সম্প্রতি জ্ঞান মঞ্চে অনুষ্ঠিত হল ‘দ্য ফেয়ারওয়েল লেটার’। ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের ছায়ায় এই অনুবাদ, যে শ্রুতিনাটকের পরিচালনায় ছিলেন সোহাগ সেন। শুরুতেই শমীক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষণে ‘শেষের কবিতা’র সঙ্গে শ্রোতাদের পরিচয় করান। সে দিনের এই শ্রুতিনাটক পাঠে প্রত্যেক শিল্পীই ছিলেন নিজেদের চরিত্রের জন্য উপযোগী। সোহাগ সেনের মতো দক্ষ শিল্পী যখন পরিচালক, তখন এমন কাস্টিংই প্রত্যাশিত।
লাবণ্যের চরিত্রে শোলাঙ্কি রায় যেমন পাঠে, তেমনই তার উদাসীন মাধুরীর রূপে ঠিক যেন উপন্যাস থেকে উঠে আসা ব্যক্তিত্বময়ী লাবণ্য! অমিত রে-র চরিত্রে শুভায়ন সেনগুপ্ত অত্যন্ত পরিণত। কখনও তিনি উচ্ছল, কখনও সংযত। কেটির চরিত্র চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন অনুষা বিশ্বনাথন। আজও মঞ্চে সমান ভাবে বিস্মিত করেন সোহাগ সেন। মহামায়ার চরিত্রে তিনি কখনও বলিষ্ঠ, কখনও বা কোমল। মাতৃত্বের স্নেহ পাই প্রতি ছত্রে। শ্রুতিনাটকটিকে আগাগোড়া বেঁধে রাখলেন সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় ও পৌলমী চট্টোপাধ্যায়। ‘শেষের কবিতা’র পরতে পরতে যে মনের ভাব প্রকাশ করা আছে, তা ওঁরা যথার্থ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, যা অন্য ভাষায় প্রায় অসম্ভব। বাঙালির মনে যে ‘শেষের কবিতা’ গাঁথা আছে, তার কিছুটা হয়তো এই ইংরেজি অনুবাদ পৌঁছে দিল। আগ্রহ তৈরি করল, যা নিতান্তই প্রয়োজন।
সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায়ের বেহালা কিছুটা আবহ তৈরি করলেও, আরও কিছু রবীন্দ্রনাথের গান আশা করেছিলাম। হয়তো সেই গান পৌঁছে দিত শিলং-এর পাহাড়ে! পুরনো খাম, এলোমেলো চিঠি দিয়ে চমৎকার মঞ্চ তৈরি করেছিলেন কৌশিক বসু। শ্রুতিনাটকে পোশাকের দিকে নজর দেওয়া কতটা প্রয়োজন, সেটা বুঝিয়ে দেয় এই প্রযোজনা! সে দিন প্রেক্ষাগৃহের প্রতিটি আসনে রাখা ছিল নীল রঙের ইনল্যান্ড লেটার— যা এক নিমেষেই পুরনো দিনে নিয়ে যায়। শেষে হঠাৎ যখন সুজয়প্রসাদের কণ্ঠে শুনি ‘কালের যাত্রার ধ্বনি’— মনে হয়, এই যেন শ্রেষ্ঠ নিবেদন!
‘যদি সৃষ্টি করে থাক / তাহারি আরতি / হোক তব সন্ধ্যাবেলা...।’