E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

রাধাকান্ত

এই বাড়িতে বেডরুম দু’টি। একটা নীচে, আর একটা উপরে। আরও আছে একটা করে টয়লেট আর ডাইনিং। নীচের তলার ডাইনিং রুমটা খাওয়া আর বসার জন্য ব্যবহার হয়।

রঞ্জন দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৪০
ছবি: রৌদ্র মিত্র

ছবি: রৌদ্র মিত্র

রাধাকান্ত সেনগুপ্ত এক জন চরম স্বার্থপর লোক ছিলেন।

এক চিলতে বাইরের ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে, অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে লাল গোলাপের ঝাড়টার দিকে তাকিয়ে থাকার সময় এই কথাটাই মনে হল শকুন্তলার। প্রথম বারের জন্য নয়। আগেও এ কথাটা অনেক বার ভেবেছেন তিনি, এমনকি রাধাকান্ত যখন বেঁচেছিলেন, তখনও। তবে এখনকার প্রতিক্রিয়াটা একটু অন্য রকম হল। হঠাৎই দু’চোখ ছাপিয়ে জল এল তাঁর। ফুঁপিয়ে উঠলেন একটু। তার পর কিছুক্ষণ নিঃশব্দ কান্না।

একটু পরেই শান্ত হয়ে গেলেন তিনি। পঁচাত্তর পেরিয়ে গেছে। এখন আর তেমন দীর্ঘ সময় জুড়ে চোখে জল থাকে না। চোখ মুছে খুঁড়িয়ে-খুঁড়িয়ে ঢুকলেন শোওয়ার ঘরে। বাইরের দরজাটা খোলাই থাকল। থাকুক। চোর এলে আসুক, খুনি এসে গলায় ছুরি বসিয়ে যাক! তিনি গ্রাহ্য করেন না।

এই বাড়িতে বেডরুম দু’টি। একটা নীচে, আর একটা উপরে। আরও আছে একটা করে টয়লেট আর ডাইনিং। নীচের তলার ডাইনিং রুমটা খাওয়া আর বসার জন্য ব্যবহার হয়। বাড়তি একটা কিচেন আছে নীচে, এ-ই মাত্র। উপর-নীচ মিলে হাজার স্কোয়ার ফুট। যদিও শকুন্তলা শেষ বার উপরতলায় গিয়েছিলেন বোধহয় মাস আটেক আগে। সিঁড়ি ভাঙতে খুব কষ্ট হয়। কাজের বৌয়ের নাম জবা। তাকে মাঝেমধ্যে উপরতলাটা পরিষ্কার করতে বলেন। সে ঝাঁটা আর ঘর মোছার ন্যাতা হাতে যায়ও। কিন্তু আদৌও সাফসুতরো করছে কি না, সেটা শকুন্তলার পক্ষে দেখা সম্ভব হয় না। শেষ বার যখন সুদেষ্ণা এসেছিল, জামাই আর ছেলেকে নিয়ে উপরের বেডরুমেই শুয়েছিল। বলেছিল, জঘন্য নোংরা হয়ে আছে। খাটের তলায় ভাল করে ঝাঁট পড়েনি। সে জন্য জবা বকুনিও খেয়েছিল একটু। ব্যস, ওই পর্যন্তই। তখন রাধাকান্তর মৃত্যু নিয়ে সবাই শোকস্তব্ধ, সামান্য বিষয় নিয়ে বেশিক্ষণ মাথা ঘামায়নি কেউ।

খাটের উপরে বসে একটা শ্বাস ফেললেন শকুন্তলা। বুকের ধড়ফড়ানিটা একটু কমলে চার দিকে তাকালেন। আলোটা জ্বালানো নেই। স্লাইডিং উইন্ডোগুলোও বন্ধ। পর্দার ফাঁক চুইয়ে অল্প-অল্প আলো আসছে। তাতে ঘরটায় একটা আলো-আঁধারি ভাব।

এই ঘরটাতেও ফার্নিচার তেমন নেই। রাধাকান্ত ঘর ভর্তি করা পছন্দ করতেন না। তাঁর একমাত্র ধ্যানজ্ঞান ছিল গল্পের বই। নন-ফিকশনও পড়তেন অবশ্য। আর বাগান। সেখানে লেবুগাছ আছে, কলমের আমগাছ, নানা ধরনের জবা আর কাঁঠালি চাঁপার একটা গাছ। ঘরের কার্পেট এরিয়া আর বাগানের আয়তন প্রায় সমান। এখন টবের গাছগুলোয় জল পড়ে না। উপরেও ছিল খানপাঁচেক টবে রঙ্গন। এত দিনে শুকিয়ে মরে গেছে নিশ্চয়ই। কে দেয় জল! জবাকে বললেও শোনে না।

বাইরে উজ্জ্বল রোদ, ঘরের ভিতরটা কিছুটা ঠান্ডা। একটা ডিভান, টিভি, আলমারি আর ড্রেসিং টেবিল। নির্জন দুপুরে পাড়াটি শান্ত। তেমন কোনও আওয়াজ ভেসে আসে না। ছায়া-ছায়া ঘরের মধ্যে বসে কেমন যেন করে মনের ভিতরে। অতীত আর বর্তমান গুলিয়ে যায়। আলগোছে চাদরটার উপরে হাত বোলালেন শকুন্তলা। গত বছর বিবাহবার্ষিকীতে রাধাকান্ত তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন।

লোকটা প্রত্যেকটা তারিখ ভুলে যেত। জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, কিছুই মনে রাখতে পারত না। তেমন বিরাট কিছু চাকরিও করত না সে। দু’-এক বার বাদে কখনও কোনও দামি উপহার দিতে পারেনি স্ত্রীকে। শেষ দিকে পেনশনের টাকাটাই ভরসা। এই চাদরটা তারিখ মনে করিয়ে চেয়ে নিয়েছিলেন শকুন্তলাই। সাদার উপরে বাদামি প্রিন্টের হাতি, ঘোড়া, মাদল বাজানো লোকের ছবি। চমৎকার দেখতে।

এই ঘরে কতকাল পাশাপাশি শুয়েছেন তাঁরা। ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত সুদেষ্ণাও তাঁদের মাঝে শুত। ধাড়ি মেয়ে মা-বাবার সঙ্গে শোয় বলে আত্মীয়স্বজনেরা অনেকে হাসত, ভুরু কোঁচকাত কেউ-কেউ। সেই মেয়ে এখন কত দূরে চলে গেছে! আর স্বার্থপর রাধাকান্ত এক সকালে আর বিছানায় উঠে বসলেন না। অথচ শকুন্তলা তাকে কত বার বলেছেন, “আমি কিন্তু আগে চলে যাব। একা-একা বাঁচতে পারব না, এই বলে দিলাম।”

অনেক বার ডাকাডাকি করা সত্ত্বেও সেদিন সাড়া দেননি রাধাকান্ত। আর তাঁর মুখে লেগে ছিল একটা আলতো হাসি। কাউকে ঠকাতে পারলে যেমনটা হয়, তেমনই।

আর এক জনও শকুন্তলাকে ছেড়ে চলে গেছে। অবশ্য ঠিক চলে যায়নি, বরং বলা যায় তিনি নিজেই সরিয়ে দিয়েছেন তাকে। বিয়ে হওয়ার পর মেয়ে চলে গেছে। মৃত্যুতে স্বামী। আর ঠিকঠাক দেখাশোনা করা হয় না বলে গোপালকে শকুন্তলা তুলে দিয়েছেন তাঁর ননদের বৌমার হাতে। সে অবশ্য মানুষ নয়, দেবতা! রাধাকান্ত বলতেন, পুতুল।

হালকা, ছোট্ট, একরত্তি রুপোর গোপাল। কোনও এক ধনতেরসের দিনে কিনে এনে দিয়েছিলেন রাধাকান্ত নিজেই। এমনিতে গয়নাগাঁটি তেমন দিতে পারতেন না বলে ওই দিনে রাধাকান্ত রুপোর কিছু না কিছু কিনতেন। কয়েন, লক্ষ্মী-গণেশের জোড়া মূর্তি, এক বার এই গোপালটা। কোনওটাই তেমন দামি জিনিস নয়। তবে শকুন্তলা খুব খুশি হতেন। সে দিন একটু দেরি করে বাড়ি ফিরতেন রাধাকান্ত। তিনি ঘরে ঢোকার পর শকুন্তলা বা ছোট্ট সুদেষ্ণা খুব আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করত, “আজ কী কিনলে?”

দীর্ঘশ্বাস ফেলে ক্লান্ত স্বরে রাধাকান্ত বলতেন, “এ বারে আর কিছু কেনা হল না। মাসের শেষ, হাতে টাকাকড়ি নেই। তার উপর কাজের যা চাপ !”

শেষমেশ কিছু না কিছু বেরোতই তাঁর ব্যাগ থেকে। সবই তাঁর ছল। জানা পাঁয়তারা, তবু ছোট্ট পরিবারটিতে ওই সামান্য ব্যাপারেই খুশির ঢেউ বয়ে যেত। মা আর মেয়ে মিলে ছদ্মরাগে রাধাকান্তর নিন্দে করতেন অনেক ক্ষণ।

তখন ঘরে-ঘরে মেয়েদের ওই গোপাল রাখার খুব চল। কারও পেতলের, কারও বা অষ্টধাতুর। অনেকে আবার গোপালকে চার বার ভোগ, পুজোর সময়ে নতুন জামা, জন্মাষ্টমীর দিন কেক কিনত। শকুন্তলা সে-সব করেননি। বলেই দিয়েছিলেন, ঘর-টর তেমন গোছাতে পারেন না। নিত্যি নানা কাজ। গোপালের জন্য আরও হ্যাপা সইবে না!

কিন্তু ভাড়াবাড়ি থেকে এই বাড়িতে শিফট করার সময় তাঁর মা-ই বললেন, “নিজের বাড়ি হয়েছে। এ বার গোপালকে প্রতিষ্ঠা কর। ঠাকুরকে কেউ আলমারিতে ভরে রাখে!”

সে আর এক কাণ্ড। বাড়ি বদলানোর সময়ে গোপালকে একটা স্লিং ব্যাগে ভরে আনছিলেন। ফাঁপা জিনিস, কপালের কাছটা চেপ্টে গেল। মনটা খারাপ হয়ে গেল তাঁর। ভাবলেন, এটা রুপোর দামে বিক্রি করে নতুন একটা পেতলের কিনবেন। রাধাকান্তই বললেন, “গোপাল হল ছেলে! ছেলের অসুখ করলে বা অ্যাক্সিডেন্ট হলে কি বিক্রি করে দিতে হয়? সারিয়ে নাও।”

তার পর সারানো হল। যদিও কপালের কাছে একটা দাগ রয়েই গেল। নিজে তেমন দেখাশোনা করতে পারতেন না। নতুন জায়গায় এসে সুদেষ্ণারও পড়াশোনার চাপ। সকালের পুজোটা তিনিই করতেন অবশ্য। তবে গোপালের বেশির ভাগ হ্যাপা পোয়াতেন নাস্তিক রাধাকান্ত! রাতে ঘুম পাড়ানো, সকালে ঘুম থেকে তোলা। তার আগে গলাটা সরু করে ডাকতেন, “গোপাল উঠো, মানিক উঠো, পুচকু উঠো!” পুরুলিয়ার মানুষ, গোপালকে ডাকার সময়ে সেটা ফুটে বেরোত। মাঝেমধ্যে গলা কাঁপিয়ে মন্ত্র পড়তেন, “হে কৃষ্ণ করুণাসিন্ধো দীনবন্ধো জগৎপতে। গোপেশ গোপিকাকান্ত রাধাকান্ত নমোস্তুতে।” গোপালকে জলখাবারে দিতেন কাজু আর আমন্ড। পরে নিজেই খেয়ে নিতেন সে-সব। ওই জন্যই রাধাকান্ত কখনও লাড্ডু বা নারকেল নাড়ু বা নকুলদানা দিতেন না গোপালকে। নিজে খান না বলেই। মাঝে কথা উঠল— কে যেন বলেছিল, গোপালের খাবার তো পড়েই থাকে! তখন রাধাকান্ত হাসতে-হাসতে বললেন, “গোপাল তার একটা জীবন্ত বন্ধু পাঠাতে পারে, যে সব খেয়ে নেবে!”

ও মা! তার ক’দিন পরেই ঘরে ঢুকে এল একটা নেংটি ইঁদুর। সারা বাড়ি ঘুরে বেড়ায়, গোপালের খাবারে মুখ দেয়। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে শকুন্তলা ইঁদুর-মারা বিষ আনার কথা বলেছিলেন। রাধাকান্ত গোপালকে গিয়ে বলে এলেন, “তোমার এই বন্ধুটি চলবে না। ওকে ভাগাও, নইলে বাড়িতে ওকে মার্ডার করার প্ল্যান করছে সবাই!”

লোকে বললে বিশ্বাস করবে না, পরদিন থেকে সত্যিই ইঁদুরটা গায়েব হয়ে গেল। আর দেখা গেল না তাকে।

গোপালের জন্য ছোট্ট খাট এল। কম্বল, বালিশ, থালা, গ্লাস। একটা রুপোর বাঁশিও।

রাধাকান্ত মারা যাওয়ার পর অশৌচের সময়ে কেউ ঠাকুরের জায়গায় হাত দিত না। বাড়ি খালি হয়ে যাওয়ার পরেও প্রায় দিনই গোপালকে শোওয়াতে বা ঘুম থেকে ওঠাতে, খাবার দিতে ভুলে যেতেন শকুন্তলা। শেষে আরতিকে ডেকে দিয়ে দিলেন। ওখানে সুখে থাকুক রাধাকান্তর গোপাল। যত্ন হবে তার।

বিছানা থেকে উঠলেন তিনি। কুঁজো হয়ে, একটা পা টানতে-টানতে দেওয়ালে ঝোলানো কাঠের সিংহাসনটার কাছে গেলেন। এই অল্প আলোতেও স্পষ্ট বোঝা যায়, নীচের তাকে একটা চৌকোনা সাদা দাগ। গোপালের খাটটা থাকত ওখানে। এখন শূন্য সেই জায়গাটা।

বিছানার উপরে নিজেকে এলিয়ে দিলেন শকুন্তলা। ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলেন। কেউ আর রইল না তাঁর। বাবা কবে চলে গেছেন, মা-ও। বিয়ের আগে প্রেম-টেম করেননি আজকালকার মেয়েদের মতো। বলতে গেলে রাধাকান্তই তাঁর জীবনে প্রথম ও একমাত্র পুরুষ। মন-কষাকষি হত। কখনও তাঁকে সর্বোত্তম পুরুষ বলে মনে করেননি, নানা দোষ খুঁজে পেতেন। তবে মোটের উপরে ভালই বাসতেন স্বামীকে। সে লোকটাও ছেড়ে চলে গেল। মেয়েটা নিজের চাকরি আর সংসার, দুইয়ের চাপে তাঁর কাছে আসতে পারে না। গোপালকেও নিজেই তুলে দিয়েছেন অন্যের কোলে। আর কী পড়ে রইল তাঁর কাছে? কী ভাবে এ বার টেনে নিয়ে যেতে হবে
বাকি জীবনটা?

“হে গোপাল! তোমাকে কোলে নিয়েছি। নিজের হাতে সাজিয়েছি কত বার। জন্মাষ্টমীর দিন আলাদা করে পায়েস রান্না করে দিয়েছি তোমাকে। কই, এই মায়ের কথা তো এক বারও মনে পড়ল না তোমার? বাবাটিকে তো বেশ নিজের কাছে টেনে নিলে!”

হতাশা, দুর্জ্ঞেয় ক্রোধ, বিষাদ, নানা হলুদ স্মৃতি, সব এক সঙ্গে খেলা করছিল শকুন্তলার মনে। তালগোল পাকিয়ে যায় চার দিক। সেই কবেকার ছোট্টবেলায়, বাঁধানো পুকুরঘাটে এক বার মায়ের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট শকুন্তলা। হাতে মায়ের কাপড়গুলো। কুচকুচে কালো পুকুরের জল টলটল করছে। সাঁতার কাটছে মা। দূরে তালগাছের সারি। ভয় করছে মেয়ের, যদি মা ডুবে যায়!

ট্রেনে চড়ে কলেজ থেকে ফিরছে সে। সিট পেয়েছে জানলার ধারে। হু-হু করে হাওয়া আসছে। উল্টো দিকে বসে আছে কলেজেরই একটি ছেলে। তার স্ট্রিম আলাদা। হঠাৎই সামনে একটু ঝুঁকে কী যেন বলল তাকে।

একের পর এক ছবি। সামান্য, সামান্যতর, সামান্যতম। এখন কোন সময়ে আছে শকুন্তলা? বিবাহিত জীবনে? নতুন শিফ্ট হয়ে এ বাড়িতে এসেছে সে? দুঃস্বপ্ন দেখছিল?

মেয়ে এখন স্কুলে নিশ্চয়ই। আজ তো রাধাকান্ত বাড়িতেই আছেন, একটু পরে নিজেই মেয়েকে আনতে যাবেন বাইকে চেপে। পাবদা মাছের ঝাল হয়েছে আজ। বাবা-মেয়ে দু’জনেই ভালবাসে। স্কুল থেকে ফিরলে এক সঙ্গে খেতে বসবেন সবাই।

ওই ঠুং করে একটা শব্দ হল। গেট খোলার আওয়াজ। ব্যাঙ্কের কাজ শেষ করে তিনি
ফিরলেন বুঝি।

শকুন্তলার দু’চোখে জল। এমনিতেও চোখের জোর কমে এসেছে। চিত হয়ে শুয়ে-শুয়েই ঘাড়টা দরজার দিকে ফেরালেন তিনি।

একটা ছোট্ট ছেলে এসে দাঁড়িয়েছে ওখানে। ঝকঝকে উজ্জ্বল গায়ের রং। এক মাথা চুল। গায়ে বেগুনির উপর সাদা ফুল-ফুল শার্ট। গোপালের এমন একটা জামা ছিল। কিছুক্ষণ একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকলে বোঝা যায়, ছেলেটার বাঁ-দিকের কপালে স্পষ্ট একটা কাটা দাগ।

উঠে বসার চেষ্টা করলেন। পারলেন না। ইশারা করে কাছে ডাকার চেষ্টা করলেন। পারলেন না। তবে ছেলেটা কাছে এসেছে। তাঁর মুখের কাছে ঝুঁকে কী যেন বলছে।

আহা! গোপাল বড় জাগ্রত। মায়ের ডাক শুনতে পেয়েছে সে।

“গোপাল, এসেছ?” এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল শকুন্তলার চোখ থেকে।

ছেলেটা দাঁড়িয়ে থাকল কিছুক্ষণ। এক বার নাড়িয়ে দেখল তাঁকে। তার ডান হাতে একটা সুতো কাটা ঘুড়ি। অন্য হাতে এক মুঠো লাল গোলাপের পাপড়ি। কী ভেবে যেন সে মুঠোটা খুলে দিল শকুন্তলার শরীরের উপরে। ধীরে ধীরে বেরিয়ে গেল। টেনে দিয়ে গেল বেডরুমের দরজাটা।

আর বিকেলবেলায় যখন হাই তুলতে-তুলতে এল জবা, দেখল, সেনগুপ্ত বাড়ির দরজা খোলা।

অনেক বার ডেকেও সাড়া পেল না সে। তার পর বেডরুমে ঢুকে কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল।

খাটের উপরে চিত হয়ে শুয়ে আছেন শকুন্তলা। চোখ খোলা। এক মুখ হাসি। সারা শরীরে ছড়িয়ে আছে লাল গোলাপের পাপড়ি।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Bengali Story Short Stories

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy