E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

দেখে যেতে পারেননি নিজের কোনও প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ

দিনের পর দিন অনাহারে, রোগে ভুগে, মানুষের কাজ করে গিয়েছিলেন তিনি। মাত্র চোদ্দো-পনেরো বছর বয়সে তাঁর লেখা কবিতা বিস্মিত করেছিল অগ্রজ কবিদের। মানুষের দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণার সঙ্গে কবিতায় একাত্ম হয়ে উঠেছিলেন তিনি। আগামী ১৫ অগস্ট পূর্ণ হবে তাঁর জন্মশতবর্ষ।

কানাইলাল জানা

শেষ আপডেট: ০৯ অগস্ট ২০২৬ ০৭:৪৬
মানবপ্রেমিক: সুকান্ত ভট্টাচার্য। দুঃখী মানুষের কথা বলত তাঁর কলম।

মানবপ্রেমিক: সুকান্ত ভট্টাচার্য। দুঃখী মানুষের কথা বলত তাঁর কলম।

দিনের পর দিন অনাহারে, রোগে ভুগে, মানুষের কাজ করে গিয়েছিলেন তিনি। মাত্র চোদ্দো-পনেরো বছর বয়সে তাঁর লেখা কবিতা বিস্মিত করেছিল অগ্রজ কবিদের। মানুষের দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণার সঙ্গে কবিতায় একাত্ম হয়ে উঠেছিলেন তিনি। আগামী ১৫ অগস্ট পূর্ণ হবে তাঁর জন্মশতবর্ষ। কানাইলাল জানা

যে  কবির কোনও কাব্যগ্রন্থই তখনও প্রকাশিত হয়নি, সেই সুকান্ত ভট্টাচার্যকে নিয়ে বিপুল আগ্রহ ও উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল কলকাতা শহরের বাইরে। এ কথা জানা গেল, যখন সুকান্তর সহপাঠী এবং প্রতিবেশী মণিগোপাল বসু ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়ে বনগাঁয় দিদির বাড়ি বেড়াতে গেল। বনগাঁ হাই স্কুলের অনেক ছাত্র ছিল সুকান্ত ভট্টাচার্য প্রতিষ্ঠিত ‘কিশোর ভারতী’র সদস্য। তারা মণিগোপালকে টেনে নিয়ে গেল হাই স্কুলের মাস্টারমশাই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তাঁর সামনেই সকলে শুনতে চায় প্রিয় সুকান্তদার কথা। মণিগোপাল বলে যে, সাধারণ ধুতির উপর একটি নীল জামা বা চেক-শার্ট পরে সারাক্ষণ সে ব্যস্ত। খালি পায়ে হেঁটে হেঁটেই হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে হেঁকে বিক্রি করে পার্টির পত্রিকা। কখনও কৌটো ঝাঁকিয়ে চাঁদা তোলে, কখনও বা স্লোগান লিখে কাঁধে পোস্টারের বোঝা নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে বিভিন্ন দেওয়ালে সাঁটে। ফুরসত পেলে সঙ্গীদের নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বই সংগ্রহ করে, বেলেঘাটায় একটি স্টুডেন্ট লাইব্রেরি গড়বে বলে (বেলেঘাটায় সে লাইব্রেরি এখনও আছে)।

বিভূতিভূষণ যখন খুব মন দিয়ে শুনছেন, তখন মণিগোপাল শোনায় আরও একটি খবর: সুকান্ত প্রচার করছে, ধর্মগ্রন্থের সঙ্গে এক খণ্ড ‘পথের পাঁচালী’ও রাখা উচিত প্রত্যেক বাড়িতে । এই উপন্যাসটি সুকান্ত পড়ে নিয়েছে দেশবন্ধু হাই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার আগেই। ভবানী দত্ত লেনে ‘কিশোর ভারতী’র অফিস বা শ্যামবাজারে দাদার বাড়ি থেকে অনেক রাতে সুকান্ত যখন নারকেলডাঙার বাড়ি ফেরে, ব্ল্যাক আউটের ফলে অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে রাস্তা পেরোয় সুকান্ত। কখনও বা রাজনৈতিক গুরু অন্নদাশঙ্কর ভট্টাচার্যের সঙ্গে ভবানী দত্ত লেনের রাস্তায় মাদুর পেতেও রাত কাটায় একবেলা আট পয়সার ডালভাত খেয়ে। এমন কর্মঠ এবং সাহসী ছেলের ছবি কিন্তু তারা দেখেনি কেউ। যদিও সুকান্তর একটি ফোটোগ্রাফ ছিল তার নিজের ঘরে। গালে হাত দিয়ে ভাবুক সুকান্তের যে ছবিটি এখন দেখি, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রাপ্য বড় বৌদি সরযূদেবীর। তিনিই পৈতের আগের দিন একটি টাকা সুকান্তের হাতে দিয়ে বলেছিলেন, সারা দিনে যা মন চায় খাবার কিনে সে যেন খায়। পৈতে হলে ন্যাড়া হতে হবে, তাই কিছু না খেয়ে সুকান্ত একটি স্টুডিয়োতে গিয়ে এই ছবিটি তোলায়। না হলে আমরা জানতেই পারতাম না, কেমন দেখতে ছিলেন কিশোর কবি সুকান্ত। মৃত্যুর পরের দিন ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকায় যে ছবিটি ছাপা হয়েছিল, তা অত্যন্ত করুণ, শেষ বেলায় যাদবপুর যক্ষ্মা হাসপাতালে তোলা।

পৌনে একুশ বছর বয়সে আর এক বার সুযোগ এসেছিল ছবি তোলার, ১৯৪৩ সালে বালিগঞ্জ লেকের কাছে ‘ইন্ডিয়ান লাইফ সেভিং সোসাইটি’ হল-এ রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণের প্রথম বার্ষিক স্মরণসভায়। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, দেবব্রত বিশ্বাস, বুদ্ধদেব বসু প্রমুখ। প্রভাবশালীদের এই সভায় সুকান্তকে একটি স্বরচিত কবিতা পড়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন জেঠতুতো দাদা, ক্রীড়া-সাংবাদিক রাখাল ভট্টাচার্য। কবিতাটি ছিল, ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’— ‘এখনো আমার মনে তোমার উজ্জ্বল উপস্থিতি/ প্রত্যেক নিভৃত ক্ষণে মত্ততা ছড়ায় যথারীতি।’ পড়তে পড়তে দ্বিতীয় স্তবকে এসে যখন শুরু করলেন: ‘আমি এক দুর্ভিক্ষের কবি’... গুঞ্জন শুরু হল— এমনিতেই মন্বন্তর চলছে, কবিতায় আবার এ-সব লাইন কেন? না শোনার ভান করলেন অনেকে। অনেকে অন্যমনস্ক। ফোটো তোলা তো দূরের কথা। অবজ্ঞা নিয়েই বেরিয়ে গেলেন। সামান্য কথা হল বুদ্ধদেব বসুর সঙ্গে। যিনি পরে খানিকটা খেদের সঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন, রাজনীতি করে সুকান্ত কবিত্বশক্তির অপব্যবহার করছে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে এদিন কোনও কথা না হলেও তিনিই পরবর্তী কালে সুকান্তর ‘রানার’ ও অন্যান্য কবিতা সলিল চৌধুরীর সুরে গেয়ে সুকান্তকে সাধারণের কাছে আরও বেশি করে পৌঁছে দেন।

সুকান্তর বৈমাত্রেয় বড়দাদা মনোমোহন ভট্টাচার্যের একটি বইয়ের দোকান ছিল কলেজ স্ট্রিট মোড়ে, নাম ‘সাহিত্য মন্দির’। নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, বিজন গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ অনেকে আসতেন সেখানে আড্ডা দিতে। দাদার জন্য নৃপেন্দ্রকৃষ্ণের মাধ্যমে সুকান্ত রেডিয়োতে ‘গল্পদাদুর আসর’-এ পড়লেন রবীন্দ্রনাথের কবিতা ‘শীতের প্রার্থনা’। দাদার অনুরোধে বিজন গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর ছোটদের পত্রিকা ‘শিখা’-য় প্রথম ছাপলেন সুকান্ত-র লেখা ‘স্বামী বিবেকানন্দ’। লেখাটি পড়ে মুগ্ধ হয়ে স্কুলের মাস্টারমশাই নবদ্বীপচন্দ্র দেবনাথ সুকান্তকে কবিতা লেখায় উদ্বুদ্ধ করেন। তার ফলস্বরূপ ‘জনযুদ্ধ’ কাগজ পেল রবীন্দ্রনাথকে নিবেদিত কবিতা, ‘হে মহামানব’। কবিগুরুকে সুকান্ত অন্তর থেকে এতই শ্রদ্ধা করতেন যে, তাঁকে নিয়ে অন্তত পাঁচটি কবিতা লিখেছেন।

বড়দাদা মনোমোহনের স্ত্রী সরযূদেবী। দু’জনেই খুব ভালবাসতেন সুকান্তকে। এক সময় সুকান্তর বাবা নিবারণচন্দ্র এবং জেঠামশাই কৃষ্ণচন্দ্রের যৌথ পরিবার থাকতেন বাগবাজারে নিবেদিতা লেনের ভাড়াবাড়িতে। সেখানে সুকান্ত কাটিয়েছেন সাত-আট বছর। ‘কমলা মন্দির’ প্রাইমারিতে পড়ার সময় ‘সঞ্চয়’ বলে হাতে-লেখা পত্রিকায় প্রথম লেখা। তখনকার ‘রমলা’খ্যাত প্রিয় লেখক মণীন্দ্রলাল বসুর গল্পের প্রধান চরিত্র সুকান্তর নামে জেঠতুতো দিদি রানিই নাম রাখেন সুকান্ত। রানিদির কোলেই বড় হয়েছেন সুকান্ত, রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং কবিতা শুনতে শুনতে। বেলেঘাটার বাড়িতে অকালে রানিদির মৃত্যু হলে খুবই দুঃখ পান সুকান্ত, ভুলতে পারেননি আমৃত্যু।

সুকান্তর বয়স যখন ছয়, সরযূবৌদি এলেন বাড়িতে; আর বারো বছর বয়সে সুকান্ত হারালেন মা সুনীতিদেবীকে। তিনি রেখে গেলেন ছয় ছেলে। সুশীল বড়, সুকান্ত মেজ, বাকি চারজন খুবই ছোট। পিঠোপিঠি দুই ভাই, তাই অভিভাবক হিসেবে সুশীলকে সেভাবে না পাওয়ায় সুকান্তই হলেন ভাইদের অভিভাবক। তাদের পড়াশোনার তদারকি, বিশেষ করে ইংরেজি শেখানোর দায়িত্বে ছিলেন সুকান্ত। কিন্তু নিজে খুব একটা স্কুলমুখী হতে চাইতেন না। পাঠ্যপুস্তকের সিলেবাস তাঁর কাছে নিতান্তই অল্প। মাস্টারমশাই পড়াশোনায় তাঁর অমনোযোগ দেখে বিরক্ত হয়েছিলেন, কিন্তু দেয়ালপত্রিকা ‘সপ্তমিকা’তে তাঁর একটি কবিতা পড়ে অভিভূত হন। তখন থেকেই তিনি বিশ্বাস করতেন, সুকান্ত একদিন বড় কবি হবে। সুকান্তকে স্কুল লাইব্রেরি থেকে পড়তে দেন শেক্সপিয়ার, কিটস, শেলি ও ব্রাউনিংয়ের বই।

ছাত্রকাল থেকেই সুকান্ত কমিউনিস্ট পার্টিতে নাম লেখান। পার্টির হয়ে প্রচুর কাজ করতেন। দুর্ভিক্ষের বছরে ফুলবাগানে আর্তদের জন্য লঙ্গরখানা পরিচালনা, রেশনের লাইন ঠিক রেখে চাল চিনি গম আটা ইত্যাদি ঠিকমতো সকলে পাচ্ছে কি না তদারকি করা, কম্বল জুটিয়ে দেওয়া— সারা দিন এই কাজ করে একটি কুপন পাওনা হলেও তা নিতেন না। বলতেন, যাদের ঘরে এক দানা অন্নও নেই, আগে তারা পাক। কলকাতার পথে পথে তখন মৃত্যুর মিছিল। এরই মাঝে সুকান্ত সারা দিন কাটাতেন সেবা ও সাহায্যের কাজে। কাছ থেকে দেখেছেন বিয়াল্লিশের অগস্ট আন্দোলনে ছাত্রদের উপর পুলিশি বর্বরতা, আজাদ হিন্দ ফৌজের বন্দি মুক্তি আন্দোলন, নৌবিদ্রোহের ফলে ধর্মঘট ইত্যাদি।

কাকভোরে বেরিয়ে, নাওয়াখাওয়া ভুলে, দলের হয়ে অসম্ভব পরিশ্রম করে ফিরতেন অনেক রাতে। ‘কিশোর বাহিনী’ গড়লেন মন্বন্তরের বছরে মানুষের অবক্ষয় দেখে। ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকায় কিশোর সভা পরিচালনা করার সময় মাসে ত্রিশ টাকা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়েও পেলেন পাঁচ টাকা; পরে পাঁচ টাকার ট্রামের কুপন, যা ভাঙিয়ে খাওয়া যায় না। দিনের পর দিন অভুক্ত থেকে রোগভোগে শীর্ণ হতে থাকেন। তাঁরা দরিদ্র ছিলেন না। বাবার ছিল বইয়ের দোকান এবং প্রকাশনী। তাঁদের প্রকাশনী থেকে খুব বিক্রি হত মহাভারত এবং শ্রীমদ্ভাগবত। পারিবারিক যজমানি থেকে আসত চাল, নানা সামগ্রী, খাট-বাসনপত্রও। অনেক সময় বিক্রি করতে হত সে-সব। আসলে মা-হারা পরিবার ছিল বড্ড এলোমেলো। শ্রীহীন সংসারে রাঁধুনি রেঁধে একটা হাঁক দিয়েই চলে যেত— কেউ খাক বা না খাক।

জাপানি বোমার ভয়ে শহর তখন ফাঁকা। সুকান্তর ভাইদেরও রেখে আসা হয়েছে বহরমপুরের এক জেঠুর বাড়িতে। সুকান্ত কিন্তু নারাজ কলকাতা ছেড়ে কোথাও যেতে। এখানে থেকেই দেখতে চান কোথায় বোমা পড়ল এবং কী হল, যুদ্ধ বাধল কি না। বড় বড় রাস্তার ধারে বহু ট্রেঞ্চ খোঁড়া হল, অ্যালুমিনিয়ামের পাত লাগিয়ে হাজারখানি গ্যাসবেলুন ওড়াতেই ভয়ে একেবারে শূন্য হয়ে গেল শহর। এক ব্ল্যাক আউটের রাতে বিয়ে হল অগ্রজ সুশীল ভট্টাচার্যের। বৌদিকে কবিতা উপহার দেবেন বলে লিখলেন: ‘এ শহর নিষ্প্রদীপ, নিষ্প্রদীপ আমাদের ঘর/ জমেছে উদাস ধুলো অনাদৃত বৎসর বৎসর…’ কিন্তু দিতে পারলেন না লজ্জাবশত। বরং জনশূন্য নিষ্প্রদীপ প্রেতপুরীর রাস্তায় অনুভব করলেন মিলিটারি গাড়ির গর্জন এবং বুটের দাপাদাপি।

চট্টগ্রাম সম্মেলন থেকে ফেরার পথে দু’দিন না খেয়ে থাকার ফলে উপবাসক্লিষ্ট দেহে ঢুকে পড়ে পূর্ব কলকাতার মারাত্মক ম্যালেরিয়ার জীবাণু। শরীর না সারতেই আবার কাজ, হাঁটা এবং ঘোরাঘুরি। আবার জ্বর আসতেই অন্নদাশঙ্কর ভট্টাচার্য তাঁকে একটি ঘোড়ার গাড়িতে চাপিয়ে প্রথমে বৌবাজারের ‘রেড এড কিয়োর হোম’, পরে রডন স্ট্রিটের ‘রেড এড কিয়োর হোম’-এ স্থানান্তরিত করেন।

ততদিনে শুরু হয়ে গেছে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’। তার মধ্যেই রেড এড কিয়োর-এ এসে দেখা করে গেলেন চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন কাণ্ডে মুক্ত বিপ্লবীগণ। গণেশ ঘোষ নিজের গলার মালা খুলে পরিয়ে দিলেন সুকান্তের গলায়। দারুণ আপ্লুত সুকান্ত। রেড এড কিয়োর হোম থেকে ছাড়া পেয়ে এক বার দিনাজপুরের সভায় হাজির ছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে সঙ্গে করে নিয়ে এলেন কালাজ্বর। একটি বেড পাওয়া গেল যাদবপুর টিবি হাসপাতালে। ১৯৪৭ সালের এপ্রিলের প্রথমেই ভর্তি হলেন। ৪২-৪৩ দিন সুকান্ত ছিলেন এই হাসপাতালে। ক্ষয়রোগ হয়েছিল তাঁর বুকে এবং পেটে। বুকের চিকিৎসা শুরু হলেও পেটের চিকিৎসা তখনও আবিষ্কার হয়নি। সব শেষ হল ১২ মে রাতে, স্বাধীনতা প্রাপ্তির তিন মাস আগে। রোগশয্যায় জেনে যেতে পেরেছিলেন, ফরাসি কবি লুই আরাগঁ তর্জমায় তাঁর কবিতা পড়ে প্রশংসা করেছেন। ফ্রান্স এবং আমেরিকায় তাঁর জীবনীগ্রন্থ প্রকাশ পাবে। বেশ কয়েক বছর সুকান্তের চিকিৎসা এবং কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ নিয়ে মাথা ঘামিয়েছেন বয়োজ্যেষ্ঠ কবি এবং বন্ধু সুভাষ মুখোপাধ্যায়। সুভাষ মুখোপাধ্যায়, দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসুরা বিশ্বাস করতে পারেননি যে, ১৪-১৫ বছরের কোনও বালক এমন পরিণত কবিতা লিখতে পারে। কবিতা পড়ে সুভাষ মুখোপাধ্যায় সুকান্তর সঙ্গে দেখা করেছিলেন ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট হল-এ। প্রথম দিকের কবিতা নিয়ে ১৯৫০ সালে প্রকাশিত হয় ‘পূর্বাভাস’ কাব্যগ্রন্থ। ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত লেখা কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হয় ‘ছাড়পত্র’। কবি সুকান্তর চরম দুর্ভাগ্য এই যে, নিজেদের প্রকাশনী থাকা সত্ত্বেও জীবিত অবস্থায় তিনি তাঁর কোনও প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ দেখে যেতে পারেননি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন একাত্মতা, সহজ কথা সোজাসুজি বলতে পারার এমন দুঃসাহসিক ক্ষমতা তাঁর সমসাময়িক আর কোনও কবি দেখাতে পারেননি।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Bengali Poet Bengali Literature

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy