E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

দেখা হবে

পাশের ঘরের দরজায় আস্তে টোকা দিল শিবু। ভিতর থেকে ধূপের সুগন্ধ আসছে। আবার ঘণ্টার শব্দ শুনতে পেল। দরজা ঠেলে একটু ফাঁক করতেই ক্যাঁচ করে শব্দ হল।

শেষ আপডেট: ২৩ অগস্ট ২০২৬ ০৭:০৫
ছবি: কুনাল বর্মণ।

ছবি: কুনাল বর্মণ।

পূর্বানুবৃত্তি: বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মনমায়াকে নিয়ে গভীর অরণ্যে ঘুরে বেড়ানোর কথা ভাবছিলেন ডাক্তার রামপ্রিয় সান্যাল। অনেকে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে অনেক কথা বলে, কিন্তু সে সবে কোনও দিনই পাত্তা দেননি তিনি। বারান্দায় দাঁড়িয়ে রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে তাঁর মনে হল সেদিন বোধহয় দোলপূর্ণিমা। আগে তাঁর বকুলডাঙার বাড়িতে বড় করে দোল উৎসব হত। বাতাসে আবিরের গন্ধ ভেসে বেড়াত। তিনি কখনও রং খেলতেন না। মনমায়াকে নিয়ে চাঁদের আলোমাখা লনে বেড়াতে বেড়াতে ডাক্তার বাবু গান গাইতে লাগলেন। এক সময় হঠাৎই তিনি মাটিতে পড়ে ছটফট করতে লাগলেন। মনমায়া ব্যস্ত হয়ে দৌড়ে গেল লোকজন ডাকার জন্য।


মনমায়ার চিৎকারে সবাই ছুটে এসেছিল। প্রথমে জলপাইগুড়ির হাসপাতাল, সেখান থেকে শিলিগুড়ির মেডিক্যাল কলেজ। ছাব্বিশ দিন কোমায় থাকার পর এক দিন চলে গেলেন। হয়তো আকাশগঙ্গায়। সেখান থেকে দেখা যায় অনেক আলোকবর্ষ দূরের নক্ষত্রপুঞ্জ। দেখতে পান কত নতুন নক্ষত্র, কত লোহিতদানব, শ্বেতবামন তারা। সুপারনোভা অবস্থায় কত নক্ষত্র বিস্ফোরণের অপেক্ষায় রয়েছে। খুঁজে বার করেন মৃগশিরা, অরুন্ধতী। ওই যে আর্দ্রা, আলফা ওরিওনিস। কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডলের দ্বিতীয় উজ্জ্বলতম তারা। এখন আর অন্য কোনও গান নয়, প্রিয়তোষের কাছে শোনা একটি গানই শুধু মনে পড়ে। আমায় নইলে ত্রিভুবনেশ্বর, তোমার প্রেম হত যে মিছে।

তারায় তারায় গান বাজে। দু’জন দুঃখী মানুষ এখন যেন অনন্ত আনন্দে সেই গান গেয়ে ঘুরে-ফিরে বেড়ায় নক্ষত্ররাজ্যের আলপথ ধরে। এক পুঞ্জ থেকে আর এক পুঞ্জে। অ্যান্ড্রোমিডা থেকে সিগন্যাস, সেখান থেকে ওরিয়ন হয়ে হারকিউলিস।

১৭

“তুই সেফ খেলছিস মন্টু। আমি কিন্তু আর শিবুর সঙ্গে থাকতে পারছি না। তা ছাড়া, মনে হচ্ছে তোর সঙ্গে আমার রিলেশন নিয়ে ও বোধহয় কিছু বুঝতে পেরেছে। আমি কিন্তু তাড়াতাড়ি কোনও ডিসিশন নিয়ে ফেলব। এরকম আর ভাল লাগছে না আমার। চুপ করে আছিস কেন, কিছু বল।”

পলাশগুড়িতে আসার জন্য নন্দা খবর দিয়েছিল মনোতোষকে। তার শাশুড়ির নতুন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। সপ্তাহে অন্তত এক দিন তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। দাঁতকপাটি লেগে যাচ্ছে। আর, তার এখনও ঠিকঠাক বোধে আসেনি যে, রামপ্রিয় সান্যাল মারা গেছেন। ডাক্তারবাবুকে নিয়ে এত যে দৌড়োদৌড়ি হয়েছে, ছাব্বিশ দিন কোমায় থাকার পর মৃত্যু— এ-সব কিছুই তিনি জানেন না। তাঁকে কেউ জানায়নি। এক তো ভয় ছিল। ডাক্তারবাবুর মৃত্যুর কথা শুনেও যদি তিনি মুখ ছোটান— তবে বড় লজ্জার কথা হবে এ-বাড়ির পক্ষে। দুই, তাঁকে কখন বলা হবে। সর্বক্ষণই তিনি তাঁর গোপালকে নিয়ে ঠাকুরঘরে। লোকজন তাঁর কথা প্রায় ভুলেই গেছে। মনোতোষ আর নন্দা মিলে তাঁকে ওষুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করেছিল। তিনি, তাঁকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র হচ্ছে— এই মর্মে তাঁদের দু’জনকেই কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। নন্দা আর মন্টুকে জড়িয়ে চূড়ান্ত নোংরা কথা বলেছেন। সে-কথা মনে পড়লে এখনও লজ্জায় নন্দার কান লাল হয়ে ওঠে। কাউন্সেলিং-এর জন্য নিয়ে যাওয়ার তো প্রশ্নই নেই।

মেডিক্যাল কলেজ থেকে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে বডি এ-বাড়িতে আনা হয়েছিল। শিবু গিয়ে ঠাকুরঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ডাক দিয়েছিল।

“মা, একবার বাইরে এসো।”

পাশের ঘরের দরজায় আস্তে টোকা দিল শিবু। ভিতর থেকে ধূপের সুগন্ধ আসছে। আবার ঘণ্টার শব্দ শুনতে পেল। দরজা ঠেলে একটু ফাঁক করতেই ক্যাঁচ করে শব্দ হল। মুখ ঘুরিয়ে তার মা শিবুর দিকে তাকাল। মায়ের কপালের বড় সিঁদুরের টিপ, সিঁথির সিঁদুররেখার দিকে তার চোখ আটকে রইল।

সে মনে মনে বলল, ‘মা, তুমি যে বিধবা হলে, এখনও বোঝোনি!’

তাকে দেখেই ফস করে হাত বাড়িয়ে সিংহাসন থেকে কালো পাথরের গোপাল নিয়ে আঁচলে বেঁধে ফেলল তার মা।

“মা, এক বার বাইরে আসতে হবে।”

মুখ ঘুরিয়ে নিল চন্দ্রা। বুকের কাছে জোড়হাত, চোখ বন্ধ করে কী যেন বলছে বিড়বিড় করে। ধূপের ধোঁয়ায় ঘরটা ভর্তি। সারা দিন এই ধোঁয়ার মধ্যে বসে থাকে তার মা। তার তো এই এক মিনিটেই শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। মা বোধহয় আর বাঁচতে চায় না। অথবা ভাবছে যত বেশি কষ্ট সহ্য করবে, ঠাকুর তত বেশি প্রসন্ন হবে।

“আমি তো এখন আসন ছেড়ে উঠতে পারব না। সঙ্কল্প আছে।”

“মা, সঙ্কল্প করে সময় নষ্ট না করে যদি নিজের শরীরের দিকে একটু নজর দিতে, সংসারের দিকে যদি একটু...”

“তার জন্য আমি কেন করতে যাব। আমি তো বাবু, আমার গোপালের জন্য সঙ্কল্প করেছি। আর সাত দিন বাকি আছে। তোরা সবাই মিলে ষড় করে তাকে কোথায় চুরি করার চেষ্টা করছিস, আমি বুঝি না নাকি! এ বাড়ির সবাই সব সময় আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ফিসফাস করে কথা বলে, আমাকে দেখলেই চুপ করে যায়।”

“ঠিক আছে মা। তোমার কথা সব সত্যি। এখন একবার বাইরে আসবে তো।”

“কেন? আমি বাইরে যাব, আর সবাই মিলে আমার গোপালকে চুরি করবি, তাই না? অসুখবিসুখ আমার ভাল লাগে না। আর, শয়তানটার তো আজ মরে যাওয়ার কথা। সঙ্কল্প করেছি, মরা মানুষ দেখলে বাধা পড়বে।”

প্রায় মিনিটখানেক মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল শিবু। কথাগুলো বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল তার। এ-সব কী বলছে তার মা! সে কী করে জানল আজ বাবার মরে যাওয়ার কথা! আর জানলই যদি, এক বার দেখতেও যাবে না!

শিবু জিজ্ঞেস করে, “মা, তোমায় কে বলেছে আজ বাবা মারা যাবে?”

“কে আবার বলবে, ঠাকুর নিজেই কাল রাতে বলেছেন— হরিণটাকে কাল চিতাবাঘে নেবে। আমি তখনই বুঝেছি এ কথার গভীর মানে আছে। মরণের গন্ধ আছে। কালপক্ষীর মতো কালচিতাও হয়।”

“তোমার পুজো শেষ হতে আর কতক্ষণ?”

“আর ঘণ্টাখানেক। ও বেলায় আবার অন্য রক্ষামন্ত্র আছে।”

ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে হাসল চন্দ্রা। শিবু দেখতে পেল যুগ-যুগান্তের অপমান, না-পাওয়ার কষ্ট, শূন্যতার হাহাকার ঝরে পড়ছে তার মায়ের হাসিতে। মুখ ঘুরিয়ে নিল শিবু।

“মা, বাবা আর নেই।”

খুব শান্ত ভঙ্গিতে ঘণ্টা হাতে নিয়ে আবার বাজাতে শুরু করলেন রামপ্রিয় সান্যালের বৌ।

উঠোনে অনেক লোক অপেক্ষা করছিল। বাড়ির লোক বাদেও ডাক্তারবাবুর খবর পেয়ে অনেকেই এসেছে। শ্মশানে যাওয়ার তোড়জোড় চলছিল। সাদা ফুল দিয়ে গাড়ি সাজানো হচ্ছে। তার মাঝেও ছোট ছোট গ্রুপে ফিসফাস হচ্ছিল। নন্দা বুঝতে পারছিল, তার শাশুড়িকে নিয়েই কথা হচ্ছে। তার সিঁদুর মোছা, শাঁখা ভাঙার অনুষ্ঠান এখনও বাকি আছে। সামান্য অধৈর্য হয়ে উঠছে সবাই— টের পাওয়া যাচ্ছিল।

চন্দ্রা এলেন। এখনও যেন পুজোর ঘোরেই রয়েছেন। দৃশ্যপট থেকে বৌরা সরে যাচ্ছে। সারা জীবনের রংবাজির শেষে সাদা হয়ে যাওয়ার এই দৃশ্যে সধবাদের থাকতে নেই। নির্বিকার, অশ্রুপাতহীন চন্দ্রার বিধবা হওয়ার দৃশ্য দেখে লোকজন একটু অবাক হয়েছিল। বোঝাই যায় এ নিয়ে পরে অনেক গল্প তৈরি হবে। কিন্তু এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় যে, সেটা ডাক্তারবাবুর বৌয়ের মনের জোর, না কি নিষ্ঠুরতার গল্পে দাঁড়াবে। ভবিষ্যতের গল্পের সমস্ত উপকরণ নিয়ে রামপ্রিয় সান্যালের বৌ চন্দ্রা ধীরে ধীরে তাঁর শরীরের নোংরা ধুয়ে ফেলছিলেন।

সেখান থেকে শান্ত ভাবে উঠে চন্দ্রা কলতলায় গেলেন। সবাই দেখছিল, সদ্যবিধবা বৌটা কেমন রগড়ে রগড়ে হাত-পা ধুচ্ছে। তাঁর হাত-পায়ের আঙুলের খাঁজে খাঁজে যেন হাজার হাজার বছরের ধুলোমাটি লেগে আছে। কতক্ষণ ধরে ঘষে যাচ্ছেন, কিছুতেই আর পরিষ্কার হচ্ছে না তাঁর শরীরের খাঁজে-ভাঁজে জমে-থাকা প্রাচীন ময়লা। ঘৃণা, নাকি মমতায় তিনি তাঁর শরীরের বাসি ময়লা সাফ করে চলেছেন— তাঁর মুখ দেখে সে-কথা কেউ বুঝতে পারছিল না। অপেক্ষা করছিল সবাই। তার পর বমি করলেন চন্দ্রা। অনেকটা বমি যেন তাঁর বুকের ভিতর থেকে, পেটের ভিতর থেকে অনেক দিনের বাসি রক্তের মতো বেরিয়ে গেল।

এখন কাঁদছেন রামপ্রিয় সান্যালের বৌ। সমস্ত সাংসারিক মানুষের বুকের ভিতর থেকে একটা আটকে থাকা বাতাস বেরিয়ে এল। সংসারে সব কিছুর একটা স্বাভাবিক নিয়ম আছে। সুখের, দুঃখের, হাসি এবং কান্নার। তার বাইরে কিছু হলে মানুষের সহ্য হয় না। দম আটকে আসে। ডাক্তারবাবুর বৌ কাঁদতে শুরু করলে অনেকের মুখে হাসি ফুটল। না, অধিক শোকে পাথর হয়নি বৌটা, মানুষই আছে। নন্দার মনে হল, তার শাশুড়ি যেন বমির উপরেই বসে আছে। থাকুক, ও-শাড়ি তো পাল্টাতেই হবে।

লোকজন আসছে। আত্মীয়স্বজন। একটা সাদা অ্যাম্বাসাডর, দুটো মারুতি, কয়েকটা বাইক। পাড়ার ছেলেরা কাচ-ঢাকা গাড়িটা ফুল দিয়ে সাজিয়ে দিচ্ছে। সাদা শাড়ি পরা একজন বয়স্কা মহিলা জানতে চাইলেন, সবাই চা পেয়েছে কি না। একটি বাচ্চা ছেলে লাইটার জ্বালিয়ে একগোছা ধূপকাঠি ধরাচ্ছে। একটা হাওয়া এল। লাইটার নিভে গেল। একজন বলল— “দাঁড়া, আমি হাত আড়াল করছি। তুই ধরা।” কয়েকটা কাঠি ধরেছিল। সেই ধোঁয়া বাতাসে এলোমেলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।

বাতাসটা এসেছিল অনেক দূর থেকে। ভুটান পাহাড়ের পায়ের কাছে একটা চা-বাগান, তার চারপাশে শাল শিমুল জারুল সেগুনের প্রাচীন অরণ্য, পাহাড়ি নদী, যেখানে চা-বাগানের নালায় লেপার্ড লুকিয়ে থাকে শাবকদের নিয়ে— সেই অরণ্য থেকে। একটা বাংলোর বারান্দা থেকে। বিশাল অঞ্চলের উপর জুড়ে যে জলীয় বাষ্প ছিল, বাতাসের গর্ভে সেই জল মিশেছিল। বাতাস পথ চিনে নিয়েছে। মে ঝু নদীর পাড় থেকে জলদাপাড়ার জঙ্গলের পাশ দিয়ে ছুটে আসছে বাতাস। তার পর বীরপাড়ার দিকে না গিয়ে ঘুরে গেল ফালাকাটার দিকে। ধুপগুড়ি, ময়নাগুড়িতে পেরোল জলঢাকা আর তিস্তা নদী। পার হয়ে যাচ্ছে হাতিমোড়, গন্ডারমোড়। বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলের বাতাস এসে মিশে যাচ্ছে এই বিরহী বাতাসের সঙ্গে। ট্র্যাফিক সিগন্যাল অগ্রাহ্য করে হু হু করে ঢুকে পড়ল পলাশগুড়িতে। এবার সজল বাতাস খুঁজে নিচ্ছে বকুলডাঙা।

সান্যালবাড়ি খুঁজছে উতল হাওয়া। কারও কানে কানে কিছু বলবে বলে পাগল বাতাস মিষ্টি জল বুকের ভিতর আগলে নিয়ে একটা সমুদ্র খুঁজে বেড়াচ্ছে। ওই যে কত বার গল্প শোনা বসাকদের মাঠ, সুকান্ত স্মৃতি পাঠাগার, ওই যে সান্যালবাড়ি।

সিঁড়ির সামনে রামপ্রিয় সান্যাল। সাদা কাপড়ে শরীর ঢাকা। নাকে তুলো গোঁজা, চোখের পাতা বন্ধ। হাতে একগোছা রজনীগন্ধা নিয়ে এক জন তার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। সেই বাতাস দোলা দিল রজনীগন্ধায়। দুটো ফুল ঝরে পড়ল চোখের উপর। ঘুমের আদর ছুঁয়ে দিচ্ছে চোখের পাতা। নরম সাদা পাপড়ি। হাওয়া ঘুরে এসে আবার দোলা দিল রজনীগন্ধায়। এবার একটা ফুল খসে পড়ল। ডাক্তারবাবুর ঠোঁটের উপর দিয়ে একটা সাদা ফুল কী সুন্দর গড়িয়ে যাচ্ছে। শীত মুছে যাচ্ছে ওই ঠোঁটের। এরকমই কথা হয়ে আছে। একটা শরীরের শীতঘুম ভাঙবে এবার।

নতুন শ্মশানঘাটের দিকে যাচ্ছে গাড়িটা। চারপাশে কাচের আবরণ। একটা মানুষ বুকের গভীরে ক্ষত নিয়ে জীবনের রহস্যময়তা খুঁজে দেখতে গিয়ে খুঁজে পেয়েছিল একমুঠো রজনীগন্ধা। জন্মবীজের ঘুম ভাঙিয়ে বেগবান, প্রাণময় হয়ে উঠতে চেয়েছিল।

নতুন বাইপাস দিয়ে গাড়িটা খুব আস্তে আস্তে যাচ্ছে। চার পাশের কাচের আবরণ। ভিতরে ঢোকার জন্য সজল বাতাস কাচের দেওয়ালে ধাক্কা খাচ্ছে। বাতাসের সঙ্গে একটা গুনগুন শব্দ— ‘ডাক্তারসাব... ওগো শুনছ...’ খই উড়ছে নতুন পথ জুড়ে।

১৮

“শিবুকাকা বাড়িতে নেই? দেখছি না?”

নন্দা বলে, “শিলিগুড়ি গেছে। অবশ্য আমিই জোর করে পাঠিয়েছি। এখানকার ডাক্তার বলেছে মাথায় ইইজি করতে। কিছু দিন ধরে কেমন যেন অ্যাবনর্মাল লাগছে ওকে। মাথার চুল ধরে টানতে থাকে। কখনও মাথার পিছনটা দেওয়ালে ঠোকে।”

ক্রমশ

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Bengali Novel Novel

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy