কোনওমতে জিতল ভারত। হকির পুরুষদের ফাইনালে উঠলেন হরমনপ্রীত সিংহেরা। সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৪-৩ গোলে হারালেন তাঁরা। খেলা শেষ হওয়ার ৪৯ সেকেন্ড আগে গোল করেন অভিষেক। সেই গোলেই জেতে ভারত।
চলতি এশিয়াডে এর আগে প্রতিটি ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে ভারত। প্রতিপক্ষদের উড়িয়ে এগিয়েছেন হরমনপ্রীতেরা। ফলে সেমিফাইনালে আত্মবিশ্বাস নিয়েই নেমেছিলেন তাঁরা। শুরুটাও করেছিলেন সে ভাবেই।
খেলা শুরুর ৫ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি কর্নার পায় ভারত। এই মুহূর্তে পুরুষদের হকিতে বিশ্বে পেনাল্টি কর্নার থেকে হরমনপ্রীতের থেকে ভাল কেউ নেই। যথারীতি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক। প্রথম কোয়ার্টার শেষ হওয়ার আগে ১৩ মিনিটের মাথায় আরও একটি পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান হরমনপ্রীত।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও দাপট দেখায় ভারত। বার বার পাকিস্তানের গোলের সামনে পৌঁছে যাচ্ছিল তারা। তার ফলও মেলে। ২৩ মিনিটের মাথায় ভারতের হয়ে তৃতীয় গোল করেন সুখজিৎ সিংহ। দেখে মনে হচ্ছিল, হাসতে হাসতে জিতবে ভারত।
কিন্তু লড়াই ছাড়েনি পাকিস্তান। দ্বিতীয় কোয়ার্টার শেষ হওয়ার ঠিক আগে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে দলকে খেলায় ফেরান আবু মাহমুদ। এই গোল আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেয় তাদের।
তৃতীয় কোয়ার্টারে পাকিস্তান বেশ আক্রমণাত্মক হকি খেলছিল। তার মাঝেই ৩৮ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন আহমেদ বাট। ফলে ৫ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় পাকিস্তানকে। ৪৩ মিনিটে সবুজ কার্ড দেখেন ভারতের দিলপ্রীত সিংহ। ফলে তৃতীয় কোয়ার্টারের শেষ দু’মিনিট দু’দলেই ১০ জন ছিল। তার সুবিধা নেয় পাকিস্তান। একেবারে শেষ মিনিটে ডান প্রান্ত ধরে ঢোকে পাকিস্তান। ভারতের রক্ষণের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে গোল করেন হান্নান শাহিদ।
আরও পড়ুন:
চতুর্থ কোয়ার্টারে ভারতের খেলা বেশ রক্ষণাত্মক দেখাচ্ছিল। রক্ষণ করেও লাভ হয়নি। ৪৯ মিনিটের মাথায় আবার ডান প্রান্ত ধরে আক্রমণে ভারতের গোলের মুখ খোলে পাকিস্তান। ওয়াহিদ রানা গোল করেন। খেলার ফল দাঁড়ায় ৩-৩।
গোল খাওয়ার পর ভারতের আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ে। তবে গোল হচ্ছিল না। দেখে মনে হচ্ছিল, টাইব্রেকারের দিকে খেলা গড়াচ্ছে। খেলা শেষ হওয়ার ৪৯ সেকেন্ড বাকি থাকতে সার্কেলে ঢুকে শট মারেন অভিষেক। বাঁচাতে পারেননি পাক গোলরক্ষক। সেখান থেকে আর ফিরতে পারেনি পাকিস্তান। ৪-৩ ফলে জেতে ভারত।
পুরুষদের হকিতে গত ১০ বছর ধরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপরাজিত ভারত। শেষ ২১টি ম্যাচ জিতেছে তারা। এই ম্যাচেও বলের দখল ভারতের বেশি ছিল। পাকিস্তানের (১২) থেকে অনেক বেশি সার্কেলে ঢোকে ভারত (২২)। তার পরেও দাপট দেখিয়ে জিততে পারেনি ভারত। ফাইনালের আগে দলের রক্ষণ নিয়েও কিছুটা চিন্তা বাড়বে হরমনপ্রীতদের।