অভিষেক শর্মার দাপুটে ব্যাটিংয়ে ছারখার আফগানিস্তান। যেখানে থেমেছিলেন, সেখান থেকেই শুরু করলেন ভারতের ওপেনার। রবিবার দিল্লিতে অভিষেকের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ভর করে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানকে উড়িয়ে দিল ভারত। ৩৮ বল বাকি থাকতে জিতল সাত উইকেটে। ঘরের মাঠে অধিনায়ক হিসাবে প্রথম ম্যাচ জিতলেন শ্রেয়স আয়ার। তবে ফর্মে থাকা বৈভব সূর্যবংশীকে এই ম্যাচে না খেলানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ভারতের সামনে মাত্র ১৫৭ রানের লক্ষ্য রেখেছিল আফগানিস্তান। কিন্তু ভারতের এই ব্যাটিং লাইন-আপের সামনে কখনওই ল়ড়াই করার মতো রান ছিল না। একা অভিষেকই লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের বেশি রান করলেন। ছারখার করে দিলেন আফগানিস্তানের বোলিং। তবে আগের ম্যাচে ৮১ রান করা বৈভবকে কেন এই ম্যাচে খেলানো হল না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। টসের সময় শ্রেয়স আয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশনের কারণেই অভিষেককে খেলানো হয়নি। কিন্তু এ দিন ডানহাতি হিসাবে যাঁকে খেলানো হল সেই সঞ্জু স্যামসন মাত্র ১০ রান করলেন। বৈভব এই ম্যাচে রান করলে তার আত্মবিশ্বাস বাড়ত। সেই সুযোগ দিলেন না গৌতম গম্ভীরেরা।
টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতের অধিনায়ক শ্রেয়স। চোট সারিয়ে দীর্ঘদিন বাদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নেমেছিলেন জসপ্রীত বুমরাহ। প্রথম বলটিই বেরিয়ে গেল সঞ্জু স্যামসনের নাগাল এড়িয়ে। ওয়াইড-সহ পাঁচ রান এল। তবে দ্বিতীয় বলেই বুমরাহ বুঝিয়ে দিলেন, বাইরে থাকলেও তাঁর বলের ধার একটুও কমেনি। বুকের কাছাকাছি আসা বল কোনও মতে সামলেছিলেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ়। স্লিপে থাকা অভিষেক ক্যাচ ধরে নেন।
প্রথম ওভারেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল আফগানিস্তান। সেই চাপ কিছুটা কাটান ইব্রাহিম জ়াদরান এবং সেদিকুল্লাহ অটল। তা়ড়াহুড়ো নয়, বরং ধরে খেলে ইনিংস থিতু করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। তাতে অবশ্য রানের গতি কমে গেল অনেকটাই। কিন্তু কয়েক বলের ব্যবধানে সাজঘরে ফিরে যান জ়াদরান (১১) এবং অটল (১৩)। ক্রিজ়ে টিকতে পারেননি গুলবাদিন নাইব (২) এবং দারউইশ রসুলিও (২)।
৭ ওভারে ৪৩ রানে তখন ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল আফগানিস্তান। ভারতের বোলারেরা মাঠে আগুন ঝরাচ্ছিলেন। সেখান থেকে খেলা ধরেন আজ়মাতুল্লাহ ওমরজ়াই এবং মহম্মদ নবি। দীর্ঘ দিন ধরে ভারতে আইপিএল খেলার সুবাদে এই পিচ তাঁদের ভালমতোই চেনা। সেই সুযোগই কাজে লাগালেন তাঁরা। পরের ১০ ওভারে দুই ক্রিকেটারের জুটিতে উঠল ৮৩ রান।
সবচেয়ে আগ্রাসী ছিলেন ওমরজ়াই। ভারতের বোলিং আক্রমণকে রেয়াত করেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত খেলে অপরাজিত থাকলেন ৪৪ বলে ৬৪ রানে। মেরেছেন চারটি চার এবং চারটি ছয়। ২৭ বলে ৩৩ করেন নবি। পরের দিকে আফগানিস্তানের রান কমে গেল রশিদ খানের মন্থর ব্যাটিংয়ের কারণে। তিনি ব্যাটে বল লাগাতেই পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত ১০ বলে ১ রানে করে অর্শদীপের বলে অক্ষর পটেলের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে আউট হন।
কৌশলগত কারণে এ দিন বৈভব সূর্যবংশীকে খেলায়নি ভারত। ফলে অভিষেক শর্মার সঙ্গে ওপেন করতে নেমেছিলেন সঞ্জু। দলের আস্থার দাম দিতে পারেননি কেরলের ব্যাটার। দু’টি চারের সাহায্যে ৮ বলে ১০ রানেই শেষ হয় তাঁর ইনিংস।
অবশ্য এর পর অভিষেক এবং ঈশান যে খেলাটা শুরু করলেন, তাতে বৈভবের অনুপস্থিতি ঢেকে গেল। আফগানিস্তানের বোলারদের দম ফেলার সময়টুকু দেননি অভিষেক। মাঠের চারদিকে শট খেলেছেন তিনি। এক সময় মনে হয়েছিল তাঁর শতরান নিশ্চিত। কিন্তু ১১তম ওভারে মহম্মদ নবিকে তুলে মারতে গিয়ে রশিদের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ৩২ বলে ৮২ রানের ইনিংসে রয়েছে সাতটি চার এবং সাতটি ছয়।
আরও পড়ুন:
-
ক্রিকেট মাঠেও বন্দে মাতরম্! জাতীয় সঙ্গীতের আগে গাওয়া হল জাতীয় গান, প্রথম বার দেখা গেল ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচে
-
সানিয়া, সাইনাদের অপমানজনক মন্তব্য! ‘বিগ বস’-এ বলা কথার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন মেরি কম
-
২৭ কোটিতে কিনে ১৫ কোটিতে বিক্রি, ১২ কোটি ক্ষতি করানো পন্থের সঙ্গে নৈশভোজে যেতে চান লখনউ মালিক গোয়েন্কা
কিছু দিন আগে পূর্বাঞ্চলকে দলীপ ট্রফি জেতানো ঈশান এ দিন নেমেছিলেন সাদা বলের ক্রিকেটে। লাল বলের ক্রিকেটে ২৭১ রান করা ঈশান দলীপের আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, সাদা বলের সিরিজ়ের আগে এত কম সময়ের ব্যবধান নিয়ে। তবে অন্য একটি ফরম্যাটে খেলতে নেমেও তাঁর ব্যাটিংয়ে কোনও ফারাক দেখা গেল না। পাঁচটি চার এবং একটি ছয়ের সাহায্যে ৩৩ বলে ৪২ রান করলেন। দ্বিতীয় উইকেটে অভিষেকে সঙ্গে ১২১ রানের জুটি গ়ড়ে ম্যাচ শেষও করে দিলেন। ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশন নয়, ভারতকে জেতালেন দুই বাঁহাতিই।
দিনের শেষে তবু ভারতের দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেল। চোট সারিয়ে ফেরা নীতীশ কুমার রে়ড্ডিকে দিয়ে বল করানোর সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল না। তিনি ২ ওভারে দিলেন ৩০ রান। আর এক জোরে বোলার অলরাউন্ডার শিবম দুবে এক ওভারে ২১ রান দিয়েছেন। বোঝা গেল, জোরে বোলার-অলরাউন্ডার বিভাগে এখনও হার্দিক পাণ্ড্যের বিকল্প নেই ভারতের হাতে। ওয়াশিংটন সুন্দরকে অলরাউন্ডার হিসাবে নেওয়া হলেও তাঁকে দিয়ে বল করানো হয়নি।