Advertisement
E-Paper

কলকাতা লিগের রং সবুজ-মেরুন, মহমেডানকে হারিয়ে চ‍্যাম্পিয়ন বাগান, ৭ গোলে জিতেও লাভ হল না ইস্টবেঙ্গলের

আট বছর কলকাতা লিগে চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান। শনিবার সুপার সিক্সের শেষ ম্যাচে তারা মহমেডানকে হারাল ৩-২ গোলে। ইস্টবেঙ্গল শেষ ম্যাচ জিতলেও মোহনবাগানকে টপকাতে পারল না।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০৩
football

মোহনবাগান ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস। ছবি: সমাজমাধ্যম।

কলকাতা লিগের রাউন্ড রবিন পর্বে খুব ভাল খেলতে পারেনি তারা। কোনও মতে প্রথম তিন দলের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু সুপার সিক্সে সব হিসাব মিলিয়ে দিল মোহনবাগান। তিনটি ম্যাচের দু’টিতে জিতে কলকাতা লিগে চ্যাম্পিয়ন হল তারা। আট বছর পর কলকাতা লিগ এল মোহনবাগান তাঁবুতে।

শনিবার বারাসত স্টেডিয়ামে মোহনবাগান ৩-২ গোলে মহমেডানকে হারিয়েছে। তা-ও আবার অনেকটা সময় দশ জনে খেলে। ইস্টবেঙ্গল অন্য ম্যাচে কোল ইন্ডিয়াকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে। মোহনবাগান-মহমেডান ম্যাচ ড্র হলে গোলপার্থক্যে ইস্টবেঙ্গলই চ্যাম্পিয়ন হত। কিন্তু কলকাতা লিগ জয়ের হ্যাটট্রিক করা হল না ইস্টবেঙ্গলের।

শনিবার জেতায় তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট হল মোহনবাগানের। ইস্টবেঙ্গল দ্বিতীয় স্থানে থাকল পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে। মহমেডান এবং ভবানীপুর চার পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

কলকাতা লিগ নিজেদের তাঁবুতে ফেরাতে মরিয়া ছিল মোহনবাগান। যে কারণে তারা শক্তিশালী দল নামিয়েছিল। প্রথম একাদশে শুভাশিস বসু, রাহুল ভেকে, দীপক টাংরি, লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে, সাহাল সামাদ, মনবীর সিংহের মতো নিয়মিত প্রথম দলে খেলা ফুটবলারদের রেখেছিল তারা। শুরু থেকেই তারা আক্রমণ করতে থাকে। ছাংতে এবং মনবীর বার বার সমস্যায় ফেলছিলেন মহমেডান রক্ষণকে। অন্য দিকে, রেমসাঙ্গাও পাল্টা দিচ্ছিলেন মহমেডানের হয়ে।

২৬ মিনিটে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন সাহাল। বক্সের মধ্যে সাহাল এবং ছাংতে নিজেদের মধ্যে পাস খেলেন। ছাংতে উঁচু করে ক্রস দেন। সাহাল হেড করে বল জালে জড়ান। ৪১ মিনিটে দারুণ একটি সুযোগ পায় মহমেডান। প্রথমে ফাইনাল থার্ডে বল পান ইসরাফিল দেওয়ান। তাঁর ক্রস ক্লিয়ার হয়ে গেলেও মহীতোষ রায় শট মারেন, যা বাঁচিয়ে দেন মোহনবাগান গোলকিপার দীপ্রভাত ঘোষ। পরের মিনিটেই গোল করে মহমেডান। থানকিমার থেকে পাস পান লালরেমসাঙ্গা। জোরালো শটে দীপ্রভাতকে পরাস্ত করেন তিনি।

বিরতির পর আরও তেড়েফুঁড়ে খেলতে শুরু করে মোহনবাগান। ৫৪ মনিটে ছাংতে ক্রস তোলেন কিয়ানের উদ্দেশে। বল গোলে মারার বদলে সাহালের দিকে হেড করে পাস বাড়ান কিয়ান। তা ক্লিয়ার করেন মহীতোষ। কিছু ক্ষণ পরেই পেনাল্টি পায় মহমেডান। মোহনবাগান গোলকিপার দীপ্রভাতকে ড্রিবল করে টপকে গিয়েছিলেন লালরেমসাঙ্গা। তাঁকে টেনে ফেলে দেন দীপ্রভাত। রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখান মোহনবাগান গোলকিপারকে। ফলে রিজ়ার্ভ গোলকিপার সৈয়দ জাহিদ হুসেন বুখারিকে নামাতে হয়। নামেন সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি মহীতোষের পেনাল্টি আটকাতে পারেননি। সৈয়দকে উল্টো দিকে ফেলে গোল করেন মহীতোষ।

নাটক তখনও বাকি ছিল। দশ জনে খেলেও মোহনবাগান লড়াই ছাড়েনি। ৭০ মিনিটে সমতা ফেরান সাহাল। বাঁ দিক থেকে ক্রস পেয়ে মনবীর পাস দিয়েছিলেন সাহালকে। তিনি হেড করে বল জালে জড়ান। পোস্টে লেগে গোলে ঢোকে বল। চার মিনিট পর মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাহালের থেকে পাস পেয়ে জোরালো শটে বল জালে জড়ান। পরে মহমেডান দু’-একটি সুযোগ পেলেও গোল করতে পারেনি।

অন্য ম্যাচে, ইস্টবেঙ্গলকে লড়াইয়ে থাকতে গেলে ন্যূনতম পাঁচ গোলে জিততে হত। তারা আরও দু’টি গোল বেশি করেছে। কিন্তু লিগ জিততে পারেনি। কোল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে তিন মিনিটেই ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন মহম্মদ বিলাল। ১০ মিনিটে গোল করেন বিজয় মুর্মু। প্রথমার্ধে আরও কিছু সুযোগ পেলেও গোল করতে পারেনি লাল-হলুদ।

দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গলের খেলায় অন্য রকম ঝাঁঝ দেখা যায়। ১৩ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি গোল করে তারা। ৫৩ মিনিটে আকাশ, ৬০ মিনিটে বিজয় গোল করেন। ৬৫ মিনিটে পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। কোল ইন্ডিয়ার সঞ্জয় বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে সতীর্থেরই হাতে বল মারেন। পেনাল্টি থেকে গোল করেন তন্ময় দাস।

তত ক্ষণে অন্য মাঠে এগিয়ে গিয়েছিল মোহনবাগান। খেলার শেষ মুহূর্তে আরও দু’টি গোল করে ইস্টবেঙ্গল। সংযুক্তি সময়ে উত্তম হাঁসদা এবং আকাশ গোল করেন।

এ দিনের তৃতীয় ম্যাচে ভবানীপুর ও ইউনাইটেড স্পোর্টসের খেলা গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয়েছে।

Mohun Bagan East Bengal Calcutta Football League

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy