E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

আকাশ জুড়ে ঘুড়ির খেলা

বাড়ির মুখে বাড়িওয়ালা মনোময় ঘোষ জিজ্ঞেস করে, “কী ব্যাপার, এর মধ্যেই বড়লোক হয়ে গেলেন? টানা রিকশায় উদ্‌ভ্রান্তের মতো কোথা থেকে ফিরলেন?”

সুতপন চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:২৫
ছবি: মহেশ্বর মণ্ডল।

ছবি: মহেশ্বর মণ্ডল।

শিয়ালদা স্টেশনে নামার সময় দু’জন তার দু’দিক ধরে স্টেশনের বেঞ্চিতে বসিয়ে দিয়ে চলে গিয়েছিল। তা তো যাবেই, অফিসে সময়ে পৌঁছনো তাদের কাছে বেশি জরুরি। সেই সঙ্গে স্টেশনে আরও অনেক লোক আছে। স্টেশনের বেঞ্চিতে অনেক ক্ষণ শুয়ে ছিল অনুপম। শরীর অবসন্ন, প্রায় আধ ঘণ্টা পর সামান্য সুস্থ হলে স্টেশন থেকে বেরিয়ে এসে রাস্তায় একটি হাতে-টানা রিকশা নেয় ও। রিকশাওয়ালা গলি তস্য গলির মধ্য দিয়ে চলতে চলতে সে কলকাতা শহরটির শিরা-উপশিরার সন্ধান পায়।

বাড়ির মুখে বাড়িওয়ালা মনোময় ঘোষ জিজ্ঞেস করে, “কী ব্যাপার, এর মধ্যেই বড়লোক হয়ে গেলেন? টানা রিকশায় উদ্‌ভ্রান্তের মতো কোথা থেকে ফিরলেন?”

অনুপম মৃদু হাসার চেষ্টা করে, কিন্তু কোনও উত্তর দেয় না। নিজের ঘরে ফিরে বিছানাতে শুয়ে পড়ে ভাবতে থাকে, কী সাংঘাতিক বিপদ থেকে সে রক্ষা পেয়েছে আজ। যদি জ্ঞান না ফিরে আসত, কামরার সমস্ত লোকের চাপে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যেত? মেসে ফিরে এসে অনুপম দেখল, তার ঘরে কেউ নেই। অফিসটাইমে যে যার মতো নিজেদের কাজে চলে গেছে।

ঘরে এল মনোময়। জিজ্ঞেস করল, “শরীর খারাপ নাকি?”

অনুপম বলল, “না, তেমন কিছু নয়, ট্রেনের মধ্যে মাথাটা একটু ঘুরে গিয়েছিল। এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে, ব্যস্ত হওয়ার দরকার নেই।”

মনোময় বলল, “সে বললে কী চলে? আপনার জন্য আমি একটু শরবত করে পাঠাই।”

হঠাৎ মাথার মধ্যে মায়ের মুখটি মনে পড়ল। এত দিন কলকাতা শহরে আছে, নিজের সমস্ত কাজ, বিপদ-আপদ নিজেই সামলেছে। অসুস্থ যে হয়নি তা নয়, কিন্তু তাকে শরবত বানিয়ে কে দেবে? কেউ ছিল না। আজ মনোময়কে মনে হল খুব কাছের মানুষ। হবেই তো। জেলাকুটুম। পরক্ষণে মনে হল, জেলাকুটুম ব্যাপারটা কেমন মফস্‌সলের ভাষা। এখানে কেউ কি এই ভাষা ব্যবহার করে?

৫

দু’টি মেয়ে নিয়ে আমহার্স্ট স্ট্রিটের একটি ছোট্ট গলির মধ্যে বাড়ির দোতলায় সংসার অমরেন্দ্র সান্যালের। পিডব্লিউডি-র চাকরি করতে করতে দুই কন্যাসন্তানের জন্ম। অমরেন্দ্র অত্যন্ত চালাক-চতুর হলেও ভাগ্য তার প্রতি সদয় ছিল না। তৎকালীন ভারতবর্ষের বরিশালের এক বিখ্যাত পরিবারের ছোট সন্তান হওয়ায় মেজাজটি ছিল পুরোপুরি জমিদারসুলভ। এক দিন একটি সামান্য খরচের ভাউচার নিয়ে বসের সঙ্গে হাতাহাতি করে ফেলেছিল। তার পর থেকে তার উন্নতির রেখা আর বাড়েনি। ইচ্ছে করলে অমরেন্দ্র মিটমাট করে নিতে পারত, কিন্তু করেনি। কারণ তার মনে হয়েছিল, মিটমাট করা মানেই ওই লোকটির কাছে হেরে যাওয়া। অমরেন্দ্র বড়লোক না হতে পারে, কিন্তু কারও কাছে সে হারতে পছন্দ করে না। তাতে তার আর্থিক ক্ষতি হলে, হোক। তা বলে কি অমরেন্দ্র চুপচাপ বসে ছিল? সে অচিরেই বুঝতে পেরেছিল, এই ডিপার্টমেন্ট থেকে তার আর কিছু পাওয়ার নেই। যার অধীনে সে কাজ করে, সে তাকে আর কোনও দিনই ভাল চোখে দেখবে না। তাই সে চাকরির পাশাপাশি ইনশিয়োরেন্সের কাজ করতে আরম্ভ করল। অমরেন্দ্রর সুবিধে ছিল, সে সুদর্শন, সুবক্তা এবং পরিশ্রমী। ছুটির দিনগুলোয় সে কলকাতা শহর থেকে দূর মফস্‌সল শহরে ইনশিয়োরেন্সের কাজ করার জন্য চলে যেত। কলকাতার ছোট্ট বাসায় তার অপেক্ষায় দিন কাটত স্ত্রী অণিমা ও দুই মেয়ের।

ক্লাস নাইনে পড়ে অমরেন্দ্রর বড় মেয়ে তিয়াসা। আপাতত তাকেই পড়াতে হবে প্রায় সব বিষয়। প্রথম সাক্ষাৎকারেই অনুপম টের পেল, শিক্ষক হতে গেলে প্রায় সব কিছুই পড়ানোর মতো ক্ষমতা অর্জন করতে হয়। ছাদের উপরে এক কোণে একটি বড় আকারের ঘর। ঘরের মধ্যে এক দিকে ঠাকুরের আসন, অন্য দিকে একটা লম্বা টেবিল, আর টেবিলের পিছনে বসে একটি মেয়ে।

অণিমা ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে প্রথম আলাপ করিয়ে দিলেন, “এই আমার মেয়ে, খুব চঞ্চল প্রকৃতির, একটু সাবধানে যত্ন করে পড়িয়ো।” অণিমা ঘরের বাইরে চলে গেলে অনুপম তিয়াসার দিকে তাকাল‌।

তিয়াসা বলে উঠল, “স্যর জানেন, আমি বাড়ি এসে প্রশ্ন করেছিলাম, আমার মাস্টারমশাই কেমন দেখতে মা?” হি হি করে হেসে উঠল সে এই বলে।

অনুপম কী উত্তর দেবে বুঝতে পারেনি। তবে এটুকু বুঝেছিল, এই মেয়েটির ভিতরে এক অদ্ভুত প্রাণের স্পন্দন। অনায়াসে সত্যি কথা বলতে তার দ্বিধা নেই।

অনুপম একগাল হেসে বলেছিল, “তোমার মা কী বললেন?”

“মা বলল, ‘দেখতে যেমনই হোক, তোকে ভাল করে পড়ালেই তো হল’।”

অনুপম একটু সাবধান ও সংযত গলায় জিজ্ঞেস করল, “আজকে দেখে তোমার কী মনে হল?”

“ভালই।” বলে তিয়াসা দু’দিকের বিনুনি জোরে দোলাল দু’বার।

প্রথম দিনটা পড়াশোনার কথা হয়নি। খোশগল্প আর নানা পারিপার্শ্বিক গল্পে কেটে গিয়েছিল। পরদিন তিয়াসা প্রথমেই বই খুলে বলল, “স্যর, আমি আপনাকে অনুদা বলে ডাকতে পারি?”

অনুপম বলল, “হ্যাঁ পারো।”

অনুমতি পাওয়ার পর তিয়াসা ওর অঙ্কের বইটির চোদ্দো নম্বর অধ্যায় খুলে বলল, “আমাকে এই চ্যাপ্টারের অঙ্ক করিয়ে দিন। খুব শক্ত লাগছে আমার। তা হলে আমি ক্লাসের পরীক্ষায় খুব ভাল করতে পারব।”

অনুপম প্রথমে কিছু বলল না। দুটো অঙ্ক দেখিয়ে দিয়ে বলল, “আগের চ্যাপ্টারগুলোও তো আমাকে দেখতে হবে, পারো কি না, ঠিক আছে?”

ঘাড় নাড়ল তিয়াসা। তিয়াসা যতটা চঞ্চল এবং প্রগল্‌ভ, তার চেয়েও বেশি ভাবুক। সে আবেগতাড়িত ও কল্পনাবিলাসী।

“কোন কোন বিষয়ে দুর্বল তুমি? জানো?”

তিয়াসা বলল, “অঙ্ক, ইংরেজি আর ভূগোল।”

এই প্রশ্নটা করার পিছনে একটা কারণ আছে। অনুপম মনে মনে ঠিক করে নেবে, তিয়াসাকে পড়ানোর আসল স্ট্র্যাটেজিটা কেমন হবে।

৬

মনোময়ের দেশ হুগলির আরামবাগে। আরামবাগ তখন গ্রাম-ঘেরা জনপদ, মধ্যিখানে বাজার আর তার পাশে ছোটখাটো যন্ত্র সারানোর দোকান। মনোময়ের বাবার জমি-জায়গা ছিল না, ভাগে চাষ করে তার বাবার ছ’জন সন্তানের মুখে ভাত তোলার মতো সামর্থ্য ছিল না বলেই মনোময় এক দিন আরামবাগ ছেড়ে কলকাতার বাসে উঠে পড়েছিল।

চণ্ডীতলা বাসস্ট্যান্ডে এসে যখন বাসটি থামে, আরামবাগ ছেড়ে বাইরে আসা মনোময় তখন অবাক হয়ে দেখেছিল, এই জায়গাটা তো আরামবাগের মতো একটা ছোট্ট জনপদ নয়! একটি মিষ্টির দোকান, তার পাশে একটা চুল কাটার জায়গা, যেখানে একটি লোক এক জনের মাথা ন্যাড়া করছে। কিন্তু দু’জনেই বসে আছে, দুটো ইটের উপর। মনোময়ের মনে হয়েছিল, বাস থেকে নেমে ইটের উপর বসে মাথা মুড়িয়ে নেয়। তা হলে তাকে আর কেউ চিনতে পারবে না।

কন্ডাক্টরকে বলেছিল, “তুমি একটু বাস দাঁড় করাবে, আমি ন্যাড়া হয়ে নিই?”

বাড়ি থেকে পালিয়ে আসার যেমন একটা গোপন আনন্দ ছিল, তেমনই একটা অনিশ্চিত ভয়ও ছিল তার। কন্ডাক্টর বলেছিল, “বাস থেকে নামলে তোমাকে পরের বাসে আসতে হবে। তোমার চুল কাটা পর্যন্ত বাস দাঁড়িয়ে থাকবে না।” এতটাই আনাড়ি ছিল মনোময়!

বাসটা ধর্মতলায় এসে থেমেছিল। দুটো জামা আর একটা প্যান্ট বেঁধে একটি কাপড়ের গাঁঠরি নিয়ে সে উঠেছিল দূরসম্পর্কের এক কাকার বাড়িতে, বৌবাজার স্ট্রিটে। ধর্মতলা থেকে তাকে বসন্তকাকা নিয়ে এসেছিল তার বাড়িতে। প্রথম ঢুকেই মনে হয়েছিল, বাড়িটা তো আমাদের গাঁয়ের বাড়ির মতো নয়! পর পর ছোট ছোট ঘর। এক কোণে রান্নাঘর, মাঝখানে চৌবাচ্চা। তিনটে বাথরুম। চৌবাচ্চা থেকে জল নিয়ে বাথরুমে চান করার ব্যবস্থা। বাড়ি থেকে এখানে আসার আগে তার ধারণা ছিল বসন্তকাকার বাড়িতে তার বৌ-ছেলেপুলে আছে। কিন্তু এসে দেখেছে বসন্তকাকা একা থাকে, আর ছোট ছোট ঘরে যারা থাকে, তারা সবই বাইরের লোক। তাদের মাসিক ভাড়াতে থাকতে দেয়। সে বুঝতে পারে, এই জায়গাটা সে যা ভেবে এসেছিল, তা নয়। এখানে রাতে নানা রকম মানুষের যাতায়াত। অনেক রাতে সেই সব ঘরে আড্ডা বসে। জুয়ার আড্ডা।

মনোময় বসন্তকাকাকে এক দিন জিজ্ঞেস করেছিল, “এ বার আমাকে একটা কাজ জোগাড় করে দিতে পারবে?”

বসন্ত জিজ্ঞেস করেছিল, “কী কাজ করতে পারবি? তোর তো পড়াশোনা তেমন নেই, তোকে দিয়ে সে-সব কাজ তো করানো যাবে না। তুই লেবারের কাজ করতে পারিস, আমার একটা ফার্নিচারের দোকানের সঙ্গে যোগাযোগ আছে, সেখানে কাজ করলে তোর পেটটা চলে যাবে।”

“কত মাইনে দেবে তারা?”

“জানি না। কথা বলতে হবে।”

“বলো না!”

“মাইনে পেলে আমাকে তোকে টাকা দিতে হবে। এত দিন যে আমার কাছে আছিস, সেই বাবদ। খেপে খেপে দিলেই হবে।”

মনোময় বলেছিল, “কথা বলো, করব।”

সেই থেকে মনোময় বৌবাজারে ‘ওরিয়েন্টাল ফার্নিচার’ নামের একটি ফার্নিচার কোম্পানির সঙ্গে দিনমজুরের হিসেবে যুক্ত হয়ে গিয়েছিল। সারা দিন ওরিয়েন্টাল দোকানে লেবারের কাজ করে রাত্রিবেলা অঘোরে ঘুমিয়ে থাকত বসন্তকাকার চৌকিটার পাশে। ওরিয়েন্টাল ফার্নিচারের দোকানে সে দেখে যে, মানুষ শুধু নিজেদের ঘরে বসার জন্য কত হাজার হাজার টাকা দিয়ে সোফাসেট কেনে। মানুষ জামাকাপড় রাখার জন্য কত হাজার টাকা দিয়ে আলমারি কেনে, হাজার হাজার টাকা দিয়ে খাট কেনে বাড়িতে শোওয়ার জন্য। এ-সব কি সত্যি মানুষের দরকার হয়? আরামবাগে তাদের বাড়িতে শোওয়ার জন্য চৌকি ছিল। সেটার দাম অতি সামান্য। জামাকাপড় রাখার জন্য পাতলা বোর্ডের আলমারি, সেটার তেমন কিছু দাম কি না, সে কখনও ভাবেনি। আর বসার জন্য? সুন্দর তালপাতার মাদুর মাটিতে বিছিয়ে দিলে কী সুন্দর হাত-পা ছড়িয়ে বসা যায়! ঘুমিয়েও পড়া যায়। এটা কি কলকাতার শিক্ষিত লোকেরা জানে না? তারা কি বোকা!

এক দিন এক ক্রেতার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়ে গেল মনোময়ের। ক্রেতাটি জিজ্ঞেস করেছিল, “তুমি যে ঘাড়ে করে আমার সোফাটি নিয়ে এলে, তোমার কি খুব ভারী লাগল?”

মনোময়ের মনে হয়েছিল, লোকটা তাকে কুলি ভেবেছে। সে বিরক্ত হয়ে বলল, “আমি তো সে-সব বুঝি না। আনতে বলেছে, এনেছি।”

লোকটি সোজা ফার্নিচারের দোকানের মালিকের কাছে নালিশ করেছিল। বলেছিল, “এই ছেলেটাকে রেখেছেন কেন? কোথাকার গেঁয়ো ভূত, কথা বলতে জানে না। নেতাদের সঙ্গে এ ভাবে কথা বললে আপনার একটা ফার্নিচারও বিক্রি হবে না।”

ফার্নিচার কোম্পানির মালিক দিনের শেষে মনোময়কে ডেকে খুব ধমকে দিয়েছিল সেদিন।

চুপ করে হজম করেছিল মনোময়। আর তখনই মনে মনে ঠিক করে নিয়েছিল, এখানে আর বেশি দিন থাকবে না সে। অপমানে চোখে জল এসে গেছিল সেদিন। বসন্তকাকাকে বলেনি সে-কথা। মালিকের কাছ থেকে বসন্তকাকা শুনেছিল মনোময়ের ব্যবহারের কথা। এক দিন মনোময়কে ডেকে বলেছিল, “এটা কলকাতা শহর, এখানে প্রয়োজনের বেশি কথা বলতে নেই। না জানলে ক্ষতি নেই। কিন্তু মনে রাখিস, ওই দোকানে যারা ফার্নিচার কিনতে আসে, তারাই তোর মাইনে জোগায়।”

এই এক অদ্ভুত রহস্য মনোময়কে খুব ভাবিয়ে তোলে। বিষণ্ণ মন নিয়ে সে চাকরিতে যায়, আর ফিরে আসে। মনে মনে ভাবে, এক দিন এখান থেকে বেরিয়ে যেতে হবে।

এক দিন সামনে সুযোগের দরজা খুলে গেল। যে ভাবে সে আরামবাগ থেকে পালিয়ে এসেছিল কলকাতায়, ঠিক সেই ভাবে সে কলকাতা শহরের ভিতরে ঝাঁপিয়ে পড়ল। তখন তার হাতে কিছু টাকা আছে। দরকার হলে কোথাও না কোথাও কিছু দিনের জন্য নিজের একটা আস্তানা খুঁজে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবে। এক প্রকাশকের বাড়িতে সে ফার্নিচার ডেলিভারি দিতে গিয়েছিল। সেই সূত্রে আলাপ। প্রকাশক বলেছিলেন, “তুমি আমার প্রকাশনায় চাকরি করতে পারো। এখানে যা পাও, তার থেকে বেশি মাইনেই পাবে।”

প্রথমে মনোময় রাজি হয়নি। কারণ তখন ফার্নিচারের দোকানের চাকরিতে কোনও সমস্যা ছিল না। সেখানে অসুবিধে হওয়ায় এক দিন গিয়ে প্রকাশকের সঙ্গে তার অফিসে দেখা করল মনোময়।

প্রকাশক বললেন, “এসেছ তো বটে, কিন্তু মনঃস্থির করে এসেছ কি?”

মন ঠিক করেই গেছিল মনোময়। সে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল।

প্রকাশক বললেন, “তা হলে সামনের মাস থেকে আমার এই প্রকাশনায় তুমি এসো। এখানে তোমার কাজ হবে আমার প্রেস থেকে অফিসে কোন কোন বই আনতে হবে, সেটার তদারকি করা। আমি বলে দেব, তুমি আমার কথামতো কাজ করবে।”

ক্রমশ

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Bengali Novel Novel

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy