হাতে একদম সময় নেই! যা বলার তাড়াতাড়ি বলতে হবে। আপনারা আদৌ কেউ শুনবেন কি না, জানি না। শুধু জানি, আমাকে বলতেই হবে। বাজে বকলে মাফ করবেন। এই অবস্থায় যুক্তি মেনে কথা বলা সম্ভব নয়। তাই যা বলছি, শুনুন। আর বিশ্বাস করুন। প্লিজ়!
আমার নাম কৃষ্ণেন্দু রায়, বাড়ি কদমপুর, বয়স চব্বিশ। লকডাউনের আগে পর্যন্ত বাবা বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক ছিল, মা বেসরকারি হাসপাতালের নার্স। দিদি স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দিয়ে সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা। আমি কদমপুরকলেজ থেকে বাংলায় অনার্স নিয়ে পাশ করে চাকরি খুঁজছিলাম।
লকডাউনের সময় বাবা-মা দুজনেরই চাকরি গেল। বাধ্য হয়ে মা আয়া সেন্টারে নাম লেখাল, আর বাবা বাড়িতে টিউশনি শুরু করল। আমি ফুড ডেলিভারি অ্যাপের রাইডার হিসেবে কাজ শুরু করলাম। ভরসার জায়গা ছিল দিদির সরকারি চাকরি। হঠাৎ জানা গেল, কিছু ছেলেমেয়ে লাখ-লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে সরকারি স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছে। আদালতের নির্দেশে সকলের চাকরি বাতিল হয়ে গেল। তাদের মধ্যে দিদিও পড়ল। বেকার দিদি এখন রোজ ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে বসে থাকে, আরও অনেক চাকরিহারা শিক্ষকের সঙ্গে।
এই অবধি পুরোটাই নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের রুটিন গপ্পো! আপনারা জানেন, তাই না? যেটা জানেন না, সেটা বলি? আমার জীবনটা বদলে গেল আজ থেকে পাঁচ মাস আগে, রাত একটার সময়, কুদঘাটের একটা বাড়িতে বিরিয়ানি ডেলিভারি করতে গিয়ে।
সদর দরজা খুললেন যে মহিলা, তাঁকে আমি চিনি। ইন্দ্রাণী ব্যানার্জি এখনকার বিখ্যাত গায়িকা। একই সঙ্গে কিশলয় পার্টির কালচারাল সেলের প্রধান। কিশলয় পার্টি এই মুহূর্তে বাংলার মসনদে।
ইন্দ্রানী আমার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বললেন, “তোমাকে তো অবিকল উত্তমকুমারের মতো দেখতে!”
প্যানপ্যানে, স্লো, ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট বাংলা সিনেমা আমার ভীষণ অপছন্দ। তবে ছুটির দিনে মায়ের পাল্লায় পড়ে কয়েকটা দেখতে বাধ্য হয়েছি। খারাপ লাগেনি।
আমাকে যে উত্তমকুমারের মতো দেখতে, এই কথাটা তরুণ বয়স থেকেই শুনছি। মূলত বুড়োবুড়িরা বলেন। ইন্দ্রাণী আপনমনে বলছেন, “এ তো পুরো ‘ঝিন্দের বন্দী!’ ডপেলগ্যাঙ্গার!”
‘ঝিন্দের বন্দী’ সিনেমাটি মায়ের পাল্লায় পড়ে দেখা। ঝিন্দের রাজপুত্র শঙ্কর সিংহের সঙ্গে কলকাতার যুবক গৌরীশঙ্কর রায়ের হুবহু মিলের কথা জানি। আমি বললাম, “ওই ডপেল... ইয়ের মানে কী?”
“এটা জার্মান শব্দ।” ইন্দ্রাণী বললেন, “মানে হল, হুবহু এক রকম দেখতে আর একটা লোক। তোমাকে আমাদের কাজে লাগবে ভাই। কাল বিকেলে পার্টি অফিসে চলে এসো।”
কিছুটা কৌতূহল আর অনেকটা ভয় নিয়ে পরের দিন নিউ টাউনে কিশলয় পার্টির অফিসে পৌঁছলাম। আমাকে দেখে ইন্দ্রাণী বললেন, “চলো! বসের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিই।”
বস মানে চিরন্তন মজুমদার! কিশলয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলার পুলিশমন্ত্রী!
*****
পঁয়ষট্টি বছরের চিরন্তন সরু ও লম্বা একটি সিগারেট ধরিয়ে বললেন, “বাঙালি মননে উত্তমকুমারের স্থান কোথায় জানো? সবার উপরে।”
সিনেমাটার নাম জানি বলে মৃদু হাসলাম।
“তোমাদের জেনারেশন উত্তমকুমারের ছবি দেখে না,” বলছেন চিরন্তন। “তবে শুধু তোমরাই তো আর আমাদের ভোটার নও! অষ্টাশি বা আটানব্বই বছরের মানুষও আমাদের ভোটার। এবং তাঁরা উত্তমকে ভালবাসেন। তাই তোমাকে আমরা কাজে লাগাব। ফুড ডেলিভারি করে মাসে কত পাও?”
“হাজার পঁচিশ পাওয়ার কথা।” মিনমিন করে বললাম। “তবে ওয়ার্কিং আওয়ার, ইনসেনটিভ, তেলের দাম... মাইনের মধ্যে নানান প্যাঁচ আছে।”
“মাসে পঞ্চাশ হাজার টাকা মাইনে, ইন ক্যাশ।” বললেন চিরন্তন, “তোমার কাজ হবে গুরু, আই মিন উত্তমকুমারের আদলে নিজেকে গড়ে তোলা। ইন্দ্রাণী হেল্প করবে।”
আমি কাঁদো-কাঁদো মুখে বললাম, “আমি এসব পারব না স্যর...”
“আমি অনুরোধ করিনি।” সিগারেটে টান দিলেন চিরন্তন।
অর্থাৎ এটা আদেশ।
নিজের অফিসে নিয়ে গিয়ে ইন্দ্রাণী আমাকে একটা আই-কার্ড দিলেন। তাতে লেখা রয়েছে যে আমি কিশলয় পার্টির হোলটাইমার এবং কালচারাল সেলের সদস্য। এর পর একটা এক্সটার্নাল হার্ড ডিস্ক দিয়ে বললেন, “এতে উত্তমকুমারের সব সিনেমা আছে। দেখে ফেলো।”
পুরনো বাংলা সিনেমা দেখতে হবে? ভেবেই গায়ে জ্বর আসছে। আমার মুখ দেখে মুচকি হেসে হাতে পাঁচশো টাকার বান্ডিল ধরিয়ে ইন্দ্রাণী বললেন, “কাল সকাল দশটায় চলে আসবে। বাইকের তেলের খরচ এখান থেকে পেয়ে যাবে।”
পরদিন থেকেই বিপুল কাজের মধ্যে ডুবে গেলাম। বাড়িতে একের পর এক সিনেমা দেখছি। পার্টি অফিসে এক বাচিক শিল্পী আমাকে গুরুর কায়দায় কথা বলা শেখাচ্ছেন। হেয়ারস্টাইলিস্ট পনেরো দিনে একবার চুলে ‘ইউ কাট’ দিয়ে যাচ্ছেন। পোশাক শিল্পী আমাকে গুরুর কায়দায় ধুতি-পাঞ্জাবি-স্যান্ডেল পরা শেখাচ্ছেন। এক টিভি-অভিনেতা ঠোঁটের কোণে সিগারেট ঝুলিয়ে মৃদু হাসতে শেখাচ্ছেন, গুরুর কায়দায় হাঁটতে শেখাছেন... একই সঙ্গে চলছে কিশলয় পার্টির নির্বাচনী ইস্তেহার মুখস্থ করা। চার মাস পরেই বিধানসভা নির্বাচন।
চিরন্তন একদিন আমাকে মধ্যমণি বানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন। ভাষণে বললেন, “ম্যাটিনি আইডল উত্তমকুমার অনেককাল আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু এখনকার এক উত্তমকুমার আমাদের পার্টির সঙ্গে যুক্ত। অতীতে ‘সাম্যবাদী পার্টি’ সরকারে ছিল। সেই পার্টির অনেক অত্যাচার তিনি সহ্য করেছেন। এই বছর তিনি আমাদের মুখপাত্র হয়ে প্রতিটি জেলায় ঘুরবেন। গুরুর ছবির বিভিন্ন দৃশ্য অভিনয় করে দেখাবেন। পাশাপাশি বলবেন আমাদের পার্টির কথা, বলবেন কেন্দ্রীয় সরকারে যে ‘বিকাশ মোর্চা’ আছে সেটির বিমাতৃসুলভ আচরণের কথা...”
সাংবাদিকরা আমার দিকে তাকিয়ে। তাঁদের দিকে তাকিয়ে হাতজোড় করে গুরুর কায়দায় বললাম, “তোমরা আমার জয়ধ্বনি দিচ্ছ! কিন্তু বিশ্বাস করো, রাজা সাজতে আমি আর চাই না।”
প্রবল হর্ষধ্বনি শুনে বুঝতে পারলাম, পরীক্ষায় পাশ করেছি।
*****
পরদিন থেকে শুরু হয়ে গেল চরকিপাক। নীল বাতি লাগানো কালো এসইউভিতে চাপিয়ে ইন্দ্রাণী আমাকে নিয়ে পৌঁছলেন শিলিগুড়ি। সারা রাত গাড়ি চালাল বিনু। সমবয়সি চালকটির সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে গেল। আমাদের গাড়ির সামনে আর পিছনে ছুটছে পুলিশের পাইলট কার। সঙ্গে আছে হুটার আর বিকন লাগানো অ্যাম্বুল্যান্স।
আমি ইন্দ্রাণীকে বললাম, “অ্যাম্বুল্যান্সেরকী দরকার?”
ইন্দ্রাণী বললেন, “তারকা প্রচারকের কিছু হয়ে গেলে স্যর আমাদের মেরে ফেলবেন।” বিনু এই কথায় ঘাড় নেড়ে সায় দিল।
শিলিগুড়ির পার্টি অফিস কেন্দ্র করে কোচবিহার, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার আর জলপাইগুড়ি জেলায় প্রচার চলতে লাগল। প্রতি সোমবার রাতে আমরা বাড়ি ফিরি। তখনও আগে-পিছে পাইলট কার আর অ্যাম্বুল্যান্স। মঙ্গল আর বুধবার বাড়িতে কাটিয়ে বুধবার রাতে আবার যাত্রা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাজ শুরু। মঞ্চে উঠে কখনও বলি, “দুটো জিনিসে আমার বুকের আগুন নিভবে... এক আমার চিতাভস্মে; আর এক ভারতবর্ষের স্বাধীনতায়।” কখনও বলি, “আপনার গালে যদি ঠাস ঠাস করে তিনটে চড় মারার দরকার হয়, তাহলে একটা চড়ে কাজ হবে কি? সেখানে তিনটে চড়ই মারতে হবে!” প্রবল হাততালি শেষ হলে কিশলয় সরকার কী কী ভাল কাজ করেছে, বিকাশ মোর্চা ক্ষমতায় এলে কী ভাবে বিপদ ঘনিয়ে আসবে, সে-সব বুঝিয়ে বলি।
পনেরো দিন পরে নতুন ঘাঁটি হল মালদহ জেলার পার্টি অফিস। মালদহ, মুর্শিদাবাদ, দুই দিনাজপুরে চলতে লাগল প্রচার। এক সোমবার রাতে ফেরার সময় ধাবায় খেতে বসে খেয়াল করলাম, অ্যাম্বুল্যান্সে বড় বড় ট্রাঙ্ক উঠছে। আমি ইন্দ্রাণীকে বললাম, “ওগুলো কী?”
মুহূর্তের মধ্যে ইন্দ্রাণীর মুখচোখ বদলে গেল। কড়া গলায় তিনি ধমক দিলেন, “নিজের কাজটুকু করো। সব বিষয়ে নাক গলিয়ো না।” একটু পরে নরম গলায় বললেন, “স্যরি! ইলেকশনেরকাজের চাপে মেজাজ গরম হয়ে গেছে। ওগুলো পার্টির ডকুমেন্ট।”
এই বিষয়ে আর আগ্রহ দেখালাম না। তবে মনের মধ্যে এই ক’দিনে নানান দৃশ্য জমেছে। সেগুলো জুড়তে লাগলাম। শিলিগুড়ি থেকে ফেরার সময় কিছু খেয়াল করিনি, কারণ এক ঘুমে রাত কাবার হত। তবে মালদহ, মুর্শিদাবাদ বা দুই দিনাজপুর থেকে ফেরার সময় দেখেছি যে প্রতি জেলা থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে গাদা গাদা ট্রাঙ্ক উঠছে। অ্যাম্বুল্যান্সে ডাক্তার, নার্স বা টেকনিশিয়ানের বদলে পার্টির জেলা স্তরের নেতারা থাকেন। কলকাতায় ফিরলে চারটি গাড়ির কনভয় সবার আগে যায় নিউ টাউনের পার্টি অফিসে। সেখানে অ্যাম্বুল্যান্স ঢুকে গেলে আমাকে আর ইন্দ্রাণীকে বাড়ি পৌঁছে দেয় বিনু। পুলিশের পাইলট কার বা অ্যাম্বুল্যান্স কিন্তু পার্টি অফিস থেকে আর বেরোয় না। কেন?
কোনও এক শুক্রবার একা ফিরছিলাম। কারণ ইন্দ্রাণী ব্যক্তিগত দরকারে আগে কলকাতায় ফিরেছেন। নিউ টাউনের পার্টি অফিসে অ্যাম্বুল্যান্স ঢোকার পরে বিনুকে বললাম, “মাইনাস করব।”
“তাড়াতাড়ি!” স্টিয়ারিং-এ মাথা রাখল বিনু।
*****
ভোর চারটের সময় পার্টি অফিসে ঢুকে দেখি, একজন সিকিয়োরিটি গার্ড চেয়ারে বসে ঘুমোচ্ছেন। সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো বন্ধ। নিঃশব্দে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় বুঝতে পারলাম যে দোতলার একটিমাত্র ঘরে আলো জ্বলছে। অন্ধকারে, দেওয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ঘরে উঁকি দিলাম। এবং যা দেখলাম, তাতে মাথা ঘুরে গেল।
বান্ডিল বান্ডিল টাকা ট্রাঙ্ক থেকে বার করে আলমারিতে ঢোকাচ্ছেন কিশলয় পার্টির সিনিয়ার নেতা মনোজদা, যাঁকে আমি খুব শ্রদ্ধা করি। জেলার এক নেতা কাগজ দেখে নিচু গলায় বলছেন, “কয়লার টাকা এক নম্বর ট্রাঙ্কে। বালির টাকা দু’নম্বরে। গরুর টাকা তিনে। আচ্ছা, সামনের লোকসভা ভোটে আমার দাঁড়ানোটা কনফার্ম তো?”
“প্রায় কনফার্ম!” মেশিনে টাকা গুনছেন মনোজদা। “আমি চিরন্তনের সঙ্গে একবার কথা বলেছি। আবার বলব।”
আমি স্মার্টফোন বার করে মিনিট তিনেক ভিডিয়ো রেকর্ড করলাম। তার পর ফোন পকেটে ঢুকিয়ে পার্টি অফিস থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠলাম। বিনু আমার দিকে তাকিয়ে, ভুরু কুঁচকে বলল, “এত সময় লাগল? কেন?”
এইভাবে বিনু কখনও আমার সঙ্গে কথা বলেনি। নিচু গলায় বললাম, “পেটটা খারাপ হয়েছে...”
“খুব সাবধান!” কড়া গলায় বলল বিনু।
কেন বলল কে জানে! আমি কথা বাড়ালাম না। বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়লাম, যেমন প্রতি সপ্তাহে করি। বিকেলবেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি বাবা ছাত্র পড়াচ্ছে। মা আর দিদি এখনও ফেরেনি।
দিদির কথা মনে পড়ছে খুব। সরকারি চাকরি বাতিল হওয়ার পরে পাড়ার লোকে ওকে কী না বলেছে! ‘চাকরি চোর,’ ‘ঘুষ দিয়ে চাকরি পেয়েছে,’ ‘এরা মাস্টার না ডাকাত?’ দিদি ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিল। ওষুধ খেয়ে, নিজেকে কিছুটাসামলে রোজ ধর্নামঞ্চে বসছে। চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায়।
কিশলয় সরকার থাকলে চাকরি ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। এটা এখন আমার থেকে ভাল আর কেউ জানে না। নিজেকে প্রশ্ন করলাম, এই পরিস্থিতিতে গুরু কী করতেন?
মানলাম, আমি গুরু নই। কিন্তু গুরুর ডামি হিসেবে সারা বাংলা জুড়ে একটা পরিচিতি তৈরি হয়েছে! সেটা কাজে লাগিয়ে আমি যদি টেলিভিশনের চ্যানেলে সব কথা বলি, তা হলে কাজ হবে না?
স্কুপ নিউজ় চ্যানেলের সঞ্চালক পরিমলকে ফোন করে একটি ভিডিয়ো ক্লিপ দেখাতে চাইলাম। পরিমল তৎক্ষণাৎ রাজি। ফোনালাপ চুকিয়ে স্নান সেরে বাড়ি থেকে বেরোচ্ছি, এমন সময় এসইউভি নিয়ে হাজির বিনু। বলল, “স্যর ডাকছেন।”
তখনও জানি না যে এটাই বাড়ি থেকে আমার শেষ বেরোনো! গাড়িতে তোলার পরে বিনু আমার ঘাড়ে রদ্দা মেরে অজ্ঞান করে দেয়। জ্ঞান ফেরার পরে দেখলাম হাত-পা বাঁধা, ভেড়ি এলাকায় গাড়ি চালাচ্ছে বিনু। বলল, পার্টি অফিসে আমি কিছু দেখেছি, এটা আন্দাজ করে ও ফোনে চিরন্তনকে জানায়। চিরন্তন পুলিশকে বলে আমার ফোনকল ট্রেস করেন। পরিমলের সঙ্গে ফোনালাপ শুনে বিনুকে নির্দেশ দেন আমাকে খতম করার জন্য।
একটু আগে একটা ভেড়িতে আমাকে ফেলে দিয়ে চলে গেছে বিনু। তার আগে অন্তত কুড়ি বার আমার বুকে আর পেটে ছুরি চালিয়েছে, আমার স্মার্টফোন কেড়ে নিয়েছে। তবে ও জানত না যে আমার আর একটা ফোন আছে।
ভেড়ির জলে আধডোবা অবস্থায় মরতে মরতে এই অডিয়ো রেকর্ডিংটা করছি। আমি, হোপিং এগেন্সট হোপ, চাই যে আমার লাশ কেউ দেখতে পাক। আমার এই ফোন পুলিশের হাতে পড়ুক। এই অডিয়ো ক্লিপ আপনাদের কাছে পৌঁছক। আমি উত্তমকুমার নই, তাঁর অক্ষম প্রতিরূপ মাত্র। কিন্তু মরে যাওয়ার আগে এক বার নায়ক হওয়ার চেষ্টা করতে দোষ কী?
‘নায়ক’ ছবিতেই তো সংলাপ ছিল, ‘মরা হাতির প্রবাদটা কি তা হলে মিথ্যে?’