যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে প্রথম রাউন্ডেই তাঁকে যে এতটা লড়াই করে জিততে হবে সেটা বোধহয় নিজেও ভাবতে পারেননি আলেকজ়ান্ডার জ়েরেভ। চলতি মরসুমে তিনি দুরন্ত ছন্দে আছেন। জীবনের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন এ বারের ফরাসি ওপেনে। উইম্বলডনে রানার্স। যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে তিনিই শীর্ষবাছাই। তাই অনেকেই তাঁকে টানা তিন নম্বর গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে ওঠার দৌড়ে এগিয়ে রাখছেন। সেই জ়েরেভকেই দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে পাঁচ সেট লড়তে হল। বিপক্ষে ছিলেন ইটালির লরেঞ্জো সনেগো। যাঁর বিশ্বর্যাঙ্কিং ৮৯। ফল ৬-৪, ৩-৬, ৬-৭ (৭), ৭-৫, ৬-৪।
দুরন্ত জয়ের পরে জ়েরেভ বলেছেন, ‘‘এই লড়াইটা জিততে পেরে খুশি। এটাই এই মুহূর্তে আমার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল।’’ একটা সময় ম্যাচটা হাতছাড়া হওয়ার থেকে স্রেফ দু’পয়েন্ট দূরে ছিলেন জ়েরেভ। কিন্তু ধৈর্য না হারিয়ে ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত জিতে নেন। দ্বিতীয় রাউন্ডে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন ফ্রান্সের কোয়েন্টিন হেলিস। যাঁর বিশ্বর্যাঙ্কিং ৫২।
নিউ ইয়র্কে মঙ্গলবার দাপট ছিল বৃষ্টিরও। যে জন্য আউটডোরে অনেক কোর্টেই খেলা শুরু হতে দেরি হয়। এর মধ্যে ছাদে ঘেরা আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে আমেরিকার ম্যাডিসন কিইজ়, কোকো গফ এবং টেলর ফ্রিৎজ় প্রথম রাউন্ডে জেতেন। ২০১৭ সালের রানার্স কিইজ়ের জয়ও সহজে আসেনি। গত বছর প্রথম রাউন্ডে ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি। এ বছর ঠিক সময়ে জেতার পথ খুঁজে পান তিনি রাশিয়ার আলিনা কর্নিভার বিরুদ্ধে। ফল ৭-৫, ৬-৪। ‘‘গ্র্যান্ড স্ল্যামের প্রথম রাউন্ডে খেলা সবসময়ই কঠিন। গোটা ম্যাচে যে ভাবে লড়াই করতে পেরেছি, তাতে খুশি।’’ জিতে বলেন তিনি।
চতুর্থ বাছাই কোকো গফ স্ট্রেট সেটে জেতেন তুরস্কের জেইনেপ সনমেজ়-এর বিরুদ্ধে। তবে জেতার পথে তাঁকে প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকটি দুরন্ত শটের মোকাবিলাও করতে হয়। যার প্রশংসা করেন গফ নিজেও। ম্যাচের পরে তিনি বলেছেন, ‘‘আমি প্রয়োজন পড়লে নিজের খেলাকে আরও এক ধাপ উন্নত করতে পারি। বিপক্ষকে পরীক্ষার মুখে ফেলতে পছন্দ করি।’’ ২০২৩ সালের চ্যাম্পিয়ন কোকোর গত বারের তুলনার এ বার প্রস্তুতি বেশ ভাল। উইম্বলডন এবং টরন্টোয় সেমিফাইনালে শেষ করার পরে তিনি সিনসিনাটিতে জিতেছেন। পাশাপাশি নজর ছিল ফরাসি ওপেন চ্যাম্পিয়ন ও এ বারের পঞ্চম বাছাই মিরা আন্দ্রিভার উপরেও। তিনি ইন্দোনেশিয়ার জ্যানিস জেনকে হারান ৬-২, ৬-২ ফলে। কেটি বোল্টারকে স্ট্রেট সেটে হারিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে উঠলেন কারোলিন মুখোভা। ফল ৬-১, ৬-০।