প্রথম ইনিংসেই তারা এগিয়ে ছিল ৩৭২ রানে। দলীপ ট্রফির ফাইনালে চতুর্থ দিনের শেষে সেই লিড আরও বাড়িয়ে নিল পূর্বাঞ্চল। দিনের শেষে তারা এগিয়ে ৫৮৪ রানে। আর এক দিনেরই খেলা বাকি। ফলে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবাদে ১৪ বছর পর দলীপ আসতে চলেছে পূর্বাঞ্চলের ঘরে। দ্বিতীয় ইনিংসে ২১২/৫ তুলেছে তারা।
শেষ বার ২০১২-১৩ মরসুমে দলীপ জিতেছিল পূর্বাঞ্চল। তার আগের বছরেও ট্রফি জিতেছিল। সেই হিসাবে ১৪ বছর পর ট্রফি জেতার সামনে পূর্বাঞ্চল। তবে মাঝে পাঁচ বছর আঞ্চলিক ফরম্যাটে খেলা হয়নি। দু’বছর কোভিডের কারণে এই প্রতিযোগিতা হয়নি।
ঈশান কিশনের দ্বিশতরানে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৭০৮ রান তুলেছিল পূর্বাঞ্চল। জবাবে ৩৩৬ রানে শেষ হয় দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম ইনিংস। ৩৭২ রানে এগিয়ে ছিল পূর্বাঞ্চল। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচের ফয়সালা না হলে প্রথম ইনিংসে যে দল এগিয়ে থাকে তারাই জেতে। সেই হিসাবে পাঁচ দিনে দলীপ ফাইনালের ফলাফল না হলেও প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবাদে ট্রফি জেতার কথা পূর্বাঞ্চলেরই। ক্রিকেট মহান অনিশ্চয়তার খেলা হলেও এখন পরিস্থিতি যা, তাতে পূর্বাঞ্চলকে হারতে হলে অলৌকিক কিছু হতে হবে।
তৃতীয় দিনের শেষে ২৪২ রানে ৬ উইকেট হারিয়েছিল দক্ষিণাঞ্চল। এ দিন সেখান থেকে খেলা শুরু করে তারা। তবে চামা মিলিন্দ এবং তিলকের জুটিকে বিপদে ফেলতেই পারছিলেন না পূর্বাঞ্চলের বোলারেরা। দু’জনে ধীরে ধীরে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। এমন সময় দক্ষিণাঞ্চলকে ধাক্কা দেন শিখর মোহন। তিনি ফেরান মিলিন্দকে (৪৩)। এর পরেই ধসে যায় দক্ষিণাঞ্চলের ইনিংস।
শতরানের দিকে এগিয়ে যেতে থাকলেও তিলক বুঝতে পেরেছিলেন সময় কম। তাই চালিয়ে খেলতে গিয়ে ৯৯ রানের মাথায় কৌনাইন কুরেশির বলে তাঁর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি।
আরও পড়ুন:
-
জাতীয় দলে হার্দিককে ফেরানোর তোড়জোড় শুরু, ভারত এ দলে সুযোগ অলরাউন্ডারকে, অস্ট্রেলিয়া এ সিরিজ়ের দল ঘোষিত
-
এশিয়ান গেমসের আগে বিপদ, বৃষ্টিতে বানভাসি জাপানের আয়োজক শহর নাগোয়া, ক্রীড়াবিদদের ঘরের ছাদ ফুটো হয়ে পড়ল জল
-
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে গৃহযুদ্ধ! বিবিএলে বেসরকারিকরণের বিরোধিতা বাড়ছে, অখুশি এক ক্রিকেটারও
প্রচুর রানে এগিয়ে থাকলেও বোলারদের বিশ্রাম দিতে পূর্বাঞ্চল যে ফলো-অন করাবে না এটা প্রত্যাশিতই ছিল। সেটাই হয়। তবে পূর্বাঞ্চলের দুই ওপেনার রান পাননি। ৮ রানের মাথায় আচমকা এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হয় বৈভব সূর্যবংশী। অপর ওপেনার অভিমন্যু ঈশ্বরণ প্রথম ইনিংসে অর্ধশতরান করলেও এ দিন ৩ রানেই ফিরে যান। রঞ্জি শুরুর আগে বাংলার ব্যাটারের ফর্ম চিন্তায় রাখবে। একই ভাবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি সুদীপ ঘরামিও। প্রথম ইনিংসে ব্যর্থতার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ২ রানে আউট হন।
তার আগে পূর্বাঞ্চলের দুই ব্যাটার দাপট দেখান। ১৩ রানে ২ উইকেট হারানো পূর্বাঞ্চলকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন ঈশান কিশন এবং মোহন। তৃতীয় উইকেটে ১২৬ রানের জুটি গড়েন ২৮.২ ওভারে। এর মধ্যে ঈশান প্রথম ইনিংসে দ্বিশতরানের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও শতরানের দিকে এগোচ্ছিলেন। তবে ৮০ রানের মাথায় চালিয়ে খেলতে গিয়ে উইকেট দেন। ৫২ করেন মোহন।
এই দুই ব্যাটারের পাশাপাশি সুদীপও আউট হওয়ায় মিডল অর্ডার হঠাৎই চাপে পড়ে যায়। সেখান থেকে দলকে টানেন কুমার কুশাগ্র এবং কৌনাইন কুরেশি। কুশাগ্র ৩৪ এবং কুরেশি ২৬ রানে অপরাজিত। পঞ্চম দিনে আরও কিছুটা রান তুলে ইনিংস ডিক্লেয়ার করতে পারে পূর্বাঞ্চল। এর পর দক্ষিণাঞ্চলের কাছে বিকল্প থাকবে শুধু হার এড়ানোর।