারণে এই পরিবার সেই সময়ের শিল্প, শিক্ষা, জনসেবা ও রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে। একটি রাস্তার নাম বদল করতে গিয়ে সেই ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়া বাঙালি জাতির জীবনে কতটা কাম্য? বিতর্ক চলুক।