সন্তান একেবারেই খেতে চায় না— অধিকাংশ মায়ের মুখেই এই কথা শুনতে পাওয়া যায়। শিশুকে খাওয়ানো আলাদা একটি ঝক্কি। সময় এবং ধৈর্য দুটোই দরকার হয়। গল্প বলে, কার্টুন দেখিয়ে, সামনে খেলনার পাহাড় তৈরি করে দিয়ে তবে হয়তো শিশু খাবার তোলে মুখে। সবচেয়ে বেশি ঝামেলা হয় দুধ খাওয়ানো নিয়ে। ভাত, রুটি যদিও বা ভুলিয়ে খাওয়ানো সম্ভব হয়, দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে তা কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের সময় দুধ খাওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। দুধ না খেলে ক্যালশিয়ামের ঘাটতি হতে পারে শিশুর শরীরে, তাই শিশুর দুধ খাওয়ার প্রতি এই অনীহা চিন্তায় ফেলে বাবা-মায়েদের। সাধারণত দুধ বা দুগ্ধজাত খাবারকেই ক্যালশিয়ামের প্রধান উৎস বলে মনে করা হয়। তবে পুষ্টিবিদেরা বলছেন, রাগিতে দুধের থেকেও বেশি ক্যালশিয়াম থাকে। তাই যে শিশুদের ল্যাকটোজ়ে সমস্যা আছে, তারা রাগি দিয়ে তৈরি খাবার খেতেই পারে। ল্যাকটোজ়ে অ্যালার্জি না থাকলেও হাড় ও দাঁত মজবুত করতে শিশুদের রাগি খাওয়ানো যেতে পারে।
রাগি দিয়ে তৈরি ৩টি স্ন্যাক্স, যা চেটেপুটে খাবে বাড়ির খুদেরা
রাগি বিস্কুট: ঘিয়ের সঙ্গে গুড়, রাগির আটা, ওট্সের গুঁড়ো, এলাচগুঁড়ো, বেকিং সোড়া আর সামান্য দুধ দিয়ে একটি নরম আঠালো মণ্ড বানিয়ে নিন। এ বার ছোট ছোট লেচি কেটে কুকির আকার দিয়ে অভেনে বেকিং ট্রে-তে রাখুন। মিনিট দশেক ১৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বেক করে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে রাগি বিস্কুট।
রাগি চিপ্স: ধনেগুঁড়ো, আমচুর, চাটমশলা, কাশ্মিরী লঙ্কার গুঁড়়ো আর বিটনুন মিশিয়ে একটি মশলা বানিয়ে নিন। রাগির আটা, চালের গুঁড়ো গমের আটার সঙ্গে খানিকটা নুন আর ভাজা তিল মিশিয়ে জল দিয়ে মেখে নিন। এ বার মণ্ডটি থেকে লেচি কেটে রুটির মতো পাতলা করে বেলে নিন। এ বার পছন্দের আকারে কেটে কাঁটা চামচ দিয়ে তার উপরে ফুটো করে নিন। এয়ার ফ্রায়ারে অল্প তেল মাখিয়ে মিনিট দশেক ফ্রাই করে নিন। ইচ্ছে করলে ডুবো তেলে ভেজেও নিতে পারেন। মুচমুচে চিপ্সের উপর বানিয়ে রাখা মশলা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।
রাগি কাটলেট: সেদ্ধ আলু, গাজরকুচি, বিটকুচি, কাঁচালঙ্কাকুচি, ধনেপাতাকুচির সঙ্গে রাগির আটা, সুজি, চালের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এ বার একে একে গোলমরিচের গুঁড়ো, চাটমশলা আর নুন মিশিয়ে ভাল করে মেখে নিন। মিশ্রণটি থেকে ছোট ছোট কাটলেট বানিয়ে অল্প তেলে সেঁকে নিন।