উয়েফা নেশনস লিগের মাঝে জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে চলে গিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। সেই ঘটনায় কম বিতর্ক হয়নি। কোচ জর্জে জেসুসের সাংবাদিক বৈঠকের পরেই এই সিদ্ধান্ত নেন পর্তুগালের তারকা ফুটবলার। দল ছাড়ার পরে তিনি জানিয়েছেন, শীঘ্রই সব সত্যি সামনে আনবেন।
দল ছাড়ার পর এক্স মাধ্যমে রোনাল্ডো লেখেন, “জাতীয় দলের কোচের সাংবাদিক বৈঠক ও পর্তুগিজ় ফুটবল সংস্থার সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পরেই আমি জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি নিজের সবটা জাতীয় দলকে দিয়েছি। সেই দল ছাড়ার নেপথ্যে কী কারণ, শীঘ্রই দেশের মানুষের সামনে সব সত্যি নিয়ে আসব। আপাতত সতীর্থদের শুভেচ্ছা।”
রোনাল্ডোর এই কথা থেকে পরিষ্কার, কোচের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণেই জাতীয় দল ছেড়েছেন তিনি। এ বছর বিশ্বকাপের পর পর্তুগালের কোচ হয়েছেন জেসুস। নেশনস লিগে প্রথম ম্যাচে ওয়েলসের বিরুদ্ধে ৬৭ মিনিটের মাথায় রোনাল্ডোকে তুলে নেন তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে নরওয়ের বিরুদ্ধে পুরো ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসে থাকতে হয় রোনাল্ডোকে। সেই সিদ্ধান্ত ভাল ভাবে নেননি তিনি। খেলা শেষ হতেই টানেল ধরে বেরিয়ে যান সিআর৭।
ডেনমার্ক ম্যাচের আগে কোচের কথা বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দেয়। সাংবাদিক বৈঠকে জেসুস বলেন, “আমি যা খুশি করতে পারি। আমিই কোচ। আমি কোনও ফুটবলারকে বলতেই পারি যে, সে খেলবে না। কাউকে যদি ম্যাচে ৩০ মিনিটের জন্য প্রয়োজন হয়, সে ৩০ মিনিটই খেলবে। আর যদি প্রয়োজন না হয়, তবে খেলবে না। কোনো খেলোয়াড়ই আমার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারবে না।”
নরওয়ের বিরুদ্ধে রোনাল্ডোকে গা গরম করিয়েও নামাননি জেসুস। তার কারণও ব্যাখ্যা করেন কোচ। তিনি বলেন, “আমি রোনাল্ডোকে বলেছিলাম, ও দুটো ম্যাচে খেলবে না। কিন্তু ম্যাচের মাঝে ওকে গা গরম করতে বলি। তার পরেও নামাইনি। ২০-৩০ মিনিট গা গরমের পরেও খেলতে না পারলে খারাপ তো লাগবেই। রোনাল্ডো সেটা আমাকেই বলতে পারত। কিন্তু তাতে আমার পরিকল্পনা বদলাত না।”
এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করে পর্তুগিজ় ফুটবল সংস্থা। সেটাও ভাল ভাবে নেননি জেসুস। তিনি বলেন, “ওরা রোনাল্ডোর সঙ্গে কথা বলতে আমাকে বাধ্য করেছিল। আমি বুঝতে পারছি না কী হচ্ছে। ফেডারেশনের সভাপতি চলে এল। কিন্তু নৈশভোজের পর তো আমরা কথা বলে নিয়েছিলাম। কোনও সমস্যা ছিল না।”
আল নাসেরে রোনাল্ডোর প্রাক্তন ম্যানেজার জেসুস এটাও দাবি করেন রোনাল্ডোর সঙ্গে তাঁর কোনও সমস্যা নেই। এমনকি তিনি এও বলেছিলেন যে রোনাল্ডো কোপেনহেগেনে দলের সঙ্গে অনুশীলন করবেন। তিনি বলেছিলেন “গতকাল ও অনুশীলন করতে অস্বীকার করেনি। চোটের কারণে। কিন্তু আজ অনুশীলন করবে।” তার পরেও রোনাল্ডো শিবির ছেড়ে চলে যান।
এই ঘটনার জন্য ছ’মাস নির্বাসিত হতে পারেন রোনাল্ডো। পর্তুগিজ় ফুটবল সংস্থার নিয়ম, কোনও প্রতিযোগিতা চলাকালীন জাতীয় দল ছেড়ে চলে গেলে সেই ফুটবলারকে ছ’মাসের জন্য নির্বাসিত করা হবে। পাশাপাশি জরিমানাও করা হবে। তবে রোনাল্ডোর ক্ষেত্রে সেই শাস্তি হবে কি না সন্দেহ রয়েছে।
আরও পড়ুন:
রোনাল্ডোকে অসম্মান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর বোন এলমা আভেইরোর। ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, “সিআর৭ আরও বেশি সম্মানের যোগ্য। পর্তুগাল দলের ফুটবলারদের উচিত, ওকে সম্মান করা। আর পর্তুগালের সংবাদমাধ্যমকে বলব, আসল ঘটনা না জেনে জল্পনা বাড়াবেন না।” এলমা আরও লেখেন, “আমরা হিংসুক, স্বার্থপর, অকৃতজ্ঞদের মতো ব্যবহার করছি। রোনাল্ডো আসার আগে আমাদের ফুটবল কতটা সাধারণ মানের ছিল তা আমরা জানি। সব কিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ সিআর৭। তুমি আরও অনেক সম্মানের যোগ্য।”
এলমার কথা এবং রোনাল্ডোর হঠাৎ জাতীয় দল ছাড়ার পর জল্পনা শুরু হয়েছে যে, এ বার বোধহয় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেবেন তিনি। বিশ্বকাপের আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। তবে দেশের হয়ে কবে ছাড়বেন জানাননি। যে ভাবে দেশের জার্সিতে তাঁকে বসিয়ে রাখা হচ্ছে, তাতে এর পর তিনি আর খেলতে চাইবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে যাওয়ার আগে বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দিলেন রোনাল্ডো।