পূর্বানুবৃত্তি: মনোময় প্রকাশকের কাছে চাকরি পেয়ে পটুয়াটোলা লেনের একটি বাড়িতে আশ্রয় পায়। পরে বাড়ির মালিক চন্দনবাবুর ছোট মেয়েকে বিয়ে করে বাড়িটির দখল নেয়। স্ত্রী স্নেহলতার সহযোগিতায় বাড়ির বাইরে চপের দোকান চালায়। স্নেহলতার মৃত্যু হলে মনোময় দোকানেই মন দেয়। ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য বাড়ির দোতলায় ঘর তৈরি করে মেস চালু করে, যার নাম হয় ‘চপের মেসবাড়ি’। এ দিকে কলকাতায় টানা বৃষ্টির মধ্যে তিয়াসাকে পড়াতে গিয়ে অনুপম জানতে পারে, তার প্রবল জ্বর। স্কুল থেকে ভিজে ফিরে আসার পর তিন দিন ধরে সে অসুস্থ। অণিমা প্যারাসিটামল দিয়েও জ্বর কমাতে পারেননি। রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন অণিমা মেয়েকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। পরিস্থিতি বুঝে অনুপম তাঁকে আশ্বস্ত করে জানায়, রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত সে ওই বাড়িতেই থাকবে।
অণিমা রান্নাঘরে চলে গেলে পিয়াসা বলল, “জানেন, জ্বরের ঘোরে দিদি কেমন বকবক করছিল কাল রাতে! আমার খুব ভয় করছিল। তখনই মাকে বলি। মা বলল, ‘মাথায় জল দিয়ে দেখি। কমে কি না!’ আমি আর মা এই জল, জলপট্টি দিয়েই পরীক্ষা করছি।”
অনুপম শুনছিল। তার পর বলল, “কথা না শুনলে তো শাস্তি পেতে হবেই।”
এই কথাটা শুনেই চোখ খুলে তাকাল তিয়াসা। দু’চোখ তখনও হালকা লাল। গাঢ় বিষণ্ণতা ছেয়ে আছে মুখমণ্ডলে। ভিতরের কষ্টগুলো হঠাৎ লাফিয়ে মুখের শিরা-উপশিরায় ফুটে উঠেছে। অনুপম বলল, “এখন কেমন লাগছে?”
ইশারায় বিছানার কাছে বসতে বলল তিয়াসা। অনুপম একটা টুলে বসলে পিয়াসা বলল, “আমি চা নিয়ে আসি। আপনারা কথা বলুন।”
তিয়াসা আস্তে করে অনুপমের হাতে হাত রেখে বলল, “স্যরি, আপনার কথা শুনিনি। আর কোনও দিন আপনার কথা অমান্য করব না। এ বার জ্বর সেরে যাবে। আপনি এসে গেছেন।” বলে হাতটা নিজের দিকে সামান্য টানল তিয়াসা। গরম হাত, জ্বর অনেক, তবু কিছুক্ষণের জন্য যেন তিয়াসার মুখচোখ সপ্রতিভ হয়ে উঠল। সে যেন এক গভীর ভরসায় চোখ দুটো বুজে ফেলল। চা নিয়ে এল পিয়াসা। অনুপমের হাতটা তখনও ধরে আছে তিয়াসা, খেয়ালই করেনি সে।
“হাত খুব গরম, তাই না?” পিয়াসা প্রশ্ন করল।
হাতটা সরিয়ে নিয়ে অনুপম বলল, “খুব।” তার পর আস্তে আস্তে তিয়াসাকে প্রশ্ন করল, “মাথা ধরাটা কমেছে?”
ঘাড় নাড়ল তিয়াসা।
কিছু ক্ষণের মধ্যেই সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠার পায়ের শব্দ কানে এল। সন্ধ্যার অন্ধকারে মানুষটিকে ঠিক দেখা যাচ্ছে না। উপরে আসতেই পিয়াসা একটা খাম হাতে নিয়ে মায়ের কাছে চলে গেল। টাকা দিতে হবে। রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট। অনুপমের হাতে দিয়ে বলল, “দেখুন তো, কী এসেছে...”
অনুপম হলুদ কাগজের রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে কিছুটা অবাক হল। ইওসিনোফিল অনেক বেশি। ব্লাড কাউন্ট কম। হোয়াইট কর্পাসলস অনেক বেশি। তার উপর ম্যালেরিয়া। গম্ভীর হল অনুপম। তিয়াসার চোখ এড়াল না। সে চাপা গলায় বলল, “খারাপ কিছু?”
অনুপম বলল, “ম্যালেরিয়া। এটা বৃষ্টিতে ভেজার জ্বর নয়। ডাক্তার দেখাতে হবে।”
পিয়াসা অবাক হয়ে বলল, “কিন্তু বাবা তো নেই!” বলে আবার সে মায়ের কাছে চলে গেল। এক মিনিট পরেই ফিরে এসে বলল, “বাবার আসার সময় হয়ে এল। মা বলল, যে কোনও সময় এসে যাবে। আপনি একটু থেকে যাবেন?”
অনুপম বলল, “চিন্তা করিস না। কাকু না আসা অবধি আমি আছি।”
বাড়ি ফিরেই অমরেন্দ্র ডাক্তার সেনকে নিয়ে এলেন। যা ভেবেছিল অনুপম, ঠিক তাই। অ্যানিমিয়া ও ম্যালেরিয়া। এখন কিছু দিন ভোগাবে। পড়তে বসার সম্ভাবনা নেই, ফলে পড়াতে আসারও কোনও ব্যাপার নেই আপাতত। দুর্বলতা কমতে সময় লাগবে। ডাক্তার সেন পূর্ণ বিশ্রামের কথা বলে, প্রেসক্রিপশন লিখে চলে গেলেন। পিছু পিছু অনুপমও উঠে পড়ল।
তিয়াসা খুব স্তিমিত গলায় বলল, “পড়ানোর দিনগুলোয় আসবেন কিন্তু। আমি অপেক্ষা করব। আপনি এলে তাড়াতাড়ি ভাল হয়ে উঠব।”
শুনে তিয়াসার দিকে তাকাল অনুপম। তার পর অণিমার দিকে তাকিয়ে বলল, “পাগল একটা।”
সেই দিন দিদিমাকে সে চিঠি লিখতে বসল। সাদা কাগজে লিখল, “আমার একটা পাগল ছাত্রী জুটেছে। সে পড়াশোনা থেকে কল্পনা করতে ভালবাসে। কিন্তু মনটা খুব সরল। প্রবল খামখেয়ালি। আশ্চর্য সহজ সরলতা আছে তার। তাকে ভাল রেজ়াল্ট করাতে হবে। সেই কৌশল আমাকে খুঁজে বার করতে হবে। আমার চাকরির খোঁজ চলছে। আমার পরের চিঠির জন্য অপেক্ষা কোরো।”
কাজের ছেলেটি রাতের খাবার দিয়ে গেলে চোখে পড়ল সেই ট্যালটেলে জলের নীচে সামান্য ডালের স্তর, চালকুমড়োর ছেঁচকি, শীর্ণ আলুভাজা আর এক টুকরো গুরজাউলি মাছ। এ সময় দিদিমার কথা মনে পড়ে। তার জন্য সর্বদা বরাদ্দ থাকত কাতলা মাছের পেটি। কচি সজনেডাঁটার চচ্চড়ি, সোনামুগের ডাল আর শেষ পাতে কুলের চাটনি। বাগান থেকে কুল শুকিয়ে রেখে দিত দিদিমা। সারা বছরের সঞ্চয়। যখনই যাক, কুলের চাটনি তার বাদ যায়নি কখনও। এ তার আশৈশব পছন্দের যে! আর চিন্তার ভিতর উঠে আসে দ্বারবাসিনীর উন্মুক্ত আকাশ, পুকুর, নদী, দিগন্তছোঁয়া ধানখেত ও ক্যানেলের পাড়। বিকেল-শেষের বিষণ্ণ গোধূলি। আর এখানে? সারা দিন বালব জ্বলে, দুপুর মানে চৌবাচ্চায় জল পড়ার শব্দ আর সন্ধে ছ’টার পরই অলিগলিতে অতর্কিতে রাত নামতে শুরু করে।
৯
প্রতাপনারায়ণ ‘চপের মেস’-এর সদস্য হয়েছেন কয়েক বছর। ভোর পাঁচটায় বিছানা ছেড়ে ওঠেন। তার পর মাথার কাছে রাখা কালীমূর্তি প্রণাম করে, বাথরুমে গিয়ে স্নান করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে আসেন। সিদ্ধপুরুষ, গায়ের সাদা চামড়ার উপর মুক্তোর কণার মতো লেগে থাকে জলবিন্দু। ঝাঁকড়া চুল থেকে স্নানের জল টপটপ ঝরে পড়ে মেঝেতে। তিনি উচ্চারণ করতে থাকেন নানা সংস্কৃত স্তোত্র।
এ-সব শুনতে শুনতেই পাতলা হতে থাকে ঘুম। বিছানা ছাড়তে ইচ্ছে করে না, কারণ ওই সুন্দর গলায় ওই স্তোত্রপাঠ শুনতে ভাল লাগে। মনে হয় যেন আস্তে আস্তে মাথায় ঢুকে পড়ছে সংস্কৃত উচ্চারণ, আর ছেড়ে যাচ্ছে ঘুমের রেশ। কালীপুজো করে ব্রেকফাস্ট সেরে প্রতাপনারায়ণ সেই যে বেরিয়ে যান পাঞ্জাবি পরে, কোথায় যান কেউ জানে না। মনে মনে ভাবে অনুপম, এক দিন সে জিজ্ঞেস করবে প্রতাপনারায়ণকে, কিন্তু সুযোগ হয় না। প্রতাপনারায়ণ বাড়ি ফিরে আবার বাথরুমে চলে যান। তার পর গুনগুন করে রাগ ভাঁজতে থাকেন।
প্রতাপনারায়ণ বসিরহাটের লোক। কোনও এক সময় বসিরহাটে তাঁদের বিশাল সম্পত্তি ছিল। সেখানকার মজুমদার বংশের কনিষ্ঠ সন্তান প্রতাপনারায়ণ কলকাতা থেকে ইংরেজিতে এমএ পাস করে বিদেশে চলে গিয়েছিলেন পিএইচ ডি করতে। দীর্ঘ কুড়ি বছর বিদেশে অধ্যাপনার পর ফিরে এসেছিলেন কলকাতায়। তার পর আর বসিরহাটের সংসারে ফিরে যাননি। শোনা যায়, বিয়েও করেননি। এক দিন মনোময়ের সঙ্গে দেখা করে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, থাকতে চান। তাকে দেখে মনোময়ের প্রথমে তো বিশ্বাসই হয়নি, এমন এক জন রাজকীয় চেহারার মানুষ তার মেসবাড়িতে এসে থাকবে! মানাবে? অন্য ভাবে বলেছিল, “আপনি আমার এখানে থাকবেন, আপনি ভেবে বলছেন?”
প্রতাপনারায়ণ বলেছিলেন, “ভেবেই বলছি। আমার কোনও অসুবিধে হবে না।”
মনোময় বলেছিল, “আপনাকে তো দেখে মনে হয় না আপনি এ রকম বাড়িতে থাকতে পারবেন।”
প্রতাপনারায়ণ হেসেছিলেন, “আপনার আন্দাজটা ঠিকই, আমি এ রকম বাড়িতে জীবনে কখনও থাকিনি। কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না। আমি ঠিক মানিয়ে নিতে পারব।”
মনোময় খুব একটা আপত্তি করেনি। বিশ্বাস ছিল, প্রতাপনারায়ণ এখানে বেশি দিন নিশ্চয়ই থাকবেন না। কোনও কারণে সাময়িক ভাবে আত্মগোপন করতে চাইছেন। সেই থেকে প্রতাপনারায়ণ এই বাড়িতে থেকে গেছেন প্রায় দু’বছর হল। আর যাওয়ার নাম করেননি।
মনোময় ভেবেছিল, হয়তো বিপদে পড়ে কলকাতা শহরের কোথাও মাথা গোঁজার চেষ্টা করছেন। এ-সব মানুষের জীবন এই রকম থাকে না। অচিরেই পরিবর্তন আসে, আর তার পর তারা যেমন ঠিক তেমনই হয়ে যায়। মনোময় তাই বলেছিল, “মাসের টাকাটা মাসের শুরুতেই দিতে হবে।”
হেসেছিলেন প্রতাপনারায়ণ।
প্রতাপনারায়ণের ক্ষেত্রে বদল তেমন কিছু হয়নি। নিজের মতো করে এখানে থাকেন, হাসিমুখে কথা বলেন। কোনও ব্যক্তিগত প্রশ্নে প্রতাপ খুব সংযত। যেমন শোনেন, শান্ত গলায় উত্তর দেন।
সুযোগের অপেক্ষায় ছিল অনুপম। প্রতাপনারায়ণের চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করেছিল, “এখানকার কেউ জানে না আপনি কী করেন।”
প্রতাপনারায়ণ গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করলেন, “তবে কি তুমি জানতে চাইছ, আমি কী করি?”
“আপনি ঠিক ধরেছেন। আমার আপনাকে খুব রহস্যজনক মানুষ মনে হয়। আপনি কি কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মী?” বলেছিল অনুপম।
“এই প্রশ্ন উঠছে কেন?” পাল্টা প্রশ্ন করেন প্রতাপনারায়ণ।
“আপনি কি কোনও বামপন্থী দলের সদস্য?” ফের জানতে চেয়েছিল অনুপম।
“কোনও দলের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই।” নিরুত্তাপ গলায় বলেছিলেন প্রতাপনারায়ণ।
“তা হলে?”
“তা হলে আর কী? সব মানুষ দিনের বেলায় যেমন কাজ করে, আমিও তেমনই কিছু না কিছু কাজকর্ম করি। আগ্রহ কী কারণে?”
“আপনি কী করেন, কোথায় যান, কোনও কিছুই আপনি জানাতে চান না। আমরা তো পাশাপাশি একটা ঘরে থাকি। আর একটা জিনিস আমি লক্ষ করেছি। আপনি আমাকেও কখনও জিজ্ঞেস করেননি যে, আমি কী করি। একই বাড়িতে পাশাপাশি থাকতে গেলে এই সাধারণ আগ্রহটা কি খুব অন্যায়?”
“একেবারেই নয়। সেটাই খুব স্বাভাবিক। তবে এমন স্বাভাবিক অবস্থা আমার জীবনে খুব কমই এসেছে। তাই অহেতুক আগ বাড়িয়ে কাউকে প্রশ্ন করার মতো মানসিকতা আমার নেই। একেবারেই নেই। আমি চাই না কেউ আমাকে কোনও ভাবে বিব্রত করুক।”
“স্যরি।” অনুপম বলে।
মৃদু হেসে অনুপমকে আশ্বস্ত করে প্রতাপনারায়ণ, “তোমার এতটা বিব্রত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তোমার বয়সে এই অনুসন্ধিৎসা খুবই স্বাভাবিক। শুধু জানার জন্য বলি, আমি একটা বস্তিতে বাচ্চাদের স্কুল চালাই। সেখানে তিরিশটা বাচ্চা আমার কাছে বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক তিনটি বিষয় পড়ে। আর বাকি সময়টা আমার সঙ্গে খেলে কাটিয়ে দেয়।”
অনুপম বিস্মিত। প্রতাপনারায়ণের দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনি খুবই উচ্চশিক্ষিত শুনেছি। এখানে আপনি ইচ্ছে করলেই খুব বড় চাকরি করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে বস্তির ছেলেদের নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন?”
“না। আমি কোনও দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য এ কাজ করি না। এই কাজটা করতে আমার খুব আনন্দ হয় এবং একই সঙ্গে আমি তাদের সঙ্গে সারা দিন কাটানোর সুযোগ পাই।”
“আপনার পরিবার?”
“জানতাম এই প্রশ্নটা তুমি করবে। হয়তো আমি প্রশ্নের উত্তরটা এড়িয়ে যেতে পারব না, কারণ আমি জানি এই খবরটা জানার আগ্রহের মধ্যে তোমার কোনও গোপন অ্যাজেন্ডা নেই।”
“না। আমিও কোনও কারণ ভেবে আপনাকে প্রশ্নটা করিনি।”
“জানি। তাই তোমাকে বলতে আমার কোনও আপত্তি নেই। বসিরহাটের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে আমার জন্ম। স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার পর আমি একটি গোপন বামপন্থী দলের সদস্য হই। খবরটা কারও কাছে প্রকাশ করার কথা ছিল না, কিন্তু কী ভাবে যেন আমার বাবার কাছে পৌঁছে যায়। প্রদীপনারায়ণ মজুমদার প্রথমে বিশ্বাসই করেননি, তার পর যখন জানতে পারলেন খবরটা প্রকৃত সত্য, তখন তিনি আর কিছুই বিবেচনা না করে আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন এক রাতে।
“সেই রাতটা স্টেশনে শুয়ে কেটেছিল আমার। তার পর ভোরের ট্রেন ধরে আমি শিয়ালদহ স্টেশনে নামি। এই শহরে। আমার কোনও পরিচিত লোক ছিল না। জনবহুল শিয়ালদা স্টেশনে দাঁড়িয়ে আমার বার বার মনে হয়েছিল, এত মানুষ এ শহরে থেকে যদি বাঁচে, তো আমিও বাঁচব।”
কোথাও যেন নিজের ভাবনার সঙ্গে মিল খুঁজে পেল অনুপম।
প্রতাপনারায়ণ বলে চললেন, “বৈঠকখানা বাজারের এক চিলতে একটা ঘরে কোনও রকমে আমার একটা আস্তানার ব্যবস্থা করা গেল। সর্ষের তেলের ঘানি আছে, হেমন্ত শীলের। খাতা লিখে দিতে হবে, খুচরো বিক্রির হিসাব রাখতে হবে, এমনই একটা কাজের হদিস মিলে গেল চটপট। তাই তাদেরই অফিসে আমি প্রথম কলকাতার নাগরিক হিসেবে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলাম।”
ক্রমশ