পূর্বানুবৃত্তি: জো মাসেরিয়াকে হত্যার পর চার্লি ‘লাকি’ লুসিয়ানো ও মায়ার ল্যানস্কির উত্থান ঘটে। সালভাতোর মারানজানো নিজেকে ‘বস অব দ্য বসেস’ ঘোষণা করে লুসিয়ানোকে তার সিন্ডিকেটে যোগ দিতে বললে সে প্রত্যাখ্যান করে। পরে মারানজানোর হত্যার মধ্য দিয়ে ‘ক্যাস্টেলামেয়ার ওয়ার’-এর অবসান ঘটে। লুসিয়ানো নিউ ইয়র্কের আন্ডারওয়ার্ল্ডে প্রতিষ্ঠা পায়। কিন্তু টমাস ডুয়ির তদন্তে তার বেশ্যালয়ের কারবারের বহু তথ্য ও নথি উদ্ধার হয়। বিচারে তার দীর্ঘ কারাদণ্ড হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ল্যানস্কির উদ্যোগে মার্কিন নৌবাহিনীকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করে লুসিয়ানো। ১৯৪৬ সালে তাকে ইটালিতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ১৯৬২ সালে আমেরিকায় তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, মায়ার ল্যানস্কি ও বেনি ‘বাগসি’ সেগাল জুয়ার ঠেক, তোলা আদায় ও গাড়ি চুরির কারবারে প্রভাব বিস্তার করে। ক্ষুরধার মস্তিষ্কের আর্নল্ড ‘দ্য ব্রেন’ রথস্টেইন চোরাই স্কচের ব্যবসা শুরু করে। এই ব্যবসার উৎপাদন ও বণ্টনের দায়িত্ব ভাগ করে নেয় রথস্টেইন, কাপোন, লুসিয়ানো ও ল্যানস্কি।
রথস্টেইনের কেতাদুরস্ত চালচলন, আদবকায়দা আর জীবনযাপন, এ সব কিছুই গভীর প্রভাব ফেলেছিল ল্যানস্কি আর লুসিয়ানোর উপর। রথস্টেইন ওদের শিখিয়েছিল কিভাবে গা থেকে ওঁচা গুন্ডার তকমা ঝেড়ে ফেলে প্রকৃত অভিজাত হয়ে উঠতে হয়। যার প্রমাণ পাওয়া যায় লাকি লুসিয়ানোর আত্মজীবনীতে। যেখানে সে লিখছে, ‘হি টট মি হাউ টু ড্রেস, হাউ নট টু ওয়্যার লাউড থিংস বাট টু হ্যাভ গুড টেস্ট। হি ওয়াজ় দ্য বেস্ট এটিকেট টিচার আ গাই কুড এভার হ্যাভ— রিয়াল স্মুদ।’
আক্ষরিক অর্থেই সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্ধকার জগতে প্রকৃত এক অভিজাত পুরুষের নাম আর্নল্ড ‘দ্য ব্রেন’ রথস্টেইন। এছাড়াও রথস্টেইনের আর এক অনন্য কীর্তি— লুসিয়ানো, বাগসি আর ল্যানস্কির সঙ্গে মিলে সে গড়ে তোলে কুখ্যাত ‘দ্য মার্ডার ইনকর্পোরেট’। অর্থের বিনিময়ে সুপারি নিয়ে হত্যা বা কনট্র্যাক্ট কিলিং। এরকম একটা ভয়ানক পেশাকে যে কতখানি পেশাদারিত্বের পর্যায়ে তুলে আনা যায়, তার উজ্জ্বল উদাহরণ, ‘দ্য মার্ডার ইনকর্পোরেট’— দ্য ব্রেনচাইল্ড অব আর্নল্ড ‘ব্রেন’ রথস্টেইন। বিভিন্ন তথ্যসূত্রের খবর অনুযায়ী সেই বিশ থেকে ত্রিশের দশকে শুধুমাত্র এ কাজের জন্যই কমপক্ষে ৫০ জন ভাড়াটে খুনির একটা দলকে পুষত এই বিশেষ অপরাধচক্র। ওই দু’দশকে স্রেফ কনট্র্যাক্ট কিলিং-এর ধান্দা থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার কামিয়েছিল রথস্টেইন, লুসিয়ানো, বাগসি, ল্যানস্কির ‘দ্য মার্ডার ইনকর্পোরেট'।
১৯২৯-এ মদ্যপানে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় আমেরিকান সরকার। খুব স্বাভাবিক ভাবেই বুটলেগিং বা মদের চোরাচালান থেকে মাফিয়াদের বিপুল আয়ের উৎসটা যায় শুকিয়ে। ফলে ফের নতুন উদ্যমে তার সবচেয়ে প্রিয় জুয়ার ব্যবসায় মনোনিবেশ করে মায়ার। তখন গোটা আমেরিকায় একমাত্র নেভাডা ছাড়া বাকি সব রাজ্যে জুয়া নিষিদ্ধ। নিউ ইয়র্ক শহরে যেহেতু এই নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি বেশি, সে কারণেই আইন প্রশাসনের নজর এড়াতে শ’খানেক কিলোমিটার দূরবর্তী শহরতলি সারাগোটায় ধান্দা তুলে নিয়ে আসে মায়ার।
সারাগোটা। অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এই শহরতলি বহুকাল ধরেই বিখ্যাত তার উষ্ণ প্রসবণ, মাসাজ পার্লার, স্পা, ছোট ছোট জুয়ার আড্ডা আর বেশ্যালয়ের জন্য। অচিরেই সেখানে বিশাল বিশাল সব ক্যাসিনো গড়ে তোলে মায়ার। সঙ্গে পার্টনার বাগসি সেগল। দরাজ হাতে টাকা ঢালতে থাকে রথস্টেইন। পাশাপাশি ছোট ছোট বেশ্যালয়গুলো এক ছাতার তলায় নিয়ে এসে বিলাসবহুল মধুচক্রে পরিণত করে লাকি লুসিযানো। সমস্ত ছোটখাটো জুয়ার ঠেকের মালিক, মাসাজ পার্লার আর বেশ্যালয়ের মালকিনরা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় অর্থ, নয়তো পেশিশক্তির সামনে। স্থানীয় আইন-প্রশাসনকে ঘুষের বন্যায় ভাসিয়ে নিজেদের ট্যাঁকে ভরে ফেলে লুসিয়ানো-ল্যানস্কি-বাগসি-রথস্টেইন কার্টেল। আইনির চেয়েও বেশি ‘আইনি’ হয়ে ওঠে সারাগোটার ‘ফোর ডনস ক্যাসিনো চেন’। নিউ ইয়র্কের সীমানা ছাড়িয়ে মায়ামি, ফ্লোরিডা, নিউ জার্সি, ম্যানহাটান মায় ইউরোপ অবধি ছড়িয়ে পড়ে সারাগোটার সুবাস। নিরাপদে এবং প্রতারিত না হয়ে জুয়া খেলতে যারা পছন্দ করে, তাদের জন্য সেরা গন্তব্যের নাম হয়ে ওঠে সারাগোটা।
“জুয়ায় হারজিত আছে। তাই আমাদের ক্যাসিনোগুলোয় কেউ হারতেই পারে, কিন্তু ঠকবে না কখনওই, এটা নিশ্চিত।” কথাটা খুব গর্বের সঙ্গে বলত মায়ার।
আমেরিকা বিজয়ের পর এবার লাতিন আমেরিকার দিকে হাত বাড়াল ল্যানস্কি। নজর পড়ল ক্যারিবিয়ান সমুদ্রের ‘হাঙর’-এর দিকে। কিউবা। ক্যারিবিয়ান মহাসাগরের বুকে আক্ষরিক অর্থেই হাঙরের আকারে খুব ছোট একটা দ্বীপ। অগুনতি জুয়ার আড্ডা, রেসের মাঠ, ক্যাসিনো, মাসাজ স্পা, স্ট্রিপটিজ় ক্যাবারে, ড্রাগ আর বেশ্যালয়ের পীঠস্থান ছোট্ট এই দেশটা। সারা দুনিয়া, বিশেষ করে মার্কিন ধনকুবের ট্যুরিস্টদের স্বর্গরাজ্য। পাশাপাশি শিশুমৃত্যু, অপুষ্টিজনিত মৃত্যু, রোগভোগ, অনাহার, দারিদ্র্য আরও নানাবিধ সূচক তালিকায় স্থান বিশ্বের প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে। ১৯৫২ সালে এক ক্যু-দেতা বা সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশের ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসক জেনারেল ফুলজেন্সিও বাতিস্তা। সেই সময় ক্রমাগত ভাঁটার টান পরিলক্ষিত হচ্ছিল কিউবার নামী ক্যাসিনো, বেশ্যালয় আর অন্যান্য জুয়ার আড্ডায়। খদ্দের কমছিল। কারণ জুয়ার আড্ডা আর বেশ্যালয়ের মালিক-মালকিনদের চূড়ান্ত অসাধুতা আর খদ্দের ঠকানোর প্রবণতা। মার্কিন ধনকুবেররা মুখ ঘুরিয়ে চলে যাচ্ছিলেন পাশেই পুয়ের্তো রিকোর ক্যাসিনো আর লালবাতি এলাকাগুলোয়।
শাসনভার হাতে নিয়েই এ দিকটায় বিশেষ নজর দেয় বাতিস্তা। এ কাজে তার প্রয়োজন এমন কাউকে, যে কড়া হাতে সুশৃঙ্খল ভাবে পুরো ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। ফলে অচিরেই মায়ার ল্যানস্কির ডাক পড়ল ক্যারিবিয়ান সাগরের বুকে এই ছোট দ্বীপটায়। বাতিস্তার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ল্যানস্কি কিউবায় এল এবং স্বৈরশাসকের প্রস্তাব গ্রহণ করল সানন্দে। কিউবার পুরো কালো ধান্দার নিয়ন্ত্রণ নিতে হুবহু একই পদ্ধতি অবলম্বন করল, যেমন করেছিল সারাগোটায়। টাকার টোপ আর হুমকির মুখে লেজ নাড়তে নাড়তে আত্মসমর্পণ করল সব জুয়ার ঠেক আর লালবাতি পাড়ার খলিফারা। পুরো ধান্দাটাকে এক ছাতার তলায় নিয়ে এসে বহু বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে অচিরেই সেখানে বিশাল বিশাল পাঁচতারা হোটেল, আধুনিকতম ক্যাসিনো, নাইট ক্লাব, মাসাজ স্পা আর প্রথম শ্রেণির সব বেশ্যালয় গড়ে তুলল ল্যানস্কি-লুসিয়ানো-বাগসি সিন্ডিকেট। আমেরিকায় তবু ‘বেআইনি’ তকমার একটা রাখঢাক ছিল। এখানে পুরোটাই খুল্লমখুল্লা। সম্পূর্ণ আইনসিদ্ধ। পিছনে আমেরিকান সরকারের প্রচ্ছন্ন সমর্থন ও সহায়তা। নিজের দেশে শ্রেষ্ঠীদের অবাধ সুযোগসুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে যেটুকু বাধ্যবাধকতা ছিল, এখানে সেটুকুও নেই। ফলে খুব দ্রুত ফের কিউবামুখো হতে শুরু করল মার্কিন ধনকুবেরের দল। এর বিনিময়ে প্রতিমাসে এক লাখ ডলারের একটা হৃষ্টপুষ্ট খাম বাতিস্তার হাতে তুলে দিতে হত কার্টেলকে। দেশে চরমতম দারিদ্র, অভাব, অপুষ্টি আর অনাহার। পায়ে জুতো নেই শিশুদের। সেই রন্ধ্রপথে ঢুকে পড়ে কালান্তক যম হুক ওয়ার্ম। যখন ঢোকে তখন অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া দেখা যায় না। বেরোয় কানের ফুটো দিয়ে মাথার ঘিলুর শেষ কণাটুকুও কুরে কুরে চেটেপুটে খেয়ে। আকারে এক একটা লেড পেনসিলের সমান। এদিকে বাতিস্তা আর তার অনুগামী ১৭টা পরিবারের হাতে দেশের শতকরা ৮৩ ভাগ সম্পদ। সম্পূর্ণ দেশ দুর্নীতিগ্রস্ত অত্যাচারী শাসক, দুর্বৃত্ত লুটেরা মাফিয়া আর লম্পট জুয়াড়ি শ্রেষ্ঠীদের দখলে।
এই নরক গুলজার চলেছিল ১৯৫৯ সাল অবধি। যত দিন না ফিদেল কাস্ত্রো, আর্নেস্তো চে গেভারার মতো বিপ্লবীদের হাতে বেধড়ক ঠ্যাঙানি খেয়ে সব কিছু ছেড়েছুড়ে লেজ তুলে কিউবা ছেড়ে পালাতে হয় আমেরিকান মাফিয়া, স্থানীয় ড্রাগ লর্ড আর তাদের সাঙ্গোপাঙ্গদের। খোদ বাতিস্তা পালিয়েছিল আমেরিকায়, কয়েক বিলিয়ন ডলার আর বিপুল পরিমাণ ধনসম্পদ নিয়ে, ব্যক্তিগত বিমানে। কিউবা বিপ্লবের সাফল্যে প্রবল ক্রুদ্ধ হয়ে কিভাবে সেখানে একাধিক প্রতিবিপ্লবী অভ্যুত্থানের প্রয়াস চালিয়েছিল আমেরিকান সরকার, কত শত বার মাফিয়া আর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রত্যক্ষ যোগসাজশে গুপ্তহত্যার ঘৃণ্য চক্রান্ত হয়েছিল ফিদেলকে ঘিরে, চার দিক থেকে কিভাবে অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছিল ওই অতটুকু একটা দেশকে (যা আজও চলছে), তার পরও সব বাধা আর চক্রান্তের বেড়াজাল ছিন্ন করে এই সেদিন অবধি দেশের সর্বাধিনায়কের আসনে আসীন রয়ে গেলেন মহামতি ফিদেল কাস্ত্রো রুজ, চলে যাওয়ার সময় রেখে গেলেন তাঁর স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা সুদৃঢ় বিপ্লবী ঐতিহ্যের ওই ছোট দ্বীপটাকে, সেসব এক অতি দীর্ঘ জাদু-বাস্তবতাময় কিন্তু ভিন্নতর আখ্যান। ফলে আবার মায়ার ল্যানস্কি আর তার কার্টেল প্রসঙ্গে ফিরি।
কিউবা থেকে সব খুইয়ে ফিরে আসার পর মায়ার-সহ কার্টেলে তার সব সহযোগীই ভেবেছিল, এই বিতাড়ন একান্তই সাময়িক। অচিরেই কাস্ত্রোদের খেদিয়ে অথবা নিকেশ করে ফের কিউবার দখল নেবে আমেরিকা। ক্ষমতার আসনে বসবে বাতিস্তা অথবা তারই মতো কোনও পুতুল সরকার। আবার কিউবার বুকে মৌরসি পাট্টা গাড়বে মাফিয়ারা। কিন্তু বাস্তবে তো তা ঘটলই না, উল্টে বছরখানেকের মধ্যেই নিজেদের সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ঘোষণা করল কিউবা। সমস্ত নাইট ক্লাব, ক্যাসিনো আর লালবাতি এলাকা নিষিদ্ধ হল খুব দ্রুত। পাঁচতারা হোটেলগুলো চলে গেল রাষ্ট্রীয় মালিকানায়। বাজেয়াপ্ত এবং জাতীয়করণ হল সমস্ত ধরনের মার্কিন বিনিয়োগ। কাস্ত্রোর তাড়া খেয়ে মার্কিন মুলুকে পালিয়ে আসা ভাড়াটে গুন্ডা আর মাদক কারবারিদের নিয়ে গঠিত সৈন্যবাহিনীর অভ্যুত্থানের চেষ্টা চূড়ান্ত ভাবে ব্যর্থ হল কিউবার সমুদ্রতট বে অব পিগসে। এর কিছু দিনের মধ্যেই কিউবার নয়া সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে বসল পরম শক্তিধর সোভিয়েট ইউনিয়ন। মার্কিন মুলুকের সঙ্গে যার সম্পর্ক সাপে-নেউলে। কার্টেলে সবাই বুঝে ফেলল, ফের কিউবা দখলের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল এ জীবনের মতো।
কিউবায় তাদের রাজ্যপাট থাকাকালীনই মায়ারের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল একজন। তার ছেলেবেলার বন্ধু বেঞ্জামিন ‘বাগসি’ সেগল। যৌবনের শুরু থেকেই কামনার ক্যাসানোভা বাগসি। সুন্দরী মহলে প্রবল জনপ্রিয়। ভার্জিনিয়া হিল নামে একদা নাইট ক্লাবের এক মক্ষিরানি গায়িকার সঙ্গে প্রেম এবং বাগসির উপর ওই সুন্দরীর প্রভাব তাকে ক্রমাগত টেনে নিয়ে যাচ্ছিল আরও অসংযত এবং বিশৃঙ্খল জীবনযাপনের পথে। মদ্যপানের মাত্রাও বৃদ্ধি পেয়েছিল বহুগুণ। মাথা গরম আর ‘ট্রিগার হ্যাপি’ হিসেবে বদনাম ছিল প্রথম থেকেই। সেটাও সীমা ছাড়াচ্ছিল দিনে দিনে। জুয়ার আড্ডার এক বুকি আর লালবাতি পাড়ার এক ম্যাডামকে খুনের দু’-দুটো মামলা খুব কম সময়ের ব্যবধানে পর পর দায়ের হল ওর নামে। কার্টেলে বাকিরা তো বটেই, ছেলেবেলার আর এক বন্ধু লুসিয়ানোও অত্যন্ত বিরক্ত ওর আচরণে। ল্যানস্কিকে বার বার বাগসির ব্যাপারে অনুযোগ জানাচ্ছিল সে। লুসিয়ানোর মতোই মায়ারের ছেলেবেলার অভিন্নহৃদয় বন্ধু বাগসি। বলতে গেলে প্রায় প্রতিদিনই একের পর এক নতুন নতুন সব অভিযোগ ওর নামে। সব মিলিয়ে প্রিয় বন্ধুকে সামলাতে নাজেহাল অবস্থা মায়ারের।
এমতাবস্থায় একদিন বাগসি নিজেই মায়ারকে জানাল, লস এঞ্জেলসে গিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে চায় সে। নিউ ইয়র্কের গণ্ডির মধ্যে আটকে না থেকে কার্টেলের কাজের এলাকা আরও বাড়ানো দরকার বলে মনে করছে সে। মায়ার খুব খুশি হল বাগসির এই প্রস্তাবে। কাজে মন দিলে বাকি সমস্যাগুলো এমনিই কমে যাবে। বন্ধুকে কার্টেলের তরফ থেকে সব রকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিল সে।
লস এঞ্জেলেসে গিয়ে প্রথমেই, প্রায় জলের দরে একটা পুরনো হোটেল কেনে বাগসি। পুরো খোলনলচে বদলে সেটাকে পরিণত করে ঝাঁ চকচকে বিলাসবহুল এক ক্যাসিনোতে। আর প্রথম চালেই বাজিমাত! এক বছর কাটতে না কাটতেই বিপুল ব্যবসায়িক সাফল্যের মুখ দেখে সেই ক্যাসিনো।
অতঃপর বাগসির পরবর্তী লক্ষ্য— আমেরিকার ‘ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’! মরুশহর নেভাডার প্রান্তে অতি সাদামাটা এক ছোট শহরতলি।
ক্রমশ