E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

দেখা হবে

ক্রমশ ওঁরা দু’জন আরও গভীর জঙ্গলে ঢুকে পড়ছিলেন। দু’পাশে শাল, শিমুল, জারুল, খয়েরের জমাট সঙ্ঘ। মাঝে সরু পথ। এ পথে টুরিস্টদের গাড়ি ঢোকে না। দৈবাৎ বনবিভাগের গাড়িই শুধু আসা-যাওয়া করে। অস্পষ্ট দুটো সরু দাগ তৈরি হয়েছে গাড়ির চাকার।

বিপুল দাস

শেষ আপডেট: ০৯ অগস্ট ২০২৬ ০৭:৩৪

ছবি: কুণাল বর্মণ।

পূর্বানুবৃত্তি: ঘোরের মধ্যে শিবু দেখল জমিদার চৌধুরীমশাই মাঝনদীতে নৌকো থেকে ধাক্কা দিয়ে জলে ফেলে দিলেন কালোশশীকে। তলিয়ে গেল কালোশশী। তাকে বাঁচানোর কোনও চেষ্টাই হল না। ঘোর ভাঙতে শিবু দেখল নন্দা তার জন্য খাবার করে এনেছে। তখনও শিবুর ঘোর পুরোপুরি কাটেনি। সে দেখল গভীর জলে নন্দাকে নিয়ে মন্টু যেন অনেক দূরে কোথাও চলে যাচ্ছে। শিবুকে চুপ করে থাকতে দেখে নন্দা খাইয়ে দিতে চায়। কিন্তু শিবু রাজি হয় না। অন্য দিকে, বাংলোর বারান্দায় বসে জ্যোৎস্নার আলোয় জীবনকে উপভোগ করছিলেন রামপ্রিয় সান্যাল। উঠোনে হেঁটে বেড়াচ্ছিল মনমায়া। কোনও কোনও রাতে তাঁরা দু’জন বেরিয়ে পড়েন গভীর জঙ্গলে হাঁটতে। হাটতে হাঁটতে চলে যান অনেক দূরে। উপভোগ করেন অন্ধকার জঙ্গলের সৌন্দর্য।

কখনও কোনও নাছোড় টুরিস্টকে নিয়ে কোনও গাইড হয়তো ঢুকে পড়ে জঙ্গলের কোর এরিয়ায়। কখনও ওয়াইল্ডলাইফ ফোটোগ্রাফার লুকিয়ে ঢুকে পড়ে। বিপদ থাকে প্রতি পদে। বুনো হাতি, ময়ালসাপ, লেপার্ড। ছবি তোলার নেশায় জীবন-মৃত্যু তুচ্ছ হয়ে যায়। আদিম শাল-শিমুলের ঘন ছায়াঢাকা অঞ্চলে ক্যামেরা নিয়ে অপেক্ষা করে বিরল কোনও পাখির জন্য, চিত্রল হরিণের নাচের ছন্দ বন্দি করার জন্য, কিংবা মুখোমুখি দুই হিংস্র জন্তুর মরণপণ লড়াই দেখার জন্য।

এদিকে বাইরের লোক আসে না। হাতির ভয় বরং এদিকটায় কম। ভয় লেপার্ডের। গত বেশ কয়েক বছর ধরে চা-বাগান লাগোয়া এই জঙ্গলের বিশেষ কয়েকটা বিটে লেপার্ডের সংখ্যা হঠাৎ বেশ বেড়ে গেছে। বনবস্তির যারা গরু-ছাগল পালন করে, তারা প্রায়ই অফিসে এসে অভিযোগ জানিয়ে যায়।

লেপার্ডের বিপদ অন্য রকম। প্রস্তুত হওয়ার সুযোগই দেয় না। চিতার চেয়ে সামান্য ছোট, ওজনেও একটু কম এই জন্তুগুলো সাধারণত রাতে শিকার করতে বেরোয়। চিতা বেরোয় ভোরবেলায় কিংবা শেষ বিকেলে। চিতার যেমন দুই চোখের নীচে কালো অশ্রুরেখা থাকে, লেপার্ডের সে রকম নেই। জলে খুব ভাল সাঁতার কাটতে পারে। লোমের রং হলদেটে বা ধূসর, মাঝে কালো রোজ়েট-ছাপ। ভারী শিকার নিয়ে অনায়াসে গাছে উঠে যায়। আর-সব বৈশিষ্ট্য চিতার মতোই।

হাতি যখন আসে, টের পাওয়া যায়। দিনে তো প্রায় আসেই না। রাতে কখনও একা একটা দাঁতাল, কখনও দল বেঁধে আসে ফসলের লোভে। বনবস্তির লোকজন মশাল জ্বালিয়ে, পটকা ফাটিয়ে, ক্যানেস্তারা বাজিয়ে ওদের তাড়িয়ে দেয়। কখনও ফসলের সর্বনাশ করে দিয়ে যায়, কখনও ঘরদোর তছনছ করে। লেপার্ড কোনও রকম হুঁশিয়ারি দেয় না। আচমকা ঘাড়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বাঁচোয়া এটাই যে, সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না। পাহাড়ের কোন গুহায়, গাছের কোন কোটরে, চা-বাগানের কোন নালার ভিতরে বাচ্চাদের লুকিয়ে রেখে পাহারা দিচ্ছে, কোন গাছের ডালে বসে মানুষদের লক্ষ করে যাচ্ছে বা কোন ঝোপের আড়ালে বসে আক্রমণের জন্য লেজে মোচড় দিচ্ছে— তার বিন্দুবিসর্গ টের পাওয়া যায় না। বড় অনিশ্চিত তার অবস্থান। গরু-ছাগল তো প্রায়ই মারা পড়ছে। চা-বাগানের বেশ ক’জন লেবারকেও আক্রমণ করেছে।

ক্রমশ ওঁরা দু’জন আরও গভীর জঙ্গলে ঢুকে পড়ছিলেন। দু’পাশে শাল, শিমুল, জারুল, খয়েরের জমাট সঙ্ঘ। মাঝে সরু পথ। এ পথে টুরিস্টদের গাড়ি ঢোকে না। দৈবাৎ বনবিভাগের গাড়িই শুধু আসা-যাওয়া করে। অস্পষ্ট দুটো সরু দাগ তৈরি হয়েছে গাড়ির চাকার।

ভার্জিন ফরেস্টের এই অঞ্চলে ঢুকলেই রামপ্রিয় সান্যাল গাঢ় সবুজের গন্ধটা পান। মন্দিরের ঘণ্টার মতো ঝিঁঝির আওয়াজ নৈঃশব্দ্য আরও ঘন করে তোলে। ডাক্তারবাবুর মনে হয়, সভ্যতা থেকে অনেক দূরে তিনি কোনও প্রাচীন পৃথিবীতে এসে পড়েছেন। সংসার, সমাজের কূটকচালি থেকে অনেক দূরে, প্রকৃতির গোপন কোনও ঘরে ঢুকে পড়েছেন। বুক ভরে বাতাস টানেন রামপ্রিয়। ধোঁয়াধুলোহীন নিষ্পাপ অক্সিজেন শুধু।

হঠাৎ তার দৃষ্টি গিয়ে পড়ল দুটো চোখের উপর। জ্বলজ্বল করছে চোখদুটো। এক সেকেন্ডের জন্য তাদের দিকে অবাকচোখে তাকিয়ে ছিল। তার পর স্প্রিঙের মতো লাফিয়ে পাশের জঙ্গলে হারিয়ে গেল। চিতল হরিণ।

বনের জীবজন্তু কম দেখা হয়নি রামপ্রিয় সান্যালের। সল্ট পিটে নুন খেতে আসা জন্তুদের তিনি তার বায়নোকুলার দিয়ে বহু বার দেখেছেন। সবচেয়ে ভাল লাগে হরিণের অবাক চাহনি। কী নিষ্পাপ তাকানো ওদের! মায়ের পাশে বাচ্চা যখন লাফায়, কী সতেজ লাবণ্য, কী প্রাণময়তা ফুটে ওঠে ওদের চঞ্চল ছন্দে! অথচ ওরা নিজেরা জানে না, আপনা মাংসে হরিণা বৈরী। তার ওই লীলাময় পেশি, তার শরীরই তার প্রাণের শত্রু। মাঝে মাঝে খবর আসে, কোনও বনবস্তিতে হরিণ মেরে পিকনিক হচ্ছে। কিন্তু এই এত বড় জঙ্গলের কে কোথায় হরিণ মেরে উৎসব করছে, তার হাল-হদিস রাখা সহজ নয়। মাঝে মাঝে খবর পাওয়া গেলেও হাতেনাতে ধরতে না পারলে কোনও লাভ নেই।

কখনও মনে হয়, মনমায়া আর একটু বেশি লেখাপড়া জানলে ভাল হত। পরক্ষণেই নিজের মনে হেসে ফেলেন। কী লাভ হত! তিনি কি মনমায়াকে আর একটু বেশি ভালবাসতেন! আরও একটু বেশি সুখ দিত তাকে মেয়েটা! আজ মনে হয়, যেমন ভাবে একজন মানবীকে তিনি চেয়েছিলেন, প্রেমময়, স্বাভাবিক, বুদ্ধিমতী এবং যৌনতাকে মানুষের এক অনিবার্য ভাইটাল ফোর্স হিসেবে স্বীকার করে নিতে পারে— তেমন ভাবেই তিনি মনমায়াকে পেয়েছেন।

বাগানের ক্লাবে এক দিন এ নিয়ে কথা উঠেছিল। বোকাগুলো সঙ্কীর্ণ অর্থে যৌনতা বুঝেছিল। রায়বাবু তো রীতিমতো আঙুল দিয়ে মিথুনমুদ্রা পর্যন্ত দেখিয়েছিল। তিনি আর কথা বাড়াননি। জীবনযাপনে, চলনে-বলনে, অশনে-বসনে যৌনতা যে এক অনস্বীকার্য চালিকাশক্তি— সেই ব্যাপ্তি বোঝার ক্ষমতা এদের নেই। যৌনতা বলতে এরা শুধু নারীগমন বোঝে।

আজ বোধহয় দোলপূর্ণিমা। আগে বকুলডাঙার বাড়িতে বড় করে দোল উৎসব হত। এখন বন্ধ হয়ে গেছে। কে করবে! কোনও মতে নিত্যসেবাটুকু হয় এখন। বাতাসে আবিরের গন্ধ পেলেন। অস্পষ্ট ঢোলের শব্দ শোনা যাচ্ছে। কুলি লাইনের ওদিকে ওরা হোলির গান গাইছে। আজ ওরা প্রাণভরে হাঁড়িয়া খাবে। আজ ওদের ফাগুয়া। বকুলডাঙার বাড়িতে থাকতে রং খেলার দিন তিনি পারতপক্ষে ঘর থেকে বেরোতেন না। ওই জোর করে রং মাখিয়ে দেওয়া, সোনালি, রুপোলি, কিংবা আরও বাজে রং মাখানো— ভীষণ অপছন্দ ছিল তাঁর।

বারান্দা থেকে আকাশ পুরো দেখা যাচ্ছিল না। পুব দিকে সোনার থালার মতো একটা চাঁদ উঠেছে। ফাল্গুনী পূর্ণিমার চাঁদ। ভাল করে দেখার জন্য কাঠের সিঁড়ি বেয়ে সামনের লনে নেমে এলেন। সিঁড়ির দু’পাশে বোগেনভিলিয়ার ঝাড় অনেক পুরনো। বাড়তে শুরু করলে তিনি মাচা করে টিনের চালা ধরিয়ে দিয়েছেন। সেই সাহেবি আমলের বাংলোই তাঁর কোয়ার্টার। এখনও কিছু বিলিতি বাসনপত্রের সেট আছে। রয়েছে ফায়ারপ্লেসও। বোগেনভিলিয়ার সোনালি ফুলগুলো এখন কালো দেখাচ্ছে।

লনে এসে দাঁড়ালেন রামপ্রিয় সান্যাল। কাল তার ডিসপেন্সারিতে একটু ভিড় থাকবে। বলা যায় না, রাতেও ইমার্জেন্সি কল আসতে পারে। প্রত্যেক বারই নেশার ঘোরে দু’চারটে মারপিট, মাথা ফাটা কেস, এক বার স্ট্যাবিং কেসও হয়েছে। এমনিতেই হপ্তার দিনে মজুরি হাতে পেলেই হাঁড়িয়া, নয়তো মোরগা লড়াইতে টাকা উড়ে যায়, আর আজ তো ফাগুয়ার নেশায় কোনও হুঁশ থাকবে না।

মনমায়া আর তন্বী তরুণী নেই। একটু পৃথুলা হয়েছে। ডাক্তারবাবুর চেয়ে অন্তত কুড়ি বছরের ছোট, গায়ের রং এখনও সেই মাখনের মতো। তার একটিও চুল পাকেনি। অথচ ডাক্তারবাবুর চুল তো পেকেইছে, উপরন্তু মাথার ঠিক মাঝখানে একদম ওভালের খেলার মাঠ। প্রথম প্রথম যখন একটা-দুটো পাকা চুল আবিষ্কার হচ্ছিল, মনমায়াকে বলতেন তুলে দিতে। আরাম লাগত। কিন্তু শেষের দিকে এমন দ্রুত পাকতে শুরু করল, তুলে আর মনমায়া কুলিয়ে উঠতে পারল না। তা ছাড়া, বোঝাই যাচ্ছিল, যত তোলা যাবে, তত বাড়বে। হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন।

“মন, আজকের চাঁদ দেখেছিস? কী বড় লাগছে!”

“জি, আজ তো পূর্ণিমা। হোলি হ্যায়। আপনি তো আবার একদম পছন্দই করেন না। প্রত্যেকবার ভাবি আপনাকে রং দেব, মনে হয় আপনি খুশি হবেন না, পছন্দ করবেন না।”

“তুইও তো খেলতে বেরোস না। আহা, কী চমৎকার হাওয়া বইছে, টের পাচ্ছিস? ফাগুন হাওয়া, বুঝলি! রবিঠাকুরের চমৎকার গান আছে। শোন... ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান, তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান। আজ আমার গলা ছেড়ে গাইতে ইচ্ছে করছে রে।”

“সবাই ভাববে ডাক্তারবাবু আজ মাতোয়ালা হয়ে গেছে। কোনও দিন তো দেখে নাই।”

“আমার সঙ্গে গলা মেলা, মন। তোমার অশোকে কিংশুকে, অলক্ষ্য রং লাগল আমার অকারণের সুখে...”

মনমায়া দেখল, আজ ডাক্তারসাব যেন সত্যিই মাতোয়ালা। গান গাইছে, আর শরীরটা তালে তালে দুলছে। দূরে ভুটান পাহাড়, ডান হাতে বিস্তৃত চা-বাগান, বাঁ দিকে ফরেস্ট। এ-সবের ওপর এসে পড়েছে নরম সোনার আলো। লনের এক দিকে সারি সারি অর্কিড, উল্টো দিকে মরসুমি ফুলের বেড। এখনও কিছু গ্ল্যাডিওলা, জিনিয়া আর চন্দ্রমল্লিকা ফুটে রয়েছে। এ-সবের মাঝখানে ডাক্তারসাব বিভোর হয়ে গাইছেন— “তোমার ঝাউয়ের দোলে মর্মরিয়া ওঠে আমার দুঃখরাতের গান...” অস্ফুটে তারও ঠোঁট নড়ে উঠল।

গান গাইছেন আর দু’হাত ছড়িয়ে বাচ্চাদের মতো ঘুরপাক খাচ্ছেন। মাথা ঘুরে পড়ে যাবেন তো! ভয় পেল মনমায়া। আজ কি ড্রিঙ্কস বেশি নিয়েছেন! এই গান এর আগে কোনও দিন ডাক্তারসাবের মুখে মনমায়া শোনেনি। সাধারণত পুরনো দিনের আর্টিস্টদের গান উনি পছন্দ করেন। পুরনো হিন্দি ফিল্মের গানও।

এ কী, ডাক্তারসাব মাটিতে পড়ে ছটফট করছেন তো! মনমায়া দৌড়ে গেল লোকজন ডাকতে।

“আয় প্রিয়তোষ, বাঃ, হারমোনিয়ামটাও সঙ্গে এনেছিস। ভেরি গুড। চাঁদটা দেখ, একেবারে লালচাঁদ বড়াল। থাক, আজ আমাকে সেই গানটা শোনা। তুঝে জীবন কি ডোর সে বাঁধ লিয়া হ্যায় বাঁধ লিয়া হ্যায়... প্রিয়তোষ, সত্যিই কাউকে জীবনের ডোর দিয়ে বেঁধে রাখা যায়, বল?”

আকাশে ফাল্গুনের চাঁদ অপার্থিব মায়া ছড়িয়ে ভেসে ছিল। ভুটান পাহাড়ের দিক থেকে শিরশিরে একটা হাওয়া বইছিল। নিউ গ্রাহাম চা-বাগানের দিকে বাতাস বয়ে আনছিল অরণ্যের বুনো গন্ধ। তার সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল আবিরের গন্ধ... “গা প্রিয়তোষ, তোমার চাঁদের আলোয় মিলায় আমার দুঃখ-সুখের সকল অবসান। গা, তেরে মতবারে নয়নো নে জাদু কিয়া তেরি উলফত্‌ সনম সর আঁখো পর... ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান...”

“প্রিয়তোষ, একটা কথা, কেউ কিন্তু জানে না। শুধু আমি আর তোর মরে-যাওয়া বৌ জানত।”

“জানি, তুমি এখন কী বলবে। মন্টু বোধহয় তোমার ছেলে। আমাদের নেতাজি কলোনির বাড়িতে খুব আসা-যাওয়া ছিল তোমার। শালা, আমি অন্য ঘরে স্টুডেন্টদের নিয়ে ক্লাস করছি, আর তুমি আমার শোয়ার ঘরে বেলাকে নিয়ে অন্য ক্লাস করছ! নইলে, বলো রামুদা, শিলিগুড়ির ওই অতটা জমি তুমি মন্টুর নামে লিখে দেবে কেন! টুকটাক জিনিস তুমি আমার সামনেই বেলাকে গিফ্‌ট করতে, কিন্তু সোনার জিনিস দিয়েছ আমার আড়ালে। ওর ট্রিটমেন্টের সময় সব বিক্রি করে দিয়েছি। আলমারিতে শাড়ির নীচে সোনার গয়না দেখে আমি বুঝতে পেরেছিলাম, ওগুলো নিশ্চয়ই তোমারই দেওয়া। আমার কাছে তো জাস্ট একটা শাড়ি পরে চলে এসেছিল। অসুখের সময় অবশ্য তুমিও অনেক হেল্প করেছিলে। করবেই তো। ভেবে দেখো, তোমার জন্যই তো ওর অসুস্থতা। রামুদা, কিছুই পাওয়া হল না এই জীবনে। সা থেকে নি, সাত রঙের পালক নিয়ে এক অলীক পাখির পিছনে ছুটে বেড়ালাম শুধু। হয় না, গুরুজি বলতেন এক জেনারেশনে তাকে ছোঁয়া যায় না।”

“ভাবিস না প্রিয়, দেখিস একদিন ঠিক দেখা হবে। তোর বুকের ভিতরে বসত করে গানের পাখি। তুই তো তার পালকের রং দেখতে পেয়েছিস। আমার কাছে তো অচিন পাখি হয়েই রয়ে গেল। ষড়জ থেকে নিষাদ—কিছুই চিনতে পারলাম না।”

“রামুদা, তুমি ওকে কেন নষ্ট করলে। আমার তো বেলা ছাড়া আর কিছু ছিল না।”

“তুই কিন্তু ওর দিকে কোনও দিন ভাল করে তাকিয়েও দেখিসনি। নিজের হারমোনিয়াম ছাড়া আর কিছু ভালবাসিসনি। তোর উপর বড় অভিমান ছিল বেলার। মানে... আমার সঙ্গ পেয়ে... বল, শিয়রে গঙ্গা নিয়ে কেউ কি উপোসি থাকতে পারে?”

“দাদা, বড় কষ্টের গো এই গানবাজনার জীবন।”

“ধুস! কিসের কষ্ট! চল, তুই ওই তারায় আমি এই তারায় বসে বসে অনন্তকাল ধরে তারায় তারায় যে গান বাজে, তাই শুনি।”

ক্রমশ

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Novel Series Novel

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy