৯ বছর আগেও ভারতীয় ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় প্রতিভা ধরা হত তাঁকে। তুলনা করা হত সচিন তেন্ডুলকরের সঙ্গে। বলা হত, ভারতের পরবর্তী সচিন হয়ে উঠবেন তিনি। শুরুটাও করেছিলেন তেমন। কিন্তু তার পর ক্রমশ পিছিয়ে গেলেন। এখন ঘরোয়া ক্রিকেটেও দল পান না। ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছেন পৃথ্বী শ। কেরিয়ারের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও জর্জরিত।
২০১৭ সালে ভারতীয় ক্রিকেটে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছিলেন পৃথ্বী। পরের বছর তাঁর নেতৃত্বে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতে ভারত। সেই দলেই ছিলেন শুভমন গিল। তিনি এখন ভারতের টেস্ট ও এক দিনের দলের অধিনায়ক। অথচ, শুভমনের অনেক আগে জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল মুম্বইয়ের পৃথ্বীর।
২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে টেস্টে অভিষেক হয়েছিল পৃথ্বীর। ওপেন করতে নেমে প্রথম ইনিংসেই শতরান করেছিলেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক দিন ও ২০২১ সালের জুলাইয়ে টি-টোয়েন্টি দলেও অভিষেক হয় পৃথ্বীর। কিন্তু ২০২১ সালেই শেষ বার ভারতীয় দলের জার্সিতে দেখা গিয়েছিল পৃথ্বীকে।
পাঁচ টেস্টে ৪২.৩৭ গড়ে ৩৩৯ রান করেছেন পৃথ্বী। ছ’টি এক দিনের ম্যাচে করেছেন ১৮৯ রান। একটি মাত্র টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। রান করতে পারেননি।
শুধু রানের খরা নয়, পৃথ্বীর পিছিয়ে পড়ার বড় কারণ তাঁর শৃঙ্খলার অভাব। ওজন ক্রমশ বেড়ে গিয়েছিল। ফিটনেসের অভাব ছিল। পাশাপাশি ক্রিকেটের বাইরে নানা বিতর্কে জড়াতে শুরু করেছিলেন তিনি। ফলস্বরূপ সুযোগ বন্ধ হয়ে যায় তাঁর।
আরও পড়ুন:
আইপিএলে প্রথম কয়েকটি মরসুমে ধারাবাহিক ভাবে সুযোগ পেলেও একটা সময় তা বন্ধ হয়ে যায়। মুম্বইয়ের ঘরোয়া দলেও জায়গা হারান পৃথ্বী। বাধ্য হয়ে মুম্বই ছেড়ে মহারাষ্ট্রের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। মহারাষ্ট্রের হয়ে রঞ্জিতে ভাল করে আবার জাতীয় দলে ফেরার চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু সেই সম্ভাবনাও খুব কম।
এই ডামাডোলের মাঝে মুম্বইয়ে এক তরুণীর সঙ্গে বিবাদে জড়ান পৃথ্বী। তা নিয়ে থানা-পুলিশ হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পৃথ্বী সেই বিবাদ থেকে মুক্ত হন। চলতি বছর মার্চ মাসে আকৃতি অগ্রবাল নামের এক তরুণীর সঙ্গে বাগ্দান হয়েছিল পৃথ্বীর। যদিও সম্প্রতি জানা গিয়েছে, সেই বিয়েও ভেঙে গিয়েছে। অর্থাৎ, কেরিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও জর্জরিত ভারতের এক সময়ের প্রতিভাবান ক্রিকেটার।