E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

দেখা হবে

মনোতোষ ভয় পাচ্ছিল। নন্দার সঙ্গে এই জড়িয়ে পড়া তাকে মানসিক ভাবে বেশ অস্থির করে রেখেছে ইদানীং। বিয়ের পর থেকেই নন্দার সঙ্গে আড্ডা, ইয়ার্কি, এমনকি খারাপ রসিকতাও করেছে।

বিপুল দাস

শেষ আপডেট: ৩০ অগস্ট ২০২৬ ০৮:৩৫
ছবি: কুনাল বর্মণ।

ছবি: কুনাল বর্মণ।

পূর্বানুবৃত্তি: টানা ছাব্বিশ দিন কোমায় থাকার পর প্রয়াত হলেন হলেন ডাক্তার রামপ্রিয় সান্যাল। এ-সবের কিছুই জানতে পারলেন না তাঁর স্ত্রী চন্দ্রা। মনোতোষ আর নন্দা তাঁকে ওষুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। কাউন্সেলিং করানোও সম্ভব হয়নি। ডাক্তারবাবুর মৃতদেহ যখন বাড়িতে আসে, তখনও সেখানে আসতে চাইছিলেন না তাঁর স্ত্রী। নানা অসংলগ্ন কথা বলার পর শিবুর অনুরোধে তিনি আসেন। ভেঙে পড়েন কান্নায়। স্নান করেন দীর্ঘ সময় ধরে। সমস্ত চেনা জায়গা ছেড়ে শববাহী গাড়ির কাচের আবরণের মধ্যে চিরপ্রস্থানের পথে রওনা হন ডাক্তারবাবু।


নন্দার কথা শুনে অবাক হয় মনোতোষ। জিজ্ঞেস করে, “কেন? কী হয়েছে শিবুকাকার?”

ঠোঁট উল্টোয় নন্দা, বলে, “কী জানি! আমাকে ডেকে ওর পুরনো বন্ধুদের নাম জানতে চায়। পুরনো কথা ভুলে যাচ্ছে। চেহারার হুবহু ডেসক্রিপশন দিচ্ছে, কথা বলার ভঙ্গি পর্যন্ত মনে আছে, অথচ কিছুতেই নাম মনে করতে পারে না। এই বয়সে তো ডিমেনশিয়া হওয়ারকথা নয়।”

“অনেকের আর্লি ডিমেনশিয়াও হয়। শিবুকার হয়তো তেমন...”

“পুরো বংশটাই পাগল। যেমন আমার শাশুড়ি, তেমনই ছিলেন শ্বশুরমশাই, আর স্বামী কেন হবে না! বংশের ধারা বলে একটা ব্যাপার আছে না। আমার সুখের জীবনের এবার ষোলোকলা পূর্ণ হবে। সত্যি, একটা বিয়ে দিয়েছিলি বটে তোরা। খুব সুখে আছি রে।”

“কী বলবি বলেছিলি? সেটা বল।”

মনোতোষ ভয় পাচ্ছিল। নন্দার সঙ্গে এই জড়িয়ে পড়া তাকে মানসিক ভাবে বেশ অস্থির করে রেখেছে ইদানীং। বিয়ের পর থেকেই নন্দার সঙ্গে আড্ডা, ইয়ার্কি, এমনকি খারাপ রসিকতাও করেছে। কিন্তু কখনও তার দিকে লোভের দৃষ্টিতে তাকায়নি। আর প্রেম-ভালবাসার কথা তো মনেই আসেনি। অথচ এবার কী দ্রুত তাদের একটা সিরিয়াস সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেল! সে রকম ভাবে কিছু বোঝার আগেই তাদের শরীরের সম্পর্ক হয়ে গেল! এখন মনে হচ্ছে নন্দা বোধহয় তাকে ভালবাসে।

আর সে? বুঝে উঠতে পারছে না মনোতোষ। বুঝে উঠতে না পারার জন্য একটা অস্থিরতা সব সময় তার ভিতরে কাজ করছে। ভালবাসাহীন এই সম্পর্ক নিয়ে সে কী করবে! কোন পাত্রে রাখবে নন্দার এই ভালবাসা!

কোনও হ্যাপি এন্ডিং নেই এই সম্পর্কের। মনোতোষ ভয় পাচ্ছিল, এ নিয়ে কথা তুলবে নন্দা।

“তুই কিন্তু সেফ খেলছিস, মন্টু,” শুনে বিরক্ত হল মনোতোষ। এখানে সেফ-আনসেফের কথা উঠছে কোথা থেকে! খেলা কি সে শুরু করেছিল! সে বরাবরই একটু আড়ালে থাকা মানুষ। রাস্তাঘাটে ঝামেলা দেখলে কোনও লম্বা লোকের আড়াল নিয়ে উঁকি দেয়। অ্যগ্রেসিভ ব্যাপারটাই তার স্বভাবে নেই। খেলার ইশারা নন্দাই দিয়েছিল। সে পারেনি খেলার সেই ডাক ফিরিয়ে দিতে। নির্লজ্জের মতোই তার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল নন্দা। শিবুকাকাকে নিয়ে তার কষ্ট টের পেত মনোতোষ। ওরকম বর নিয়ে সংসার করা সত্যিই অসম্ভব। একটা ইস্যু থাকলেও হয়তো নন্দা তাকে নিয়ে একটা সান্ত্বনা পেত। সিমপ্যাথি তো হতেই পারে। সেটাকে ভালবাসা বলে কী করে নন্দা ভুল করল! সে ‘সেফ’ খেলছে বলে নন্দা কি তাকে আঘাত দিতে চাইছে!

সে বলল, “কী ডিসিশন নিতে চাইছিস তুই? শিবুকার ট্রিটমেন্ট শেষ হোক, দেখ ভাল হয়ে যাবে। আমি যতটুকু বুঝি, কত দিন ধরে সারাটা দিন রোদে-বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে মাছ ধরেছে, এক ভাবে ফাত্‌নার দিকে তাকিয়ে থাকা, আর সব সময় একটা টান-টান উত্তেজনা— সব মিলেই নার্ভের উপর চাপ পড়েছে। ক’দিন বিশ্রাম নিলে আর রেগুলার ওষুধ খেলেই নর্মাল হয়ে যাবে।”

উত্তরে আগের চেয়েও বেশি কঠিন শোনায় নন্দার গলা, “আমার ডিসিশন কিন্তু ফাইনাল। শিলিগুড়ি বারে গিয়ে আমি ল’ইয়ারের সঙ্গে কথা বলে এসেছি। পাগলের সঙ্গে আমি আর ঘর করতে পারছি না। বিয়ের পর পর কয়েকটা দিন বাদ দিলে সে আমার চাহিদার কথা মনেই রাখল না! আমার শরীর আর মনের কোনও খবরই রাখল না! তার পরে তো সারা দিন মাছ ধরে ফিরে এসে এত টায়ার্ড থাকত, কোনও মতে শুয়েই অঘোরে ঘুম! আমার ইচ্ছেটিচ্ছেগুলো সব মরে গিয়েছিল, শুকিয়ে খয়েরি ঘাসের মতো হয়ে গিয়েছিল। রসহীন, কর্কশ।”

নন্দার কথা শুনে চমকে ঊঠল মনোতোষ। কোর্টে কেন গিয়েছিল নন্দা! নিশ্চয়ই উকিলের সঙ্গে কথা বলতে। কোন ফাইনাল সিদ্ধান্তের কথা বলতে চাইছে নন্দা?

“তুই কি সেপারেশনের কথা ভাবছিস?”

“পারমানেন্টলি বিচ্ছেদ। আমার জীবন আমি নষ্ট হতে দেব না। তোর সঙ্গে বাকি জীবন কাটাব।”

এবার ভয় পেল মনোতোষ। দেখল, তার সামনে কোনও লম্বা মানুষ নেই, যার পিছনে সে আড়াল নিতে পারে। তাকে এখন একাই মুখোমুখিহতে হবে।

“ইমোশনালি কোনও সিদ্ধান্ত নিস না। শিবুকার তো শুধু ওই একটাই নেশা। তা ছাড়া, অকেশনালি হয়তো এক-আধ পেগ খায়। আর কোনও খারাপ নেশা নেই। আজ পর্যন্ত কোনও দিন তোর গায়ে হাত তুলেছে? খারাপ কথা বলেছে তোকে? কোনও ব্যাপারে তোর ইচ্ছের বিরুদ্ধে গেছে? তোকে চলাফেরায় বা অন্য ব্যাপারে স্বাধীনতা দেয়নি? এ-সব হয়েছে কখনও?”

“কী ব্যাপার মন্টু, তুই যে বড় শিবুকাকার পক্ষে কথা বলছিস! তাকে মহান বানানোর চেষ্টা করছিস! না, তুই যা-যা বললি, সে-সব কোনও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আমার নেই। কিন্তু থাকলে মনে হয় ভাল হত। মনে হত লোকটা স্বাভাবিক। বৌকে অন্তত নিজের মানুষ বলে মনে করে। আমার চলাফেরায় কোনও দিনও ডমিনেট করার চেষ্টা করেনি। প্যাট্রিয়ার্কাল কোনও ট্যাবু ওর মধ্যে আমি দেখিনি। ওর এই উদাসীনতার থেকে বরং, কখনও আমার মনে হয়, কেন আমাকে খুব কড়া শাসন করল না। আমার ভুল দেখলে, অন্যায় দেখলে একটা চড় মারত তাও মেনে নিতাম... মেয়েরা সব মেনে নিতে পারে, কিন্তু দিনের পর দিন অবজ্ঞা, নিজের ভাল-লাগা নিয়েই সে থাকবে... এ হয় না মন্টু। এত অপমান আমি আর নিতে পারছি না। জাস্ট বিয়ে করে আমাকে এ সংসারে ফেলে রেখেছে। আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি, তুই এসে দেখে যা মন্টু। একটু পাল্টে নিলাম। পড়েছিস না?”

“তুই কি সত্যি শিবুকাকে ডিভোর্স দিতে চাইছিস? তার পর কী করবি?”

নন্দা বেশ কিছুক্ষণ সরু চোখে মনোতোষের দিকে তাকিয়ে রইল। মনোতোষ দেখল, তার চোখে নানা রকম ছবি খেলে বেড়াচ্ছে। বিস্ময়, অবিশ্বাস, কিছুটা ঘৃণা, কিছুটা করুণা। শেষে তার চোখে ক্রোধের ফুলকি ছিট্‌কে উঠল, “মন্টু, তুই এখনও সেফ খেলে যাচ্ছিস। তুই বুঝতে পারছিস না আমি কী বলতে চাইছি, কী চাইছি? ন্যাকার মতো জিজ্ঞেস করছিস— তার পর কী করবি! তুই কি এখন ভয় পাচ্ছিস? তখন তো খুব মজা পেয়েছিস, এখন দায় নেওয়ার কথা শুনেই পালাতে চাইছিস।”

অপমানে মুখ কালো হয়ে গেল মনোতোষের। ‘খুব মজা’ বলার সময় ‘খুব’ শব্দটা এমন ভাবে টেনে বলল নন্দা, যেন লম্পট মনোতোষ সুযোগ বুঝে জোর করে নন্দাকে নিয়ে মজা লুটেছে। নন্দার সম্মতি ছিল, নন্দার প্ররোচনা ছিল। আর সে জাটিংগার পাখির মতো আগুনে ঝাঁপ দিয়েছিল। তখন তো নাচার পুরুষের আর কোনও উপায় থাকে না।

“মজা কি আমি একা এনজয় করেছি নন্দা? আমি কি তোর অসম্মতিতে কখনও কিছু করেছি তোকে! তখন আর কোনও উপায় থাকে, বল। প্রবৃত্তি তখন এমন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে...”

“চুপ কর। আমাকে জ্ঞান দিবি না। আজকে তুই আমার সঙ্গে ফাইনাল কথা বলবি। আমি ডিভোর্স পেলে আমাকে বিয়ে করতে তোর আপত্তি আছে কি না। ব্যস, আর কোনও কথা আমি শুনতেচাইছি না।”

“নন্দা, তুই কি আমাকে সত্যিই ভালবাসিস? আমার কেমন যেন মনে হয়, তুই শিবুকার উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমাকে ব্যবহার করছিস।”

কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল নন্দা। চেয়ার ছেড়ে মনোতোষের পাশে গিয়ে বসল। মনোতোষের হাত তুলে নিল নিজের হাতে, “আর তুই, আমাকে ভালবাসিস না?”

“জানি না। বুঝতে পারি না।”

নন্দার হাত সরিয়ে দিয়ে মনোতোষ বলল। নন্দা উঠে দাঁড়াল, ঘরের জানালার পাশে গিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইল।

তার শাশুড়ির ঘর থেকে ঘণ্টার শব্দ আসছে। পাশেই মানিক ঘোষের বাড়ি। সেখানে রোজ সন্ধেবেলা বাড়ির সবাই মিলে ‘ভবসাগর-তারণ কারণ হে’ গায়। আজও গাইছে।

শুনলেই মনোতোষের প্রাইমারি স্কুলে শেখা ‘হও ধরমেতে ধীর’ গানটার কথা মনে পড়ে। তাদের প্রার্থনাসঙ্গীত ছিল।

“মন্টু, তুই আজ যা। আমার শরীরটা ভাল লাগছে না। ভীষণ ঘুম পাচ্ছে আমার। ও, তোকে একটা কথা বলতে ভুলে গেছি। আমি মাছ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। কেমন যেন বমি পায় মাছ দেখলে।”

“দীক্ষা নিয়েছিস নাকি, কোনও মঠে?”

“বাড়ি যা। পরে কথা বলব তোর সঙ্গে।”

প্রায় রোজ রাতেই নন্দার সঙ্গে তার কথা হত। গল্প করতে করতে কোথা দিয়ে সময় কেটে যেত, টেরই পেত না। মনোতোষ লাহিড়ী কম কথা বলে— সবাই তা-ই বলে। অথচ কোথা থেকে এত কথা এল তার মনে! গভীর রাতে নন্দা ইনবক্সে আসত। ‘হাই’— দেখেই তার বুক কেঁপে উঠত। আস্তে আস্তে নন্দা তাকে নেশা ধরিয়ে দিয়েছিল। দু’-এক বার খোলাখুলি যৌনতা নিয়েও কথা বলেছে। প্রথম-প্রথম একটু আড়ষ্ট ছিল মনোতোষ, পরে সেও সেই খেলায় মেতে উঠেছিল।

নন্দার সঙ্গে শেষ দেখা হওয়ার পর প্রায় দশ দিন কেটে গেল, নন্দা ফোন করল না, কোনও মেসেজও করল না। কোনও দুশ্চিন্তা নয়, মনোতোষের বেশ নির্ভার লাগছিল। সে তো নিজেকে জানে। নন্দাকে বিয়ে করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রবল ভালবাসায় ভেসে গিয়ে সে একটা দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবে, সে রকম অবস্থা তো তার হয়নি। নন্দা তার জীবনে নতুন করে আনন্দ খুঁজে পেতে চাইছে। কিন্তু মনোতোষ কেন ভালবাসাহীন এই সম্পর্কে ভেসে পড়বে! ব্যাপারটা এখানেই শেষ হওয়া ভাল। সে কিছুতেই আর এগোতে পারবে না। শিবুকাকাকে আইনত ছেড়ে দিয়ে নন্দা তার সঙ্গে থাকবে, এ হয় না। এখন নন্দা যদি বলে তবে কেন মনোতোষ এতটা এগিয়েছিল, শরীরের খেলাতে তো আপত্তি করেনি, তখন কোথায় ছিল তার বিবেক, তার নীতিবোধ— কী উত্তর দেবে মনোতোষ!

নন্দা, আমি তো এখন বুঝতে পারি আমার জন্য নয়, তুই নিজের জন্য আমাকে ব্যবহার করেছিস। প্রত্যেক বার তোর মোহিনী মায়ায় আমি অন্ধের মতো তোর শরীরে ঝাঁপ দিয়েছি। তখন তো আর অন্য কোনও পরিত্রাণের পথ থাকে না। ন্যায়নীতি, বিবেক, পাপ-পুণ্য, ডাক্তারজেঠু, শিবুকা, ওই বাড়ির ভাত— সব তুচ্ছ হয়ে যায় হরমোনের কারসাজির কাছে। কী অসহায় তখন গির্জার পুরোহিত, মঠের মোহন্ত, মাস্টারমশাই, এক জন দার্শনিক, এক জন জল্লাদ। আমাকে প্রায় খেলার পুতুল বানিয়ে আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছিস। কখনও অন্য রকম ভালবাসা তো বুঝতে পারিনি নন্দা।

পনেরো দিন বাদে নন্দার ফোন এল। না, কোনও দুশ্চিন্তা হল না মনোতোষের। বুক কাঁপল না। খুব শান্তমনে ফোন ধরল।

“কেমন আছিস? শিবুকাকার ইইজি-ররিপোর্ট পেয়েছিস?”

“আমি খুব ভাল আছি। ওর রিপোর্টও ভাল। অবশ্য একটা সিটি-স্ক্যানও করতে বলেছে। তোর কাকা অনেকটা ভাল আছে। বাবা! যা দুশ্চিন্তা আমার হয়েছিল ওকে নিয়ে! আমার মনে হচ্ছে এবার ও সত্যি সত্যি মাছ ধরা ছেড়ে দেবে। মহামায়া কালীবাড়িতে পুজো দেব তা হলে। জানিস,বলেছে আমাকে একটা শিশুকাঠের সিংহাসন বানিয়ে দেবে। লক্ষ্মীর আসন পাতব আমি। তুই কেমন আছিস মন্টু?”

বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল মনোতোষ। কিছু একটা পরিবর্তন নিঃশব্দে তার বুকের মধ্যে ঘটে যাচ্ছিল। আস্তে আস্তে শান্ত হল তার বুকের স্পন্দন। ওপাশে নন্দাও চুপ করে রয়েছে। তার কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করছে হয়তো।

“ভাল আছি। নন্দা, তোর সেই কবিতাগুলো মনে আছে? কলেজের ফেস্টে আবৃত্তি করতিস। শঙ্খ ঘোষ, সুনীল গাঙ্গুলি, বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নীরেন চক্রবর্তীর ‘কলঘরে চিলের কান্না’?”

“চেষ্টা করলে অস্পষ্ট মনে পড়ে। সে কথা এখন, এই অবেলায় কেন মনে করাতে চাইছিস? আমার এখন অনেক কাজ। তোর কাকার শরীরটা খুব দুর্বল হয়ে গেছে। আমি না হলে কে করবে, বল? চলি রে, ও কে, বাআই।”

ফোন রেখে দেয় নন্দা।

ক্রমশ

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Bengali Novel Novel

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy