গত বসন্তে রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অব কালচারে পরিবেশিত হল ‘নিবেদনের গান’। কিছু পাঠ ও গান দিয়ে গাঁথা এই আলেখ্য। শুরুতে ‘জীবনদেবতা’ কবিতাটির পাঠ অনুষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টিতে সাহায্য করে। রজনীকান্তের ‘তুমি অরূপ স্বরূপ’ গানটি শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। আলেখ্যয় বারবার ফুটে উঠেছে রবীন্দ্রনাথের জীবনদেবতার কথা। যে জীবনদেবতাকে রবীন্দ্রনাথ নিজের মধ্যে আবাহন করেছেন, সেই ঈশ্বরের কাছেই প্রণত হয়েছেন রজনীকান্ত। সেই ঈশ্বর-ভাবনায় প্রভাবিত ছিলেন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ও। সেই ঈশ্বর কখনও জননী, কখনও বন্ধু, কখনও দেশমাতৃকা। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘পতিত উদ্ধারিণী’ গানটি চমৎকার ছবি আঁকে। ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে রজনীকান্তের লেখা গান ‘আমি অকৃতী অধম’ মুগ্ধ করে। এ নিবেদন বোঝায়, কতটা কালজয়ী এই গান। ‘সে কেন দেখা দিল’ গানটি সুর ও ভাবনায় স্বকীয়, তাই আজও মুগ্ধ করে। ‘বঁধুয়া নিদ নাহি আঁখিপাতে’ বা নজরুলের লেখা ‘গোঠের রাখাল বলে দে রে’ পরিচ্ছন্ন নিবেদন। রজনীকান্তের সবচেয়ে জনপ্রিয় গান ‘কবে তৃষিত এ মরু’ প্রকাশ করে তাঁর আধ্যাত্মিক আত্মসমর্পণ।
অনুষ্ঠানের ভাষ্য বিন্যাস আমাদের সমৃদ্ধ করে। রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-রজনীকান্ত-দ্বিজেন্দ্রলাল সকলের গানের পারস্পরিক সম্পর্ক শ্রোতাদের সামনে ফুটে ওঠে। ঋদ্ধি তাঁর প্রতিটি গানে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। তিনি বরাবর এই ধারার গানে গবেষণারত, তা তাঁর পরিবেশনায় ধরা পড়ে। নানা ধারার গান পরপর গাওয়ার জন্য বিশেষ দক্ষতা লাগে, যা তাঁর উপস্থাপনায় স্পষ্ট। সৌমিত্র মিত্র নাট্য ও আবৃত্তি-জগতে প্রতিষ্ঠিত শিল্পী। তাঁর পাঠ শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। তবে সমবেত গান আরও পরিশীলনের আশা করে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি শ্রোতাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠান
নৃত্য পরিবেশনায় শিল্পীরা।
- সম্প্রতি বিড়লা অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত হল কালিদাস দিবস ১৪৩৩। আষাঢ়ের প্রথম দিনটিকে ঘিরে অদ্বিতীয়ের এই উদ্যাপন দীর্ঘ সময় ধরে হয়ে আসছে, যা এ বার পা দিল নবম বর্ষে। পয়লা আষাঢ় এবং কালিদাসের ‘মেঘদূতম’কে মনে রেখে প্রথম বর্ষার আনন্দ উদ্যাপন করে অদ্বিতীয়। এ দিন অনুষ্ঠানের সূচনায় এসরাজে মল্লারের সুর ধ্বনিত হয়। শুরু হয় ‘আহ্বান আসিল মহোৎসবে’ দিয়ে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুশোভন অধিকারী, নরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়ন্ত কুমার ভট্টাচার্য, মালবিকা সেন, মনশ্রী লাহিড়ী, প্রমীলা ভট্টাচার্য প্রমুখ। অতিথি নৃত্যশিল্পীদের মধ্যে ছিলেন শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়, সোমঋতা চক্রবর্তী, অন্বেষা বাগচী, অমৃতা ঘোষ, পল্লবী রুজ। এর পরের পরিবেশনায় ছিল অদ্বিতীয়-র নিজস্ব নৃত্যগীতি আলেখ্য। সমগ্র অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা, সঞ্চালনা ও নৃত্য নির্দেশনা করেছেন ইন্দ্রনীল রায়। শব্দ প্রক্ষেপণ ও তাঁর পরিচালন দক্ষতা অনুষ্ঠানটিকে এক আলাদা নান্দনিক মাত্রা এনে দিয়েছিল এ দিন।
- মালশ্রী সফল ভাবে আয়োজন করল ‘উত্তরণ’, যেখানে পরিবেশিত হল একাধিক নৃত্যনাট্য। সাবেরি ডান্স স্কুলের পরিবেশিত হল ‘সূর্য দেব– দ্য সান গড’ নৃত্যনাট্য। নন্দিনী ঘোষালের কোরিয়োগ্রাফিতে এই সৃষ্টি বৈদিক প্রজ্ঞা ও সমসাময়িক ভাবনার সংমিশ্রণ তুলে ধরে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মেঘ মল্লার’ অবলম্বনে সাহানা ডান্স ট্রুপের নৃত্যনাট্য শুভ–অশুভের চিরন্তন দ্বন্দ্বকে মঞ্চে জীবন্ত করে তোলে। রুদ্রাভ নিয়োগীর কোরিয়োগ্রাফি। মালশ্রীর নিবেদন ছিল ‘দেবতার গ্রাস’। ভাষ্য ও নির্দেশনায় কৌশিক সেনগুপ্ত। নৃত্য পরিচালনায় ড. অর্পিতা ভেঙ্কটেশ ও সম্পিতা চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গীত পরিচালনায় দেবব্রত চক্রবর্তী। কোহিনূর সেন বরাট ডান্স একাডেমির সর্বশেষ প্রযোজনা ‘দ্রোহী – দ্রৌপদী থেকে অভয়া: এক নারীর যাত্রা’ এক নীরব অথচ শক্তিশালী নৃত্যাভিব্যক্তি। ভাবনা ও আলোর রূপায়ণে কৌশিক সেনগুপ্ত এবং পরিচালনা ও পোশাক পরিকল্পনায় কোহিনূর সেন বরাট।