E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

মাটির মানুষদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ

কেন্দ্রীয় সরকার এবং ‌আইপিআরএস-এর উদ্যোগে বিভিন্ন জনজাতি শিল্পীদের স্বার্থে সম্প্রতি আয়োজিত হয়েছিল এক বিশেষ সাঙ্গীতিক কর্মশালা

সায়নী ঘটক

শেষ আপডেট: ২২ অগস্ট ২০২৬ ০৬:৪৪
উপালীর তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ চলছে।

উপালীর তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ চলছে।

রতন কাহার সৃষ্ট ‘বড়লোকের বিটি লো’ র‌্যাপার বাদশার হাত ধরে পৌঁছে গিয়েছিল সারা দেশের কাছে। বাদশা তা থেকে বিপুল উপার্জন করেছেন, রতন কাহারের ভাগ্যে নামমাত্র সাম্মানিক। রতন কাহারের কথা তবু কিছু মানুষের কাছে পৌঁছেছিল। কিন্তু দেশ জুড়ে এমন অনেক লোকশিল্পী আছেন, যাঁদের সৃষ্ট সঙ্গীত তাঁদের অজান্তেই ব্যবহার করে চলেছেন নামী শিল্পীরা, তা থেকে অর্থও উপার্জন করছেন। বেশির ভাগ সময়ে সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিজেদের গান দিয়ে দিতে বাধ্য হন লোকশিল্পীরা। সেই গান মঞ্চে বা স্টুডিয়োয় গাওয়ার সময়ে তাঁদের জায়গা হয় ব্যাকআপ ভোকালসে।

ভারতীয় জনজাতিদের সঙ্গীত ও তাঁদের সাঙ্গীতিক অধিকার রক্ষার্থে এ বার উদ্যোগী হল ইন্ডিয়ান পারফর্মিং রাইটস সোসাইটি (আইপিআরএস) এবং মিনিস্ট্রি অব ট্রাইবাল অ্যাফেয়ার্স। এই মন্ত্রকের সেক্রেটারি রঞ্জনা চোপড়ার উৎসাহে, আইপিআরএস-এর তরফে রুম্পা বন্দ্যোপাধ্যায় সারা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কিছু জনজাতির শিল্পীকে একত্র করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। এমনই আটটি জনজাতিকে নিয়ে সম্প্রতি কলকাতায় হয়ে গেল একটি সাঙ্গীতিক কর্মশালা। ঊষা উত্থুপের স্টুডিয়ো ভাইব্রেশনে পাঁচ দিনের এই কর্মশালায় প্রধান মেন্টর ছিলেন মিউজ়িক প্রোডিউসর ড. উপালী চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সহশিক্ষক হিসেবে ছিলেন অভীক মুখোপাধ্যায়, তরুণ চৌধুরী। মিউজ়িক্যাল মেন্টর হিসেবে ছিলেন রুদ্রনীল চৌধুরী, দীপ্তেশ মুখোপাধ্যায়।

কেরলের পানিয়া, ওয়ানাড়ের জেনু কুরুবা, ছত্তীসগঢ়ের গোন্দ, মাদিয়া, মাহারা, নাগাল্যান্ডের চাকেসাং নাগা, ঝাড়খণ্ডের হো এবং উত্তরবঙ্গের কোচ রাজবংশী— এই আটটি জনজাতিকে নিয়ে আয়োজিত হয়েছিল এই মিউজ়িক্যাল ক্যাম্প। মৌলিক গান লেখা, সুর করা থেকে তা রেকর্ড করে সম্পূর্ণ মিউজ়িক্যাল প্রোডাকশন কী ভাবে হয়, তা এই শিল্পীদের হাতেকলমে শেখানো হল এই কর্মশালায়। প্রযুক্তিকে কী ভাবে ব্যবহার করতে হয়, তার খুঁটিনাটিও শিখলেন তাঁরা। নিজেদের সাঙ্গীতিক অধিকার সম্পর্কে তাঁদের সচেতন করাও ছিল এই কর্মশালার অন্যতম উদ্দেশ্য। আইপিআরএস-এর তরফে রুম্পা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “এঁদের অধিকার সুরক্ষিত করতে যে কঠোর আইন রয়েছে, তা বেশির ভাগ শিল্পীই জানেন না। স্বীকৃতি ছাড়াই বছরের পর বছর এঁরা গান সৃষ্টি করছেন, আর তার সুযোগ নিচ্ছেন শহরের নামী শিল্পীরা। আমাদের সংস্থা এঁদের রয়্যালটি পাওয়ার দিকটি সুনিশ্চিত করে থাকে।”

উপালী জানালেন, ‘লিভিং রুটস অরিজিন্যালস’ নামে একটি অ্যালবামের মাধ্যমে এই শিল্পীদের গান সব অডিয়ো প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে যাবে। “সেখান থেকে যে অর্থ আসবে, তা প্রত্যেক শিল্পীর অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। আগামী ২৯ অগস্ট থেকে দিল্লিতে ‘সাউন্ডস্কেপ অব ইন্ডিয়া’ নামে এক বিরাট সঙ্গীতমেলা আয়োজিত হচ্ছে। সেখানে এঁদের নিয়ে পৌঁছে যাব আমরা। সারা বিশ্ব থেকে ফেস্টিভ্যাল আয়োজকেরা আসেন সেখানে,” বললেন উপালী।


এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Folklore

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy