জগন্নাথদেব ভোজনরসিক। খেতে তিনি বড্ড ভালবাসেন। নিয়ম-নীতি-নিষ্ঠা মেনেই রোজ পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ভোগ তৈরি করা হয়। রথের দিন ৯ প্রকারের অন্ন, ১১ রকমের মিষ্টি, ১৩ রকম পিঠে, ৯ রকম পায়েস আর ১৪ রকম ডাল-তরকারি মিলিয়ে রোজ ৫৬ রকম ভোগ নিবেদন করা হয় জগন্নাথকে। সেই আয়োজন হয় আরও এলাহি। ছাপ্পান্ন ভোগ না হলেও বাড়ির জগন্নাথকে তাঁর প্রিয় কিছু খাবার দিতে চান। রইল ছাপ্পান্ন ভোগে জগন্নাথকে দেওয়া হয় এমন কিছু মিষ্টি পদের প্রণালী।
মরিচা লাড্ডু
মহাপ্রসাদে দেওয়া হয় এই ঝাল লাড্ডু। সামান্য মাত্রায় জায়ফল, বড় এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচ ভাল করে থেঁতো করে নিতে হবে। এ বার ১/৪ কাপ জল গরম করে তার মধ্যে খানিকটা ঘি আর বানিয়ে রাখা মশলা দিয়ে দিন। তার পর জলে মিশিয়ে নিন ১ কাপ আটা। মিশ্রণটি নাড়াচাড় করে একটি মণ্ড বানিয়ে নিন। এ বার ঢাকা দিয়ে মণ্ডটি ঠান্ডা হতে দিন। আধ ঘণ্টা পরে মিশ্রণটি থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে লাড্ডু বানিয়ে নিন। এ বার ঘি গরম করে লাড্ডুগুলি লাল করে ভেজে নিন। কড়াইতে বেশ খানিকটা গুড় গরম করে পাতলা করে নিন। বানিয়ে রাখা লাড্ডুগুলি দিয়ে নাড়াচাড়া করে নিন। এ বার একটি থালায় রেখে ঠান্ডা করে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে মরিচ লাড্ডু।
কণিকা
জগন্নাথদেবকে নিবেদন করা হয় এই মিষ্টি ভাত। এটি তৈরি করার জন্য প্রথমে অল্প ঘিয়ে কাজুবাদাম আর কিশমিশ ভেজে তুলে রাখতে হবে। এ বার একটি হাঁড়িতে ভিজিয়ে রাখা ছোটদানার চাল, তার দ্বিগুণ জল, বেশ খানিকটা ঘি, তেজপাতা দিয়ে ফুটিয়ে নিন। খানিকক্ষণ পরে থেঁতো করে রাখা দারচিনি, ছোট এলাচ আর বড় এলাচ মিশিয়ে দিন। এ বার মিশিয়ে দিতে হবে পরিমাণমতো গুড়। ভাত রান্না হয়ে গেলে উপর থেকে বেশ খানিকটা ঘি আর ভেজে রাখা কাজু-কিশমিশ ছড়িয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। পোলাওয়ের মতো ঝরঝরে হবে না, কণিকাভাত হবে মাখোমাখো।
অমালু
এই প্রসাদটি খানিকটা গুড়ের মালপোয়ার মতো। এটি তৈরির জন্য প্রথমে মৌরি আর গোলমরিচ থেঁতো করে নিতে হবে। এ বার একটি বাটিতে ২/৩ কাপ গুড়, দেড় কাপ জল আর মশলাটি দিয়ে একটি মিশ্রণ বানিয়ে নিন। এ বার তাতে ১ কাপ আটা মিশিয়ে একটি ঘোল বানিয়ে নিন। এ বার ছাঁকা তেলে মালপোয়ার মতো ভেজে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে অমালু।