E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

নিঃশব্দ সুর

বাগানের খবর নেওয়া তো আরও অকল্পনীয় ব্যাপার। মালি বেণুবনকে অভিযোগ করেন ঠাকুমা, “আগে কুশটা তাও গাছপালা ভালবাসত, এখন সেও অফিসের অজুহাতে এড়িয়ে যায়।”

অন্বেষা রায়

শেষ আপডেট: ৩০ অগস্ট ২০২৬ ০৮:৩৮
ছবি: মহেশ্বর মণ্ডল।

ছবি: মহেশ্বর মণ্ডল।

কৃষ্ণেন্দুর কথা

ঠাকুমার ছোট্ট ঘরে মস্ত একটি পিয়ানো আছে। ঠিক যেমনটি উত্তমকুমারের ‘রাজকন্যা’ ছবিতে দেখা গিয়েছে, তেমন। আপরাইট। আলকাতরা-কালো পিচ্ছিল ত্বক আর সারি সারি ঝকঝকে সাদাকালো চাবি। পিয়ানোটা নিয়ে ঠাকুমার গর্বের শেষ নেই। শুনেছি, দাদু যতদিন বেঁচে ছিলেন, নিয়ম করে পিয়ানোটা বাজাতেন। শাড়ি-কাপড়ের ব্যবসা সামলে পরিবারের অন্য কারও সময় হয়নি জিনিসটায় হাতেখড়ি করার। তার থেকেও বড় কথা, ব্যবসা নিয়ে ঠাকুমার তিন ছেলে, দুই নাতি এমন পাগলপারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, বৃদ্ধার পাশে বসে হপ্তায় একটিও বাংলা সিনেমা দেখার ফুরসত হয় না তাদের (নোট করে নেবেন, বাংলা সিনেমা মানে এ ক্ষেত্রে শুধু মহানায়কের ছায়াছবি। তুলসীতলায় প্রদীপ দেওয়ার মতো এইটে ঠাকুমার নিত্যনিয়ম। দিনে অন্তত একটি বার উত্তমকুমারের মুখ না দেখলে ভদ্রমহিলার জাস্ট চলে না।)

বাগানের খবর নেওয়া তো আরও অকল্পনীয় ব্যাপার। মালি বেণুবনকে অভিযোগ করেন ঠাকুমা, “আগে কুশটা তাও গাছপালা ভালবাসত, এখন সেও অফিসের অজুহাতে এড়িয়ে যায়।”

বাসি অভিমান, ঠাকুমার অহঙ্কারকে আরও মজবুত করেছে। সেই গর্বেই ঠাকুমা বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলা কমিয়ে দিয়েছেন বহুদিন হল। সারা দিন পিয়ানোর ঘর আর লাগোয়া বারান্দাতেই থাকেন। যখনই কথা বলেন, চোখা শব্দ মিশিয়ে বলেন। এই যেমন একটু আগে। বাবা মিষ্টির বাক্স খুলে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতেই, ঠাকুমা বললেন, “আবার কী উদ্ধার করলে?”

পর্দায় ‘ভ্রান্তিবিলাস’ চলছিল। ঠাকুমার গাম্ভীর্য টাল খেল না।

‘উত্তরবঙ্গে আমাদের নতুন শোরুম খুলেছে’— বাবা সেটাই বলতে এসেছিলেন। আবহাওয়া দেখে চুপ করে গেলেন। বাবার সঙ্গে কিছুদিন হল ঝামেলা চলছে ঠাকুমার। বিষয় আমার বিয়ে। ছাব্বিশ বছর পূর্ণ করেও বিনা প্রেমিকায় জীবন কাটাচ্ছি, এ-অনাচার কিছুতেই সহ্য করতে পারছেন না ঠাকুমা। ছেলে কোথায় নাতির জন্য মেয়েখুঁজতে তুলকালাম বাধিয়ে দেবে তা নয়, উত্তরবঙ্গে শোরুম খুলছেন।

বাবা উত্তাপ টের পেয়ে বললেন, “সামনের মাসে তোমার পঁচাত্তর পূর্ণ হবে মা। এবার বড়সড় অনুষ্ঠান করার ইচ্ছে আমাদের। তুমি রাজি তো?”

ঠাকুমা এবারেও জবাব দিলেন না। ‘ভ্রান্তিবিলাস’-এ মন দিলেন।

বিয়ের বিষয়ে আমার বিরুদ্ধেও কিছুটা ক্ষোভ আছে ঠাকুমার। মারিষাকে বলেছেন। মারিষা আমাদের পাড়ার বাচ্চা একটা মেয়ে। ছোট্ট থেকেই ঠাকুমা এবং পিয়ানোর ন্যাওটা। ভাল বাজাত যন্ত্রটা। বছর ছয়েক আগে একটা অ্যাক্সিডেন্টে বেচারির জীবনটা উল্টেপাল্টে যায়। উন্মাদ দুটো বাসের ধাক্কায় রোগা-পাতলা বাচ্চাটা প্রাণে বেঁচে গেলেও কথা বলা আর শোনার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে চিরতরে। ওর সেই মনখারাপের দিনগুলোয় ঠাকুমা পাশে ছিলেন। কাছে বসিয়ে সিনেমা দেখাতেন, গল্প করতেন। মালি বেণুবনের সাহায্যে, গাছের যত্নও নেওয়াতেন। আমার ঘরের বারান্দা অবধি যে মালতীলতাটা উঠেছে, সেটা মারিষার হাতে লাগানো গাছ।

এক কথায় বলা যায়, ঠাকুমার সঙ্গগুণেই মেয়েটা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে। স্কুলে যাচ্ছে, লেখাপড়া শিখছে আর দিনে অন্তত একটি বার ঠাকুমার কাছে এসে, তাঁর মনের কথা শুনছে। সারা দিন ব্যবসার কাজে বাইরে থাকলেও, খবর সবই পাই। পরশু মা বললেন, “ভাগ্যিস মারিষা শুনতে পায় না। তোর ঠাকুমাকাল ওইটুকু মেয়েকে সুছন্দার কথা বলছিল।”

সুছন্দা, এককালে আমার ম্যানেজমেন্ট কলেজের সহপাঠী ছিল। ঠাকুমার সত্তরতম জন্মদিনে প্রথম এই বাড়িতে এসেছিল। আমি তখন মোটে একুশ। সুছন্দাকে দেখে যে ঠাকুমা অমন শিকারি বাঘিনির মতো ঝাঁপিয়ে পড়বেন, তা আন্দাজই করতে পারিনি।

সুছন্দার প্রথম অপরাধ তার চেহারা ও সাজ। পানপাতার মতো মুখের গড়ন, বাঁকানো ভুরুতে তাকে এক ঝলকে সুচিত্রা সেনের মতো দেখায়। তার মধ্যে বন্ধুর ঠাকুমার জন্মদিন বলে কী পোকা নড়েছিল কন্যার মনে কে জানে, সেদিন সে শাড়ি পরে লম্বা বেণি বেঁধে এসেছিল। ঠাকুমাকে প্রণাম করে যখন সুছন্দা উঠল, প্রথম কথাই ঠাকুমা বললেন, “তোমাকে আমার কুশের সঙ্গে খুব মানাবে। একেবারে উত্তম-সুচিত্রা।”

ইয়ে মানে, এটা অবশ্য অনেকেই বলেন। আমার চেহারার সঙ্গে নাকি ওই ভদ্রলোকের চেহারার আবছা মিল আছে। তা বলে ঠাকুমা সুছন্দাকে অমন একটা আলটপকা কথা বলে বসবেন?

সুছন্দার দ্বিতীয় অপরাধ, সে চমৎকার গান গায়। গান গাওয়া সুচিত্রামুখী মেয়ে ঠাকুমার মনে ধরতেই পারে, কিন্তু তা বলে পরের দিনই সুছন্দার বাবাকে ফোন করে ও-সব কেউ বলে? বলে, “আমার ছেলের অনেক টাকা, আপনার মেয়ের কোনও অভাব রাখবে না। নাতি চাকরি না পেলেও সম্পত্তি পাবে। হাতছাড়া হওয়ার আগে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিন”— ইত্যাদি হাবিজাবি?

কলেজে সকলের সামনে চূড়ান্ত অপমান করে বন্ধুত্ব ছিন্ন করেছিল সুছন্দা। ঠাকুমার শিক্ষা হয়নি। যখন যাকে পছন্দ হয়েছে, আমার সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। মায়ের বন্ধুর মেয়ে, কাকির ভাইঝি, জেঠুর শালার মেয়ে। আজকাল পরিচিত অল্পবয়সি মেয়েদের ঠাকুমার সামনে আনতে চান না কেউ। মান-ইজ্জত খোয়াবার ঝুঁকি থাকে।

এর মধ্যে বাবা আবার পঁচাত্তরতম জন্মদিন এলাহি করে পালন করবেন বলছেন। ব্যাপারটা যে আমার স্বয়ম্বরসভায় বদলে যাবে, তা আমার থেকে ভাল কেউ জানে না। ভাবলেই বুক কাঁপছে।

মারিষার কথা

সুছন্দা সান্যালকে ঠাকুমা কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। আমাকে বলেছেন। শুনতে না পেলেও, ঠোঁট নাড়া দেখে মানুষের কথা বুঝতে অসুবিধে হয় না আজকাল। ঠাকুমার পাশে বসে আমি যখন সিনেমা দেখি, সব বুঝতে পারি। ‘সাগরিকা’, ‘রাজকুমারী’, ‘সাড়ে চুয়াত্তর’-এর সংলাপ, গান, কিচ্ছুটি বাদ যায় না। রুপোলি পর্দার মহারাজ যখন শরীরে হিন্দোল তুলে গান ধরেন, আমার কানে বেজে উঠে সুর।

খেয়াল করেছি, এই সব গানের সময় ঠাকুমা পিয়ানোটার দিকে তাকিয়ে থাকেন একদৃষ্টে। ঠাকুমা, দাদু অনেক কষ্ট করে টাকা জমিয়ে কিনেছিলেন পিয়ানোটা। দাদু সরকারি চাকুরে ছিলেন আর ঠাকুমা ছিলেন লোকারণ্য এক সংসারের গৃহবধূ। শ্বশুর-শাশুড়ি ছাড়াও দূরসম্পর্কের ননদ, মামাশ্বশুর, দেওর আর স্বামী-সন্তান নিয়ে ঘরকন্না করতেন। দুই কামরা, এক দালানের সেই ঠিকানায় গানবাজনার চল ছিল না কোনও।

আশ্রিত সেই সব আত্মীয়ের বেশির ভাগই ছিলেন কলহপ্রিয় ও অলস। চেঁচামেচি, কোলাহল লেগেই থাকত বাড়িতে। তাদের জন্যই ভোর থেকে রাত কঠোর পরিশ্রম করতেন ঠাকুমা। তাপ্পি দেওয়া পাঞ্জাবি পরে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে অফিসে যেতেন দাদু। এই দুর্বিষহ যাপন কোনও দিন ছায়া ফেলেনি তাঁদের সুখে। কারণ এত কিছুর মাঝেও, দাদু-ঠাকুমার নিজস্ব একটা সাহসিকতার গল্প ছিল। ছিল ওই পিয়ানো কেনার স্বপ্ন।

প্রিয় নায়কের মতো দাদু পিয়ানো বাজাবেন, এমন সাধ সেই তরুণ দম্পতি একসঙ্গে লালন করেছিলেন তাঁদের দীর্ঘ লড়াইয়ের দিনগুলিতে। আপরাইট, কালো পিয়ানোটা শুধু একটা বাদ্যযন্ত্র নয়, ওদের ভালবাসা আর জীবনযুদ্ধের অভিজ্ঞান।

আগামী সোমবার ঠাকুমার পঁচাত্তরতম জন্মদিন। প্রথমে ঠিক হয়েছিল শহরের এক পাঁচতারা হোটেলে উদ্‌যাপিত হবে। ঠাকুমার আপত্তিতে পরিকল্পনায় বদলেছে। অনুষ্ঠান পালিত হবে বাড়িতেই। আমাদের সপরিবার নিমন্ত্রণ। বাবা, মা পছন্দ করে মানানসই অনেক উপহার কিনেছেন। আমি বলেছি, আমার তরফেও বিশেষ একটি উপহার যাবে। সেই কারণে একা একা একটু বেরোতে হচ্ছে। সময় তো বেশি নেই হাতে। যা করার এর মধ্যেই করা দরকার।

জীবনের মূল্যবান একটি বছর লেখাপড়া বন্ধ ছিল আমার। ঠাকুমা না থাকলে, আজ উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে, কলেজে ভর্তি হতে পারতাম না। মাত্র তেরো বছর বয়সে নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল চারপাশের পৃথিবী, সেই সময় ঠাকুমা দু’হাত বাড়িয়ে কাছে টেনে নিয়েছিলেন। ঠাকুমার পাশে বসে সিনেমা দেখার সময়, আমার সমস্ত ইন্দ্রিয় সজাগ হয়ে জড়ো হত চোখের তারায়। আমি দেখতাম, কত অবলীলায় মহানায়ক ভুরুতে, ঠোঁটে, আঙুলে ফুটিয়ে তুলছেন সুর। হাসিতে, চোখের পাতায় দেখা যাচ্ছে ছন্দ। দেখতে দেখতে সব কষ্ট মিলিয়ে যেত। শুনতে না পারার দুঃখ, গাইতে না পারার যন্ত্রণা আর প্রথম প্রেম হারিয়ে ফেলার দাহ। কিচ্ছুটি থাকত না। মূক ও বধির থেকে আমি হয়ে যেতাম একনিষ্ঠ শ্রোতা, আর উত্তমকুমার মানুষ থেকে হয়ে যেতেন নিটোল, নিখুঁত একটি সুর।

ঠাকুমা বলেছিলেন, “কৃষ্ণেন্দু যদি সুছন্দাকে বিয়ে করত, নিশ্চিন্ত হয়ে মরতে পারতাম রে মারিষা। মেয়েটা গান জানে, শেখালে পিয়ানোটাও বাজাতে পারত ঠিকই। যন্ত্রটার একটা হিল্লে করে যেতে পারতাম। নয়তো, আমি চোখ বুজলেই এই পিয়ানো অন্য কাউকে দিয়ে দেবে ওরা। যারা বাজাতে জানে না, তাদের কাছে তো এ জিনিস বোঝা ছাড়া তো কিছু নয়, বল?”

বলছিলাম না, “পিয়ানোটা ঠাকুমা দাদুর প্রেম আর জীবনযুদ্ধের অভিজ্ঞান! তাকে কি হারাতে দেওয়া যায়?

কৃষ্ণেন্দুর কথা

বাড়িতে পা দিয়েই বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল। অনুষ্ঠানবাড়ি এত চুপচাপ কেন? মানছি ফিরতে একটু রাত হয়েছে। নর্থ বেঙ্গলের শোরুমটা আমিই সামলাচ্ছি এখন। সরাসরি সেখান থেকেই আসছি। অর্ধেকের বেশি অতিথি চলেও গিয়েছেন হয়তো। তবু অনুষ্ঠান তো ফুরিয়ে যায়নি! চারতলা বাড়ি সোনালি আলোয় ঝলমল করছে। বাতাস ভুরভুর করছে খাবারের গন্ধে। আমার বারান্দা লাগোয়া মালতীলতা ঠাকুমার অনারেই বুঝি নিজেকে উজাড় করে ফুল ফুটিয়েছে আজ। তবু এমন ভোরের মতো শান্ত কেন চার পাশ? কৌতূহল মেটাতে দ্রুত এগোই দোতলার দিকে। আর ঠিক তখনই মিষ্টি একটা শব্দ কানে ভেসে আসে।

দাদুর পিয়ানোটা বাজছে। সুরটা অনুসরণ করে দরজায় এসে দেখি, ঘরভর্তি লোক। বেশ কয়েকজন বিবাহযোগ্যা কন্যাও আছেন সেই ভিড়ে। পিয়ানোর পাশের সোফায় আলোকিত মুখে বসে আছেন ঠাকুমা। তাঁর মুখোমুখি, পিয়ানোর টুলে ...

মুখটা দেখতে পেলাম না, তবে চুড়ো করে বাঁধা খোঁপা, ঘাড় ছোঁয়া ব্লাউজ়, শাড়িতে সেজে ওঠা মেয়েটির মুখের গড়ন যে পানপাতার মতো, সেটা বুঝতে অসুবিধে হল না। ছিপছিপে শরীরে মৃদু ঢেউ তুলে সে অদ্ভুত নৈপুণ্যে সুর তুলছে পিয়ানোতে।

আমি চেয়ে চেয়ে দেখি সারাদিন

আজ ওই চোখে সাগরের নীল

আমি তাই কি গান গাই কি

বুঝি মনে মনে হয়ে গেল...

আমার দিকে চোখ পড়তেই ঝলমল করে উঠল ঠাকুমার মুখ। বললেন,

“কুশ! চিনতে পারছিস একে?”

আমার বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠল। কলেজে সকলের সামনে বিশ্রীভাবে চিৎকার করে উঠেছিল সুছন্দা। বলেছিল, “সাইকো নাকি তোর ঠাকুমা? বিয়ে-বিয়ে করে মাথা খারাপ করে দিচ্ছে। বাবার টাকায় ফুর্তি করার প্ল্যান তোর থাকতে পারে কৃষ্ণেন্দু। আমার নেই। ঠাকুমাকে বুঝিয়ে দিস।”

মাথা দপদপ করছিল। সুছন্দার রাগের কারণ বুঝি, কিন্তু ঠাকুমার মনটাও যে ফেলনা নয়। বেচারি বড্ড ভয় পায়। ওর মৃত্যুর পর যদি পিয়ানোটা ফেলে দিই আমরা? খুব সাধ, ওদের মতো আমার জীবনেও ভালবাসা নিয়ে আসুক এই পিয়ানো। সেই দৌলতে জিনিসটা থেকে যাক পাকাপাকি ভাবে এই বাড়িতে। কিন্তু তা বলে...

আমার ভাবনার মাঝেই মুখ ঘোরালেন শিল্পী। চমকে উঠলাম। ঠাকুমা বললেন, “কী রে, কিছু বল?”

মারিষার কথা

উদ্‌গ্রীব হয়ে কৃষ্ণেন্দুর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। সেই ছোট্টবেলার মতো। জবাব পেলাম না। ওর চোখে মুগ্ধতা, অবিশ্বাস আর বিস্ময় ছোটাছুটি করতে লাগল। ঠাকুমা বললেন, “কী হল? বল কেমন পিয়ানো বাজাল মারিষা? ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি, মেয়েটা এত কিছুর পরেও বাজানো ছাড়েনি। আমাকে শোনাবে বলে এই সব গান পিয়ানোতে বাজানো শিখেছে। রীতিমতো ক্লাসে গিয়ে, বুঝলি?”

এত বছরে এই প্রথম পূর্ণদৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাল কৃষ্ণেন্দু। এত দিনে বুঝি বুঝল, কেন এমন নিজেকে উজাড় করে ফুল ফোটায় আমার রোপণ করা মালতীলতা। ওর চোখে পাড়ার বাচ্চা মেয়ে বই কিছু তো ছিলাম না।

খুব সূক্ষ্ম একটা জলের পর্দা যেন জেগে উঠল কৃষ্ণেন্দুর চোখে। আমি চোখ নামিয়ে নিলাম। ওর বারান্দার নীচে লাগানো মালতীলতার মতো, সুর আর গান ফুটে উঠল চার দিকে।


এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Uttam Kumar Bengali Short Story Short story

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy