সপ্তাহখানেক আগে মোহনবাগানকে হারিয়ে দিয়েছিল তারা। এ বার ইস্টবেঙ্গলকে আটকে দিল ভবানীপুর। শুক্রবারের ম্যাচ শেষ হল ১-১ গোলে। টানা ছ’টি ম্যাচ জেতা হল না ভবানীপুরের। অন্য দিকে, ইস্টবেঙ্গল পর পর দু’টি ম্যাচ ড্র করে লড়াইয়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়ল।
এ দিন জিতলে ভবানীপুরকে টপকে শীর্ষে ওঠার সুযোগ ছিল তাদের কাছে। সেটা হল না। সাত ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ এ-র শীর্ষে ভবানীপুর। এক ম্যাচ কম খেলে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল। মোহনবাগান সাত ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে রয়েছে।
মোহনবাগানের পর ইস্টবেঙ্গল ম্যাচেও ভবানীপুরের উজ্জীবিত ফুটবল দেখা গেল। রঞ্জন চৌধুরির ছেলেরা বুঝিয়ে দিয়েছেন, বড় দলকে তারা ভয় পান না। এ দিনও নজর কাড়লেন সাহিল হরিজন এবং জিতেন মুর্মু। নিজেদের উজাড় করে ফুটবল খেলেছেন তারা। পর পর ম্যাচ জেতা ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে একটুও খামতি দেখা যায়নি তাঁদের পারফরম্যান্সে।
প্রথমার্ধে কোনও গোল হয়নি। তবে দুই দলই হাড্ডাহাড্ডি খেলেছে। ডান প্রান্ত থেকে বিজয় মুর্মু বার বার বিপদে ফেলেছেন ভবানীপুরকে। তেমনই ইস্টবেঙ্গলকে বেগ দিয়েছেন সাহিল। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেন ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারেরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় ভবানীপুর। সৌজন্যে লাল-হলুদের প্রাক্তন ফুটবলার শ্যামল বেসরা। বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে পোস্টের কোণ দিয়ে গোল করেন তিনি। এই গোলই চাঙ্গা করে দেয় ইস্টবেঙ্গলকে। ৪৯ মিনিটে বিজয়ের ক্রস থেকে কেউ মাথা ছোঁয়াতে পারেননি। তবে ৫২ মিনিটেই সমতা ফেরান অনন্তু এমএস। বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে দুরন্ত গোল করে সমতা ফেরান তিনি।
আরও পড়ুন:
এর পর ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের ঝড় আছড়ে পড়তে থাকে ভবানীপুরের অর্ধে। বিজয়ের ক্রস থেকে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি মনোতোষ চাকলাদার। ৭১ মিনিটে অল্পের জন্য এগিয়ে যেতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। অনন্তুর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। না হলে কলকাতা লিগের অন্যতম সেরা গোল হতে পারত এটি। কয়েক মিনিট পরেই ইস্টবেঙ্গলের সঞ্জীব ঘোষ একটি ভাল সুযোগ নষ্ট করেন। ৮৯ মিনিটে ভবানীপুরের রবি হাঁসদা অল্পের জন্য সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। তা হলে তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারত ভবানীপুর।
ম্যাচের শেষের দিকে উত্তেজনা তৈরি হয়। লাল কার্ড দেখানো হয় ভবানীপুরের ফিজিয়ো কুণাল ঘোষকে। তিনি এরিয়ান গ্যালারির দিকে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে হাতাহাতি করেন। রেফারিংকে দুষেছেন ভবানীপুরের কোচ রঞ্জন। তাঁর মতে, এ রকম হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে রেফপারিং আরও একটু ভাল হওয়া উচিত ছিল।