কার্লোস আলকারাসকে যুক্তরাষ্ট্র ওপেন থেকে ছিটকে দিতে সাড়ে চার ঘণ্টা লড়তে হয়েছিল বেন শেলটনকে। ম্যাচ শেষ হতে হতে ভোর সাড়ে তিনটে বেজে গিয়েছিল। পরের দিনই নিজের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ থাকলেও শীর্ষবাছাই আলেকজান্ডার জ়েরেভ কিন্তু জেগে ছিলেন ম্যাচটা দেখতে। তার পরেও কোর্টে নেমে সহজেই জিতলেন জার্মানির তারকা। নেদারল্যান্ডসের বোতিক ফান দে জানডস্কুপকে তিনি হারান ৬-২, ৭-৫, ৬-১ ফলে। শেষ চারে তাঁর প্রতিপক্ষ ক্যারেন হাচানভ।
ম্যাচের পরে জ়েরেভ বলেছেন, ‘‘গত রাতে ভোর সাড়ে তিনটে পর্যন্ত শেলটনদের ম্যাচটা দেখেছি। ঘুমোতে যাইনি। দেরি করে ঘুম থেকে উঠেছি। এমন জয়ের জন্য কৃতিত্ব দিতে হবে বেনকে।’’ যোগ করেন, ‘‘অবিশ্বাস্য একটা ম্যাচ খেলেছে বেন। এর পরের সেমিফাইনালে দুই আমেরিকার খেলোয়াড়ের লড়াইটা বেশ জমবে বলেই মনে হচ্ছে।’’ সেমিফাইনালে অষ্টম বাছাই শেলটন মুখোমুখি একাদশ বাছাই ফ্রান্সেস টিয়াফোর।
এই জয়ে চলতি মরসুমে গ্র্যান্ড স্ল্যামে জ়েরেভের অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা বজায় থাকল। এই নিয়ে চলতি মরসুমে চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামেই সেমিফাইনালে উঠলেন তিনি। সব মিলিয়ে জিতেছেন ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ম্যাচ। ভেঙে দিয়েছেন ১৯৮৯ সালে বরিস বেকারের ২২ গ্র্যান্ড স্ল্যামে জয়ের রেকর্ড। তবে এ বারের যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের শুরুটা ভাল হয়নি তাঁর। দুটো ম্যাচে পাঁচ সেট লড়তে হয়েছে। অবশ্য তার পর থেকে ছন্দে ফিরেছেন তিনি। টানা তিনটি ম্যাচ জিতেছেন স্ট্রেস সেটে। জ়েরেভ বলেছেন, ‘‘প্রথম দুটো রাউন্ডে ভাল খেলতে পারিনি। কিন্তু আমি লড়াই করে গিয়েছি। চার-সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে ম্যাচ খেলেছি। তাই খুব খুশি সেমিফাইনালে উঠে।’’ এ বার তাঁর সামনে হাচানভ। যিনি তাঁর পরিচিত প্রতিপক্ষ। ২০২১ সালে অলিম্পিক্স সোনা জয়ের ম্যাচে দু’জন মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেখানে স্ট্রেট সেটে জিতেছিলেন জ়েরেভ। এ বার দেখার নিউ ইয়র্কে সেমিফাইনালে জ়েরেভের মুখেই ফের শেষ হাসি দেখা যায় কি না।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শেলটনের লড়াই ফ্রান্সেস টিয়াফোর বিরুদ্ধে। এই ম্যাচে যেই জিতুক। একটা ব্যাপার নিশ্চিত, এক জন আমেরিকানকে ফাইনালে দেখা যাবে। এর আগে দু’বার নিউ ইয়র্কে মুখোমুখি হয়েছেন তাঁরা। ২০২৩-এ শেলটন জেতেন। টিয়াফো জেতেন ২০২৪-এ।