আল সিব - ২
ইস্টবেঙ্গল - ০
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু’র পরের রাউন্ডে ওঠার আশা জিইয়ে রাখতে ওমানের আল সিবের বিরুদ্ধে জিততেই হত ইস্টবেঙ্গলকে। মঙ্গলবার চেনা যুবভারতীতে একের পর এক গোলের সুযোগ নষ্ট করে সম্ভাবনা শেষ করে ফেললে আন্তোনিয়ো লোপেজ় হাবাসের দল। ওমান থেকে জেতা ম্যাচ ড্র করে ফিরেছিল লাল-হলুদ শিবির। ঘরের মাঠে আরও খারাপ ফল হল। শেষ ৫ মিনিটে ২ গোল খেয়ে মাঠ ছাড়ল ইস্টবেঙ্গল।
আগের তিন ম্যাচে ২ পয়েন্ট পাওয়া ইস্টবেঙ্গল শুরুটা করেছিল আগ্রাসী মেজাজে। গ্রুপে ইস্টবেঙ্গলের তিন প্রতিপক্ষের মধ্যে দুর্বলতম আল সিব। তবু প্রতিযোগিতার চতুর্থ ম্যাচেও জয় অধরা থাকল। ৪ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কঠিন করে ফেলল লাল-হলুদ ব্রিগেড। গ্রুপের বাকি দু’টি ম্যাচ জিতলেই শুধু হবে না। হাবাসের দলকে তাকিয়ে থাকতে হবে গ্রুপের অন্য ম্যাচগুলির ফলাফলের দিকেও। বড় অঘটন না ঘটলে ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে পরের পর্বে যাওয়া সম্ভব নয়।
ম্যাচের ৪ মিনিটে প্রথম সুযোগ নষ্ট করেন এডমুন্ড লালরিন্ডিকা। এর পর একের পর এক সুযোগ নষ্ট করেছেন দানি রামিরেজ়, মহম্মদ রশিদেরা। ভাল আক্রমণগুলি ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারেরা নষ্ট করেছেন বাইরে মেরে বা দুর্বল শট নিয়ে। আল সিবের গোলরক্ষক ইব্রাহিম সালেহ আল মুখাইনিকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারেননি তাঁরা। ১৭ মিনিটে হ্যাস্ট্রিংয়ে টান ধরায় মাঠ ছাড়তে হয় আনোয়ার আলিকে। তাতে কিছুটা সমস্যায় পড়ে ইস্টবেঙ্গল। যদিও ম্যাচের রাশ ছিল ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের পায়েই।
প্রথমার্ধের খেলা গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়ায় লাল-হলুদ। তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। বরং ৪৯ মিনিটে পিছিয়ে পড়তে পারত ইস্টবেঙ্গল। আল সিবের অ্যাক্সেল মেয়ের হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। গোলের খোঁজে ৬০ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করেন হাবাস। ডেভিডকে তুলে নামান একে লোবাকে। জিকশন সিংহের পরিবর্তে নামান রোহিত কুমারকে। ঠিক ১ মিনিট পরেই ম্যাচের অন্যতম সহজ সুযোগ নষ্ট করেন রামিরেজ়। তাঁর শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন মুখাইনি। মরিয়া হাবাস ৭১ মিনিটে আবার জোড়া পরিবর্তন করেন। লালরিন্ডিকা এবং বিপিনকে তুলে নামান লুকাজ় জ়লনস্কি, হার্দিক ভাটকে। ৭৬ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক ফুরবা লাচেনপা দলের প্রায় নিশ্চিত পতন রুখে দেন।
যদিও শেষ পর্যন্ত হার বাঁচাতে পারল না ইস্টবেঙ্গল। ৮৫ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল করেন আল সিবের অ্যাক্সেল। লাচেনপা জায়গায় থাকলেও বলটা আটকাতে পারেননি। এই সময় লাল-হলুদ ডিফেন্স প্রায় দাঁড়িয়ে যায়। এগিয়ে যাওয়ার পর আল সিব আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়। দিশেহারা হয়ে পড়ে ইস্টবেঙ্গল। সংযুক্ত সময়ের প্রথম মিনিটেই দ্বিতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করে ফেলে ওমানের দল। অ্যাক্সেল মাঝমাঠ থেকে বল দেন বক্সের বাঁ দিকে থাকা আল আঘবারিকে। সামনে একা লাচেনপাকে পেয়ে গোল করতে ভুল করেননি তিনি।
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার হারের ফলে চার ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্ট হল ২। গ্রুপের সবচেয়ে নিচে চলে গেল হাবাসের দল। চার ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এল আল সিব। ৩ ম্যাচে ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে আল শোর্তা। ৩ ম্যাচে ৫পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আল হুসেন। গ্রুপের সেরা দু’টি দল উঠবে পরের রাউন্ডে।