তিনি ইলিশ মাছের ভক্ত— জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মা গায়ত্রী দেবী। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে শুভেন্দুর প্রিয় খাবার নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তাঁর মা বলেছিলেন, ‘‘ইলিশ মাছ হলে খুব ভাল খায়। ইলিশ ভাপা কিংবা ভাজা খেতে ভালবাসে...’’। তবে মুখ্যমন্ত্রী যে চিংড়ি মাছও ততোধিক তৃপ্তি করে খান, তা জানা গেল রবিবার মতুয়াদের ঠাকুরবাড়িতে তাঁর মধ্যাহ্ণভোজের পরে।
ঠাকুরবাড়ির ছোট বউমা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী তথা বাগদার বিধায়ক সোমা ঠাকুর নিজে হাতে রান্না করেছিলেন শুভেন্দুর জন্য। তিনিই জানালেন, ‘‘অনেক রকম রান্নাই করেছিলাম দাদা (মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু)-র জন্য। চিংড়ির মালাইকারি, মুরগির মাংস, খাসির মাংস— সব ছিল। তবে উনি সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি করে খেয়েছেন আমাদের ঠাকুরবাড়ির বিশেষ রান্না চিংড়ির পিঠা।’’
সোমা জানিয়েছেন, ওই ব্যাঞ্জনটি শুভেন্দু একাধিক বার চেয়ে খেয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, ওই রান্নাটিই তাঁর সবচেয়ে ভাল লেগেছে বলেও জানিয়েছেন। কী এমন বিশেষত্ব ওই পিঠের, যা খেয়ে আপ্লুত হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী? ইতিহাস বলছে, এই রান্নার চল বাংলাদেশের বরিশালে রয়েছে বহু দিন ধরে। আর মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রবর্তক হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মস্থান, বর্তমান বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলা সেই বরিশালের সীমান্তেই। সোমা জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবারিক এই রান্না বাড়িতে বিশেষ অতিথি এলে করা হয়। কী ভাবে সেই রান্না হয়, সেই প্রক্রিয়াও বলে দিয়েছেন সোমা।
এই চিংড়ির পিঠাই তৃপ্তি করে খেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। — নিজস্ব চিত্র।
উপকরণ:
৫০০ গ্রাম ছোট বা মাঝারি আকারের চিংড়ি
১ কাপ কোরানো নারকেল বেটে নেওয়া
২-৩ টেবিল চামচ রসুনবাটা (না-ও দিতে পারেন)
দেড় চা চামচ জিরে ভেজে গুঁড়িয়ে নেওয়া
আধ চা চামচ গোটা জিরে
৮টি কাঁচালঙ্কা বেটে নেওয়া (স্বাদ অনুসারে কমাতে বা বাড়িয়ে নিতে পারেন)
৭ টি কলাপাতা চৌকো করে কাটা
৩-৪ টেবিল চামচ সর্ষের তেল
১ চা চামচ গুঁড়ো হলুদ
চিংড়ির পিঠের রেসিপি বলে দিয়েছেন বাগদার বিধায়ক সোমা ঠাকুর।
প্রণালী: প্রথমে চিংড়ি পরিষ্কার করে ধুয়ে মিহি ভাবে বেটে নিতে হবে।
বাটা চিংড়ির সঙ্গে মেশাতে হবে নারকেলবাটা, রসুনবাটা (যদি দেওয়া হয়), কাঁচালঙ্কাবাটা, জিরে, হলুদ আর ২-৩ টেবিল চামচ সর্ষের তেল।
এ বার কলাপাতাগুলি সেঁকে কিছুটা নরম করে নিয়ে তাতে সর্ষের তেল মাখিয়ে নিতে হবে।
চারটি কলাপাতা উপর উপর রেখে কড়াই ঢেকে দিতে হবে। এ বার একটি কলাপাতায় আরও এক বার তেল ব্রাশ করে তার মধ্যে চিংড়ির মিশ্রণটি পুরু করে ছড়িয়ে দিয়ে কড়াইয়ে রেখে আঁচে বসান। উপরে আরও একটি বা দু’টি তেল মাখানো কলাপাতা দিয়ে ঢেকে ভাল ভাবে চেপে দিতে হবে।
ঢিমে আঁচে ধীরে ধীরে এই রান্না হবে। এক পিঠ হয়ে উল্টে আর এক পিঠ রান্না করতে হবে। সব মিলিয়ে পিঠে রান্না হতে প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লাগবে।
এর পরে শুকনো ভাতে কাঁচালঙ্কা আর সর্ষের তেল সহযোগে পরিবেশন করতে হবে চিংড়ির পিঠে।