Advertisement
E-Paper

নড়েচড়ে বসল ধোনির চেন্নাই, আইপিএলে ম্যাচ গড়াপেটার কথা ফাঁস করা ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ

আইপিএলে ম্যাচ গড়াপেটা করানোর দাবি করে হইচই ফেলে দিয়েছেন এক ক্রিকেটার। সেই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশেষ বৈঠক ডাকছে চেন্নাই। তাদের বার্তা, এই ঘটনার ‘শেষ দেখে’ ছাড়বে তারা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:১৬
cricket

চেন্নাই সুপার কিংস দল। — ফাইল চিত্র।

গত বছর আইপিএলে ম্যাচ গড়াপেটা করেছিলেন বলে দাবি করে ভারতের ক্রিকেটমহলে হইচই ফেলে দিয়েছেন এক ক্রিকেটার। সেই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশেষ বৈঠক ডাকছে চেন্নাই। তাদের বার্তা, এই ঘটনার ‘শেষ দেখে’ ছাড়বে তারা। কোনও ভাবেই এমন ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না।

সম্প্রতি একটি ওয়েবসাইটের স্টিং অপারেশনে ম্যাচ গড়াপেটার বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ্যে এনেছিলেন রাচিত ভাটিয়া নামে ওই ক্রিকেটার। এই প্রসঙ্গে ‘ক্রিকবাজ়’ ওয়েবসাইটে চেন্নাইয়ের এক কর্তা বলেছেন, “আমাদের বার্ষিক সাধারণ সভা কিছু দিন পরেই। তার আগে কর্তারা একত্রিত হবেন। সেখানেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।” স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় তিনি নিজের নাম প্রকাশ্যে আনতে চাননি।

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর সিএসকে-র বার্ষিক সাধারণ সভা। তার আগেই কর্তারা দেখা করবেন। জানা গিয়েছে, বিষয়টি যাতে শেষ পর্যন্ত গড়ায় তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে শূন্য সহনশীলতা নীতি নেওয়া হবে। অতীতে ম্যাচ গড়াপেটার কারণে দু’বছর নির্বাসিত হয়েছিল চেন্নাই। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাইছে না তারা।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার এক রঞ্জি ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে গোপন অভিযানে উঠে এসেছিল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওই ক্রিকেটারের কাছে আগে থেকেই চেন্নাইয়ের প্রথম একাদশ সংক্রান্ত তথ্য থাকত। তিনি তা জানিয়ে দিতেন জুয়াড়িদের। নাগাল্যান্ডের হয়ে রঞ্জি খেলা রাচিতের দাবি, ২০২৫ সালের আইপিএলে তিনি নিজেই ম্যাচ গড়াপেটা করতেন। ২০২৬ সালের আইপিএলের সময় জুয়াড়িদের কাছে সিএসকের প্রথম একাদশ সম্পর্কে তথ্য বিক্রি করতেন। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে রাচিতের দাবি, ২০২৫ সালের আইপিএলে পাঁচটি ম্যাচ গড়াপেটা করেছিলেন তিনি। প্রতিটি ম্যাচের জন্য ৬০ লাখ টাকা করে পেয়েছিলেন।

রাচিত বলেছেন, ‘‘আমি স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে লন্ডনের জুয়াড়িদের কাছে সিএসকের অভ্যন্তরীণ তথ্য পাচার করেছি। ২০২৫ সালের আইপিএলে পাঁচটি ম্যাচ গড়াপেটা করেছি। ম্যাচ প্রতি ৬০ লাখ টাকা করে মোট ৩ কোটি টাকা পেয়েছি।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘২০১৮-১৯ মরসুমে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ম্যাচ গড়াপেটা করেছি। ইচ্ছাকৃত দুটো ওয়াইড বল করেছিলাম। প্রতিটি বলের জন্য জুয়াড়িদের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা করে পাই। দুটো বলের জন্য ১৬ লাখ পেয়েছিলাম।’’

কী ভাবে ম্যাচ গড়াপেটা করা হয়, ম্যাচ প্রতি কত টাকা বিনিয়োগ করা হয়, সে সবও জানিয়েছেন রাচিত। তিনি জানিয়েছেন, টসের আগে প্রথম একাদশ সংক্রান্ত গোপন তথ্য সরবরাহ করা যায়। স্পট ফিক্সিংয়ের মাধ্যমে ম্যাচের কিছু মুহূর্ত প্রভাবিত করা যায়। আইপিএলের ম্যাচে প্রথম একাদশ সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার জন্য ৬০ লাখ টাকা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য ১ কোটি টাকা করে দেওয়া হত। রাচিতের দাবি, দিল্লি প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গেও জুয়াড়িদের যোগাযোগ রয়েছে। প্রথম একাদশ সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া বা স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য ৪০ লাখ টাকা করে পাওয়া যায়।

নাগাল্যান্ডের রঞ্জি দলে জায়গা পাওয়ার জন্যও ঘুষ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রাচিত। তিনি বলেছেন, ‘‘নাগাল্যান্ডের রঞ্জি দলে জায়গা নিশ্চিত করার জন্য ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলাম। তার পর ২০১৮-১৯ মরসুমে আমার রঞ্জি অভিষেক হয়।’’ আইপিএলের ম্যাচ গড়াপেটা নিয়ে রাচিত বলেছেন, ‘‘২০২৬ সালে ম্যাচ গড়াপেটা নিশ্চিত করার জন্য প্রথমে পছন্দের বা নির্দিষ্ট ক্রিকেটারকে প্রথম একাদশে ঢোকাতে হত। তা হলে ম্যাচ গড়াপেটা বা স্পট ফিক্সিং করা আর কঠিন হত না। আইপিএলের সময় চেন্নাইয়ের যে ক্রিকেটার গড়াপেটায় সাহায্য করেছে, সে দিল্লি প্রিমিয়ার লিগেও খেলবে। আইপিএল ম্যাচ গড়াপেটার জন্য ৬০ লাখ টাকা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য ১ কোটি টাকা দেওয়া হয়। দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে ৪০ লাখ করে দেওয়া হয়।’’

CSK match fixing

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy