ফিফার ক্রমতালিকায় ভারতের (১৩৮) থেকে প্রায় ১০০ ধাপ এগিয়ে পানামা (৪৪)। সম্প্রতি তারা বিশ্বকাপ খেলে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে আর একটু হলেই অঘটন ঘটিয়ে দিচ্ছিল ভারতীয় দল। রায়ান উইলিয়ামসের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। দ্বিতীয়ার্ধে ওমর ভ্যালেন্সিয়া দুর্দান্ত গোলে সমতা ফেরান। তবে সুযোগ নষ্ট না করলে ভারত এই ম্যাচ জিততে পারত। অঘটন ঘটানোর থেকে বঞ্চিত হতে হল মনবীর সিংহ, গুরপ্রীত সিংহ সঁধুদের।
ব্রাজ়িল এবং উরুগুয়ে ম্যাচের আগে ভাল কোনও দলের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচ চেয়েছিলেন ভারতের কোচ খালিদ জামিল। পানামাকে রাজি করানো গিয়েছিল খেলার ব্যাপারে। সদ্য বিশ্বকাপ খেলে আসা পানামার বিরুদ্ধে ভারতীয় দল দেখিয়ে দিল, তারা কোনও অংশেই কম যায় না। এই ম্যাচ ড্র রাখা কার্যত জয়ের সমানই। বহু দিন পরে ভাল ফুটবল খেলতে দেখা গেল ভারতীয় দলকে।
ম্যাচের শুরু থেকে বল নিজেদের পায়ে রাখছিল পানামা। আট মিনিটেই একটি ভাল সুযোগ পেয়েছিল ভারত। আনোয়ার আলি পাস বাড়িয়েছিলেন আশিক কুরুনিয়নকে। সেখান থেকে আশিক পাস দেন আকাশ মিশ্রকে। আকাশের ক্রস গিয়ে পড়েছিল রায়ানের কাছে। কিন্তু বক্সের মাঝখান থেকে শট নিতে পারেননি তিনি। পানামা বাঁ প্রান্ত থেকে আক্রমণের চেষ্টা করছিল। আবদিয়েল রদ্রিগেজ়ের একটি শট বাঁচিয়ে দেন গুরপ্রীত।
১৮ মিনিটে আবার সুযোগ আসে ভারতের কাছে। এ বার রায়ান বল পেয়ে একাই গোলে শট নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অল্পের জন্য তা পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ধীরে ধীরে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়াতে থাকে ভারত। আশিক, আকাশ, দু’জনেই নজর কাড়ছিলেন। আশিক নিজেও গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। রায়ানের একটি পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়ে মার্কারকে কাটিয়ে নিলেও তাঁর শট নেটের পাশে লাগে।
পানামা চেষ্টা করতে থাকে খেলা ছড়িয়ে দেওয়ার। দুই প্রান্ত বেশি করে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে থাকে তারা। কিন্তু আনোয়ার আলি, বিজয় ভার্গিজের রক্ষণ কিছুতেই দাঁত ফোটানোর জায়গা দিচ্ছিল না পানামাকে। ডান প্রান্তে মোদেলোর সঙ্গে বিক্রম প্রতাপ সিংহ সমানে সমানে টক্কর দিচ্ছিলেন।
৪১ মিনিটে এগিয়ে যায় ভারত। আকাশ থ্রো করেছিলেন বিজয়কে। নিজেদের অর্ধ থেকে বিজয় লম্বা বল বাড়ান রায়ানের উদ্দেশে। তাঁর আশেপাশে পানামার তিন জন ডিফেন্ডার থাকলেও কেউ রায়ানকে মার্ক করেননি। ভিড় থেকে ছিটকে গিয়ে রায়ান বল রিসিভ করে গোলের দিকে দৌড়তে থাকেন। সামনে একা গোলকিপার ছিলেন। ঠান্ডা মাথায় ডান প্রান্তে শট করে ভারতকে এগিয়ে দেন রায়ান।
দ্বিতীয়ার্ধেও ভারতের খেলায় ধীরস্থির মনোভাব বজায় ছিল। অকারণে তাড়াহুড়ো করতে চায়নি তারা। পানামা শুরু থেকে আক্রমণ করলেও সফল হয়নি। তারা একটু পিছন থেকে আক্রমণ শুরু করছিল। মাঝে ভারতও দু’বার সুযোগ পেয়েছিল। মনবীরের পাস কাজে লাগাতে পারেননি রায়ান।
আরও পড়ুন:
-
মহালয়ায় ইডেনে দেড় ঘণ্টা মোদী-শুভেন্দু, খোলা গাড়িতে পরিক্রমা! থাকছেন পাঁচ হাজার ঢাকি, লগ্নজিতা, কৌশিকী, দোহার
-
চেন্নাইয়ের দায়িত্ব নিয়েই জ়াহিরের মুখে ধোনির কথা, ফ্লেমিংয়ের জুতোয় পা গলানো সহজ নয়, মেনে নিলেন রুতুরাজদের কোচ
-
প্রকাশ্যে হকি কর্তাদের অন্তর্কলহ! সহকর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ সভাপতি তিরকের, ব্যক্তিগত তথ্য ফেরতের দাবি
৬৮ মিনিটে সমতা ফেরায় পানামা। দূরপাল্লার শটে অনেক ক্ষণ ধরেই গোলের চেষ্টা করছিল তারা। অবশেষে তা কাজে দেয়। ডান প্রান্ত থেকে আসা পাস পেয়েছিলেন ভ্যালেন্সিয়া। ভারতের বক্সের ঠিক বাইরে থেকে জোরালো শটে গোল করেন তিনি। গুরপ্রীতের কিছু করার ছিল না। তিন মিনিট পরে ভ্যালেন্সিয়ার আরও একটি প্রয়াস বাঁচিয়ে দেন বিক্রম প্রতাপ।
শেষের দিকে ভারত এবং পানামা দু’দলই লাগাতার আক্রমণ করতে থাকে। কিন্তু ভাল সুযোগ ভারতই পেয়েছিল। বাঁ দিক থেকে মনবীরের ক্রস থেকে যে গোলটি এডমুন্ড লালরিনডিকা মিস্ করলেন, তার জন্য আজীবন হতাশ থাকতে পারেন তিনি। ওই গোলেই ভারত জিততে পারত। পরে আরও একটি সুযোগ নষ্ট করেন মনবীর।