জগন্নাথের মেনুতে মালপো-পায়েস-খাজা-গজা-পোলাও যা-ই থাকুক, পাঁপড়ভাজা কিন্তু দেখা যায় না! কিন্তু সেই মুচমুচে স্বাদ ছাড়া বাঙালির রথযাত্রা অসম্পূর্ণ। মাহেশ, মহিষাদল কিংবা গুপ্তিপাড়ার মতো প্রাচীন ও বিখ্যাত সব রথের মেলাতেও পাঁপড়ের মহিমা উজ্জ্বল। কলকাতার রথের মেলা-মানচিত্র জুড়ে নিমকি, খাজা, গজার পাশে শুধু পাঁপড় আর পাঁপড়। রথের দিন সন্ধ্যাবেলা বাঙালি বাড়িতে পাঁপড়ভাজা হবেই হবে!
এ বছর পাঁপড় শুধুই ভাজবেন না, তা-ই দিয়েই বানিয়ে ফেলুন মুচমুচে কিছু জলখাবার। রথের দিন স্বাদবদল করতে কী কী বানাতে পারেন, রইল রেসিপি।
স্প্রিং রোল: কড়াইতে তেল গরম করে রসুন ফোড়ন দিন। এ বার একে একে লম্বা করে কুচিয়ে রাখা বাঁধাকপি, গাজর, ক্যাপসিকাম, পেঁয়াজ কড়াইয়ে দিয়ে ভেজে নিন। মিশ্রণে টম্যাটো সস্, চিলি সস্, সয়া সস্, নুন আর গোলমরিচ দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে দিন। খানিকটা গ্রেট করা পনিরও মিশিয়ে নিন। এ বার তৈরি করা পুর ঠান্ডা করে নিন। যে কোনও মশলাপাঁপড় নিয়ে জলে হালকা ভিজিয়ে নিন। এ বার পাঁপড়ের মাঝে পুর দিয়ে স্প্রিং রোলের মতো করে মুড়িয়ে নিন। ডুবো তেলে ১ মিনিট অল্প আঁচে ভেজে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে পাঁপড়ের মুচমুচে স্প্রিং রোল।
পাঁপড়ের ট্যাকো: মাঝারি মাপের পাঁপড় সেঁকে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে একটি গ্লাসে মুড়িয়ে রেখে দিন। ঠান্ডা হলেই পাঁপড় ট্যাকোর আকার নিয়ে নেবে। একটি বাটিতে পেঁয়াজকুচি, টম্যাটাকুচি, সেদ্ধ কর্ন, শসাকুচি, ধনেপাতাকুচি, লেবুর রস, চাটমশলা, গোলমরিচ, টম্যাটো সস্, রেড চিলি সস্ আর নুন মিশিয়ে নিন। এ বার ট্যাকোতে আগেই বানিয়ে রাখা মিশ্রণটি ভরে দিন। উপর থেকে মেয়োনিজ ছড়িয়ে পরিবেশন করুন পাঁপড়ের ট্যাকো।
পাঁপড় পনির ফিঙ্গার: একে বারে নিরামিষ কিছু খেতে চাইলে বানিয়ে নিতে পারেন এই পদ। পনির ফিঙ্গারের মাপে লম্বা করে কেটে নিন। এ বার তার সঙ্গে টম্যাটো সস, গোলমরিচগুঁড়ো, নুন, ধনেপাতাকুচি, চাটমশলা ভাল করে মেখে নিন। পাঁপড় খানিকটা জলে ভিজিয়ে নিন। এ বার একটি পনিরের টুকরো পাঁপড়ের মাঝে রেখে রোলের মতো করে মুড়িয়ে নিন। ডুবো তেলে ভেজে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে পাঁপড়ের ফিঙ্গার।