E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

নীলপরি

নন্দিনী থমকাল। গেটে দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করে নিয়েছিল হেডস্যরের ঘর কোন দিকে। করিডর দিয়ে সেদিকেই এগোচ্ছিল। তার মধ্যে এই কাণ্ড!

নয়ন বসু

শেষ আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৯
ছবি: প্রসেনজিৎ নাথ

ছবি: প্রসেনজিৎ নাথ

এই ফেব্রুয়ারি মাসটা কাছাকাছি এসে গেলেই নন্দিনীর বুকের ভিতর একটা অস্বস্তি জমা হতে থাকে। আবার মাধ্যমিকের ডিউটি পড়বে অন্য স্কুলে। কাছেপিঠে হলেও এক রকম। গত বার সেন্টার পড়েছিল সেই মৌপল্লী। ওদের হিদেলগঞ্জ থেকে সোয়া ঘণ্টা ট্রেনের রাস্তা।

এ বার তবু কাছে। ঘটকপুর। ট্রেনে ম্যাক্সিমাম আধ ঘণ্টা, গ্যালপিং পেয়ে গেলে মিনিট পনেরো।

তবু, অন্য একটা স্কুলে যাওয়া, নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষজন— এ-সব ভাল লাগে না নন্দিনীর। তাই ঘটকপুর বিনকা হাই স্কুলে ঢুকতে ঢুকতে ভুরুদুটো কুঁচকেই ছিল ওর।

পৌনে দশটা থেকে পরীক্ষা। ন’টার মধ্যেই ঢুকতে হয়েছিল। বিলিকে সকালে রেডি করা, সুধন্যর টিফিন গুছিয়ে রাখা... সে-সব করেই বেরোতে হয়। ক্লাস ফোর হল বিলির, স্কুলবাস সাড়ে সাতটায় চলে আসে। সুধন্যকেও ন’টার মধ্যে বেরোতে হয়। নন্দিনীর হয়েছে যত জ্বালা!

“আরে! ছোটবেলায় পড়া গল্পের নীলপরি জ্যান্ত হয়ে গেল কী করে!”

নন্দিনী থমকাল। গেটে দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করে নিয়েছিল হেডস্যরের ঘর কোন দিকে। করিডর দিয়ে সেদিকেই এগোচ্ছিল। তার মধ্যে এই কাণ্ড!

ভদ্রলোকের বয়স ষাটের আশপাশেই হবে। পরনে সাদা পাঞ্জাবি আর ধুতি। কাঁচাপাকা চুল, চোখে সোনালি ফ্রেমের চশমা, মুখে মুচকি হাসি।

অবাক হয়ে চেয়ে রইল নন্দিনী। একটা হালকা আকাশি রঙের শাড়ি পরেই ও আজ এসেছে। কথাটার মানে না বোঝার কিছু নেই।

ভদ্রলোকের কোনও বিকার নেই। সেই রকম হাসিমুখেই বললেন, “আপনাকে তো আগে দেখিনি এই স্কুলে!”

“আমি নন্দিনী রায়। হেডস্যরের ঘরটা… আমার ডিউটি পড়েছে আসলে! কদমতলা হাই স্কুল, হিদেলগঞ্জের, ওখান থেকে...”

“ইশ, দেখুন কাণ্ড! এই মরা স্কুলের হেডস্যর হওয়ার থেকে হিদেলগঞ্জের হেডস্যর হয়ে রিটায়ার করলে কী ভালই না হত!”

নন্দিনী এ বার হেসে ফেলেছে। ভদ্রলোকের কথায় জড়তা নেই। দৃষ্টিতেও খারাপ কিছু নেই। হাত জোড় করে ও বলল, “আমাদের স্কুলেরও ভাল হত আপনার মতো মানুষকে হেডস্যর হিসেবে পেলে!”

ভদ্রলোকের মুখ হাসিতে ভরে উঠল। নন্দিনীর কুঁচকে যাওয়া ভুরুও সোজা হয়ে আসছিল। মনে হচ্ছিল, এ বার ডিউটি করতে আসাটা খুব একটা খারাপ হবে না।

তিন দিনের ডিউটি পড়েছে নন্দিনীর এ বার। ওর সঙ্গে প্রবালদা আর সুমেধারও পড়েছিল এখানে। ওদের অন্য লাইন। আর এমন কিছু সখ্যও নেই নন্দিনীর ওদের সঙ্গে।

খাতা আর কোয়েশ্চেন পেপার বুঝে নিয়ে হাসিমুখেই নন্দিনী ক্লাসে এল। সময়মতো পরীক্ষাও শুরু হয়ে গেল। কয়েকটা পত্রিকা এনেছিল সময় কাটাবে বলে। সর্বক্ষণ মোবাইল নিয়ে বসে থাকতে ভাল লাগে না ওর।

বসে বসে সঙ্গে আনা একটা পত্রিকার পাতাই উল্টোচ্ছিল নন্দিনী। তখন ঘণ্টা দেড়েক মতো হয়েছে। হঠাৎ করেই ক্লাসরুমের দরজার সামনে গলাখাঁকারির আওয়াজ পেয়ে ঘুরে তাকিয়ে ও দেখল, অবিনাশবাবু দাঁড়িয়ে। তখন জেনে নিয়েছিল, হেডস্যরের নাম অবিনাশ হালদার। ঠিকই অনুমান করেছিল ও, ওঁর আসছে বছর রিটায়ারমেন্ট।

অবিনাশবাবুকে দেখে হাসিমুখে উঠে দাঁড়াতে যাচ্ছিল নন্দিনী। ভদ্রলোক নিজেই বারণ করলেন। কিন্তু ওঁকে দেখে সেই মুহূর্তে সকালের মজার মানুষ বলে মনে হচ্ছিল না। একটা বড় স্কুলের হেডস্যরের মতোই লাগছিল। গম্ভীর, ব্যক্তিত্বপূর্ণ।

ভদ্রলোক কাছে এসে গম্ভীর মুখে নন্দিনীর কানের কাছে মুখ এনে বললেন, “একদম হাসবেন না। ছাত্ররা দেখবে। বলি পদ্য লেখার বাতিক আছে এই বুড়োর। কাগজটা এমন মুখ করে নিন যেন পরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র! নীলপরিকে দেখে পদ্য না লেখা পাঁজিতে পাপ বলে বিধেয়। ধরুন ধরুন!”

হাসি চাপতে গিয়েও নন্দিনী ফিক করে একটু হেসে ফেলল। ততক্ষণে বয়স্ক ভদ্রলোক বেরিয়ে যাচ্ছেন ক্লাস ছেড়ে। নন্দিনী হাতের সাদা কাগজটা খুলে দেখল, তাতে মুক্তোর মতো হাতের লেখায় লেখা আছে—

নীলপরি তুমি কোন আকাশে ওড়ো?

কোন আকাশ থেকে নামলে আমার বাগানে?

ভেবো না নীলপরিকে চিঠি লিখেছি

ওসব আমার আসে না, তবে নীল ডানা

দেখলে উড়তে ইচ্ছে করে আজও

আর ছদ্মবেশী পরি দেখলে চিনতেও পারি

তোমার আকাশের ঠিকানা জানিয়ো

আর আমার বাগান তো তুমি চেনোই...

হাসবে না কাঁদবে ভাবতে গিয়ে আবার নন্দিনী হেসে ফেলল। ভদ্রলোক বেশ মজার তো!

পরীক্ষা যথাসময়ে শেষ হল। নন্দিনীও বেরিয়ে পড়ল স্টেশনের দিকে। অবিনাশবাবুর সঙ্গে আর দেখা হয়নি। উনিও আর আসেননি। ট্রেনের জানলায় বসে হাওয়া খেতে খেতে নন্দিনী আবার কবিতাটা পড়ল। কবিতা-টবিতা নন্দিনী খুব একটা বোঝে না। তবে লাইনগুলো পড়তে বেশ মজা লাগছিল ওর। নীলপরি, ডানা, আকাশ... সাদা কাগজটা হাতব্যাগে ঢুকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল ও।

বিলি স্কুল থেকে ফিরে ওর ঠাম্মার কাছে থাকে। নন্দিনীর ফিরতে ফিরতে বিকেল তো হয়েই যায়। আজকেও ফিরে দেখল বিলি শাশুড়িমায়ের ঘরে ঘুমোচ্ছে। সাতটা নাগাদ সুধন্য ফিরল।

নন্দিনী চা করে দিতে দিতে বলল, “আজ থেকে তো মাধ্যমিক শুরু হল।”

“ও হ্যাঁ, তোমার কোথায় যেন একটা ডিউটি পড়েছে না?”

নন্দিনী নিজের চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে মুখটা একটু বিকৃত করল। চিনি কম হয়েছে। মাথাটা একটু নামিয়ে বলল, “ঘটকপুর।”

“ঘটকপুরে ভাল পটল পাওয়া যায়। আবার কবে আছে গো তোমার ডিউটি?”

“আট তারিখ।”

“সব ক’দিন আছে নাকি?”

“সব ক’দিন ডিউটি থাকে আমার? অদ্ভুত কথা বলো! প্রত্যেক বছর দেখছ!”

“আরে বাবা...”

থেমে গেল সুধন্য। নন্দিনী দুটো চায়ের কাপই নিয়ে উঠে গেছে। চিনি দিতে হবে আর একটু।

সুধন্যর কথা শুনে আর কিছু বলতে ইচ্ছে করছিল না। তবু চায়ের কাপদুটো আবার এনে মুখে হাসি ফুটিয়ে নন্দিনী বলল, “আজ একটা মজার কাণ্ড হয়েছে, জানো!”

সুধন্য সকালে খবরের কাগজ খুঁটিয়ে পড়তে পারে না, সময় থাকে না বলে। অফিস থেকে ফিরে নিয়ে বসে। কাগজ থেকে মুখ না তুলেই অন্যমনস্ক ভাবে বলল, “তাই?”

নন্দিনী নিজেই নিজের মতো বলে গেল। শেষে বলল, “ভদ্রলোক কিন্তু বেশ মজার, জানো!”

সুধন্য এবারেও খবরের কাগজ থেকে মুখ তুলল না। চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার শব্দ আসছে। কাগজের এপার থেকে নন্দিনী শুনতে পেল সুধন্য বলছে, “এ সব বুড়োগুলো ফালতু টাইপের হয়। বেশি পাত্তা দিয়ো না!”

চায়ের কাপটা নামিয়ে নন্দিনী তাকাল সুধন্যর দিকে। তখনও সামনে খবরের কাগজ। হেডলাইনে লেখা আছে, ট্র্যাকে গন্ডগোল, বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল অমুক এক্সপ্রেস।

সুধন্যর চোখ দেখা যাচ্ছে না। বিলিকে পড়াতে বসতে হবে। উঠে পড়ল নন্দিনী।

পরের দিন ও একটা কচি কলাপাতা রঙের শাড়ি পরে গেল। অকারণেই বিনকা হাই স্কুলে ঢোকার সময় কানের কাছে জড়িয়ে থাকা চুলটা একটু ঠিক করে নিল।

আজ অবিনাশবাবুকে দেখতে পেল না নন্দিনী। মনে মনে ভাবল, ভালই হয়েছে। পাগলাটে বুড়ো আবার কী বলবে কে জানে!

কিন্তু পরীক্ষার খাতা জমা দিয়ে বেরোনোর সময় গেটের মুখে দেখা হয়েই গেল। সেই করিডরেই।

নন্দিনী সৌজন্যমূলক হাসল। আশপাশে কয়েকজন ছিল। স্কুলের স্টাফ, টিচার। ওকে দেখেই বেশ ব্যস্তসমস্ত হয়ে অবিনাশবাবু বলে উঠলেন, “আমি আপনাকেই খুঁজছিলাম। আমার রুমে এক বার আসুন তো!”

যেন অচেনা মানুষ। নন্দিনীর ভুরুটা আবার কুঁচকে গেল। এ সব পরীক্ষায় অনেক ফর্মালিটি থাকে। কোথাও ভুল হয়ে গেল নাকি!

ওর আগে আগেই অবিনাশবাবু নিজের চেয়ারে গিয়ে বসে পড়েছেন। এটিকেট মেনে নন্দিনী কাঠের দরজায় দু’বার টোকা মেরে ভিতরে ঢুকল।

“রাগ করলেন না তো ডাকলাম বলে?”

মুখে সেই মুচকি হাসি। নন্দিনী হাপ ছেড়ে বাঁচল। এই লোকটাকে সে চেনে।

“কী যে বলেন! তবে এখন না বেরোলে পরের গ্যালপিংটা পাব না।”

“আরে এক সেকেন্ডের কাজ। বলছি...”

নন্দিনী জিজ্ঞাসু চোখে তাকাল। তখনও ও বসেনি। অবিনাশবাবু বসতে বলেনওনি।

“আগের দিনের কবিতাটায় নীলগুলো কেটে সব সবুজ করে দেবেন! নইলে ধর্মে সইবে না! বুঝলেন!”

“হ্যাঁ তার পরের দিন লাল পরে এলে আবার বলবেন লাল করে দিতে! আমি ওই করি আর কী!”

নন্দিনী নিজেই অবাক হল কথাগুলো বলে। ও চিরকালই চুপচাপ। মিশতে পারে না বলে বদনামও আছে। তবে হাসতে হাসতে কথাগুলো বলে ওর ভাল লাগছিল।

“তা সে আপনি হুরি-পরি হলে এটুকু তো সইতেই হবে! এই বুড়োর কী দোষ বলুন!”

নন্দিনী আবার হেসে ফেলল। তবে আর দাঁড়াল না। অবিনাশবাবুও বললেন, “ডানা তো বাড়িতে রেখে এসেছেন! ছুটুন এখন স্টেশনে, নইলে পরের গ্যালপিং আসতে আসতে ভোর হয়ে যাবে!”

নন্দিনী আজ আর সুধন্যকে কিছু বলল না। বলার মতো আছেটাই বা কী! সুধন্য নিজেও কিছু জিজ্ঞেস করল না। কবেই বা করে!

নন্দিনী জানে আজ যে ওর ডিউটি ছিল, সে কথা সুধন্যর মনেও নেই।

রাতে খাওয়ার সময় আর একটু পটলের তরকারি চাইতে চাইতে শুধু সুধন্য বলল, “কী কচি পটলটা! আমাদের বাজার থেকে নিলে?”

নন্দিনী উত্তর দিল না। সুধন্যও এক বার বলার পর আর কথা তোলেনি।

শেষ দিন নন্দিনী সেই আকাশি নীল শাড়িটা পরেই গেছিল। অন্য কোনও রং পরলে আবার অবিনাশবাবু বলবেন আবার কবিতা বদলে দিতে। সাদা কাগজটা এখনও ওর হাতব্যাগে ভাঁজ করে রাখা আছে।

সারা দিন হয়ে গেল, তবু অবিনাশবাবুর সঙ্গে এক বারও দেখা হল না নন্দিনীর। ভেবেছিল শেষ দিন হয়তো দেখা হবে। পরের বছর এখানেই সিট পড়বে, তার গ্যারান্টি নেই। পড়লেও হয়তো তত দিনে রিটায়ার করে যাবেন ভদ্রলোক।

বেরোনোর সময় সুমেধার সঙ্গে দেখা। নন্দিনীকে দেখেই বলল, “এ বছরের মতো মিটল, বল!”

“আবার কী! আমাকে তো জানিস, পোষায় নাকি এ সব!”

“আরে কার পোষায়! তবে আমার এ বার ভাল মজা হয়েছে জানিস!”

নন্দিনী ঘড়ি দেখল। সময় আছে। আলগোছে হাঁটতে হাঁটতে জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে রে?”

“আরে অবিনাশ হালদার! হেডস্যর! তোর সঙ্গে আলাপ হয়েছে?”

একটু সতর্ক হল নন্দিনী। সুমেধা পেটপাতলা মেয়ে। সব কথা ওকে বলা যায় না। কী কথার কী মানে করবে।

“ওই এক দিন দেখা হয়েছিল। কেন রে?”

“আরে আমায় দেখে বললেন, আমাকে নাকি ওঁর প্রথম প্রেমিকার মতো দেখতে!”

“কী?” শব্দটা যেন ছিটকে বেরোল নন্দিনীর মুখ দিয়ে। সুমেধার আচরণের খুব একটা ইতরবিশেষ হল না তাতে।

“আরে না না! ওরকম নয়, ভদ্রলোক খুব জেন্টল! এমন করেই কথা বলেন সবার সঙ্গে। আমি তো স্টাফ রুমে কয়েক জন ম্যাডামের সঙ্গেও কথা বললাম! সবাই কত প্রশংসা করল!”

নন্দিনী কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, ওকে থামিয়ে সুমেধা বলে উঠল, “এই শোন, আমায় একটা কবিতা লিখে দিয়েছেন ভদ্রলোক! কাউকে বলবি না কিন্তু!”

নন্দিনী মুখে হাসি ফুটিয়ে ঘাড় নাড়ল। কাউকে বলবে না ও। এই কথা কাউকে বলা যায়!

সুমেধা অন্য প্ল্যাটফর্মে চলে গেছে। নন্দিনী জানলার ধারে বসে। মুখে হাওয়ার ঝাপটা লাগছে। হাতব্যাগ থেকে কবিতা লেখা কাগজটা বার করে ও উড়িয়ে দিল সেই হাওয়ায়।

সুধন্য ফিরে এসেছে। খবরের কাগজ পড়ছে। চায়ের কাপে আর এক বার চুমুক দিয়ে দেখে নিল নন্দিনী, চিনি ঠিক আছে কি না।

“আজকেই তো শেষ হল না মাধ্যমিক?”

নন্দিনী তাকাল। খবরের কাগজের ওদিকে সুধন্যর মুখ। অস্পষ্ট ভাবে এক বার “হুঁ!” বলল ও।

“তোমার ওই বুড়ো হেডমাস্টার তোমায় আর কিছু বলে-টলেনি তো?”

নন্দিনী দেখল, খবরের কাগজ নেমে এসেছে। সুধন্য, ওর বারো বছরের পুরনো বরের চোখদুটো দেখা যাচ্ছে। এক হাতে চায়ের কাপ ধরা।

“দূর! একদম ফালতু লোক! আজ শুনছিলাম অনেক বদনাম আছে লোকটার!”

খবরের কাগজ আবার উঠে এসেছে। হেডলাইন দেখা যাচ্ছে, ভিক্টোরিয়ার উপরের পরি চুরি হয়ে গেছে, আকাশ এবং শহর জুড়ে তল্লাশি!

কাগজের ওদিক থেকে বিচারকের রায়দানের মতো গলা ভেসে এল সুধন্যর, “হুঁ... আমি তো আগেই বলেছিলাম!”

নন্দিনী উঠে এসেছে। এখন বিলিকে পড়াতে বসতে হবে।

রাতের খাওয়া হয়ে গেছে। বিলি শুয়ে পড়েছে। বালিশ ঠিক করতে করতে সুধন্য বলছে, “তোমায় ঘটকপুরের পটল আনতে বলেছিলাম, আনলে না!”

পিঠদুটো ভারী-ভারী লাগছে নন্দিনীর। সুধন্য ও-পাশ ফিরে শুয়ে পড়েছে। এসির আলো জ্বলছে ঘরে। নীল হয়ে আছে। যেন ঘর জুড়ে প্লাস্টিকের জ্যোৎস্না ফুটেছে।

নন্দিনী এ-পাশ ফিরে চোখ বন্ধ করল। রাতের আকাশ। কালো আকাশে অজস্র তারা ফুটে আছে। অনেক নীচে ঘুমন্ত শহর।

ওর হাতে বিউগল, পিঠে ক্লান্ত ডানা। নন্দিনী এ বার বিউগল বাজাবে। নীল সুর বৃষ্টির মতো ঝরে পড়বে শহরের মাথায়।

শুধু ঘুমন্ত শহরের কেউ সেই আশ্চর্য সুর শুনতে পাবে না।


এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Bengali Short Story Short story

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy