ইস্টবেঙ্গল - ২
আল শোর্তা - ৩
বিদেশি ক্লাবের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের আরও এক স্মরণীয় লড়াই। যদিও এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টুর গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইরাকের আল শোর্তার বিরুদ্ধে ২-৩ গোলে হেরে গেল ইস্টবেঙ্গল। গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দলকে আটকাতে না পারলেও আনোয়ার আলি, ডেভিড লালহানসাঙ্গা, মহম্মদ রশিদেরা লড়াই করলেন সমানে সমানে। জোড়া গোলের নায়ক ডেভিডের অন্তত তিনটি সুযোগ নষ্টের খেসারত দিল লাল-হলুদ।
আইএফএ শিল্ড ফাইনালে মোহনবাগানের কাছে হারের পর আল শোর্তার বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল আন্তোনিয়ো লোপেজ হাবাসের দল। অন্য দিকে, গত ৮ অক্টোবর ইরাকে লিগে আল তালাবারের সঙ্গে ড্র করে কলকাতায় এসেছিল আল শোর্তা। সাত জন বিদেশি ফুটবলার নিয়ে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে খেলতে এসেছিল ইরাকের ক্লাবটি। প্রতিপক্ষ ধারে-ভারে অনেক এগিয়া থাকলেও প্রথম থেকেই স্বাভাবিক আগ্রাসী ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছেন লাল-হলুদ ফুটবলারেরা। হাবাসের দল ফলও পেল হাতেনাতে। ৮ মিনিটের মাথায় ডেভিড এগিয়ে দেন ইস্টবেঙ্গলকে। বক্সের ডান দিক থেকে হার্দিক ভাট বল বাড়ান ডেভিডকে। বক্সের মাথায় থাকা ডেভিড বল ধরে গোলের দিকে ঘুরেই বাঁ পায়ের শটে গোল করেন। আল শোর্তার বিশ্বকাপ খেলা গোলরক্ষক জালাল আটকাতে পারেননি।
পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় ইরাকের দলটি। ইস্টবেঙ্গলের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করে। ১৪ মিনিটে সেই চাপে ভুল করে বসে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ। কর্নার থেকে বস্কের মধ্যে বল পান আল শোর্তার আহমেদ ইয়াহা। লাল-হলুদ রক্ষণ প্রস্তুত ছিল না। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হেড থেকে ১-১ করেন ইয়াহা। সমতা ফেরানোর পর ধীরে ধীরে মাঝমাঠের দখল নিয়ে নেন আল শোর্তার ফুটবলারেরা। খেলাটাতেও তাঁদের দাপট বাড়তে শুরু করে। যদিও লাল-হলুদ ফুটবলারেরা হাল ছাড়েননি। সমানে সমানে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রতিটি বলের জন্য চেষ্টা করেছেন। ২১ মিনিটে সুযোগ নষ্ট করে ইস্টবেঙ্গল। লালচুননুঙ্গা বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শট নেন। জালাল কোনও ভাবে আটকালে ফিরতি বল পান ডেভিড। কিন্তু ঠিক মতো শট মারতে পারেননি। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে খেলা। দু’পক্ষেই গোল করার মতো একাধিক পরিস্থিতি তৈরি করেও লাভবান হয়নি। তবে ৪০ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ডেভিড। দানি রামিরেজ় বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ফ্রি কিক নেন। বিপক্ষের গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়ে গোল বাঁচালেও ফিরতি বল পেয়ে মহম্মদ রশিদ ব্যাক পাস করেন ডেভিডকে। তিনি সহজ সুযোগ নষ্ট করেননি। প্রথমার্ধে ২-১ এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়ে ইস্টবেঙ্গল। তবে ৪৩ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে ফেলতে পারতেন ডেভিড। তাঁর শট অল্পের জন্য বারের উপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়েও একটি সুযোগ নষ্ট করেন ডেভিড।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেও ইতিবাচক ফুটবল খেলতে শুরু করেন হাবাসের ছেলেরা। ৪৯ মিনিটে একাই বল নিয়ে আল শোর্তার বক্সে ঢুকে যান রশিদ। সামনে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে একা পেয়েও সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে সুযোগ নষ্ট করেন। এর পরই ছন্দ পতন হয় লাল-হলুদ ব্রিগেডের। সেই সুযোগে ৫১ মিনিটে ২-২ করে ফেলে ইরাকের দলটি। বক্সের বাঁ দিক থেকে ইয়াহা বল বাড়ান হুসেল আল সায়েদিকে। তিনি সমতা ফেরান। এর পর আরও চাপ বাড়ায় আল শোর্তা। ২ মিনিট পরেই তারা ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ৫৩ মিনিটে পরিবর্ত হিসেবে নামা ক্রিস্তিয়ান বার্কো কর্নার নেন। বক্সের মধ্যে বল পেয়ে যান কিংসলে কুকু। তিনিই এগিয়ে দেন ইরাকের ক্লাবটিকে। এর পরই সমতা ফেরানোর সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল। ৫৫ মিনিটে আবার সুযোগ নষ্ট করেন ডেভিড। ৬৭ মিনিটেও ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের বোঝাবুঝির অভাবে নষ্ট হয় সহজ সুযোগ।
আরও পড়ুন:
৭৭ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আল শোর্তার মৌমনি। প্রতিপক্ষকে ১০ জনে পেয়েও সমতা ফেরাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। ফলে পয়েন্ট ছাড়াই মাঠ ছাড়তে হল হাবাসের দলকে।