E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

অ্যাটলাস

বসতবাড়ির লাগোয়া মুদিখানার দোকান। এক সময় অনন্ত দত্ত চালাত। ভেবেছিল মুদির দোকান চালিয়েই ছেলেকে জজ-ব্যারিস্টার বানাবে। ছেলে সোমেনের মাথাটা খারাপ ছিল না। কিন্তু ওই মুদিখানার দোকান থেকে মেঘনাদ সাহা আর ক’জন হতে পারে!

রাজদীপ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:৫০

ছবি: তারকনাথ মুখোপাধ্যায়।

সন্ধেবেলা দোকানে বসে টুসিকে অঙ্ক করাচ্ছিল সোমেন। এই সময় খরিদ্দার প্রায় থাকেই না। ওই মাঝেমধ্যে এটা সেটা কিনতে দু’-এক জন। নাগাড়ে চুপচাপ বসে থাকাও মুশকিল। তাই টুসিকে রোজ এখানেই ডেকে নেয়। ও নিজেই পড়ে। যখন আটকে যায়, বাপের দ্বারস্থ হয়। তা ছাড়া ভিতরঘরে ওর দুই ভাই এখন খানিকটা বড় হওয়ায় দৌড়ঝাঁপ করে ওকে পড়তে দেয় না মোটে। সাতটা বাজলেই তাই রোজ টুসি দোকানের ভিতরে এসে পড়াশোনা করে।

বসতবাড়ির লাগোয়া মুদিখানার দোকান। এক সময় অনন্ত দত্ত চালাত। ভেবেছিল মুদির দোকান চালিয়েই ছেলেকে জজ-ব্যারিস্টার বানাবে। ছেলে সোমেনের মাথাটা খারাপ ছিল না। কিন্তু ওই মুদিখানার দোকান থেকে মেঘনাদ সাহা আর ক’জন হতে পারে! সোমেনও হয়নি। বিএ পাস করে এ দিক-ও দিক কিছু চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিশেষ সুবিধে করে উঠতে পারেনি। তত দিনে অনন্ত দত্ত শয্যাশায়ী। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওই দোকানের তক্তপোশে পাকাপাকি ভাবে বসে পড়াই যেন ওর ভবিতব্য হয়ে উঠেছিল।

এই দোকান চালিয়েই মা-বাবার শেষ বয়সে দেখাশোনা, নিজের বিয়ে এবং পরবর্তী দায়দায়িত্ব ইত্যাদি চলে গেছে এত কাল যা-হোক করে। তবে পাড়ার মুদিখানা দোকানের সেই সুদিন আর আজ নেই। বড় বড় শপিং মল হয়েছে গাদাগুচ্ছের। বেড়েছে অনলাইন শপিংয়ের অ্যাপও। ফোনে অর্ডার করলেই দুয়ারে বাজার-সওদা। যত দিন যাচ্ছে, মানুষ ওগুলোকেই আপন করে নিচ্ছে। তাও লকডাউনের সময় বাধ্য হয়ে তাদের এখানেই মাথা গলাতে হয়েছিল আবার। কিন্তু সে-সব বিধিনিষেধ উঠে যেতেই পুনরায় যথা পূর্বং তথা পরং।

টুসিকে সরল শেখাচ্ছিল সোমেন। তখনই এক জন এসে ভারী গলায় গায়ে মাখার সাবান চাইল। বাইরে আধো অন্ধকারে লোকটাকে চেনা যাচ্ছিল না ভাল করে। সঙ্গে আবার ভদ্রলোকের বৌও রয়েছে। এ পাড়ায় আগে দেখেনি এদের। বৌটা জিন্স আর আঁটোসাটো গেঞ্জি পরা। এ অবশ্য আর দুর্লভ দৃশ্য নয়। অমন দেখে দেখে চোখে অভ্যেস হয়ে গেছে বেশ। সাবান নেওয়ার সময় লোকটা সামনে ঝুঁকে হাত বাড়াতেই মুখে আলো পড়ল। চেনা লাগল সোমেনের। চোখ আর ওই জোড়া ভ্রু দেখে ও বলে উঠল, “আপনি আমাদের বিশ্বনাথ, মানে বিশু না?”

এ বার খানিকটা এগিয়ে এল লোকটি। ভাল করে দেখে বলল, “তুই সোমেন তো?”

“হ্যাঁ। চিনতে পেরেছিস তা হলে। এগিয়ে এলি যখন, মুখে আলো পড়ায় চিনতে পারলাম। যাই হোক, কবে এসেছিস?”

“এই দিন তিনেক। তোর পাশে কি তোর মেয়ে?”

“হ্যাঁ। এই সময় খুব একটা কাস্টমার আসে না। তাই ও আমার কাছেই পড়ে এখানে বসে।”

“বাহ, খুব ভাল। আজ সকালে সেই যাদবপুর গেছিলাম। মামার বাড়িতে সবার সঙ্গে দেখা করে এলাম। ভীষণ টায়ার্ড। কাল এসে তোর সঙ্গে গল্প করে যাব। আজ আসি।”

বিশ্বনাথের বৌ উঁকি মেরে এক বার হাসিমুখ দেখিয়ে গেল। ওরা চলে যেতে টুসি বলল, “ওই কাকুটা তোমার বন্ধু নাকি বাপি?”

“হ্যাঁ। আমরা পড়তাম এক সঙ্গে। আমাদের পাড়ায় ডায়মন্ড কমপ্লেক্স যেখানে হয়েছে না, ওখানেই ওদের বাড়ি ছিল। সে-সব ভেঙেই এখন ওই ফ্ল্যাটবাড়ি উঠেছে।”

“কিন্তু এই কাকুটাকে আগে তো দেখিনি!”

“দেখবি কী করে! ওরা তো থাকে না এখানে। বহু দিন আগে আমেরিকায় গিয়ে সেটল করেছে। সেই ওর মা যখন মারা যায়, তখন এক বার এসেছিল। সেও প্রায় বছর দশেক আগে। তার পরই ওদের পুরনো বাড়ি ভেঙে ওই কমপ্লেক্স হয়ে গেল। সেখানে নিশ্চয়ই ওদেরও ফ্ল্যাট আছে এখনও।”

রাতে খেতে বসে মা-কে গল্পটা বলল টুসি। একটা নতুন কাকু আসবে পরের দিন। আমেরিকা থেকে আসছে। সঙ্গে আন্টিও আছে, ইত্যাদি ইত্যাদি।

ছেলেমেয়েরা ঘুমিয়ে পড়ার পর স্বামী-স্ত্রীর আলাপেও উঠে এলো ব্যাপারটা। শিবানী বলল, “আমেরিকায় থাকে মানে খুব বড়লোক, তাই না?”

“সে টাকা তো ওদের চিরকালই। এখানে অত বড় বাড়ি বেচল। তার পর ও-দেশে বড় চাকরি। ওদের সঙ্গে নিজের তুলনা করতে যেয়ো না।”

“হুম, যার যেমন কপাল। আমাকে এই তিন-তিনখানা ছেলেমেয়ের বায়নাক্কা আর হেঁশেল সামলাতে সামলাতেই জীবন কাটাতে হবে।”

“কেন, আমি কি ওই এঁদো দোকানে বসে বসে আয়ুক্ষয় করছি না? অমন লোকের দেখে উথলে উঠো না। যা পেয়েছ তাতেই খুশি থাকো।”

পরদিন সকালে টুসিকে ইশকুলে দিয়ে বাজার করে ফেরার সময় আটটা রসগোল্লা এনে রেখে দিল সোমেন। এত কাল পরে বাড়িতে বন্ধু আসা মানে তাকে তো কিছু খেতে দিতে হবে। সঙ্গে আবার যদি ওর বৌও আসে তো আরও বিপদ।

সারা দিন অপেক্ষার পরে অবশেষে সন্ধে ছ’টা নাগাদ দোকানে হাজির হল বিশ্বনাথ। ওর বৌও এক সঙ্গেই এল, কিন্তু দোকানে না দাঁড়িয়ে সে চলে গেল একাই। বিশু জিজ্ঞেস করল, “তুমি চিনতে পারবে তো ঠিকঠাক?”

“ডোন্ট ওরি। আমি ঠিক চলে যাব।”

“ওকে। আমি কিন্তু এখানেই আছি। তোমার হয়ে গেলে আমাকে ফোন করবে রিয়া।”

সোমেন প্রশ্ন করল, “ম্যাডাম কোথায় গেল?”

“আরে কোথায় আর যাবে! ওই মোড়ের বিউটি পার্লারে। কী সব করাবে।”

“তুই এ দিকের দরজা দিয়ে ভিতরে এসে বোস।”

দোকানের এক পাশ দিয়েই রাস্তায় ওঠার একটা পথ আছে। সেখান দিয়ে ভিতরে ঢুকে চেয়ারে বসল বিশ্বনাথ। দোকানের পিছন-দেওয়ালে দরজা খুললেই সোমেনের শোওয়ার ঘর। তার ওপাশে ভিতর-বারান্দা, রান্নাঘর, বাথরুম এই সব।

বিশু বলে উঠল, “তোর চেহারাটা একই রকম আছে কিন্তু সোমেন। শুধু মাথায় সেই ঘন চুল অনেকটা হালকা হয়ে গেছে। এই দোকান চালানো ছাড়া আর কিছু করছিস?”

“না রে। আর সময় কোথায়! সারা দিন এখানেই। তা ছাড়া বাড়ির বাজারঘাট, মেয়েটা এখন ইশকুলে যায়-আসে, সে-সব তো আছেই। তবে তুই কিন্তু অনেক ভারী হয়ে গেছিস। গাল-টাল যা ফুলেছে তাতে চেনাই মুশকিল।”

“আরে, বয়স তো হচ্ছে। ক্রমশ বাবার মতো চেহারা হয়ে যাচ্ছে আমার। যাক গে, তোর কয় ছেলেমেয়ে?”

“টুসিকে তো তুই দেখেছিস গতকাল। ওর পরে যমজ দুই ছেলে।”

“ওরেব্বাবা! তিন-তিন জন! সামলাস কী করে!”

“কী করে আবার! নাকানিচোবানি খেয়েই সামলাতে হয় সব। তবে ওই শিবানীর ঘাড়েই দায়টা বেশি পড়ে যায়।”

“ছেলেদের বয়স কত হল?”

“তিন বছরে পা দিয়েছে ওরা। ভয়ঙ্কর বিচ্ছু দুটোই। এখন আরও দৌড়তে শিখেছে। একটাকে ধরতে ধরতে আর একটা পালায়। একেবারে নাজেহাল করে ছাড়ে ওর মা-কে।”

“হা-হা-হা… এই কারণেই আমরা আর ওই ঝামেলার মধ্যে যাইনি।”

“মানে!”

“আরে একটা বাচ্চা হওয়া মানে জীবনে হাজার বিপত্তি। তার পিছনে সময় দিতে দিতে নিজেদের লাইফ হেল হয়ে যায়।”

“তাই বলে বাচ্চাই নিসনি তোরা!”

“দূর! ও-দেশে কে দেখবে বল তো আমাদের ছেলেমেয়েকে? ও-সব হলেই বিপদ। দু’জনেই চাকরি করি। সারা দিন বাড়ি থাকি না। উইক-এন্ডে দিব্যি গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ি যেদিকে দু’চোখ যায়। এই লাইফ ছেড়ে বাচ্চার ওই ন্যাপি বদলানোর চাকরি নিতে আমরা রাজি নই। তাই আর কী…”

ভিতর-দরজায় ঠকঠক আওয়াজে দু’জনের কথায় ছেদ পড়ে। সোমেন উঠে দরজা খুলে দেয়। শিবানী একটা প্লেটে চারটে রসগোল্লা নিয়ে ঢোকে। আর এই সুযোগে দরজার ফাঁক গলে চিন্টু ঢুকে আসে। এক গাল হেসে বিশুর দিকে আঙুল তুলে দেখিয়ে, “কাকা… কাকা!” বলে চেঁচাতে থাকে। নিশ্চয়ই মায়ের কাছে বিশুর ব্যাপারে শুনেছে।

বিশু উঠে দাঁড়িয়ে শিবানীর হাত থেকে প্লেট নেয়, বলে, “চারখানা রসগোল্লা কত বছর খাইনি জানেন বৌদি! আমার শুগার আছে তো। এত মিষ্টি খাওয়া যাবে না।”

বিপদে পড়ে শিবানী। বলে, “একটা তো খান। আমি চিনি-ছাড়া চা করে আনছি।”

চামচে দিয়ে একটা রসগোল্লা তুলে মুখে পুরে দেয় বিশ্বনাথ।

ঠিক তখনই দোকানের সামনে এসে দাঁড়ায় ওর বৌ, বলে, “বেশ মিষ্টি খাওয়া চলছে দেখছি।”

অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে বিশ্বনাথ। বলে, “এর মধ্যে চলে এলে যে!”

মুচকি হেসে ওর বৌ বলে ওঠে, “পার্লারে যা ভিড়, তাতে অনেক দেরি হবে। তাই পালিয়ে এলাম। আর এসেই দেখতে পেলাম, তুমি কেমন লুকিয়ে লুকিয়ে মিষ্টি খাচ্ছ।”

শিবানী বলে, “ও মোটে একটা রসগোল্লায় কিছু হবে না। আপনি ভিতরে আসুন।”

সোমেন দরজার পাল্লা পুরো খুলে দিয়ে ভিতরে আসার পথটা দেখিয়ে দেয়। বলে, “আপনি ম্যাডাম ভিতরের ঘরে গিয়ে বসুন।”

শিবানী ছেলেকে কোলে তুলে বিশ্বনাথের স্ত্রীকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে দরজা দিয়ে দেয় ভিতর থেকে। সোমেনের সঙ্গে গল্প জমে ওঠে বিশুর।

বিশ্বনাথ বলে চলে, গত বছর কী ভাবে ওরা দু’জন আন্টার্কটিকা ঘুরে এসেছে। এর আগে আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, গ্রিনল্যান্ড— সব ঘোরা ওদের কমপ্লিট। ওর কথা শুনতে শুনতে ছোটবেলার সেই অ্যাটলাসের রঙিন ছবির পাতা মনে পড়ে যেতে থাকে সোমেনের। নানা রঙের সব দেশ। ও আঙুল বুলিয়ে বুলিয়ে এক দেশ থেকে আর এক দেশে ঘুরে বেড়াত। সাইবেরিয়া থেকে প্রশান্ত মহাসাগর টপকে চলে যেত আলাস্কায়। সাহারা মরুভূমি থেকে আমাজ়নের অরণ্যে।

বিশ্বনাথ যত বেড়ানোর গল্প বলে, মনে মনে তত কুঁকড়ে যায় সোমেন। ও কোন গল্প বলবে বন্ধুকে? সেই বিয়ের পরে এক বার পুরী আর মেয়েকে কোলে নিয়ে আর এক বার দিঘা যাওয়া ছাড়া ওর ঝুলিতে আর কোনও ভ্রমণকাহিনি নেই। এত দেশ, তাদের এত বৈচিত্র, আশ্চর্য সব খাবারদাবারের কথা অবাক হয়ে শুনতে থাকে সোমেন। গ্রিনল্যান্ডের কথা শুনে ওর বেশ ঠান্ডা-ঠান্ডা লাগে। আটাকামার বর্ণনায় গরম। ও কিছুতেই তাল মেলাতে পারে না বিশ্বনাথের সঙ্গে। হাবুডুবু খেতে থাকে। নাকে-মুখে জল ঢুকে যেন হাঁসফাঁস করে ওঠে সোমেন। হঠাৎ ভিতরের দরজা খুলে গিয়ে ওকে যেন বাঁচিয়ে দেয় তখনকার মতো।

বিশুর বৌ বেরিয়ে আর দাঁড়ায় না এক মুহূর্ত। “আসি,” বলেই রাস্তায় উঠে হাঁটতে শুরু করে দেয়। বিশ্বনাথ পড়ি কি মরি করে উঠে শুধু এক বার হাত নেড়ে বলে, “পরে আসব আবার।”

বৌয়ের পিছনে পা চালিয়ে দ্রুত এগিয়ে যায় বিশু। সোমেন বৌকে জিজ্ঞেস করে, “কিছু খেতে-টেতে দিয়েছিলে?”

“হ্যাঁ, মিষ্টি তো আর খায়নি। পাঁপড় ভেজে দিলাম। খেল তো।”

রাতে খেতে বসে টুসি বলে ওঠে, “জানো বাপি, আন্টি চিন্টু আর পিন্টুকে খাইয়ে দিয়েছে।”

শুনেই চমকে যায় সোমেন। বলে, “কেন, তোর মা কী করছিল?”

“মা-ই তো ভাত মেখে খাওয়াতে যাচ্ছিল, কিন্তু আন্টি জোর করে সব নিয়ে নিজের হাতে খাইয়ে দিল। আর ওরা দু’জন আন্টির কাছে বেশ চুপচাপ খেয়েও নিল।”

তার পর বাবার কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে ফিসফিস করে বলে টুসি, “আর একটা জিনিস আমি দেখেছি বাপি, বলব তোমাকে?”

ফিসফিস করে বলে সোমেন, “কী দেখেছ?”

“আন্টি না ভাইদের খাওয়ানোর সময় কাঁদছিল। আমি দেখেছি!”

রাতে ছেলেমেয়েরা ঘুমোনোর পরে ব্যাপারটা জানতে চায় সোমেন শিবানীর কাছে, “আমেরিকান বৌ হঠাৎ তোমার ছেলেদের খাইয়ে দিল জোর করে! এটা কেমন হল?”

শিবানী বলে, “তোমার বন্ধুর বৌটা খুব ভাল গো। একেবারে অন্য রকম।”

“তোমার সঙ্গে বেশ জমে গেছে দেখছি। অমন আধুনিকা মেয়েকে দিব্যি ম্যানেজ করে ফেলেছ!”

“আরে ম্যানেজ করার কিছু নেই। ও মেয়ে তোমার ছেলেমেয়েদের দেখে এমনিতেই গলে জল। কেঁদেকেটে একশা। খাওয়ার পরে চিন্টু তো ওর কোলে শুয়েই ঘুমিয়ে পড়েছে। আমি নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলাম। বেচারা কাঁদতে কাঁদতেই চলে গেল তখন।”

“সে কী! নিজের পেটে বাচ্চা ধরতে এত আপত্তি, আর অন্যের ঘরে বাচ্চা দেখে গলে যাচ্ছে!”

“কে বলল তোমাকে এ-সব। ওরা পাগল হয়ে যাচ্ছে একটা সন্তানের জন্য! এত বছর ধরে আমেরিকায় হাজার ট্রিটমেন্ট করিয়েও কিছু উপায় পাচ্ছে না।”

“কী বলছ! বিশু তো আমাকে অন্য কথা বলল। ওরা নাকি ফালতু ঝামেলা এড়াতে বাচ্চাকাচ্চার কথা ভাবছে না।”

খানিকক্ষণ সোমেনের মুখের দিকে চুপ করে চেয়ে থাকে শিবানী। তার পর বলে, “ও-সব উনি নিজেকে প্রবোধ দেওয়ার জন্য বলেছেন তোমাকে। রিয়া তো বলে গেল, শুধু সন্তান হচ্ছে না বলেই তোমার বন্ধু ডিপ্রেশনে ডুবে গেছে। গত বছর এই কারণে মাস তিনেক ও-দেশের হাসপাতালেও নাকি ভর্তি ছিলেন।”

ও-পাশে দুই ছেলের একটা হঠাৎ কেঁদে ওঠায় কথা থামিয়ে পাশ ফিরে তাকে ফের ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে শিবানী। নাইটল্যাম্পের নরম আলোয় বিছানার ওই প্রান্তে গ্রিনল্যান্ড থেকে এই প্রান্তে আন্টার্কটিকা অবধি ছড়ানো পৃথিবীর দিকে এক ঝলক তাকিয়ে দেখে সোমেন। ওর পাশে অকাতরে ঘুমিয়ে থাকা মেয়েটাকে যেন একটা ছোট্ট পরির মতো দেখাচ্ছে। পাশ ফিরে মেয়েকে জাপ্টে ধরে ওর গালের পাশে ছড়িয়ে থাকা চুলের গন্ধে নাক ডুবিয়ে দেয় কুমুদ মুখার্জি রোডের মুদিখানা দোকানদার সোমেন্দ্রনাথ দত্ত।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Bengali Story Bengali Literature Short Stories

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy