রঞ্জি ট্রফির মাঝে ডামাডোল মেঘালয় দলে। মেঘালয় রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে রঞ্জির প্লেট গ্রুপে নাগাল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগের দিন গোটা দলই নিলম্বিত (সাসপেন্ড) হল। এত দিন যে দল খেলেছে, সেই দলের কোনও ক্রিকেটারই নাগাল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেললেন না। সম্পূর্ণ নতুন দল গঠন করা হয়।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম তিন ম্যাচের দল নির্বাচন করেছিল মেঘালয় ক্রিকেট সংস্থার (এমসিএ) অ্যাপেক্স কাউন্সিল। ওই অ্যাপেক্স কমিটির সঙ্গে বেশ কিছু দিন ধরেই বিরোধ চলছে এমসিএ সভাপতি জেমস সাংমার সঙ্গে। কারণ যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত সংস্থার সচিব রোনাল্ড খারকামনিকে সাংমা নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করেছিলেন। অভিযোগ প্রমাণের আগেই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে আপত্তি তোলে অ্যাপেক্স কাউন্সিল। বিরোধ গড়ায় হাই কোর্ট পর্যন্ত।
নাগাল্যান্ড ম্যাচের আগে হাই কোর্ট সাংমার পক্ষে রায় দেওয়ায় তৈরি হয়েছে সমস্যা। হাই কোর্ট খারকামনির উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে এবং তাঁর অধীনে গৃহীত প্রস্তাবগুলিকে অবৈধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে সাংমাকে নতুন করে দল তৈরির নির্দেশ দেয়।
আদালতের রায়ের আগে প্রথম তিন ম্যাচ খেলা দল নাগাল্যান্ড ম্যাচের প্রস্তুতি শেষ করে। নিয়ম মতো ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকও করে ফেলে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ম্যাচ রেফারি অরিন্দম সরকারও। অরিন্দম আশ্বস্ত করে বলেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এই দলকে স্বীকৃতি দেওয়ায় তাদের খেলতে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু তার পরই ক্রিকেটারেরা ফোন পেতে শুরু করেন। তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়, হাই কোর্টের নির্দেশে পুরো দল বাতিল করা হয়েছে। তাঁরা কেউ যেন মাঠে না নামেন। এর মধ্যেই দলের ম্যানেজারের কাছে হুমকি ফোন আসে বলে অভিযোগ। তিনি দল ছেড়ে চলে যান। গোটা বিষয়টি ম্যাচ রেফারিকে জানান মেঘালয়ের অধিনায়ক। তিনি সব শুনে স্টেডিয়াম থেকে হোটেলে ফিরে যান। কারণ তাঁর বিশেষ কিছু করার ছিল না।
তড়িঘড়ি নতুন দল তৈরি করা হয়। পাঠিয়ে দেওয়া হয় বিসিসিআইকে। হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে বিসিসিআইও মেঘালয়ের নতুন দলকে রাত ১১টায় স্বীকৃতি দেয়। তবে নতুন দলের ক্রিকেটারেরাও ম্যাচের দিন সকালে মাঠে এসে সমস্যায় পড়েন। সাজঘর বন্ধ থাকায় তাঁরা ঢুকতে পারেননি। তাঁরা পুলিশে খবর দেন। বিষয়টি জানানো হয় সাংমাকেও। পুলিশ হস্তক্ষেপ করার আগেই এমসিএ সভাপতি সাজঘর খোলার ব্যবস্থা করেন। সমস্যার জন্য ক্রিকেটারদের কাছে ক্ষমা চান।
আরও পড়ুন:
শুধু রঞ্জি দলই নয়, হাই কোর্টের নির্দেশে বদলে গিয়েছে মেঘালয়ের অনূর্ধ্ব-২৩ দলও। সিকিমে একটি প্রতিযোগিতায় খেলতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। নতুন দল পাঠানো হচ্ছে।