ব্রাজিল, উরুগুয়ে, পানামা— বিশ্বকাপ খেলা তিনটি দলকে পর পর ভারতে এনে ফুটবলপ্রেমীদের চমকে দিতে চেয়েছিল সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)। তিনটি ম্যাচ নির্বিঘ্নে মিটলেও আয়-ব্যায়ের হিসেব দেখে চমকে গিয়েছেন কল্যাণ চৌবেরাই। বাজারে ফেডারেশনের দেনা এখন ৮৫ কোটি টাকা। সমস্যা মেটাতে ফেডারেশনের স্থানী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট) ভাঙার প্রস্তাব দিয়েছেন কল্যাণ।
পানামার সঙ্গে ড্র করলেও ব্রাজিল এবং উরুগুয়ের কাছে হেরেছে ভারত। তবে খালিদ জামালের ছেলেদের লড়াই প্রশংসা পেয়েছিল। খুশি হয়েছিলেন ফুটবলপ্রেমীদের একাংশও। কিন্তু তিনটি ফিফা প্রীতি ম্যাচের খরচ বিপাকে ফেলে দিয়েছে ফেডারেশনকে। সূত্রের খবর, এআইএফএফের আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ ৮৫ থেকে ৯০ কোটি টাকা। সমস্যা মেটাতে রবিবার ফেডারেশনের বিশেষ সাধারণ সভায় স্থায়ী আমানত ভেঙে ফেলার প্রস্তাব দেন সভাপতি কল্যাণ। যদিও বেশ কয়েক জন সদস্য তাঁর এই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছেন।
ফেডারেশনের এক কর্তা সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, ‘‘আর্থিক ঘাটতি সামলাতে আপাতত স্থায়ী আমানত ভেঙে টাকা তোলা হোক। পরে অন্য কোনও সূত্র থেকে টাকা তুলে আবার আমানত করে দেওয়া হবে।’’ তবে ঘাটতি ঠিক কত টাকার তা বৈঠকে প্রকাশ করা হয়নি ম্যাচ আয়োজনের চুক্তির গোপনীয়তার শর্তের জন্য।
কল্যাণের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন ফেডারেশনের স্পেশাল জেনারেল বডির সদস্যেরা। তাঁদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য ফেডারেশনে প্রাক্তন সভাপতি প্রফুল পটেল। তিনি বলেন, ‘‘তিনটি ম্যাচ আয়োজন করে ফেডারেশন খুব ভাল কাজ করেছে। তার জন্য ফেডারেশন আর্থিক ভাবে খারাপ জায়গায় যেতে পারে না। স্থায়ী আমানত ভাঙলে, কী ভাবে তা নতুন করে পূরণ করা সম্ভব? ম্যাচ আয়োজন হয়ে যাওয়ার পর কী করে স্পনসর পাওয়া যাবে!’’ ফেডারেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এন হরিশ বলেন, অনেক আগে কার্যনির্বাহী সমিতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনও অবস্থাতেই স্থায়ী আমানত ভাঙা যাবে না। চাপে পড়ে কল্যাণ বলেন, ব্রাজিল ম্যাচ নিয়ে এরকম কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি কার্যকরী কমিটিতে। ওই সিদ্ধান্ত অনেক আগের। তখন প্রফুল জানান, অনেক আগে হলেও ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটিতে একবার সিদ্ধান্ত হওয়ায়, স্থায়ী আমানত ভাঙা সম্ভব নয়। এটাই ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত। ব্রাজিল বা কোনও একটি ম্যাচের জন্য আলাদা নিয়ম হতে পারে না।
আরও পড়ুন:
এর পরই তিন ম্যাচের আয়-ব্যায়ের সম্পূর্ণ হিসেব চান এক সদস্য। তখন কল্যাণ জেনারেল বডির সদস্যদের সামনে হিসেব দিতে রাজি হননি। তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। কার্যনির্বাহী কমিটির এক সদস্য কল্যাণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এই সব সদস্যই আপনাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। চার বছর ধরে সব রকম ভাবে আপনাকে সাহায্য করেছেন। তা হলে তাঁদের সামনে হিসেব দিতে আপত্তি কেন? এর পর ঠিক হয়, হরিশের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হবে। সেই কমিটির কাছে তিনটি ম্যাচের সব হিসেব দেবে ফেডারেশন সভাপতি।