তিন বছর পর জাতীয় দলে ফিরে বিশ্বকাপ খেলেছেন নেমার। ব্রাজ়িলকে অবশ্য কোয়ার্টার ফাইনালেও তুলতে পারেননি। বিশ্বকাপ থেকে দল ছিটকে যাওয়ার পরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা করেন নেমার। তাঁর বাবা অবশ্য সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছিলেন। তা নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন ব্রাজ়িলীয় স্ট্রাইকার।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজ়িলের সর্বোচ্চ গোলদাতা আর দেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন না। স্যান্টোসকে জেতানোর পর নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নেমার। তিনি বলেছেন, ‘‘জাতীয় দলের সঙ্গে আমার পথ চলা শেষ। আমি ইতিহাস গড়েছি। আমি খুব খুশি। নিজের রক্ত দিয়েছি। জীবন দিয়েছি। সব সময় হলুদ জার্সির জন্য লড়াই করেছি। আর লড়াই করতে চাই না।’’
নেমার অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর তাঁর বাবা নেমার সিনিয়র বলেছিলেন, ‘‘তোমার এই পুরো পথের সঙ্গী ছিলাম। তোমার প্রথম গোল, সাফল্য, অভিষেক— সব স্মৃতি এখনও টাটকা। বড় বড় সব স্টেডিয়ামে খেলা, ট্রফি জেতা, বিদেশে যাওয়া, ব্রাজ়িল দলে সুযোগ— সব দেখেছি। চোখের সামনে দেখলাম আমার ছোট্ট ছেলেটা কী ভাবে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়ে উঠল। বাবা হিসাবে এর চেয়ে বেশি আর কী চাওয়ার থাকতে পারে।’’
শেষে ছেলেকে অনুরোধের সুরে নেমার সিনিয়র বলেছেন, ‘‘আমরা একসঙ্গে কেঁদেছি, হেসেছি, শিখেছি। উদ্যাপন করেছি। ঈশ্বরের আশীর্বাদ না থাকলে কখনও এই সাফল্য সম্ভব হত না। বাবা হিসাবে একটাই শেষ অনুরোধ, তুমি খেলা চালিয়ে যাও।’’ বাবার অনুরোধ সেই অনুরোধ রাখলেন না নেমার।
আরও পড়ুন:
২০১০ সালে ব্রাজ়িলের জার্সি গায়ে অভিষেক হয়েছিল নেমারের। পরের ১৬ বছরে দেশের জার্সিতে ১২৯টি ম্যাচ খেলেছেন নেমার। করেছেন ৮০ গোল, যা ব্রাজ়িলের ইতিহাসে সর্বাধিক। ব্রাজ়িলকে ২০১২ সালের অলিম্পিক্স রুপো, ২০১৬ সালের অলিম্পিক্সে সোনা ও ২০১৩ সালে কনেফেডারেশন্স কাপে চ্যাম্পিয়ন করেছেন নেমার। যে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন, সেই স্টেডিয়ামেই ব্রাজ়িলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেন ৩৪ বছরের ফুটবলার।