উমঙ্গ ২০২৬— নৃত্যাঞ্জলি ট্র্যাডিশনাল কত্থক ইনস্টিটিউশনের ১৭তম নৃত্যোৎসব উদ্যাপিত হল আইসিসিআর ও বিড়লা সভাঘরে। অনুষ্ঠানের আয়োজক কত্থক নৃত্যশিল্পী ও নৃত্য পরিচালক সুশান্ত ঘোষ। তাঁর প্রতিষ্ঠানের নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে প্রবীণ শিল্পীরা যুক্ত হয়ে, এই নৃত্যোৎসবকে গুরুশিষ্য পরম্পরার প্রদর্শন হিসাবে উপস্থিত করেন। তাঁর শিক্ষায়তনে নৃত্য কেবল কৌশল হিসেবে শেখানো হয় না— শোনা, চিন্তা করা এবং বেঁচে থাকার এক মাধ্যম হিসেবেও আত্মস্থ করানো হয়। ‘উমঙ্গ ২০২৬’ যেন এই দর্শনেরই মঞ্চায়ন।
কত্থক নৃত্যশিল্পী সুশান্ত ঘোষ নৃত্যশিক্ষা করেন শিল্পী সন্দীপ মল্লিক ও চিত্রেশ দাসের কাছে। অসীমবন্ধু ভট্টাচার্য, পারমিতা মৈত্র, সুস্মিতা মিশ্র, কাজল মিশ্র, অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়, সবিতা দাশগুপ্ত, সুবিকাশ মুখোপাধ্যায়, রামপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় এবং শৌভিক চক্রবর্তীর কাছেও তালিম নেন। এই নৃত্যোৎসবে তাঁদের মধ্যে অনেকেই উপস্থিত থেকে সুশান্তকে আশীর্বাদ করেন এবং কত্থক নৃত্য সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন।
মঞ্চে সুশান্ত ঘোষ।
অনুষ্ঠানের প্রথম দিন আইসিসিআর-এর সত্যজিৎ রায় অডিটোরিয়ামে সুশান্ত ঘোষের ছাত্রছাত্রীরা প্রথমে নৃত্যাঞ্জলি ও পরে প্রথাগত কত্থক নৃত্য উপস্থাপন করেন। সন্ধ্যায় ভরতনাট্যম মঞ্চস্থ করেন সম্রাট দত্ত ও শান্তনু রায়— গুরু-শিষ্যের দ্বৈত নিবেদন। এর পর রং কত্থক উপস্থাপন করেন নাদম শিক্ষায়তনের শিল্পীরা। নৃত্য পরিকল্পনা— সন্দীপ মল্লিক। শেষ অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা করেছিলেন শাশ্বতী গড়াই। অনুষ্ঠানের নাম ‘আমি আমার মতো’।
দ্বিতীয় দিন আইসিসিআর অডিটোরিয়ামে নৃত্যাঞ্জলি ট্র্যাডিশনাল কত্থক ইনস্টিটিউশনের শিল্পীদের নৃত্য নিবেদন। এর পর অসীমবন্ধুর শিষ্যা রঞ্জিনী ভট্টাচার্যের একক নৃত্য। পরের নিবেদন ‘সাধিকা সিদ্ধ ভজ’ গানের সঙ্গে নৃত্যে অংশগ্রহণ করেন সুরশ্রী ভট্টাচার্য ও প্রিয়াঙ্কা সাহা। লখনউ ঘরানার নৃত্যধারায় এই নৃত্যের রচনা ভাস্বতী সেনের। তৃতীয় দিন বিড়লা সভাঘরে ছিল নৃত্যানুষ্ঠান। তবলায় সহযোগিতা করেন বিনীত ব্যাস। অনুষ্ঠান শেষ হয় মহাপ্রভু চৈতন্যের কীর্তন গানের মাতন দিয়ে।
গুরু শিষ্য পরম্পরা — ক্লাসরুম থেকে মঞ্চে; শিশুশিল্পী থেকে প্রথিতযশা শিল্পীতে— ‘উমঙ্গ ২০২৬’ ভারতীয় নৃত্যের যথার্থ নিবেদন।
অনুষ্ঠান
- দুর্গাপুজোর আবহে নতুন আধুনিক বাংলা গান নিয়ে হাজির হয়েছে সুরিন্দর মিউজ়িক। গায়িকা মেখলা দাশগুপ্তের কণ্ঠে প্রকাশিত ‘কাশফুলের গন্ধ’ গানটি মুক্তি পেল সম্প্রতি। গানের কথা ও সুর শ্রীরাজ মিত্রের, সঙ্গীতায়োজন করেছেন রকেট মণ্ডল। সম্প্রতি শহরের এক রেস্তরাঁয় গানটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হয়। উপস্থিত ছিলেন পরিচালক রাজা চন্দ, বিপুল ঋষি, সুদীপ্তা রায় ও অন্যান্য অনেকেই। আধুনিক সাউন্ডস্কেপের সঙ্গে সত্তর ও আশির দশকের পুজোর গানের আবহকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে এই গানে। ইউটিউব-সহ বিভিন্ন ডিজিটাল মিউজ়িক প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে ‘কাশফুলের গন্ধ’। এই গানের মিউজ়িক ভিডিয়োয় রয়েছেন সুদীপ্তা ও বিপুল। ভিডিয়োটি পরিচালনা করেছেন সুমিত মণ্ডল, চিত্রগ্রহণ ও সম্পাদনা অনুপম কুণ্ডুর। মিউজ়িক প্রোগ্রামিং করেছেন শুভম পণ্ডিত।