এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটারদের থাকা এবং খেলার ব্যবস্থা নিয়ে খুশি নয় এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)। অসন্তুষ্ট ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-সহ (বিসিসিআই) পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের বোর্ডও। আইচি নাগোয়া গেমসের আয়োজকদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেও সমাধানসূত্র পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় সারির দল পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারত। পরিস্থিতি সামলাতে এ বার আসরে নামল জাপানের ক্রিকেট সংস্থা।
এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড় এবং কোচদের জন্য কিছু আবাসনের ব্যবস্থা করেছেন জাপানের আয়োজকেরা। আবাসনগুলি গেমস ভিলেজ থেকে বেশ কিছুটা দূরে, মূল শহরে। ব্যবস্থা করা হয়েছে কিছু তাঁবু এবং নোঙর করা জাহাজের। কয়েক দিন আগে জাপান জানিয়ে দিয়েছে, ১৫ হাজারের বেশি এক জনের জন্যও তারা ব্যবস্থা করতে পারবে না। কোনও ভাবেই গেমসের বাজেট বৃদ্ধি সম্ভব নয়। ফলে এসিসি, বিসিসিআইয়ের অসন্তোষ আরও বৃদ্ধি পায়। এসিসি আয়োজকদের জানিয়ে দেয়, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের মতো প্রথম সারির দলগুলি সেরা ক্রিকেটারদের পাঠাতে রাজি নয়। এতে এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের আকর্ষণ কমবে।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ খুলল জাপানের ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থার সিইও নাওকি অ্যালেক্স মিয়াজি সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, ‘‘ক্রিকেট দলগুলো নিজেদের পছন্দমতো হোটেলেও থাকতে পারে। গেমসের আয়োজক কমিটির সঙ্গে ক্রিকেটারদের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে আলোচনা চলছে এসিসির। ক্রিকেট দলগুলোকে হোটেলের থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। বাকি খেলার অনেক দলই সীমিত ব্যবস্থায় রাজি হয়েছে। তাঁবু বা জাহাজে থাকবে তারা। তা ছাড়া, যে কোনও দল চাইলে নিজেদের মতো হোটেলের ব্যবস্থা করতে পারে।’’
মিয়াজি আরও বলেছেন, ‘‘দু’রকম ব্যবস্থা থাকছে গেমস ভিলেজে। স্থায়ী এবং অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। খেলোয়াড়দের জন্য নির্ধারিত এলাকার মধ্যেই শৌচালয়ের ব্যবস্থা থাকবে। মাঠের সুবিধাগুলো অস্থায়ী। সময় সীমিত। সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তার মধ্যেই সেরা ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। গেমস আয়োজক কমিটি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এসিসির সঙ্গে।’’
সাজঘরের ব্যবস্থা নিয়েও আপত্তি তুলেছে বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট সংস্থা। তা নিয়ে মিয়াজি বলেছেন, ‘‘সাজঘরগুলি অস্থায়ী ঠিকই। তবে প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। আরামদায়ক সাজঘর তৈরি করা হয়েছে। মাঠের পাশে স্থায়ী পরিকাঠামোও রয়েছে। ক্রিকেটারেরা সেগুলোও ব্যবহার করতে পারবেন।’’
এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট হবে নিশিনের কারোগি স্পোর্টস পার্কে। আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পূর্ব এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচও হবে এই মাঠে। তা নিয়ে জাপানের ক্রিকেট সংস্থার সিইও বলেছেন, ‘‘গত ১৭ মাস ধরে এই মাঠটাকে তৈরি করা হয়েছে। আমাদের একদম শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছিল। কারণ, আইচিতে ক্রিকেটের কোনও পরিকাঠামো ছিল না। সময় এবং অর্থও সীমিত। তার মধ্যেও আমরা সেরা মানের পরিকাঠামো তৈরি করেছি। ক্রিকেটের প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা হয়েছে। পূর্ণ আয়তনের মাঠ তৈরি করা হয়েছে। সেরা পিচ প্রস্তুতকারীকে এনেছি আমরা। অন্য জায়গায় পিচ তৈরি করে মাঠে বসানো হয়েছে। সাহায্যের জন্য শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে ধন্যবাদ দেব। যা যা করা সম্ভব ছিল, সব করা হয়েছে। এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট সেরা মানের মাঠেই হবে।’’
আরও পড়ুন:
অলিম্পিক কাউন্সিল অফ এশিয়া (ওসিএ) সোমবার বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘এশিয়ান গেমসের অনুমোদিত অংশগ্রহণকারীদের বাসস্থানের ব্যাপারে কিছু ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। অলিম্পিক কাউন্সিল অফ এশিয়া এবং আইচি নাগোয়া গেমস আয়োজক কমিটি নিশ্চিত করছে, নির্ধারিত সময়ের (জুলাই) মধ্যে এশিয়ান গেমসের জন্য নথিভুক্ত ১৭ হাজারের বেশি খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তার জন্য গেমস উপযোগী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ এবং ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া আর কারও নাম নথিবদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। হবেও না। ইতিহাসের সবচেয়ে জমকালো এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি সঠিক এবং মসৃণ ভাবে চলছে।’’