রোহিত শর্মার এখনই অবসর নেওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। আরও কিছু দিন তিনি এই ফরম্যাটে খেলা চালিয়ে যাবেন। বৃহস্পতিবার বোর্ডের বৈঠকে তা স্পষ্ট করে দিলেন সচিব দেবজিৎ শইকীয়া। ভারতীয় ক্রিকেটারদের ফিটনেস সমস্যা-সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরের অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
রোহিতকে নিয়ে বোর্ডের কী পরিকল্পনা তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল বৈঠকে। জানা গিয়েছে, কর্তারা রোহিতকে এই ফরম্যাটে রেখে দেওয়ার পক্ষে। এখনই অবসরের পক্ষে মত নেই তাঁদের।
বৈঠকের পর সচিব শইকীয়া বলেন, “রোহিত তো প্রতিটা ম্যাচেই ভাল খেলছে। তা হলে আর কী চান আপনারা? আগের ম্যাচেও ১৩০-১৪০ রান করেছে। আর কি জল্পনার কোনও জায়গা রয়েছে? দয়া করে কোনও জল্পনায় ইন্ধন জোগাবেন না।” শইকীয়া এ কথা বললেও বোর্ডের নির্বাচক এবং কোচ যে একমত নন এটা আগেই বোঝা গিয়েছিল। সচিবের এমন কথায় স্পষ্ট যে রোহিতের জায়গা নিয়ে আর কোনও সমস্যা নেই।
এ দিন বিকেলের বৈঠকে শুভমন গিল, শ্রেয়স আয়ার, গৌতম গম্ভীর এবং ভিভিএস লক্ষ্মণ যোগ দেন। বোর্ডের তরফে শইকীয়া ছাড়াও সভাপতি মিঠুন মনহাস ছিলেন। তবে কথা থাকলেও বৈঠকে যোগ দেননি আগরকর। ‘ক্রিকবাজ়’-এর দাবি, তিনি শহরে ছিলেন না। এমন জায়গায় ছিলেন যেখানে ইন্টারনেট ছিল না। ফলে অনলাইনেও যোগ দিতে পারেননি।
এ নিয়ে শইকীয়া বলেন, “আজ ও শহরে ছিল না। এই বৈঠক খুব দ্রুত ডাকা হয়েছে। কিন্তু শহরে না থাকায় ও যোগ দিতে পারেনি। এমন জায়গায় ছিল যেখান থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমেও যোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।”
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় ক্রিকেটারদের চোট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোচ, নির্বাচকদের সঙ্গে উৎকর্ষ কেন্দ্রের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেটিও উড়িয়ে দিয়েছেন শইকীয়া। তাঁর দাবি, “সকলেই একমত। তেল দেওয়া ইঞ্জিনের মতো কাজ করছে বোর্ডের সব বিভাগ। সকলের মধ্যে সুনির্দিষ্ট যোগাযোগ রয়েছে। সেটা মহিলা দলের বিভিন্ন কমিটি, তাদের টেকনিক্যাল স্টাফ বা কোচ যে-ই হোক না কেন। পুরুষ দলের কোচিং স্টাফ এবং কোচের সঙ্গেও উৎকর্ষ কেন্দ্রের যোগাযোগ রয়েছে। কোনও রকম সমস্যা হচ্ছে না। সকলে একই দিকে এগোচ্ছেন।”
ক্রিকেটারদের এত চোট পাওয়ার নেপথ্যে অত্যধিক ম্যাচ খেলাকেই দায়ী করেছেন শইকীয়া। ভবিষ্যতে ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “এত ম্যাচ খেলতে হচ্ছে বলেই ক্রিকেটারেরা চোট পাচ্ছে। ওদের সূচির দিকে তাকান। ইংল্যান্ডে ১৫ সদস্যের দল পাঠানো হয়েছিল এক দিনের সিরিজ়ে। তার মধ্যে তিন-চার জন চোট পেয়েছে। এগুলো আমাদের মাথায় রাখতে হবে। কারণ, তার আগে ওরা দু’মাস আইপিএল খেলে। এর প্রভাব শরীরের উপরে পড়বেই।”
আরও পড়ুন:
শইকীয়ার আশ্বাস, “সূচিতে এই সমস্যা আমাদের মাথায় রয়েছে। চোটের পর কোনও ক্রিকেটার কী ভাবে মাঠে ফিরবে তার জন্য একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। আমরা কোচ এবং অধিনায়কের থেকে প্রতিক্রিয়া চেয়েছি যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায় এবং সঠিক ভাবে পরিকল্পনা করা যায়। পরের ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রামে আমরা চেষ্টা করব যাতে ক্রিকেটারেরা যথাযথ বিশ্রাম পায়, পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এবং বড় দেশগুলির বিরুদ্ধে সিরিজ়ের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারে।”
আগরকর গম্ভীরের ডানা ছাঁটতে লক্ষ্মণকে ক্রিকেট ডিরেক্টর হিসাবে নিয়োগ করার জল্পনা হয়েছিল। তবে শইকীয়া স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এখনই লক্ষ্মণকে কোনও নতুন ভূমিকায় আনা হচ্ছে না। নির্বাচক কমিটিতেও কোনও পরিবর্তন করা হচ্ছে না। শইকীয়া বলেছেন, “এ নিয়ে বৈঠকে কোনও আলোচনা হয়নি।”
এ দিনের বৈঠকে ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডে দলের ব্যর্থতা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। সে বিষয়ে শইকীয়া বলেছেন, “আলোচনা হয়েছে। আগামী এক বছরে কী করব সেটা নিয়ে ভাবনা শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা তৈরি। ২০২৭ বিশ্বকাপে যাতে ভাল ফল করতে পারি তার জন্য কিছু পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।”