E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

অন্তরস্রোত

লিলি খেয়াল করল না, সুলগ্নার স্বরে রোজকার নিস্পৃহ ভাবটা নেই। অবশ্য রোজ শোনা একই কথার মধ্যে সূক্ষ্ম তফাত বুঝতে লিলিরবয়েই গেছে।

রাজেশ গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৩ অগস্ট ২০২৬ ০৭:১৭
ছবি: মহেশ্বর মণ্ডল।

ছবি: মহেশ্বর মণ্ডল।

জানিস তো, মায়ের জন্য এবার যে মেয়েটাকে পেয়েছি, খুব কেয়ারিং।”

সুলগ্নার কথায় বিনীতার প্রতিক্রিয়া ছিল, “তুই তো লাকি রে!”

“অস্বীকার করছি না। কিন্তু মান্থলি কত যাচ্ছে শুনবি?”

“কত? দশ নিশ্চয়ই?”

“পনেরো। উইথ ফুডঅ্যান্ড বোনাস।”

“একটু বেশিই। কিছু মনে করিস না সুলগ্না, তুই লাস্ট কবে একটা গোটা দিন কাকিমাকে দেখাশোনা করেছিস, মনে করতে পারবি? আমি তো বাবা, পারবই না।”

যেহেতু বিনীতা শুধু দোষারোপই করল না, নিজের দোষও স্বীকার করল অক্লেশে, তাই খারাপ লাগলেও কিছু বলতে পারল না সুলগ্না। কিন্তু কথাটা পিন ফুটিয়ে দিয়ে গেল। চিনচিনে অস্বস্তিকর অনুভূতি থেকে মুক্তি পেতে ও নির্জলা মিথ্যে বলল, “একটা জরুরি কল ঢুকছে রে। এখন রাখি? পরে কথা হবে।”

ঘড়িতে সাড়ে পাঁচটা। ও একটা নম্বরে ডায়াল করল।

“দিদি বলো।”

“মা কী করছে রে?”

লিলি খেয়াল করল না, সুলগ্নার স্বরে রোজকার নিস্পৃহ ভাবটা নেই। অবশ্য রোজ শোনা একই কথার মধ্যে সূক্ষ্ম তফাত বুঝতে লিলিরবয়েই গেছে।

“এইমাত্র চুল আঁচড়ে মুখে ক্রিম মাখিয়ে দিলাম, দিদি। সোয়েটার, মোজা, মাফলারও পরিয়ে দিয়েছি। এখন চা খেতে খেতে টিভি দেখছে।”

লিলির কথায় সুলগ্না বেশ বুঝতে পারে, মাসের শেষে মোটা টাকা নিলেও লিলির আন্তরিকতায় খাদ নেই। এটাই ভরসার জায়গা। অবশ্য এই কাজগুলো যতটা স্বাভাবিক শোনাল, মায়ের ক্ষেত্রে যে ততটা নয়, এটা ও ভালই বোঝে। কিন্তু সচেতন ভাবে এই প্রশ্নটার মুখোমুখি হওয়া ও এড়িয়ে যায়। এই পোশাকি ভাল রাখাটুকুই কি সন্তানের কাছ থেকে বাবা-মায়ের কাম্য? রোজ খেতে দেয় তো জুলিকেও, নিয়ম করে ডাক্তারও দেখায়। তার পরও কি বাইরে থেকে বাড়ি ফিরলে মনিবের আদর খাওয়ার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে থাকে না পোষা সারমেয়টি? অথচ মা…

সেদিন একটা রিল-ভিডিয়োতে দেখছিল, রণধীর কপূর দু’টি ছেলের কাঁধে ভর দিয়ে কোনও ক্রমে হাঁটছেন। ছেলে দু’টি আঁকড়ে ধরে রেখেছে তাঁকে। এক কালের হিরোর আজ কী শোচনীয় পরিস্থিতি! বিশাল চেহারার মানুষটা যেন শিশুর মতো হয়ে গেছেন, যেন ছেড়ে দিলেই পড়ে যাবেন। পিছনে নির্বিকার, সানগ্লাসের আড়ালে দু’চোখ ঢাকা, স্টাইলিশ পোশাক, তারকাসুলভ অ্যাটিটিউডে করিনা কপূর খান। নিজের বাবা যেন মেয়ের কাছে একটা দায়। রিলটা দেখে সুলগ্নার খারাপ লেগেছিল। সহজ প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় এই খারাপ লাগাটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে করিনার জায়গায় রেখে ওরও অপরাধবোধ জেগে উঠল। এই দ্বন্দ্ব ও কাকে বোঝাবে? এ তো সৌরভের সঙ্গেও শেয়ার করা যায় না। সেই মুহূর্তে রিন্টি দেখাতে এসেছিল, হোমওয়ার্কের একটা জায়গায় ওর বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে। সুলগ্না মেয়েকে জড়িয়ে ধরেছিল, আর ওর নিস্তব্ধ অশ্রুপাতে ভিজে উঠছিল রিন্টির মাথার চুলগুলো। ছোট্ট মেয়েটা বুঝে গিয়েছিল— মাম্মি কাঁদছে। কিন্তু ওয়েল ম্যানার্ড চাইল্ড হিসেবে ও কিছু জিজ্ঞেস করেনি। করলেও কি মা বলতে পারত তার সন্তানকে যে, সে নিজে এক জনব্যর্থ সন্তান?

“দেখুন, ওঁর এজটা একটা ফ্যাক্টর। আপনি এর চেয়েও কস্টলি ট্রিটমেন্ট অ্যাফোর্ড করতেই পারেন, সেটা হবে আপনার মেন্টাল স্যাটিসফ্যাকশন। আসলে ওঁর এন্টায়ার সিস্টেমটাই স্লো হয়ে গেছে। এর চেয়ে বেশি ডেভলপমেন্ট এই ফেজ়ে এক্সপেক্ট না করাই বেটার।”

ডাক্তারের পেশাদার বক্তব্যকে ও ক্রস করতে পারেনি। কিন্তু এই কথাকেই অজুহাত বানিয়ে নেওয়ার যে বীজ ওর অবচেতনে প্রোথিত হয়ে গিয়েছিল, এ থেকে সুলগ্না রেহাই পায়নি। মায়ের প্রতি নিছক কর্তব্যপালনের দোহাই বেশ কিছুটা প্রশমিত হয়েছিল এর ফলে। ঠিক এই সময় মা এমনভাবে ওর দিকে তাকিয়েছিল যে, ও চমকে উঠেছিল। ওর মুখ থেকে আনমনে বেরিয়ে এসেছিল, “কিছু বলবে মা?”

লিলি সঙ্গে সঙ্গে মায়ের দিকে নজর দিয়েছিল। মুখ থেকে বেরিয়ে আসা লালা মুছে দিয়েছিল হাতের ন্যাপকিনে। তার পর বেঁকে যাওয়া শরীরটাকে সোজা করে দিয়েছিল। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেয়ের কাছাকাছি এসে পড়াকেও কীভাবে গুড গর্ভনেন্সে সামলে নিল লিলি। এক আশ্চর্য প্রহেলিকায় ডুবে যেতে যেতে সুলগ্নার মনে হয়েছিল, মায়ের এখন ওর চেয়েও লিলিকেবেশি প্রয়োজন।

সৌরভ বরাবরই স্পষ্টবক্তা। ঠোঁটকাটাও বলে অনেকে। কর্তব্যজ্ঞান যথেষ্ট, কাছের মানুষের জন্য, এমনকি দূরের মানুষের জন্যও উদ্গ্রীব হয়ে পড়ায় খাদ নেই। কিন্তু এক ছাদের তলায় থেকেও মাঝে মাঝেই সৌরভের এই স্বভাবেরজন্য বিরক্ত হয়ে পড়া লুকোতে পারে না সুলগ্না।

“এবার ওঁকে শান্তিতে যেতে দাও।” সুলগ্নার কথা শুনতে শুনতে সৌরভ বলে উঠল। কথাটার মধ্যে যে ইঙ্গিতটা ছিল, তা সুলগ্নাকে আচমকা তাতিয়ে তুলল, “মানে! কীবলতে চাইছ?”

সৌরভ চুপ করে তাকিয়ে রয়েছে ওর দিকে। ওর মনে এই প্রশ্নটা ঘনিয়ে উঠল, ‘মায়ের জন্য যদি এতটাই অ্যাংজ়াইটি তোমার, তা হলে এক জন পরিচারিকার হাতে তাঁকে ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারো কী করে?’

কিন্তু সুলগ্নার জিজ্ঞেস করার ধরনে সৌরভ বুঝে গেল যে, এখন আর কথা না বাড়ানোই ভাল। সুলগ্নার ভিতরটা জ্বলে যাচ্ছিল। ওর মনে হচ্ছিল, সৌরভ কি মায়ের থেকে ওর দূরে দূরে থাকাটাকেই বোঝাতে চাইল? ওর গা বাঁচিয়ে চলা কি সৌরভের চোখেও ধরা পড়ে গেল?

সুলগ্নাকে বিয়ের পর শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে থাকতে হয়নি, ননদও ছিল না। মামার বাড়িতে মানুষ হওয়া পিতৃমাতৃহীন সৌরভের অনাদরে না হলেও, আহামরি আদরেও মানুষ হয়ে ওঠা হয়নি। মামার বাড়ির প্রতি ওর টান যদিও মুছে যায়নি। মামা মারা যাওয়ার পর মামির প্রতি ওর কর্তব্যপালনেও কোন খামতি নেই। আতিশয্যও নেই। সুলগ্নার সব সময়ই মনে হত, মা যে কী — এটা তুমি বুঝবে কিভাবে সৌরভ? আর সৌরভের মনে হত, একমাত্র সন্তান হিসেবে সুলগ্না কি ওর মায়ের জন্য আর একটু ডেডিকেটেড হতে পারত না? কিন্তু এই মনোভাবের গোপন দু’জনেই দু’জনের কাছ থেকে বরাবর লুকিয়ে রেখেছে। কৃত্রিমতার কোটিং দাম্পত্যে সুখের স্বাদ দিয়েছে।

বিনীতার কল রিসিভ করবে কি করবে না ভাবতে ভাবতে শেষ পর্যন্ত করেই ফেলল— “বল, বিনীতা।”

একটু চুপ করে থেকে বিনীতা বলল, “আগামী তেরোই জুন মায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। কাউকেই সেভাবে বলা হচ্ছে না। কিন্তু তুই এলে আমারভাল লাগবে।”

“সে কী রে! জানাসনি তো?কবে হল?”

“পয়লা জুন। কয়েক দিন ধরেই শরীরটা ভাল যাচ্ছিল না। আমি কয়েক দিন ধরেই ছিলাম মায়ের সঙ্গে। রূপকও ছিল। হিল পয়েন্ট নার্সিংহোমেই ভর্তি করানো হয়েছিল। কিন্তু সব কিছু থেমে গেল হঠাৎ।” বিনীতা চুপ করে গেল। এই নিস্তব্ধতা যেন বড্ড ভারী। সুলগ্নার দু’চোখ বেয়ে কখন যে গড়িয়ে নেমেছে জলের ধারা, ও খেয়াল করেনি।

কিছুক্ষণ পর সামলে নিয়ে বেশ শব্দ করে নাক টেনে বলল, “অবশ্যই যাব রে।”

“সৌরভদা আর মেয়েকেওনিয়ে আসিস।”

“দেখছি।”

সুলগ্নার মনে পড়ল, কাকিমা এত ভাল মোচার ঘণ্ট, ডুমুরের তরকারি, মাছের মাথা দিয়ে কচুশাক রাঁধতেন। বলতেন, “এগুলোয় প্রচুর আয়রন আছে। তোদের বয়সি মেয়েদের এসব খাওয়া দরকার। পেট ভরে খা।” বলেই আর একটু ভাত দিতেন। আজ কত দিন হয়ে গেল মানুষটা নেই! এভাবে হয়তো এক দিন মা-ও… সুলগ্নার খুব খারাপ লাগল। ছিঃ! মেয়ে হয়ে ও মায়ের মৃত্যুকামনা করছে!

ফোনটা রিং হয়ে যাচ্ছে। লিলি রিসিভ করছে না কেন!

কিছুক্ষণ পর হাঁপাতে হাঁপাতে লিলি কল রিসিভ করল, “দিদি, এক বার আসতে পারবে চট করে?”

সুলগ্না প্রায় আর্তনাদ করে উঠল, “কেন? কী হয়েছে মায়ের?”

“না না, মাসিমার কিছু হয়নি।”

“তা হলে?”

“এসিটা হঠাৎ একটা বিদঘুটে শব্দ করে বন্ধ হয়ে গেল। এখনধোঁয়া বেরোচ্ছে।”

“ওফ! এমনভাবে বলিস যে বুকের ভিতরটা কেঁপে ওঠে। এসি বন্ধ করে রাখ। ফ্যান চালিয়ে দে। কাল সকালে মেকানিক পাঠিয়ে দেব।”

“কিন্তু মাসিমার তো তা হলে আজ রাতে ঘুমই হবে না, দিদি।”

“বড় বেশি কথা বলিস। তা ছাড়া আমি কি মেকানিক? আর এখন কাউকে হঠাৎ করে পাবইবা কোত্থেকে?”

লিলি কিছুই বলল না। সুলগ্না আবার বলল, “একটা রাত একটু কষ্ট হবে। কিন্তু আমার হাতেও তো সবটা নেই, তাই না? এটা তো বুঝতে হবে।”

লিলির ‘আচ্ছা’ বলাটা এতটাই স্তিমিত ছিল যে, সুলগ্নার মনে হল লিলি ওর প্রতি তাচ্ছিল্য গোপন করতে চাইল না। সৌরভ তখন বাড়িতে ঢুকছে। কথার শেষটুকু শুনতে পেয়েছিল। বুঝতে পেরেছিল, সুলগ্নার কণ্ঠে একটা ঝাঁঝালো বিরক্তি বেশ ঘন হয়ে আছে। ও কিছুই জিজ্ঞেস করল না। ফ্রেশ হতে ঢুকে গেল বাথরুমে। সুলগ্না কতক্ষণ চুপ করে বসেছিল, ওর খেয়াল নেই।

এসি মেকানিক সুদামের নম্বরে কল করল। পেল না। কাল সকালে পাঠিয়ে দেওয়া যাবে’খন। ও যখন ঘরের দিকে যাচ্ছে, শুনতে পেল, সারা দিন পর বাবাকে পেয়ে মেয়ে তার কথার ঝুলি খুলে বসেছে। সৌরভ বরাবরই রিন্টির কথাকে সিরিয়াসলি গুরুত্ব দেয়। ও বলে, “বাচ্চাদের কখনওই এটা বোঝাতে নেই যে ওরা মিনিংলেস কথা বলছে। শুধু ওদের সঙ্গে ওদের মতো করে কথা বলতে বলতেই ম্যাচিয়োর করে তুলতে হয় ওদের।”

সুলগ্না চা বানাতে গেল।

রাতে সুলগ্না যখন এসিটা অন করতে যাচ্ছে, সৌরভ শুধু বলল, “আজ কি এসি চালানোর মতোগরম আছে?”

সুলগ্না চমকে উঠল। সৌরভ এভাবে বলল কেন? সৌরভ ততক্ষণে শুয়ে পড়েছে। সুলগ্না রিমোটটা রাখার মধ্যে রাগটা ফুটিয়ে তুলে ফ্যানটা ফুলস্পিড করে দিল।

“আজ কী হয়েছে জানো?”

“জানি।”

সুলগ্না উঠে বসল, “মানে?তুমি সব জানো? অথচ আমাকে কিছুই বলোনি!”

“কী বলব? লিলি তোমাকে বলেনি, আজ রাতে মায়ের ঘুমোতে অসুবিধে হবে?” সৌরভের এই কথার উত্তরে সুলগ্না চুপ করে রয়েছে। তার মানে সৌরভ ব্যবস্থা করে ফেলেছে।

সুলগ্না কেঁদে উঠল, “তুমি ঠিকই বোঝাতে চাও, আমি মায়ের মেয়ে হওয়ার অযোগ্য।”

“কথাটা সেটা নয়, সুলু। তুমি আমাকে ফোন করতে পারতে? তা না করে তুমি ডিসিশন নিয়ে নিলে, একটা রাত তিনি কষ্ট করে কাটিয়ে দেবেন। যে মানুষটার ভাল থাকা-খারাপ থাকা নিয়ে নিজস্ব কোনও বোধই নেই, আমরা আমাদের মতো করে তাঁর ভাল লাগা-খারাপ লাগা বুঝে নিই। ফ্র্যাঙ্কলি স্পিকিং, তাঁকে এই ইগনোর করাটা আমার ভাল লাগেনি। আমি তো মা-বাবাকে পাইনি, তাই মনে হয়, মায়ের প্রতি কি আর একটু কেয়ারিং হওয়া যায় না? কিন্তু কখনও তোমাকে কিছু বলিনি। কেন জানো? তুমি হয়তো বলবে— ‘আমার মা। আমার চেয়ে কি তুমি বেশি বুঝবে?’” সৌরভ থামল। সুলগ্না কাঁদতে কাঁদতে কেঁপেকেঁপে উঠছে।

“তার মানে লিলি তোমাকেই প্রথম ফোন করেছিল?” ভাঙাচোরা স্বরে কোনওক্রমে জিজ্ঞেস করতে পারল সুলগ্না।

“হ্যাঁ। আমি আজই সারানোর বন্দোবস্ত করে দিয়েছি। ওকে বলেছিলাম তোমাকেও সমস্যাটা জানানোর জন্য এবং আমি যে জানি সেটা গোপন রাখার জন্য।”

“তার মানে তুমি আমাকে যাচাই করতে চেয়েছিলে!”

“হ্যাঁ। কারণ মায়ের শরীর খারাপটা তুমি অজুহাত হিসেবে কাজে লাগিয়েছ বিভিন্ন সময়। এটা খুব ইনডিসেন্ট লাগে আমার।”

সুলগ্না এতক্ষণে কাঁদতে ভুলে গেছে। হাঁ করে তাকিয়ে আছে সৌরভের দিকে। ঘুমন্ত মেয়ের দু’পাশে দু’জন… দাম্পত্য সম্পর্কের বারো বছরে এসে নতুনভাবে উন্মোচিত হওয়ার এই ধাক্কায় চুরমার হয়ে যেতে যেতে সুলগ্নার মনে হচ্ছিল— সুখ কখন যে কী ভাবে এসে উপস্থিত হয়, আগাম আন্দাজ করা যায় না।

“রাত অনেক হল। ঘুমিয়ে পড়ো। আর এসিটা কি তুমি চালাবে? না আমি উঠব?” সৌরভের কথায় লজ্জায় কুঁকড়ে যেতে যেতে ঘুমিয়ে কাদা রিন্টির চুলে, কপালে হাত বোলাতে বোলাতে সুলগ্নার মনে হচ্ছিল, ‘আজকের এই হেরে যাওয়াটাই তোমার কাছ থেকে পাওয়া এতদিনের সেরা উপহার হয়ে রইল, সৌরভ।’

এসির মিহি শব্দে রাত্রির খোলা পৃষ্ঠাটা আস্তে আস্তে বন্ধহয়ে আসছে…


এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Bengali Short Story Short story

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy