তুমি দেশহারা কে বলেছে? এই পৃথিবী সঙ্গে নিয়ে
উড়ে চলো তুমি সে-ব্রহ্মাণ্ডে যার কোনও সীমা আজও
খুঁজেই পায়নি বিজ্ঞানীদল, সেই সীমাহীনতায়
গ্যালাক্সি থেকে গ্যালাক্সি-পথ পার হতে-হতে তুমি
নতুন নতুন লেখায় জাগাও অভাবিত সব দেশ
যেখানে যখন মুক্তচিন্তা চাবুক খাচ্ছে
জাগিয়ে তুলেছ তার রাগ তার অপমান-বন্দিশ
এ-ব্রহ্মাণ্ড যে অগ্নি ধরে তুমি সে-অগ্নি, তুমি-ই
আমার সক্রেটিস!
নির্বাসনের বিষপান করে মৃত্যুফতোয়া মাথায়
পরে আছো আজও, সে-মুকুট জ্বলে সুপারনোভার স্ফুরণে!
এই মৃত্তিকা, এ-বসুন্ধরা, এই ধরিত্রী— নারী-ই!
নারী-খননের সব অন্যায় বিচূর্ণ করে চলেছ
লেখায় লেখায় লেখায় লেখায়—
আদিম মানুষ যখন
ভাষা ও শব্দ তৈরি করতে শেখেনি, তখনও তার
ক্ষুধার প্রকাশে কান্না-প্রকাশে একটাই হাতিয়ার
ছিল, মনে আছে? আর কিচ্ছু না
গোঙানি গোঙানি
চিৎকার চিৎকার…
সেখানেও ছিল আর্তি বলায় আদিমের অধিকার
সেই অধিকার-ই আজও প্রতিষ্ঠা করেই চলেছ তুমি
লাভা-জ্বলন্ত আত্মজীবনী, লাভা-জ্বলন্ত ভাষণে…
কে শোনে আর কে না-শোনে
সে-কথা ভাবোনি। ভাবছ না আজও। পরোয়া করো না তার!
আমি তো ব্যর্থ কবি একজন, লেখা শেষ হয়ে গেছে
স্বেচ্ছাবসরে চলে গিয়ে তবু তোমার ফেরার দরজায়
দাঁড়াতে চেয়েছি কয়েক মিনিট জয়টিকা দেব বলে—
তবু তা হল না।
না-হওয়া ভাগ্য মাথা পেতে নিয়ে, জানি
ক-দিন পরেই ভীরু ও নপুংসক
এ-ভাঙা শরীরে ফার্নেসে শোবো, আর
শেষ আগুনটি জ্বলামাত্রই তা দিয়ে তোমার চিরসাহসের চরণ ধোয়াব
তুমি তো নতুন ‘সিমন দ্য বোভোয়া’—
তুমি হেঁটে যাবে তুমি হেঁটে যাবে
পায়ের তলায় নিভতে থাকবে পৃথিবী-ভরানো
পরাধীনতার চিতা
এ-ব্রহ্মাণ্ড তোমার এলাকা, মহাবিশ্বের থেকে
কে তোমাকে দেবে বহিষ্কারের আদেশ? জগতে কার
সাধ্য আছে যে তোমাকে এখনও বলবে: ‘নির্বাসিতা’!