সম্প্রতি ‘দ্য ক্যালকাটা অঁসম্বল’-এর ৫১তম বর্ষ উদযাপিত হল, মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ‘কথায় গানে উত্তমকুমার’ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। প্রথমেই বলা যাক, এটি এক দীর্ঘ গবেষণামূলক অনুষ্ঠান, নিছক গানের অনুষ্ঠান নয়। উত্তমকুমার আমাদের বাঙালির জাতীয় আবেগ। তাই তাঁকে নিয়ে অনুষ্ঠান করা যতটা আনন্দের, ততটাই কঠিন। সেই গুরুদায়িত্ব পালন করলেন সৌমেন সরকার। ভাষ্যে ছিলেন শ্রমণা বসু ও সৌভিক গুহ সরকার। সমগ্র অনুষ্ঠানে গানের মাঝে মাঝে তাঁরা উত্তমকুমারের জীবনের নানা গল্প, নানা শিক্ষা, জীবনযাপনের কথা শোনালেন। সমগ্র অনুষ্ঠানকে তাঁদের ভাষ্যের মাধ্যমে এক সূত্রে গাঁথলেন।
প্রথমেই সমবেত কণ্ঠে ‘শাপমোচন’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘ঝড় উঠেছে, বাউল বাতাস’ আমাদের নিয়ে যায় সেই পুরনো দিনে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে অতি পরিচিত গান ‘বসে আছি পথ চেয়ে’ চমৎকার ভাবে পরিবেশন করলেন প্রলয় ভট্টাচার্য। কখনও শুনলাম ‘ঝনক ঝনক’, কখনও বা ‘আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা’। সমবেত কণ্ঠে নিপুণ ভাবে পরিবেশিত হল এই গান। উত্তমকুমারের সেই জনপ্রিয়তার গল্প শোনালেন ভাষ্যকাররা। ‘হারানো সুর’ সিনেমার সময়কার জনপ্রিয়তা একই ছিল শেষ অবধি।
শুভ্রা রায়ের কণ্ঠে ‘তুমি যে আমার’ বা মৌ সান্যালের কণ্ঠে ‘কী মিষ্টি’ গান দুটি মন ছুঁয়ে যায়। ‘সপ্তপদী’ ও ‘শঙ্খবেলা’ সিনেমার বিখ্যাত গান শুনলাম মৌমিতা সেন বসু-চিরঞ্জীব নাথ ও সঞ্জয় সেন-শাশ্বতী মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। অত্যন্ত যথার্থ শিল্পী নির্বাচন। অনেক দিন পর শুনলাম ‘কুহক’ ছবির গান। সমবেত পুরুষ কণ্ঠে ‘হাঁপায় যে এই হাপর’ অত্যন্ত সুগীত।
বিশ্বজিৎ দাশগুপ্ত ও মৌ সান্যালের কণ্ঠে ‘চম্পা চামেলি’ গানটি অপূর্ব নিবেদন। মধুর ভাবে গীত মোনালিসা ঘোষের কণ্ঠে ‘আহা পাতা কেটে’। সৌমেন সরকার তাঁর গভীর গম্ভীর কণ্ঠে শোনালেন ‘স্বপ্ন জাগানো রাত’। প্রবীণ শিল্পী বয়সকে হার মানিয়ে শোনালেন এই গান, যা মনকে তৃপ্তি দিল। ‘বনপলাশীর পদাবলী’ বা ‘বিভাস’ ছবির গানে বিশ্বজিৎ দাশগুপ্ত ও স্বাতী দাশগুপ্ত সপ্রতিভ। অনেক দিন পর শ্রোতারা উপহার পেলেন ‘ওগো কাজলনয়না’ গানটি। স্নেহাশিস রায়চৌধুরী অপূর্ব গাইলেন। ড. অনুপ মিত্রের কণ্ঠে ‘না না, আজ রাতে’ বা গৌতম গঙ্গোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘এই তো জীবন’ গান দুটি নাটকীয়তায় ভরপুর। ‘কা তব কান্তা’শোনালেন অপূর্ব চৌধুরী ও সহযোগী শিল্পীরা। এই গানটি সচরাচর গাওয়া হয় না। তাই এর নির্বাচন ও গায়ন প্রশংসাযোগ্য।
সমগ্র অনুষ্ঠানে প্রবীণ শিল্পীর সংখ্যাই বেশি। অনুষ্ঠানটি বারবার প্রমাণ করে মহড়ার নিষ্ঠা ওগাওয়ার আনন্দ। সার্থক হোক তাঁদের পথ চলা!